এলজিইডিতে ঢালাও পদোন্নতি, নেপথ্যে লেনদেন!

  • ৩০-Apr-২০১৯ ০৬:৫৯ অপরাহ্ন
Ads

:: সিনিয়র প্রতিবেদক ::

প্রধান প্রকৌশলীর মেয়াদের শেষ সময়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগে (এলজিইডি) ঢালাও পদোন্নতি ও পদায়ন চলছে। গত ২১ এপ্রিল একসঙ্গে ২৮ জন সহকারী প্রকৌশলীকে জ্যেষ্ঠতা দিয়ে তাদের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে (চলতি দায়িত্বে) বিভিন্ন জেলায় পদায়ন করা হয়েছে। এটি নজিরবিহীন বলছে এলজিইডি সূত্র।

এলজিইডির সদরদপ্তরের যেকোনো রদবদলের প্রজ্ঞাপন প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে তুলে দেওয়ার রীতি থাকলেও এসব পদায়নের কোনো প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়নি।

এ সবই এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদের একক সিদ্ধান্তে হচ্ছে বলে দপ্তরের একাধিক সূত্রে জানা গেছে। ঢালাও এই পদোন্নতিতে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে খোদ এলজিইডিতেই। এ নিয়ে সংস্থাটির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়েছে। চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে বঞ্চিতদের মধ্যে।

তবে যারা এই অভিযোগ করছেন, তাদের কেউ বিড়ম্বনায় পড়বেন ভেবে প্রকাশ্যে বা নাম প্রকাশ করে কিছু বলতে চাইছেন না। আবার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এসব বিষয়ে চুপ থাকাকেই শ্রেয় মনে করছেন। আর প্রধান প্রকৌশলীর নম্বর বেজে চললেও তিনি তা ধরছেন না।

আগামী ৮ মে প্রধান প্রকৌশলীর অবসরে যাওয়ার কথা। তবে তিনি তার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে দৌড়ঝাঁপ করছেন। এলজিইডির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, আবুল কালাম আজাদ শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে এসব পদোন্নতি ও পদায়ন দিচ্ছেন। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে তিনি আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন। এর মধ্যে তার ঘনিষ্ঠদের সংখ্যাই বেশি, যারা বিভিন্ন সময় তার অনিয়ম-দুর্নীতিতে সহায়তা করেছেন।

আবুল কালাম আজাদ বিএনপিপন্থী প্রকৌশলীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (এইবি) সদস্য ছিলেন। এলজিইডির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বিগত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেও তিনি বর্তমান সরকারের ক্ষমতায় ফেরা নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। যে কারণে নির্বাচনের সময় বড় বড় প্রকল্পের টাকা ছাড় করেননি। ভেবেছিলেন, সরকার পরিবর্তন হলে বর্তমান সরকারের সময় নেওয়া বড় প্রকল্পগুলোর আটকে দেবেন।

তবে এখন আবুল কালাম আজাদ তার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য মন্ত্রী ও তার ঘনিষ্ঠদের কাছে ধরণা দিচ্ছেন। তবে তাকে নিয়ে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে অস্বস্তি রয়েছে। এ ছাড়া তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এলজিইডির বিভিন্ন কার্যক্রমের গতি কমেছে। অস্বস্তি ও অসন্তোষ ছড়িয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের তৃণমূলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও।

সম্প্রতি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন করেছে। তাদের অভিযোগ, আবুল কালাম আজাদ প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার পর থেকে তাদের চাকরির অনিশ্চয়তা শুরু হয়। এক যুগের বেশি অস্থায়ী পদে কর্মরতদের স্থায়ী করার বদলে বিনা নোটিশে ইচ্ছেমতো তাদের ছাঁটাই করা হয়েছে। এসব নিয়ে তৃণমূলে আছে ব্যাপক অসন্তোষ।

এ ব্যাপারে জানতে চেয়ে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে তিনি এসএমএসে বলেন, তাকে আরেক এসএমএসে বিস্তারিত জানাতে। তবে বিষয়টি নিয়ে এসএমএস করা হলে তিনি আর জবাব দেননি।

জানতে চাইলে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী (প্রশাসন) শরীফ উদ্দিন ২৮ জন নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) পদায়নের বিষয়টি স্বীকার করেন।

কেন এসব প্রজ্ঞাপন ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়নি, জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘২৮ জনের অর্ডার আলাদা আলাদা হয়েছে। এতগুলো একসঙ্গে ওয়েবসাইটে আপ করা সম্ভব হয়নি।’

এ বিসয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি বিদেশি আছি। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। তাই কিছু বলতে পারছি না। দেশে ফিরে এসে খোঁজ নিবো। ’

Ads
Ads