শনিবার ১ অক্টোবর ২০২২ ১৬ আশ্বিন ১৪২৯

শিরোনাম: রেকর্ড ৬৩৫ ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি    বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে দেশে ফেরানোর চেষ্টা চলছে: প্রধানমন্ত্রী    র‍্যাব সংস্কারের কোনো প্রশ্নই ওঠে না: নতুন ডিজি    বর্ষীয়ান সাংবাদিক তোয়াব খান আর নেই    রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ৬৫    থাইল্যান্ডকে উড়িয়ে এশিয়া কাপ শুরু বাংলাদেশের    দৈনিক মৃত্যুতে শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র, সংক্রমণে জার্মানি   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
আত্মহত্যা : সামাজিক দায়বদ্ধতা
মো: আসাদুজ্জামান
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৭:৪০ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

কোভিড-১৯ উত্তর দেশে বহুবিধ সংকটের মধ্যে অন্যতম হলো মানসিক বিপর্যয় ।  কোভিড - ১৯  করণার কারণে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে। ভাইরাসটি মানষকে অসহায় করে তুলেছে । বাংলাদেশে গড়ে প্রতিদিন আত্মহত্যা করে ২৮ জন। যাদের মধ্যে বেশির ভাগের বয়স ২১-৩০ বছরের মধ্যে এবং তাদের অধিকাংশই নারী।
 
মানসিক বিপর্যয় বা সংকট আত্মহত্যার প্রবণতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন । আত্মহত্যার প্রবণতা এবং আত্মহত্যা করার প্রবণতা সব বয়সের মানুষের মধ্যে ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে । গত ১০ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসকে উপলক্ষ্য করে ৯ সেপ্টেম্বর (২০২২) পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা আত্মহত্যা করেছে ৩৬৪ জন। এর মধ্যে ১৯৪ জন স্কুল শিক্ষার্থী কলেজ পড়–য়া ৭৬ জন এবং ৫০ জন বিশ^বিদ্যালয় পড়ুয়া। অর্থ্যাৎ এ বছরের আট মাসে গড় ৪৫ জনের বেশি । স্কুল শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। বয়সের হিসাবে আত্মহত্যা কারীর ৭৯ শতাংশেরই বয়স ১৩ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। ২০২০ সালের জুন থেকে ২০২১ সালের জুনের তুলনায় এ সংখ্যা দ্বিগুন। এ ১৩ মাসে আত্মহত্যাকারীর সংখ্যা ছিল ১৫১ জন শিক্ষার্থী। তবে পুরুষের তুলনায় নারী শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার হার তুলনামূলক ভাবে বেশি। আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরুষ ৩২.৯৯% শতাংশ এবং নারী ৬৭.০১ শতাংশ। স্থান তুলনায় ঢাকায় আত্মহত্যার হার বেশি (২৫.২৭%)। চট্টগ্রাম বিভাগ ১৬.৪৮% , খুলনা বিভাগ ১৪.১% , রংপুর বিভাগ ৮.৭৮ % , বরিশাল বিভাগ ৯.৬২%, ময়মনসিংহ বিভাগ ৭.৪২ % ,  রাজশাহীতে ১৪.০১% এবং সিলেট বিভাগে ৪%।
 
আত্মহত্যার জন্য একক কোন কারণ দায়ী নয়। আত্মহত্যার সাথে মানসিক রোগের একটি সম্পর্ক আছে। অন্যতম কারণ বিষন্নতা , ব্যক্তিত্বের সংকট, সিজোফ্রেনিয়া , বাই-পোলার , ডিসওর্ডার , মাদকাশক্ত  ইত্যাদি রোগ নির্ণয় করতে না পারা এবং যথাযথ চিকিৎসা না হওয়া আত্মহত্যার হার বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া পারিবারিক সম্পর্কের অবণতি, স্বামী-স্ত্রীর  মধ্যে মানসিক দ্বন্দ্ব , আর্থিক অবণতি প্রভূতি আত্মহত্যার কারণ। তবে শিক্ষার্থী বা তরুণ তরুণীদের মধ্যে আত্মহত্যার কারণে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। আঁচল বলছে যে,পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া, পড়াশুনার জন্য পারিবারিক চাপ, সেশনজট, অভিমান, প্রেম ঘটিত বিষয় , পরিবার থেকে তাদের চাওয়া থেকে বি ত হওয়া ইত্যাদি। তরুণ তরুণীদেও মানসিক চাপ সহ্য করার মত মানসিক শক্তি তুলনামূলক ভাবে কম থাকে। এ বয়সে পরীক্ষায় ফলের বিপর্যয় কিংবা প্রেম সংঘটিত দ্বন্দ্বের কারণে মানসিক সংকট সৃষ্টি হলে পরিবার বা অভিভাবক অথবা শিক্ষকদের নিকট থেকে কোন ধরণের সহায়তা না পেয়ে সংকট থেকে মুক্তির সহজ পথ হিসাবে আত্মহত্যাকেই বেঁছে নেয়। 

