বুধবার ২৯ জুন ২০২২ ১৪ আষাঢ় ১৪২৯

শিরোনাম: করোনা বাড়ছে, মাস্ক পরা বাধ্যতামূলকসহ জরুরি ৬ নির্দেশনা    পাতাল রেল নির্মাণে জাপানের সঙ্গে ১১ হাজার ৪০০ কোটি টাকার ঋণচুক্তি    ডলারের দাম বাড়লো    পদ্মা সেতুতে দ্বিতীয় দিন টোল আদায় প্রায় ২ কোটি টাকা    স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের সব কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা    দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার বাড়াতে হবে: কাদের    বেড়েছে মৃত্যু, শনাক্ত ২০৮৭   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
শেখ হাসিনা ফিরেছিলেন বলেই বাঙালি আরেকটি স্বাধীনতা পেয়েছিল
#শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে: মে. জে. (অব.) এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার। #শেখ হাসিনা ফিরেছিলেন বলেই আমরা শান্তিতে ঘুমাতে পারছি: অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল। #শেখ হাসিনা ফিরে না আসলে বাংলাদেশের পুনর্জন্ম হতো না: মুরাদ খান। #মানুষের ভালোবাসার টানে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এসেছিলেন: অধ্যাপক ইফফাত আরা নার্গিস।
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ মে, ২০২২, ১০:৫৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

আজ থেকে ৪১ বছর আগে ১৯৮১ সালের ১৭ই মে আমাদের আজকের প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনঃপ্রত্যাবর্তনে ফিরে এলেন। সেই জায়গা থেকে জননেত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবনের ৪১ বছর পূর্ণ হলো।  আজকের বাংলাদেশে আমরা যখন সারাদিন পর রাতে যখন শান্তিতে ঘুমাতে যায় তখন এইযে আমরা শান্তির ঘুমটা দিচ্ছি এটা সম্ভব হচ্ছে কারণ তিনি ফিরে এসেছিলেন বলেই। ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ও ১৭ ১৭ইমে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস একইভাবে গুরুত্ববহ।

দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপের ৭০৮তম পর্বে এসব কথা বলেন আলোচকরা। ভোরের পাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের নির্দেশনা ও পরিকল্পনায় অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- পিএসসি, নিরাপত্তা বিশ্লেষক, গবেষক ও লেখক মে. জে. (অব.) এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে লিভার বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল, ,নেদারল্যান্ডস আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ খান, সংগীত শিল্পী, সেক্টর কমান্ডরস ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ একাত্তরের কেন্দ্রীয় নারী কমিটির সাধারণ সম্পাদক, অধ্যাপক ইফফাত আরা নার্গিস। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভোরের পাতার বিশেষ প্রতিনিধি উৎপল দাস।



মে. জে. (অব.) এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার বলেন, আজ থেকে ৪১ বছর আগে ১৯৮১ সালের ১৭ই মে আমাদের আজকের প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনঃপ্রত্যাবর্তনে ফিরে এলেন। সেই জায়গা থেকে জননেত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবনের ৪১ বছর পূর্ণ হলো। আওয়ামী লীগ কিন্তু এই উপমহাদেশের একটি অন্যতম ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল। সেই রাজনৈতিক দলের তিনি ৪১ বছর ধরে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং একটানা সতেরো বছর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, এর আগে তিনি আরও একবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এটি সত্যিকার অর্থে যেকোনো রাজনৈতিক লিডারশীপের জন্য ঈশ্বনীয় বিষয় এবং খুব রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এই বিরল অর্জনের অধিকারী হতে পেরেছেন। তিনি যে শুধু এই বিরল অর্জনের অধিকারী হয়েছেন শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের মানুষদেরকেও তিনি বিশাল অর্জনের অধিকারী করেছেন, বাংলাদেশের মানুষকে তিনি মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন। ১৯৮১ সালের ১৭ই মে যখন তিনি দেশে ফিরে আসলেন তখন একটা ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি ছিল বাংলাদেশের। তিনি এইযে তার ৪১ বছর রাজনীতিতে তাকে ১৯ বার হত্যা করার চেষ্টা হয়েছিল। এইযে একটা পাহাড়সম বাধা অতিক্রম করে তিনি আজকের অবস্থানে নিজেকে এবং বাংলাদেশকে নিয়ে এসেছেন সেখানে আজকে পর্যন্ত তার পিছনে বুলেট তাকে তাড়া করছে। সেখানে নিজের জীবনকে বাজি রাখে মানুষের মুক্তির সংগ্রামের জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন ৪১ বছর ধরে। সেই সংগ্রামের কারণে বাংলাদেশ আজ মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে।

অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল বলেন,  আজকের বাংলাদেশে আমরা যখন সারাদিন পর রাতে যখন শান্তিতে ঘুমাতে যায় তখন এইযে আমরা শান্তির ঘুমটা দিচ্ছি এটা সম্ভব হচ্ছে কারণ তিনি ফিরে এসেছিলেন বলেই। কারণ আমরা যদি আমাদের আশে-পাশের দিকে তাকিয়ে দেখি তখন দেখতে পাবো যে, এইযে আমাদের পাশের দেশ শ্রীলংকা, এই দেশটি কিন্তু কিছু দিন আগেও আমাদের এই উপমহাদেশের একটি অন্যতম অর্থনৈতিক দেশ ছিল।  তাদের দেশের অনেক ক্ষেত্রেই আমরা তাদের ধারে কাছে ছিলাম না। এদিকে আমাদের পাশের দেশ নেপাল ও পাকিস্তানেও কিন্তু চরম অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা চলছে। আবার গত দুই বছর ধরে যে করোনার আঘাত ছিল সেটা কিন্তু পুরো পৃথিবীকে গ্রাস করেছিল। এখন আবার রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধও এটাকে আরও প্রভাবিত করেছে। এখন আমাদের দেশে এক শ্রেণীর লোক আছে যারা কায়মনোবাক্যে চাচ্ছে যে বাংলাদেশ শ্রীলংকা হয়ে যাক। এরা বাংলাদেশকে কখনো আপন ভাবেনি এবং ভাববেও না। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর ভাগ্যের ফেরে বেঁচে যাওয়া বঙ্গবন্ধুকন্যা বাঙালির গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক মুক্তিদূত শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পর থেকে আজকের বাংলাদেশে যতগুলো কঠিন চ্যালেঞ্জ তিনি মোকাবেলা করেছেন তার ফলেই কিন্তু বাংলাদেশ আজ একটি শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়েছেন। এখন তিনি এসেছিলেন বলেই আজকের এই সমস্যার মধ্যে আমরা নেই। তিনি ফিরেছিলেন বলেই ডুবন্ত আওয়ামী লীগের হাল ধরে ফের ক্ষমতার চূড়ান্ত শিখরে আহরণ করিয়েছেন। তিনি ফিরে এসেছিলেন বলেই বাংলাদেশ আজ শ্রীলংকা হয়ে যায়নি।

মুরাদ খান  বলেন,  আজকে আমরা ভোরের পাতা সংলাপে আমাদের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু-কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস নিয়ে আলোচনা করতে এসেছি। ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস ও ১৭ ১৭ইমে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস একইভাবে গুরুত্ববহ। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর যদি বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে না আসলে যেভাবে বাংলাদেশ তার স্বাধীনতার পূর্ণতা পেতো না, ঠিক একইভাবে ১৯৮১ সালের ১৭ইমে যদি শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে না আসতেন তাহলে বাংলাদেশের পুনর্জন্ম হতো না। ১৯৮১ সালের দিকে বাংলাদেশের রাজনীতি এতোটাই বিভ্রান্ত এবং পথহারা ছিল, আর আওয়ামী লীগ তো অনেকটাই নেতৃত্বশূন্যই ছিল। তখন মাত্র ৩৪ বছর বয়সে শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী করা হয়। এটা করা হয়েছিল আওয়ামী লীগের যারা নিবেদিত কর্মী বাহিনী ছিল তাদেরই অকুণ্ঠ সমর্থনে সেই কাজটি সম্পাদিত হয়েছিল। যেকোনো দুর্যোগে যখন এই দলটি পরে তখন কিন্তু এই নিবেদিত কর্মীরাই সঠিক সিদ্ধান্ত বেছে নেন। তখন আমরা দেখেছিলাম আমাদের জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর জিয়াউর রহমান ও মোশতাকের সাথে আঁতাত করে আওয়ামী লীগের তথাকথিত নেতারা তাদের সাথে সংযুক্ত হচ্ছিল তখনই কিন্তু আওয়ামী লীগের সেই নেতাকর্মীরা দুর্দিনে দলের হাল ধরেছিল এবং জননেত্রী শেখ হাসিনাকে দলের সভাপতির দায়িত্ব অর্পণ করেছিল। তারপর থেকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি আওয়ামী লীগকে। সমস্যা সমাধানে শেখ হাসিনার শ্রেষ্ঠত্ব ও তাঁর দর্শনের গ্রহণযোগ্যতা দেশের মানুষের কাছে সকল সময়ের সীমা অতিক্রম করেছে।

অধ্যাপক ইফফাত আরা নার্গিস বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করে এবং পরবর্তীতে সেই ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দোসররাই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনককে হত্যার মধ্য দিয়ে পুনরায় ক্ষমতাসীন হয় দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের বিরোধীপক্ষ ৭১-এর পরাজিত শক্তি। আসলে ওই দিন যারা রাষ্ট্রক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে তারা মূলত আবার পূর্ব পাকিস্তানকেই কায়েম করে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর প্রায় ছয় বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফেরেন তাঁর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা। দেশের গণতন্ত্র আর প্রগতিশীলতার রাজনীতি ফেরাতে রাতে দুই শিশু সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সায়মা ওয়াজেদ পুতুলকে ছোট বোন শেখ রেহানার কাছে রেখে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশে ফেরেন শেখ হাসিনা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুদ্ধার এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার অভিযাত্রায় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। বর্তমানে শেখ হাসিনা তার অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য যেভাবে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এটা তিনি তার কাজের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিচ্ছেন। বঙ্গবন্ধু খুনিদের বিচার, স্বাধীনতা বিরোধীদের বিচার, ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল; এইগুলো করে উনি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে এবং বাঙলার মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://dailyvorerpata.com/ad/apon.jpg
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ


সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
সাউথ ওয়েস্টার্ন মিডিয়া গ্রুপ


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম


©ডেইলি ভোরের পাতা ডটকম

বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৪১০১০০৮৭, ৪১০১০০৮৬, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৪১০১০০৮৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৪১০১০০৮৫
অনলাইন ইমেইল: [email protected] বার্তা ইমেইল:[email protected] বিজ্ঞাপন ইমেইল:[email protected]