মঙ্গলবার ২৬ অক্টোবর ২০২১ ৯ কার্তিক ১৪২৮

শিরোনাম: রাজধানীতে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত    দেশে ৬ কোটি ১৪ লাখের বেশি করোনার টিকা প্রয়োগ    স্কটল্যান্ডকে ৬০ রানেই গুঁড়িয়ে দিল আফগানিস্তান    দারিদ্র্য বিমোচনে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর কাজ করা উচিত: প্রধানমন্ত্রী    ফৌজদারি কার্যবিধি আধুনিকায়নে কমিটি গঠন    আবাসিক এলাকায় নতুন গ্যাস সংযোগ দিতে হাইকোর্টের রুল    টস জিতে ব্যাটিংয়ে আফগানিস্তান   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
হলি আর্টিজান হামলা নিয়ে ভারতীয় চলচ্চিত্র এবং প্রতিক্রিয়া
বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৯:৫৩ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

সম্প্রতি ভারতীয় নির্মাতা হানসাল মেহতার নতুন চলচ্চিত্র ‘ফারায’ নির্মাণের ঘোষণা নিয়ে তুমুল বিতর্ক ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। চলচ্চিত্রটি ২০১৬ সালের ১ জুলাই ঢাকার গুলশানে অভিজাত রেস্তোরাঁ ‘হলি আর্টিজানে' হামলার ঘটনার উপর ভিত্তি করে নির্মিত হচ্ছে, যেখানে জঙ্গি গোষ্ঠীর হামলায় ২২ জন নিরীহ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। চলচ্চিত্র নির্মাণের সংবাদটি হামলায় নিহতদের পরিবার-পরিজনের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। তাদের কাছে স্বজন হারানোর এ ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায় হওয়ায় তারা চলচ্চিত্রটি নির্মাণে আপত্তি জানিয়েছেন। 

নিহতদের স্বজনরা মনে করছেন,  নির্মাণাধীন চলচ্চিত্রটি হামলায় নিহতদের আত্মত্যাগের প্রতি চরম অসম্মান প্রদর্শন করবে। পাশাপাশি পরোক্ষভাবে বাংলাদেশকে একটি চরমপন্থী রাষ্ট্র হিসাবে এটি বিশ্বের দরবারে দেশের সুনাম ক্ষুন্ন করবে। 

'সেই ভয়াবহ রাতের ঘটনাটি কোনো অবস্থাতেই আমাদের দেশ, আমাদের জাতি ও আমাদের ধর্মকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারে না, বরং এরকম একটি ঘটনার চলচ্চিত্রের মাধ্যমে পুনরাবৃত্তি মানুষের বিশ্বাসে বিরূপ ধারণার জন্ম দিবে যা সর্বোপরি আমাদের দেশের প্রতি অবিচার এবং দেশের মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করবে'- একজন নিহতের পরিবারের দাবী। 



ছবিটির প্রকাশিত টিজার ও নাম থেকে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়, যেখানে চলচ্চিত্রটি সেই রাতের ঘটনায় নিহত ‘ফারায’ কে কেন্দ্র করে নির্মিত হচ্ছে– যিনি ঘটনার সময়ে তাঁর দুজন বন্ধু অবিন্তা কবির ও তারিশি জৈনের সাথে ক্যাফেতে উপস্থিত ছিলেন। তারা তিনজন একই সাথে ঘটনার নির্মমতার শিকার হয়ে সেই রাতে প্রাণ হারান। অবিন্তা কবির ও তারিশি জৈনের পরিবার চলচ্চিত্রটি নির্মাণ কাজ অনতিবিলম্বে বন্ধ করার জন্যে নির্মাতা হানসাল মেহতা ও অন্যান্য আনুসঙ্গিক নির্মাতাদের আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে তারা বলেছেন, সেই রাতের ঘটনা আমাদের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য শোকের কারণ, যা আমরা প্রতিনিয়ত বহন করে চলেছি। এরকম একটি ঘটনা যা জন মানুষের আবেগ ও অনুভূতিতে কঠিন বাস্তবতা হয়ে দাঁড়ায়। অবিলম্বে এর চিত্রায়ন চিরতরে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা উচিৎ। উপরন্তু, চলচ্চিত্রটি নির্মাণের পূর্বে নির্মাতা এবং সংশ্লিষ্ট প্রডাকশন হাউজ –হামলায় নিহত ব্যক্তিদের কারো পরিবারের কাছ থেকে কোনো প্রকার সম্মতি গ্রহণ করেনি বলেও তারা অভিযোগ করেন। 

