রাজা বা জমিদার হতে আসিনি: জি এম কাদের

  • ৬-মে-২০১৯ ০৬:০০ অপরাহ্ন
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, আমি রাজা বা জমিদার হতে আসিনি। কারও ওপর কর্তৃত্ব করতে আসিনি। দলের বড় দুঃসময়ে আমি রাজনীতিতে এসেছি, যখন দলকে ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিল সরকারি মেশিনারি। আমি রাজনীতিতে লাভবান হতে আসিনি। আমি সবাইকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এসেছি, এটাই আমার লক্ষ্য।

সোমবার (০৬ মে) রাজধানীর বনানীতে জাপা চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে জাতীয় যুব সংহতি আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জিএম কাদের করেন। তিনি জাপার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনোনীত হওয়ায় এ সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

জি এম কাদের বলেন, এখন থেকে দলের কোনো সিদ্ধান্ত এককভাবে নেওয়া হবে না। সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দু-একজন যারা আছেন, তারাও নিশ্চয় অনুধাবন করবেন যে আমি তাদের উপর কর্তৃত্ব করার জন্য আসিনি। আপনারা আসবেন।দলের ভালোর জন্য আপনারা মতামত দেবেন। আপনাদের কথা মত আমি দলকে সামনের দিকে এগিয়ে নেব।

জিএম কাদের প্রতিশ্রুতি দেন, দলে কারও কিছু পাওয়ার থাকলে তিনি থাকবেন সবার পেছনে। কাউকে ছোট করার জন্য তিনি নেতৃত্ব করবেন না। দলের রাজনীতিতে তিনি ‘গুণগত পরিবর্তন’ আনবেন।

দলের নেতাকর্মীদের একতা ধরে রাখার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি শৃঙ্খলার বিষয়েও সতর্ক করেন জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, দল ভেঙে পড়ার বিষয় এখানে আসেনি। যদিও শৃঙ্খলার বিষয় এখানে থাকে, সেটা যে কোনো সময় হতে পারে। নিয়ম শৃঙ্খলার ভেতরে যারা থাকবে না, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আলমগীর শিকদার লোটন দলের ‘ত্যাগী’ নেতাকর্মীদের ‘বঞ্চনার কথা’ অনুষ্ঠানে তুলে ধরলে জি এম কাদের বলেন, যারা দলে জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন ও আনুগত্য প্রকাশ করেছেন, কিন্তু সেভাবে সম্মান পাননি, আমি তাদের সামনে নিয়ে আসব।

হুট করে উড়ে এসে কেউ দলের প্রেসিডিয়ামে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে না জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, হুট করে কেউ এসে দলে ঢুকে পড়লে সেটা দলের জন্য মোটেও মঙ্গলজনক হবে না। এটা আর হবে না।

ভুলভ্রান্তি শুধরে নিয়ে এবার দলের সাংগঠনিক দিক মজবুত করার প্রত্যয় জানান দলের মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ।

তিনি বলেন, এখন দলকে রিকভারি করার সময় এসেছে। মানুষ বিএনপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, আওয়ামী লীগের অবস্থাও আগামী পাঁচ বছরে আরও খারাপ হবে। সুতরাং দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের অনেক সম্ভাবনা আছে। নিজেদের ভুল ত্রুটিগুলো আমার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এসে বলব। কিন্তু কানামাছি খেলা যাবে না। অন্য কিছু করার ছল করা যাবে না।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, কোথা থেকে কী হয়েছে, কোথা থেকে পয়সা এসেছে, মহাসচিবের খুব বেশি ভূমিকা পালনের সুযোগ ছিল না। পার্টির চেয়ারম্যান সিদ্ধান্তে একমত আছি। নিজেদের মধ্যে কানামাছি খেলার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, আগামীতে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হতে পারে জাপা। সম্ভাবনাময় দল হচ্ছে জাপা। আমাদের কোনো বিতর্ক থাকলে দলীয় ফোরামে আলোচনা করব। কিন্তু এরশাদের সিদ্ধান্তে বিরোধিতা করার সুযোগ নেই। কাউকে বাদ দিয়ে নয়, সবাইকে নিয়ে দল করতে হবে।

জাপা মহাসচিব বলেন, আমি নির্বাচনের কয়েকদিন আগে দায়িত্ব পেয়েছি। প্রতিমন্ত্রী থাকা অবস্থায় একদিন হাজত খাটতে হয়েছে। হাজত মানে কারাগার নয়, ধরেন আমাকে বলা হলো এখানে বসে থাকতে হবে। এ রকম পরিস্থিতিরর মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।

প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল ইসলাম ভূইয়া বলেন, জাপার নেতাকর্মীরা এরশাদের সিদ্ধান্তে ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। আমার বিশ্বাস জীবিত এরশাদের চেয়ে মৃত এরশাদ বেশি শক্তিশালী হবে। সে কারণে অন্যকিছু ভাববার সুযোগ নেই।

যুব সংহতির সভাপতি আলমগীর শিকদার লোটন সভাপতির বক্তব্যে বলেন, যারা পার্টির সাইনবোর্ড বিক্রি করেছে তাদেরকে চিহ্নিত করার সময় এসেছে। হঠাৎ এসে একটা লোক প্রেসিডিয়াম সদস্য হবে, হঠাৎ এমপি হবে এটা ঠেকাতে হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, মাসুদা এম রশীদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান সরদার শাজাহান, উপদেষ্টা নাজমা আক্তার, যুগ্ম মহাসচিব হাসিবুল ইসলাম জয়, কেন্দ্রীয় নেতা সোলায়মান সানি প্রমুখ।

Ads
Ads