বুধবার ২৯ জুন ২০২২ ১৪ আষাঢ় ১৪২৯

শিরোনাম: করোনা বাড়ছে, মাস্ক পরা বাধ্যতামূলকসহ জরুরি ৬ নির্দেশনা    পাতাল রেল নির্মাণে জাপানের সঙ্গে ১১ হাজার ৪০০ কোটি টাকার ঋণচুক্তি    ডলারের দাম বাড়লো    পদ্মা সেতুতে দ্বিতীয় দিন টোল আদায় প্রায় ২ কোটি টাকা    স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের সব কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা    দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার বাড়াতে হবে: কাদের    বেড়েছে মৃত্যু, শনাক্ত ২০৮৭   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
‘রাজনীতিহীন’ নিবন্ধিত দল
আরিফুর রহমান
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ মে, ২০২২, ৪:৫৯ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

দেশে রাজনৈতিক দলের সংখ্যা শতাধিক হলেও নিবন্ধিত দল মাত্র ৩৯টি। এগুলোর মধ্যে গুটিকয়েক দল ছাড়া বাকিদের কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ে না। দেশ ও মানুষের জন্য এদের কখনো সরব ভূমিকায় দেখা যায় না। সাইনবোর্ড-সর্বস্ব এসব দলের বেশিরভাগেরই কার্যালয় কোনো অখ্যাত মার্কেটের দোকানে। সেগুলোর আবার প্রায় সবগুলোই থাকে শাটারে তালাবদ্ধ। তবে তারা মাঝে মাঝে কিছু পোস্টার-ব্যানার সাঁটায় ঈদ শুভেচ্ছা ও জাতীয় নানান দিবস উপলক্ষে। দলগুলোর নেতারা দায়সারা গোছের এই কাজগুলোও করেন বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে ধরনা দিয়ে ‘আদায় করা’ দানের টাকা ‘হালাল’ করতে।

২০০৮ সালে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর ৪৪টি দলকে নিবন্ধন দেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরবর্তী সময়ে আদালতের আদেশে এবং ইসির শর্ত পালনে ব্যর্থ হওয়ায় পাঁচটি দলের নিবন্ধন বাতিল করা হয়। ওয়ান-ইলেভেনের (২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি) প্রেক্ষাপটের পর ২০০৮ সালে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হয়। ওই সময় এ টি এম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন করে নির্বাচনে অংশ নিতে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বর্তমান সংসদে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ আটটি দলের প্রতিনিধিত্ব আছে। বেশ কিছু দল আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নিবন্ধনের জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কী হবে এসব রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন দিয়ে, জনগণের পক্ষে যাদের কোনো কর্মসূচি অথবা সাংগঠনিক কার্যক্রম নেই!

নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধনের খাতায় রাজনৈতিক দলের নাম আছে, নামসর্বস্ব কার্যালয়ে সাঁটানো সাইনবোর্ড আছে, শুধু নেই জনগণের দাবি নিয়ে রাজপথে কোনো কর্মসূচি আন্দোলন অথবা সাংগঠনিক দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম। নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর এমন দেউলিয়াপনা আর জনস্বার্থে কোনো কর্মসূচি ও গতিশীল কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম না থাকায় সারা দেশ তো দূরের কথা, এলাকায় আশপাশের লোকজনও তাদের চেনে না। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও কার্যালয়ের খোঁজে গিয়ে দেখা গেছে, অধিকাংশ রাজনৈতিক দল চলছে তাদের নিয়ন্ত্রিত পকেট কমিটির মাধ্যমে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, গণপরিবহন নিয়ে জনগণের অসন্তোষ, তেল-গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিসহ নানা জনদাবির পক্ষে দাঁড়ানোর মতো কোনো সাংগঠনিক শক্তি দৃশ্যমান নেই এসব রাজনৈতিক দলের। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের সিংহভাগ রাজনৈতিক দলই ভুগছে ‘দেউলিয়াপনায়’। এসব দলের মুখপাত্ররা বছরে গুটিকয়েক সভা-সমাবেশ ও কর্মসূচি পালনের মাধ্যমে তাদের দলের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রেখেছেন। পাঁচ বছরে এদের একবার ‘সজাগ’ হতে দেখা যায়। আসলে জাতীয় নির্বাচনে প্রভাবশালী জোটগুলোর সঙ্গে দরকষাকষিই এদের মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশ কংগ্রেস, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, বাংলাদেশ পিপলস পার্টি, গণফোরাম, গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনসহ বেশকিছু দল সাংগঠনিক কার্যক্রম কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ রেখেছে। সাইনবোর্ড আর কার্যালয়েই সীমাবদ্ধ তাদের গণতন্ত্র চর্চা।

