রোববার ২৮ নভেম্বর ২০২১ ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

শিরোনাম: তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদের ভোট আজ    মামলায় ঝুলে আছে সাড়ে দশ হাজার কোটি টাকারও বেশি    টিকাগ্রহীতা সাড়ে ৯ কোটি ছাড়াল    রংপুরে ট্রাকচাপায় নিহত ৪    ‘৮০ শতাংশ বাস মালিক গরিব, দু’একটা বাসে সংসার চলে’    মহাসড়কে টোল আদায়ে বিল পাস    'ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস হবে না'   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
বাংলাদেশের আধুনিক সামরিক বাহিনী ও শেখ হাসিনা
শাহাবুদ্দিন
প্রকাশ: সোমবার, ২২ নভেম্বর, ২০২১, ৬:৫৪ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

২১শে নভেম্বর। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী দিবস। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন এই দিনে বাংলাদেশের তিন বাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ কম্যান্ড গঠিত হয় সেই থেকে এই দিনটি সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। 

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সামরিক বাহিনীতে রক্তক্ষয়ী   ভ্রাতৃঘাতী লড়াই শুরু হয়। ১৪ই আগষ্ট পর্যন্ত সামরিক বাহিনীতে কোন বিশৃংখলা ছিলনা। ১৫ই আগষ্টের নির্মম হত্যাকান্ডের মধ্যে দিয়ে এই ভ্রাতৃঘাতী রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হয়। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে জন্ম নেওয়া এই লিবারেশন আর্মির শৌর্যবীর্য, গৌরবকে কলঙ্কের কালো চাদরে ঢেকে দিয়েছিল ৭৫ এর ১৫ই আগষ্ট, ৩রা নভেম্বরের জেল হত্যা ও ৭ই নভেম্বরের নির্মম হত্যাযজ্ঞ। তারপর থেকে এই সামরিক বাহিনীতে শুরু হয় রক্তের হোলি খেলা। একেকটি সেনাছাউনি পরিনত হয় রক্তাক্ত মৃত্যু উপত্যকায়। সেনা সদস্যদের স্বজন হারানো করুন কান্নায়, আর্তচিৎকারে বাংলার বাতাস ভারী হয়ে উঠে। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্টের পর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কত বিধবা আর এতিমের সৃষ্টি হয়েছে তার কোন হিসেব নাই। সেনা সদস্যদের কত সন্তান তাদের জন্মদাতা পিতার মুখ পর্যন্ত দেখেনি, এ যে কত হৃদয়বিদারক মর্ম বেদনা তা একমাত্র ভুক্তভোগীই জানেন। ৭৫এর ১৫ই আগষ্টের পর সেনা সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থা নষ্ট হয়ে যায়। কে কখন কার উপর গুলি চালায়, কে কার লোক তা বুঝা বড় দায় ছিল। একটি সৈন্য বাহিনীর মধ্যে যদি ঐক্য না থাকে, শৃংখলা না থাকে, পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্হা না থাকে, মনে মনে একে অপরকে শত্রু মনে করে, নিজের সম্ভাব্য
ঘাতক মনে করে, পেশাদারিত্ব না থাকে, তাহলে সে সৈন্যবাহীনি আর সেনাবাহিনী থাকেনা। নিজেরাই নিজেদের শত্রু মনে করা কোন সেনাবাহিনী বহিঃশত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করার সক্ষমতা রাখেনা।  

মোস্তাক ও তার ঘাতক বাহিনীর শুরু করা সেনাবাহিনীর মধ্যে এই ন্যাক্কারজনক আত্মঘাতী লড়াই বজায় ছিল ১৯৮১ সালের ৩০শে মে প্রথম সামরিক স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমানের মৃত্যু পর্যন্ত। মূলতঃ ১৯৭৫ সালে জাতির জনককে হত্যার মধ্যে দিয়ে সামরিক বাহিনীতে যে আত্মঘাতী সংঘাত শুরু হয় তা জিয়া কুট কৌশলে জিইয়ে রাখে নিজের ক্ষমতা কুক্ষিগত করার জন্য। তার আমলে ১৯টা পরিকল্পিত "ক্যু"তে মুক্তি যুদ্ধের  চারজন সেক্টর কমান্ডার সহ শত শত মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক অফিসার নিহত হয়।২০ তম অভ্যুত্থানে সে নিজেই নিহত হয়।



তারপর এরশাদের আমলে সেনাবাহিনীতে খুনাখুনি বন্ধ হলেও এই সামরিক বাহিনী আকন্ঠ দূর্নীতিতে ডুবে যায়, নষ্ট করে ফেলা হয় তার পেশাদারীত্ব, মোরালিটি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিণত হয় একটি অপেশাদার সশস্ত্র জনগোষ্ঠীতে।  বহিঃ শত্রুর আক্রমন ঠেকানোর মত তার কোন সক্ষমতা ছিল না। এ জাতির ভাগ্য ভালো যে, ঐ দীর্ঘ সময়ে  প্রতিবেশী কোন দেশ আগ্রাসন করেনি। এরশাদ পতনের পর ৯১তে জিয়া স্ত্রী খালেদার নেতৃত্বে বিএনপি  ক্ষমতায় আসলে সেনাবাহিনীতে আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পরিস্থিতি  সৃষ্টি হয়। ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার জন্য ১২ই ফেব্রুয়ারিতে পাতানো নির্বাচনী ফলাফল প্রত্যাখান করে জনতার তীব্র  আন্দোলন শুরু হলে, সেনাবাহিনীতে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।     

বর্তমান বাংলাদেশ সামরিক বাহিনী এশিয়ার উদীয়মান এক সুশৃঙ্খল আধুনিক শক্তিশালী সামরিক  বাহিনীতে পরিণত হয়েছে । জাতিসংঘ বাহিনীর সদস্য হিসাবে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় অনন্য ভুমিকা পালন করছে। আন্তর্জাতিক সুনাম অর্জন করেছে। গৃহযুদ্ধ কবলিত ও সংঘাতময় দেশগুলোতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় আমাদের সামরিক বাহিনীর অনেক সদস্য শহীদ হয়েছে। বাংলাদেশের আজকের এই আধুনিক পেশাদার চৌকস  সামরিক বাহিনীর মূল আর্কিটেক্ট হচ্ছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার গতিশীল নেতৃত্বে সামরিক বাহিনীতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আজ শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্ব। আওয়ামী লীগ সরকারের  "ডিফেন্স প্লান বা প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা "ফোর্সেস গোল ২০৩০" বাংলাদেশ সামরিক বাহিনী দ্রুতগতিতে পরিণত হতে যাচ্ছে, বিশ্বের অন্যতম আধুনিক, চৌকস, পেশাদার  ও দেশপ্রেমিক সামরিক বাহিনীতে। সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের পেশাদার সামরিক বাহিনীর প্রতিষ্টাতাই হচ্ছে শেখ হাসিনা। 

(পুনশ্চঃ ২১শে নভেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে এই লেখা।)

লেখক: সাবেক সভাপতি, জার্মান আওয়ামী লীগ

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://www.dailyvorerpata.com/ad/Comp 1_3.gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]