ইমরুল-সাইফউদ্দিনের ব্যাটে ২০০ পেরুলো বাংলাদেশের রান

  • ২১-Oct-২০১৮ ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
Ads

:: ভোরের পাতা ডেস্ক ::

সূচনালগ্ন থেকেই যাওয়া-আসার মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানরা। সেখানে নিজের স্বভাবজাত খেলাটা খেলে যান ইমরুল কায়েস। একপর্যায়ে ১৩৯ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় স্বাগতিকরা। তবুও অবিচল থাকেন বাঁহাতি ওপেনার। ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়েই লড়াই চালিয়ে যান তিনি। ভীষণ চাপের মধে ইমরুলকে যোগ্য সহযোদ্ধার সমর্থন দেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

শেষ পর্যন্ত তুলে নেন লড়াকু সেঞ্চুরি তুলে নেন ইমরুল। হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। দুজনের ব্যাটে জিম্বাবুয়েকে –রানের টার্গেট দিয়েছে বাংলাদেশ।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৪৩ ওভার শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে ২০৩ রান করেছে বাংলাদেশ।

এর আগে সিকান্দার রাজাকে পরপর দুই বলে দুটি ছক্কা মেরেছিলেন মোহাম্মদ মিঠুন। যার ফলে এক ওভার পরই বোলিংয়ে পরিবর্তন আনেন অধিনায়ক মাসাকাদজা। সেই পরিবর্তনের ফলও পেলেন তিনি হাতেনাতে। ২৮তম ওভারে এসেই কাইল জার্ভিস ফিরিয়ে দিলেন উইকেটে সেট হয়ে যাওয়া ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ মিঠুনকে। একই ওভারের শেষ বলে জার্ভিসের বলে আউট হয়ে গেলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও। বিপদে পড়লো বাংলাদেশ।

২৮তম ওভারের দ্বিতীয় বলে কাইল জার্ভিসের বলকে পুশ করতে চেয়েছিলেন মিঠুন। কিন্তু ব্যাটের কানায় লাগিয়ে সেই বল চলে যায় উইকেটের পেছনে। ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্যাচ তালুবন্দী করে নেন উইকেটরক্ষক ব্রেন্ডন টেলর। ৪০ বলে ৩৭ রান করে ফিরে যান মোহাম্মদ মিঠুন। ১ বাউন্ডারির সঙ্গে ৩টি ছক্কার মার মারেন তিনি।

মিঠুন আউট হওয়ার পর ব্যাট করতে নামেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। জুটি বাধেন ইমরুল কায়েসের সঙ্গে। কিন্তু একই ওভারের শেষ বলে কাইল জার্ভিসের বলে আবারও উইকেট পতন। এবার বোকা বনে আউট হয়ে গেলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। অফ স্ট্যাম্পের ওপর থাকা বলটাকে পুশ করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ব্যাটে-বলে করতে পারেননি। বলের হালকা চুমু লেগে যায় ব্যাটে। রিয়াদ রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারলেন না। আম্পায়ার আঙ্গুল তুলে দেন।

সাত নম্বরে ব্যাট করতে নামলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ইমরুল কায়েসের সঙ্গে জুটি বাধার জন্য। কিন্তু মিরাজও হতাশা উপহার দিলেন। বোলার সেই কাইল জার্ভিস। অফ সাইডের বলটি কাট করতে গিয়েছিলেন মিরাজ। কিন্তু ব্যর্থ হলেন। এবারও বল ব্যাটের কানায় লেগে চলে গেলো উইকেটের পেছনে। ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন মিরাজ। ক্যাচ ধরলেন ব্রেন্ডন টেলর। ম্যাচে এটা তার পঞ্চম ক্যাচ।

তার আগে এক ওভারের মধ্যে ফিরে গিয়েছিলেন লিটন কুমার দাস আর ফজলে মাহমুদ রাব্বি। ১৭ রানে ২ উইকেট হারিয়ে যখন বিপদে বাংলাদেশ, তখন হাল ধরার কাজটা করেছিলেন মুশফিকুর রহীম এবং ইমরুল কায়েস। দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের দৃঢ়তাপূর্ণ ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে ভালোই এগুচ্ছিল বাংলাদেশ। দু’জনের ব্যাটে ৪৯ রানের জুটি গড়ার পরই দুর্ভাগ্যের শিকার হয়ে গেলেন মুশফিকুর রহীম।

