রোববার ২৮ নভেম্বর ২০২১ ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

শিরোনাম: টিকাগ্রহীতা সাড়ে ৯ কোটি ছাড়াল    রংপুরে ট্রাকচাপায় নিহত ৪    ‘৮০ শতাংশ বাস মালিক গরিব, দু’একটা বাসে সংসার চলে’    মহাসড়কে টোল আদায়ে বিল পাস    'ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস হবে না'    সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি    প্রথমবার বিশ্বকাপে বাংলাদেশের মেয়েরা   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
সাম্প্রদায়িকতার বীজ উপড়ে ফেলতে হবে
#মৌলবাদী এক অশুভ শক্তি আমাদের সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায়: ড. শাহিনূর রহমান। #বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি যেকোনো মূল্যে অটুট রাখতে হবে: মায়েদুল ইসলাম তালুকদার বাবুল। #স্বাধীনতা বিরোধীরা সাম্প্রতিক সময়ে দাঙ্গা করেছে: তানভীর হাসান সৈকত।
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২১, ১১:২৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

হাজার বছর ধরে এই ভূখণ্ডে জাতি, ধর্ম ও বর্ণের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এ দেশের মানুষের সুমহান ঐতিহ্য। বিশ্বে বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হিসেবে পরিচিত। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে সমুন্নত রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।



দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপের ৫০৩তম পর্বে সোমবার (২৫ অক্টোবর) এসব কথা বলেন আলোচকরা। ভোরের পাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের নির্দেশনা ও পরিকল্পনায় অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন-কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহিনূর রহমান, জার্মান আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা, বাংলাদেশ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মায়েদুল ইসলাম তালুকদার বাবুল, জাতিসংঘ ঘোষিত রিয়েল লাইফ হিরো, ডাকসুর সাবেক সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের উপ-সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকত। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভোরের পাতার বিশেষ প্রতিনিধি উৎপল দাস।

ড. শাহিনূর রহমান বলেন, আমি ভোরের পাতার একজন নিয়মিত আলোচক সেজন্য আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। এদেশে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করবে। এর জন্য আমাদের মন মানসিকতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অসাম্প্রদায়িক চেতনা লালন করতে হবে। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে আমাদের সামাজিক, প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা থেকে সকলকে আন্তরিক হতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এদেশের মানুষ নারী-পুরুষ সকলে সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত হয়ে মানবাধিকার নিয়ে বসবাস করে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা বলা হলেও এখনো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ নানা বঞ্চনার শিকার হচ্ছে। তার বড় কারণ হচ্ছে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিরা এদেশের সাম্প্রদায়িক স¤প্রীতিটা একেবারেই দেখতে পারে না। সম্প্রতি কুমিল্লায় হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবে পূজামণ্ডপে প্রতিমার কাছে দুর্বৃত্তের রাখা কোরআন শরীফ অবমাননার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার আগুন জ্বলে উঠে। পাঁচদিনের আনন্দঘন উৎসবের তৃতীয় দিন থেকে জ্বলতে শুরু হয় সাম্প্রদায়িক সহিংসতার আগুন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে উস্কানিমূলক ও উগ্র সাম্প্রদায়িকতা ছড়িয়ে দিতে তৎপর হয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী গোষ্ঠী। ফলে দ্রুতই দেশের বিভিন্ন জায়গায় দেখা দেয় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, সহিংসতা। এখনই এদের বিষদাঁত উপরে ফেলতে হবে, নতুবা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশকে এরা বিতর্কিত করবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে সমুন্নত রেখে ঐক্যবদ্ধভাবে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