প্রতিনিয়ত আত্মহত্যার পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে। কিছু অদৃশ্যমান কারণ নিহীত আছে। আমাদের সমাজে তরুণ তরুণীদের বিকশিত হওয়ার সুযোগে সংকুচিত হয়ে আসছে। প্রযুক্তির যুগে প্রযুক্তিগত আসক্তি তাদের মনোজগতকে সংকুচিত করছে। তারা তাদের মনের ভাবনা গুলো বা চিন্তাশক্তি প্রসারিত করার মতো কোন ক্ষেত্রে খুঁজে পাচ্ছে না। তাদের চিন্তার সাথে তাদের পরিবারের চিন্তার মিল হচ্ছে না। বিশেষষ্ণদের মতে , বহুতল ইমারত ও দালানকোঠার আধিক্য এবং খেলার মাঠের বিলীয়মান প্রবণতা তরুণ তরুণী আর বয়স্কদের ভাবনার জগতের মধ্যে স্থানগত নৈকট্য বাড়ালেও ইন্টারনেটসহ তথ্য-প্রযুুক্তির বহু পরিসেবা দুই প্রজন্মের মানসিক দুরত্বকে প্রসারিত করেছে। (প্রথম আলো ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যম তরুণ তরুণীরা বিশেষভাবে আসক্ত। এ মাধ্যমে তাদের মনজগতকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করছে , যা অভিভাবক বা বয়স্করা অবগত নয়। তাই তরুণ তরুণীদেও আচরণ ও অভিভাবক বা বয়স্কদের আচরণে একটি বড় ধরণের পার্থক্য লক্ষ্য করা যায় । এ পার্থক্যের কারণে অভিভাবক ও তাদের সন্তানদের আচরণের মধ্যে সংকট তৈরী হচ্ছে এবং সন্তান ও অভিভাবকদের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে সন্তানরা কোন ধরণের  সহযোগীতা না পেয়ে তারা চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেঁচে নেয়। সমাজের প্রত্যাশা সবসময়ই সফলতা, পরাজয় নয়। পরাজিতদের প্রতি সমাজ সবসময়ই নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে । 
প্রযুক্তির বিপ্লবে মানুষের মধ্যে যোগাযোগের বিপ্লব ঘটেছে , তেমনি  বিশ^ায়নে সচ্ছল- অসচ্ছল মানুষের মধ্যে বেড়েছে একাকীত্বতা, নি:সঙ্গতা, সম্পর্কের টানাপড়েন। আমাদের মতো ট্রানজিশনাল সোসাইটিতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সচেতনতামূলক প্রচার তুলনামুলকভাবে কম হওয়ায় আত্মহত্যার হার উন্নতদেশের তুলনায় অনেক বেশি। বিশে^ আত্মহত্যার ৭৫ ভাগই সংঘটিত হয় এ সব দেশে। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে , দেশের প্রায় ৯০ লাখের বেশি মানুষ বিষন্নতায় , এক কোটি হতাশায় ভোগে। গবেষণায় দেখা যায় ২৮ শতাংশ বিষন্নতায় ও হতাশায় ভোগে তার মধ্যে ২৩ শতাংশ ছেলে এবং ৩৩ শতাংশ মেয়ে। 

আত্মহত্যা বর্তমানে একটি সামাজিক ব্যাধি হিসাবে দেখা যাচ্ছে। এ থেকে উত্তরণের এখনি সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে সচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা সময়ের দাবী। সামাজিক নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। কোন কাজে পরাজিত হওয়ার অর্থ সারাজীবন ব্যর্থ হওয়া নয়। তাই পরিবার সমাজ , রাষ্ট্র-সব পক্ষকে আত্মহত্যা করার প্রবণতা থেকে রক্ষা করার জন্য সামাজিক আন্দোলন করতে হবে। হতাশা গ্রস্থ , অবসাদগ্রস্থদের কে মানসিক সান্তনা দিতে হবে। তাদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করা একান্ত প্রয়োজন। জীবন মূল্যবান , দ্বিতীয় বার ফিরে পাওয়ার সম্ভাবণা নেই এ ধারণা তৈরী করতে হবে। ব্যর্থতা অর্থ জীবন থেকে পলায়ণ নয় - জীবনের সফলতার প্রথম ধাপ। আত্মহত্যা কোন সমাধান নয়। জীবনের প্রতি মমত্ববোধ , ভালবাসা জাগ্রত হউক। সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন হউক পরাজিতদের প্রতি। সর্বোপরি সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে এ দূর্যোগ মোকাবিলা করার জন্য।

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ,মাগুরা।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://dailyvorerpata.com/ad/apon.jpg
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]