১৫তম ওভারের শেষ বলে ব্রেন্ডন মাভুতার শট বলটি পড়েছিল লেগ স্ট্যাম্পের ওপর। মুশফিক চেয়েছিলেন পুল করার। কিন্তু শট বল বুঝতে না পেরে ব্যাট চালিয়ে দেন আগেই। ফলে বল ব্যাট ফাঁকি দিয়ে গ্লাভসে চুমু লাগিয়ে গিয়ে জমা পড়লো উইকেটরক্ষক ব্রেন্ডন টেলরের হাতে। শুরুতে আম্পায়ার আউট না দিলেও জিম্বাবুয়ে রিভিউ নেয়। রিভিউতে দেখা যায় মুশফিকের গ্লাভস ছুঁয়ে গেছে বল। ফলে আউট।

২০ বলে ১৫ রান করলেও দারুণ একটি সম্ভাবনাময়ী ইনিংসের অপমৃত্যু হয়ে গেলো তখন। বাংলাদেশের রান এ সময় ছিল ৬৬।

লিটন কুমার দাসের প্রতিভা নিয়ে কারও কোনো সন্দেহ নেই। তার ব্যাটিং স্টাইলও বলে, উঁচু মানের ব্যাটসম্যান তিনি। কিন্তু লিটন কুমার দাস কি ব্যাট করার সময় ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে ব্যাট করেন। না হয়, ব্যাট করতে নামার পর কেন তাকে এতগুলো বাজে শট খেলতে হবে? কেন সব সময় বিপজ্জনক ব্যাটিং করে নিজের উইকেটকে সর্বদাই হুমকির মুখে ঠেলে দিতে হবে?

সেই একই কাজটি এবার আবারও করলেন তিনি। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই লিটন কুমার আর আমিরুল কায়েস মিলে কিছুটা বিপজ্জনক ব্যাটিং করতে থাকেন। যার ফলশ্রুতিতে তৃতীয় ওভারের শেষ বলে একবার ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন লিটন। কাইল জার্ভিসের বলে কভার অঞ্চলে সিকান্দার রাজার হাতে ক্যাচ তুলে দেন তিনি।

কিন্তু এবার ভাগ্য ভালো বেঁচে যান লিটন। কারণ, সিকান্দার রাজা ক্যাচটা সঠিকভাবে তালুবন্দী করতে পারেননি। বল মাটি স্পর্শ করে ফেলেছিল। এই বিপজ্জনক শর্ট থেকে শিক্ষা নেয়ার প্রয়োজন ছিল লিটনের। কিন্তু তা না করে ৬ষ্ঠ ওভারেই উইকেট হারিয়ে বসেন তিনি। তেন্দাই চাতারার বলে মিডউইকেটের ওপর দিয়ে চিপ করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সহজ ক্যাচটা তুলে দেন চেপাস জুয়াইউর হাতে।

সাকিব আল হাসানের রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে আনা হয়েছে ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফরর্ম করা ফজলে মাহমুদ রাব্বিকে। তাকে কমপ্লিট প্যাকেজ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন। কিন্তু সেই ফজলে মাহমুদ ওয়ানডাউনে ব্যাট করতে নেমে যারপরনাই হতাশ করেছেন সবাইকে।

অভিষেকে রানের খাতাই খুলতে পারলেন না তিনি। আউট হয়ে গেলেন কোনো রান না করেই। তেন্দাই চাতারাকে চারটি বল মোকাবেলা করেছেন তিনি। শেষ ৬ষ্ঠ ওভারের শেষ বলে ব্যাটের কানায় লাগিয়ে ফাস্ট স্লিপের ওপর দিয়ে বল তুলে দিতে চেয়েছিলেন তিনি। কিংবা নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই উঠে যায় প্রথম স্লিপে। ওনেক ওপরে লাফ দিয়ে উঠে ক্যাচটা তালুবন্দী করে নেন ব্রেন্ডন টেলর। ১৭ রানেই পড়লো বাংলাদেশের ২ উইকেট।

 

/কে 

Ads
Ads