মায়েদুল ইসলাম তালুকদার বাবুল বলেন, হাজার বছর ধরে এই ভূখণ্ডে জাতি, ধর্ম ও বর্ণের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এ দেশের মানুষের সুমহান ঐতিহ্য। বিশ্বে বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের মানুষ অনেক বেশি ধর্মপরায়ণ বলে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি সর্বদাই সহনশীল। বাংলাদেশের মূল শক্তিই হলো বাঙালি জাতিসত্তা। জাতি হিসেবে আমরা বাঙালি। সবার ভাষাই বাংলা। প্রত্যেক ধর্মের মানুষ স্ব-স্ব ধর্ম পালন করলেও উৎসবের আনন্দ সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে উদযাপন করে। প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা যথার্থ বলেছেন, ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। রাষ্ট্র ধর্ম, সমাজ ধর্ম ও মানবিকতা ধর্ম আজ ধর্মাশ্রয়ী রাজনীতিতে বিপন্ন হয়েছে। অথচ ১৯৭১ সালের বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অস্প্রদায়িক দেশ গঠন করার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করা হয়েছিল। কিন্তু আজ দেশ যেন ধর্মাশ্রয়ী রাজনীতিতে পরিণত হয়েছে। আজ পুড়ছে ঘরবাড়ি, পুড়ছে মানুষ, পুড়ে অঙ্গার হয়ে যাচ্ছে আত্মমানবিক সম্পর্ক। এ যেন সাম্প্রদায়িকতার এক নতুন বিষবাষ্প। আমরা তো আবহমান বাংলায় সহশ্র বছর ধরে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ। যেখানে আমরা বড় হয়েছি অসাম্প্রদায়িত চেতনায়। কিন্তু কেন এমন হচ্ছে, তা চিন্তা করার বিষয়। ১৯৭৫ সাল পরবর্তী কুচক্রী মহলের দ্বারা শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ধর্মের নামে যে কুসংস্কার ছড়ানো হয়েছিল, তারই পরিণত ফল আজকের এই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। যদিও বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় গঠিত, তবে কিছু নগণ্য মানুষ এই সম্প্রীতি নষ্ট করছে। মোদ্দাকথা বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে সব ধর্মের মানুষ সমানভাবে উন্নয়নের সুফল উপভোগ করছে।

তানভীর হাসান সৈকত বলেন, আসলে সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের ভাই-বোনদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে  যখন তাদের আনন্দ উদযাপনের সময় যাচ্ছিলো তখনি আমাদের মধ্যে থাকা একটা নরপিশাচের দল যারা সেই স্বাধীনতা সময় থেকে শুরু এখন পর্যন্ত যারা ধর্মকে পুঁজি করে ব্যবসা করছে তারা মূলত বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার পায়তারা করছে। এদের আসলে কারা? আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বাঙালিদের মধ্যে একটা শ্রেণির মানুষ সবার মধ্যে একটি ধর্মীয় উসকানি সৃষ্টি করে তারা স্বাধীনতার বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিল। তারা সবাইকে উদ্বুদ্ধ করেছিল যে আমরা আসলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নয় মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছি। এই যে তাদের নীতিটা এটাকে তারা ব্যাবহার করে আমাদের দেশের বিরোধিতা করেছিল। একটা পর্যায়ে কিন্তু তারা পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে কিন্তু তারা থেমে থাকেনি। একটা সময় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে আমাদের জাতি পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নিসংসভাবে হত্যা করেছিল। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত তা কিন্তু আজ আমরা সবাই জানি। আজকে যারা এই হামলা দাঙ্গা চালাচ্ছে তারাই কিন্তু মূলত এদের বংশধর। আজকে বিএনপি-জামায়াত কেন ভাই ভাই। এই ধর্মীয় রাজনীতি ব্যবহার করেই কিন্তু তারা আজ এইরকম আত্মার সম্পর্কে আবদ্ধ হয়েছে। তারা কিন্তু একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজনীতি করেছে। ১৯৭৫ সাল পরবর্তী কুচক্রী মহলের দ্বারা শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ধর্মের নামে যে কুসংস্কার ছড়ানো হয়েছিল, তারই পরিণত ফল আজকের এই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। যদিও বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় গঠিত, তবে কিছু নগণ্য মানুষ এই সম্প্রীতি নষ্ট করছে। তাই বঙ্গবন্ধুর বাংলায় সাম্প্রদায়িকতার ঠাঁই নেই, একথা বাস্তবায়ন করতে হলে সাম্প্রদায়িকতার সকল বীজ উপড়ে ফেলতে হবে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://www.dailyvorerpata.com/ad/Comp 1_3.gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]