এসব দলের প্রধানদের মধ্যে অনেকেই বিভিন্ন সভা-সেমিনার ও টক শো অনুষ্ঠানে গণতন্ত্রের কথা বলে জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন প্রায় সময়। কেউ কেউ সাধারণ জনগণের কাছে ব্যক্তিগতভাবে পরিচিত ও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন ঠিকই, কিন্তু এসব দলের প্রতীক কী সেটা জানে না দেশের বেশির ভাগ মানুষ। অধিকাংশ দলের নিয়মিত সাংগঠনিক সভা হয় না। মূল দল বা জেলা, উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন, পৌরসভা, ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড শাখা কমিটিগুলোরও কাউন্সিল হয় না। অথচ প্রতিবছর তারা রঙিন কাগজে চাঁদা আদায় বা অনুদানের রসিদ নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ে। বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, এমনকি সরকারি দফতরের বড়কর্তাদের কাছ থেকেও তারা ‘চাঁদা’ আদায় করে থাকে। এসব দলের বেশ কিছু নেতার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের নামে শিল্প মালিকদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে। বিশেষ করে দেশের বহুজাতিক কোম্পানির মালিকরাই তাদের শিকার হচ্ছেন। রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে চাঁদাবাজি তাদের পেশায় পরিণত হয়েছে। যদিও এসব দলের নেতাদের ভাষায় শব্দটি চাঁদা নয়, ‘অনুদান’।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ইসির তথ্য অনুযায়ী ৯৩, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫। কিন্তু এই ঠিকানায় তাদের সংগঠনের কোনো কার্যালয়ের অস্তিত্ব নেই। দলটির নেতাদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে অবশেষে একজনকে পাওয়া যায়। তিনি জানান, ‘আপনি যেখানে গিয়েছেন, সেই অফিস কিছুদিন হয়েছে আমরা ঠিকানা পরিবর্তন করেছি। আপনি অনুগ্রহ করে আমাদের নতুন ঠিকানায় আসেন। আসলে কথা হবে।’ তার কথামতো সেই ঠিকানায় গিয়ে পাওয়া যায় একজনকে। এটা আপনার দলীয় অফিস, নাকি কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘ভাই, আমাদের ছোট দল। নিবন্ধন পেয়েছি কয়েক বছর হয়েছে। দলটিকে ধরে রাখতে হলে তো খরচের বিষয় আছে। তাই এক অফিসের মধ্যেই সব কার্যক্রম চালিয়ে নিচ্ছি। সংগঠনিক কার্যক্রম ভালো হলে আগামীতে বড় অফিস নেব।’



আরেক দল ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় সেটি তালাবদ্ধ। দলটির চেয়ারম্যানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে কার্যালয়ের মতো ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। এদিকে একই অবস্থা গণতন্ত্রী পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের। দলটির চেয়ারম্যানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকেও পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমি অনেক দিন হয়েছে এখানে একটি দায়িত্বে আছি। মাস-বছর চলে যায় কিন্তু তাদের (পার্টির চেয়ারম্যান) তেমন একটা সাড়া মেলে না। এসব দলের কারণেই আজ দেশের এই অবস্থা।’ দল আছে কাগজে-কলমে ঠিকই, কিন্তু কার্যালয় বন্ধ।’

এদিকে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গেলে সেটি খোলা পাওয়া যায়। কিন্তু লোকজন নেই বললেই চলে। দলটির চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে হলে তিনি কার্যালয়ে নেই বলে জানান এক ব্যক্তি। নিজেকে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য পরিচয় দিয়ে তার নাম শেখ আবুল কালাম বলে জানান। 

এ প্রতিবেদককে তিনি বলেন ‘আমাদের মোটামুটি ৬৪ জেলার মধ্যে অনেক জেলায় কমিটি গঠন হয়েছে। অল্প কিছু জেলা বাকি আছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আমাদের ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে। গত নির্বাচনে ১০২ আসনে প্রার্থী দিয়েছিলাম। এবার আশা করি ৩০০ আসনেই দেব।’ এসব বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার বলেন, ‘বিষয়টি জানলাম, খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব।’

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://dailyvorerpata.com/ad/apon.jpg
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]