মুমিনুলের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি

  • ২২-Nov-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: স্পোর্টস ডেস্ক ::

মুমিনুল হকের সবশেষ টেস্ট সেঞ্চুরির দুই সপ্তাহও পেরোয়নি। গেল ১১ নভেম্বর সফরকারী জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শের ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের শেষ টেস্টে তুলে নেন ক্যারিয়ারের ‘লাকি সেভেন’ সেঞ্চুরি। ১৬১ রানের ঝলমলে ইনিংসে সমৃদ্ধ করেন স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংস। ঠিক পরের সিরিজেই তার অষ্টম সেঞ্চুরিটি এলো। সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের টেস্টের প্রথম ম্যাচেই। আর সেঞ্চুরির মাঠ সেই ‘লাকি ভেন্যু’ জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম। মোট ৮ সেঞ্চুরির ৬টিই এসেছে এই মাঠে।

ক্যারিয়ারের অষ্টম সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে তামিম ইকবাল ও বিরাট কোহলির পাশে বসলেন বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। দেশের শীর্ষ সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে তামিমের সঙ্গে নাম লিখলেন মুমিনুল। আর এই বছর সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির যৌথ মালিকও তিনি, যেখানে আগে থেকে আছেন কোহলি। এনিয়ে ২০১৮ সালে চারটি শতকের দেখা পেয়েছেন ২৭ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান। 

সৌম্য সরকারের বিদায়ে আশঙ্কা জাগিয়ে শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের। কিন্তু সব শঙ্কা মুমিনুল হক দূর করে দেন টানা সেঞ্চুরিতে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে তার ঝলমলে ইনিংসে দুই সেশন দারুণ কাটিয়েছে স্বাগতিকরা। ৫৮ ওভারে ৩ উইকেটে ২১৬ রান স্বাগতিকদের। সাকিব আল হাসানের সঙ্গে ৬৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে চা বিরতিতে গেছেন মুমিনুল, ১১৬ রানে অপরাজিত তিনি।

বৃহস্পতিবার  (২২ নভেম্বর) টস জিতে ব্যাট করতে নেমে তৃতীয় বলেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এক বছরেরও বেশি সময় পর টেস্ট খেলতে নেমে রানের খাতা না খুলে বিদায় নেন সৌম্য। তারপরই ইমরুলের সঙ্গে একশ ছাড়ানো জুটিতে দলে স্বস্তি ফেরান মুমিনুল।

ইমরুলের সঙ্গে ১০৪ রানের জুটি গড়ার পথে ৬৯ বলে হাফসেঞ্চুরি করেন মুমিনুল। ৫৫ রানে অপরাজিত থেকে প্রথম সেশন শেষ করা এই ব্যাটসম্যান ১৩৫ বলে ৯ চার ও ১ ছয়ে সেটাকে সেঞ্চুরি বানান।

এর আগে প্রথম সেশনের শুরু ও শেষে দুটি উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সৌম্য শুরুতেই মাঠছাড়া হওয়ার পর ইমরুল সতর্ক ব্যাটিং করেন মুমিনুলের সঙ্গে। কিন্তু লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়ার আগে ৮৭ বলে ৪৪ রান করে শর্ট লেগে সুনীল আমব্রিসের সহজ ক্যাচ হন তিনি। বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানকে ফেরান জোমেল ওয়ারিকান। তার আগে ১২তম ওভারে ওয়ারিকানের বলে ১৬ রানে ইমরুল জীবন পান ওভারস্টেপিংয়ে নো বলের কারণে।

দ্বিতীয় সেশনে মোহাম্মদ মিঠুন নামেন মুমিনুলকে সঙ্গ দিতে। এই জুটি পঞ্চাশ ছুঁতে পারেনি। ৫০ বলে ২০ রান করে ডাউরিচের হাতে ক্যাচ তুলে দেন মিঠুন। দেবেন্দ্র বিশু ভাঙেন ৪৮ রানের জুটি। এই ম্যাচ দিয়ে আবারও নেতৃত্বে ফিরেছেন সাকিব আল হাসান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছে নাঈম হাসানের।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সবশেষ টেস্ট দল থেকে তিনটি পরিবর্তন এসেছে চট্টগ্রাম টেস্টে। লিটন দাস আগেই দল থেকে বাদ পড়ায় একাদশে আছেন সৌম্য সরকার। তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে স্পিন আক্রমণে আছেন সাকিব ও নাঈম। ১৭ বছর বয়সী নাঈম ৯৩তম বাংলাদেশি হিসেবে টেস্ট ক্যাপ পেলেন। লিটন ও খালেদ আহমেদ আগের দল থেকে বাদ পড়েছেন। এছাড়া সাকিব আসায় আরিফুল হকের জায়গা হয়নি। দলে মাত্র একজন পেসার মোস্তাফিজুর রহমান।

বাংলাদেশ দল: সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, মোহাম্মদ মিঠুন, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোস্তাফিজুর রহমান, তাইজুল ইসলাম, নাঈম হাসান।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল: ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েট (অধিনায়ক), কিয়েরন পাওয়েল, শাই হোপ, শিমরন হেটমায়ার, রোস্টন চেজ, সুনীল আমব্রিস, শেন ডাউরিচ, দেবেন্দ্র বিশু, কেমার রোচ, জোমেল ওয়ারিকান, শ্যানন গ্যাব্রিয়েল।

/ই

Ads
Ads