বিশেষত, অবিন্তা কবির ও তারিশি জৈন'র পরিবারের কাছ থেকে কোনো প্রকার অনুমতি গ্রহণ করা হয়নি – যেখানে তাদের সংশ্লিষ্টতা ছাড়া এটির চিত্রায়ণ অসম্ভব। অবিন্তা কবিরের শোক সন্তপ্ত মা রুবা আহমেদ বলেন, 'এরকম একটি ঘটনা যা জাতিকে তারা স্তব্ধ করে তুলেছিল। এটির চিত্রায়ন কখনো কোনো অবস্থাতেই সমীচীন নয়। তিনি জানান, চলচ্চিত্রটি নির্মাণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট প্রডাকশন হাউজটি হামলায় নিহতদের পরিবারের কাছ থেকে কোনো প্রকার বৈধ অনুমোদন গ্রহণ না করার মত অসংবেদনশীল আচরণ – তাকে চরম ভাবে হতাশ করেছে।

রুবা আহমেদ বলেন, 'নিহত ফারাযকে নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে গেলে এটাই স্বাভাবিক যে আমার মেয়ে (অবিন্তাকবির), তুলিকার মেয়ে (তারিশি জৈন) এবং ঘটনায় অন্যান্য নিহত সকলেই দৃশ্যপটে চলে আসবে। এটা কি করে সম্ভব হয় – যেখানে আমাদের মধ্যে থেকে কারো কাছেই সম্মতি চাওয়া হয়নি! এটি বাস্তব ঘটনার ওপর নির্মাণ করার কথা বলা হয়েছে, সুতরাং শুধুমাত্র একজনের চরিত্র তুলে ধরতে গিয়ে, এটি কি বাকি ২১ জন নিহতের করুণ বাস্তবতাকে তুচ্ছ করা নয় যারা একই ঘটনার শিকার? এটা কেমন মানবতা? অবিন্তা কবির ও তারিশি জৈনের পরিবার নির্মাতা মেহতা এবং অন্যান্য চলচ্চিত্র নির্মাতাদের কাছে সেই রাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো প্রকার শিল্প কর্ম নির্মাণ না করার জন্যে আবেদন জানিয়েছেন। নির্মাতাদের তারা অনুরোধ জানিয়ে বলেন, পরবর্তী সময়ে যেন কেউ এরকম কিছুর পুনরাবৃত্তি না ঘটান – যা তাদের এবং অন্যান্য নিহতদের পরিবারকে সেই ভয়াল রাতের স্মৃতিচারণ করতে বাধ্য করে। 

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে ১৫ মার্চ ২০১৯ সালের গোলাগুলির ঘটনাটির উপর ভিত্তি করে পরিচালক এন্ড্রু নিকল তাঁর 'দেআরআস' নামক চলচ্চিত্রের নির্মাণ কাজের উদ্যোগ গ্রহণ করেন, যেখানে একজন শ্বেতাঙ্গ আধিপত্য বাদীর হাতে ৫১ জন মুসলমান নিহত হওয়ার ঘটনাটি উঠে আসে। এর খবর প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথেই স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, যেখানে তারা চলচ্চিত্রটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করার দাবীসহ প্রচন্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেন এমন একটি আপত্তিকর বিষয় নিয়ে নির্মাতাদের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য। পরিচালক নিকল প্রতিবাদের জেরে চলচ্চিত্রটি স্থগিত করতে বাধ্য হন।  এ বিষয়ে দেয়া বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, তাঁর এই উদ্যোগের কারণে নিহতদের পরিবারকে অনাকাঙ্খিত ভাবে কষ্ট দেওয়ার জন্যে তিনি দুঃখ প্রকাশ করছেন। একই মনোভাব মেহতা এবং ‘ফারায’ চলচ্চিত্রের সংশ্লিষ্ট অন্যদের কাছেও কাম্য। এমন একটি চলচ্চিত্র যার মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ার সম্ভাবনা বিদ্যমান, যা ইসলাম ধর্মকে অপ ব্যাখা করে এবং সর্বোপরি ১ জুলাই হামলায় নিহতদের আত্মত্যাগের স্মৃতির প্রতি অসম্মানজনক।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://www.dailyvorerpata.com/ad/Comp 1_3.gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]