রোববার ২৮ নভেম্বর ২০২১ ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

শিরোনাম: তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদের ভোট আজ    মামলায় ঝুলে আছে সাড়ে দশ হাজার কোটি টাকারও বেশি    টিকাগ্রহীতা সাড়ে ৯ কোটি ছাড়াল    রংপুরে ট্রাকচাপায় নিহত ৪    ‘৮০ শতাংশ বাস মালিক গরিব, দু’একটা বাসে সংসার চলে’    মহাসড়কে টোল আদায়ে বিল পাস    'ইসলামের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস হবে না'   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
আমানতে লক্ষ কোটি টাকার মাইলফলক অতিক্রম করলো জনতা ব্যাংক
রমজান আলী
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১২ অক্টোবর, ২০২১, ৮:২০ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

মহামারী করোনাকালীন সময়ে সারাবিশ্বেই ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অর্থনীতি ভাটা পড়লেও রাষ্ট্র মালিকানাধীন জনতা ব্যাংকচিত্র ছিল ভিন্নতর। করোনার মধ্যেও জনতা ব্যাংক সবধরনের সূচকেই ছিল রেকর্ড পরিমাণ সাফল্য। করোনার মধ্যে জনতা ব্যাংকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সূচকে উন্নতি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে অগ্রগতি হয়েছে আমানত ও ঋণ খেলাপির। এছাড়া নিট মুনাফা ও  ঋণ বিতরণ এবং আদায়সহ বিভিন্ন সূচকে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। 



করোনার মধ্যে নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে নানাভাবে সমালোচিত জনতা ব্যাংকটি যার হাত ধরে ঘুরে দাঁড়িয়েছে তিনি হলেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুছ ছালাম আজাদ। করোনার মধ্যে প্রতিদিন যিনি অফিস করেছেন। যার কারণে আজ আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ কোটি টাকার উপরে। গত ১১ অক্টোবার পর্যন্ত ব্যাংকটির আমানত দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৭৫ কোটি টাকা। যা আমানতে নতুন এই মাইলফলক ছুঁয়েছে ব্যাংকটি। এছাড়া বাংলাদেশের সরকারি খাতের ব্যাংকের জন্য একটি নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে জনতা ব্যাংক। এর আগে সোনালী ব্যাংকের পর ইসলামী ও অগ্রণী ব্যাংকের আমানত লাখ কোটি টাকা ছাড়ায়। এবার জনতা ব্যাংকও এই মাইফলকে ঢুকল। 

ব্যাংকখাতের সংশ্লিষ্টরা জানান, সকল সংকট কাটিয়ে জনতা ব্যাংক লিমিটেড ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এখন ব্যাংকিং খাতের সবগুলো সূচকে জনতা ব্যাংক ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। বর্তমানে আমানতে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে করেছে জনতা ব্যাংক। ধীরে ধীরে আরো এগিয়ে যাবে জনতা ব্যাংক সেই প্রত্যাশ রইলো। 

এ প্রসঙ্গ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মো. আব্দুছ ছালাম আজাদ বলেন, বর্তমানে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ভেতরে জনতা ব্যাংকের অবস্থান উপরের দিকে। আমাদের লক্ষ্য ২০২২ সালে দেশের সেরা ব্যাংকের স্বীকৃতি আদায় করে নেওয়া। তাই এর মধ্যে আমানতে ১ লাখ কোটি টাকা উপরে উন্নীত হয়েছে। এছাড়া খেলাপি ঋণ কমেছে।  আমরা ব্যাংক গ্রাহকদের সর্বোত্তম সেবা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছি। আমাদের আর্থিক সূচকগুলোর ধারাবাহিক অগ্রগতি রয়েছে, যা টেকসই উন্নয়নের মাপকাঠি। বিশেষ করে চলমান কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত আর্থিক খাত পুনরুজ্জীবিত করার মানসে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ জনতা ব্যাংক বাস্তবায়ন করেছে। করোনায় দেশের ব্যাংকিং কার্যক্রমসহ অর্থনীতির চাকা সচল রাখার জন্যই আমরা এ ভার্চুয়াল বোর্ড মিটিং করে আসছি। করোনার মধ্যে ব্যাংকের উন্নয়নে সর্বোচ্চ গ্রাহক সেবা নিশ্চিতকরণ, তথ্য প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার, কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সকল পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।  
মো. আব্দুছ ছালাম আজাদ আরো বলেন, ২০২০ সালে ব্যাংকিং সেক্টরে আমানতের গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ১৩ দশমিক ১২ শতাংশ। ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত আমানতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৯ দশমিক ১৮ শতাংশ। এছাড়া ২০২০ ঋণ ও অগ্রিম খাতে গড় প্রবৃদ্ধি ছিল ৮ দশমিক ৮১ শতাংশ। সেখানে ২০২১ সালের জুন প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০ দশমিক ৩৭ শতাংশ। ব্যাংকের ক্রেডিট রেটিং এর মান একধাপ উন্নীত (এ+) হয়েছে। পরিচালন মুনাফা ২৭২ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে, শ্রেণিকৃত ঋণ ৮৬৭ কোটি টাকা হ্রাস পেয়েছে। আমদানি-রফতানি বাণিজ্য ও রেমিট্যান্স আহরণে জনতা ব্যাংক খুব ভালো অবস্থানে রয়েছে। 

জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজেও মনে করেন, খেলাপিঋণ বাড়ার জন্য দায়ী অ্যানন টেক্স ও ক্রিসেন্ট গ্রুপ। তবে খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অ্যানন টেক্স তাদের ঋণ নিয়মিত রাখার কথা দিয়েছে। চলতি মাসেই তারা তাদের ঋণের উল্লেখযোগ্য একটা অংশ দিয়ে দেবে। এ সংক্রান্ত সব কাগজপত্র রেডি করা হয়েছে। ২০২১ সালে অ্যানন টেক্স ও ক্রিসেন্ট গ্রুপসহ সকলের ঋণ নিয়মিত রাখার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্বের সকল প্রতিষ্ঠানই কম বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব বিবেচনায় বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনীতির চাকা অনেকটা সচল রয়েছে। বছরের শেষে জনতা ব্যাংক পরিচালন মুনাফা, রেমিটেন্স বৃদ্ধিসহ অনেক সূচকেই সফলতা দেখিয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে ২০২১ সালে আমরা বড় ঋণ বিতরণের চেয়ে ছোট ছোট বা এসএমই ঋণ দেওয়াকেই প্রাধান্য দিচ্ছি। এসএমই ঋণ বিতরণের জন্য ভাল গ্রহীতা খুঁজছি। 

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://www.dailyvorerpata.com/ad/Comp 1_3.gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]