ভুয়া সাংবাদিক নামধারী প্রতারকদের গ্রেফতারে সাড়াশি অভিযান চলছে উত্তরায়!

  • ২৫-Apr-২০১৯ ০৬:৪৮ অপরাহ্ন
Ads

:: নিজস্ব প্রতিবেদক ::

গত ২১ এপ্রিল ভীষণ ক্ষোভ, কষ্ট-যন্ত্রণায় "ভুয়া সাংবাদিকদের প্রতারণার ফাঁদ" শীর্ষক একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম ফেসবুকে। সংবাদ কর্মিসহ এফবি বন্ধুরা ভূয়া সাংবাদিকদের প্রতারণার বিরুদ্ধে বজ্রকন্ঠে প্রতিবাদী হয়ে উঠেছিলেন। মুহূর্তে মুহূর্তে একেকজনের মন্তব্য আর শেয়ার হতে থাকে সেই লেখা। বিভিন্ন স্থানের ভূয়া সাংবাদিকদের তথ্য, ছবি, অপকর্মের বিবরণ জানিয়ে ইনবক্সে আসতে থাকে অসংখ্য চিঠি-লিংক। আজ পর্যন্ত ইনবক্সে ২৬৭টি চিঠি জড়ো হয়েছে। এসব বাদ-প্রতিবাদ, তথ্য সহায়তা প্রদান মোটেও বৃথা যায়নি-স্ট্যাটাস প্রকাশের ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই ভূয়া সাংবাদিকতার নামে গড়ে তোলা প্রতারক চক্রের মূল হোতা রাসেল হাছান হাওলাদার ওরফে বরিশাইল্যা হাছান ও তার চার সহযোগী প্রতারক র্যাব সদস্যদের হাতে গ্রেফতার হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে, বরিশাল জেলার হিজলা থানার কাউরিয়া চরপত্তনীভাঙ্গা এলাকার হাশেম হাওলাদারের ছেলে রাসেল হাওলাদার ওরফে বরিশাইল্যা হাছান (২৯), নোয়াখালী জেলার চাটখিল থানার খিলপাড়া সাদুর খেল এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে মানিক মিয়া (২২) একই জেলার ঘটলাবাদ এলাকার সালমা আক্তার (২১), আছমা আক্তার (২১), দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ থানার কাছদফা এলাকার মোকসেদ মিয়ার ছেলে মোখলেসুর রহমান জনি (২৫)। এরমধ্যে সালমা আক্তার হচ্ছে বরিশাইল্যা হাছানের স্ত্রী এবং আছমা আক্তার তার শ্যালিকা।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, তারা উত্তরা বাণী, স্বাধীন সংবাদ, নতুন দিক, উত্তরা টাইমস, শ্যামল বাংলা ইত্যাদি পত্রিকায় সংবাদকর্মী হিসেবে কাজ করে। তবে চক্রের মূল হোতা হাছান বর্তমানে সরেজমিন নামক একটি দৈনিক পত্রিকায় কর্মরত আছে বলে দাবি করে সে। তবে পেশাদারিত্বের কোনো প্রমানাদি তারা কেউ দেখাতে পারেনি। নিজে নিজে কম্পিউটারে ডিজাইন করে হরেক রঙের আইডি কার্ড বানিয়ে তারা ব্যবহার করে থাকে। 

র‌্যাবের কড়া জিজ্ঞাসাবাদের মুখে হাছান চক্রের সদস্যরা উত্তরা জুড়ে দাপিয়ে বেড়ানো প্রতারকচক্রের তালিকা ফাঁস করে দিয়েছে। কোন গ্রুপ কার নেতৃত্বে এবং কি কি কৌশলে চাঁদাবাজি-ধান্দাবাজিসহ বড় বড় প্রতারণা করে থাকে সেসবের বিবরণও অকপটে বলে দিয়েছে তারা। র‌্যাব সূত্র জানায়, বিমানবন্দরসহ উত্তরা এলাকায় আটটি সিন্ডিকেটের আওতায় শতাধিক ভূয়া সাংবাদিক ভয়ঙ্কর সব অপরাধমূলক কর্মকান্ডে লিপ্ত রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব কর্মকর্তারা কথিত সাংবাদিক নামধারী অপরাধী প্রতারকদের তালিকা প্রস্তুত করেছে এবং র‌্যাব গোয়েন্দা উইংয়ের আওতায় তাদের কর্মকান্ড, গতিবিধি নজরদারি চলছে। যে কোনো সময় এসব প্রতারককে গ্রেফতারপূর্বক কঠোর আইনের আওতায় নেওয়া হবে বলেও সংশ্লিষ্ট র‌্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই উত্তরা এলাকা কথিত সাংবাদিক শূণ্য হয়ে পড়েছে। দোর্দন্ড প্রতাপে দাপিয়ে বেড়ানো অর্ধ শতাধিক মুখচেনা মুখচেনা ভূয়া সাংবাদিক রাতারাতি গা ঢাকা দিয়েছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।  

অনুসন্ধানে জানা যায়, বরিশাইল্যা হাছান ও তার সংঘবদ্ধ গ্রুপের সদস্যরা দীর্ঘদিন যাবৎ উত্তরা এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজী করে আসছে। পড়াশুনায় মাধ্যমিকের গন্ডি পেরোতে ব্যর্থ হাছান বরিশালের হিজলায় নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার আসামি হওয়ায় পালিয়ে উত্তরা-দক্ষিণখান এলাকায় আশ্রয় নেন। হঠাত করেই তিনি সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজিতে লিপ্ত হন বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। হাছান ও তার সহযোগিরা বরাবরই বিশিষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ, ব্যবসায়ি, সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করে নির্বিঘ্নে চাদাবাজি চালিয়ে আসছিল। 

ফেসবুকে আমার ওই স্ট্যাটাসটি প্রকাশের পর থানা পুলিশও বসে থাকেনি, ভূয়া সাংবাদিক ধরার অভিযানে তারাও তৎপর হয়ে উঠেছে। রাজধানীর উত্তরার পশ্চিম থানাধীন এলাকার ১০ নং সেক্টরের ৭ নং রোডস্থ একটি বাড়ি থেকে বিকাল ৫টায় তথাকথিত সাংবাদিক পরিচয়ধারী স্বর্ণা আক্তারসহ তিন নারী ও এক পুরুষ সদস্যকে আটক করে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ।

এ বিষয়ে সাংবাদিক নামধারী স্বর্ণা আক্তারের বাসার গৃহপরিচারিকা জরিনা জানায়, “স্বর্ণা আক্তার দীর্ঘদিন দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ নামক একটি পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে কাজ করে।”

কিন্তু উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ তপন চন্দ্র সাহা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদৈর জানান, দীর্ঘদিন ধরেই স্বর্ণা ওই বাড়িটিতে দেহ ব্যবসা ও ইয়াবা বিক্রি করে আসছিল। উপযুক্ত তথ্য- প্রমাণের ভিত্তিতেই ইন্সপেক্টর তাহের অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করেছেন। তবে একই ভবনের ৫ম তলায় দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক আব্দুল্লাহ্ আল মামুন দেহ ব্যবসায়ী স্বর্ণার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, স্বর্ণা কখনো আমার পত্রিকায় কাজ করেনি। বরং স্বর্ণার অপকর্ম জানতে পেরে আমরাই পুলিশে খবর দিয়ে হাতেনাতে ধরিয়ে দেই।

Ads
Ads