মঙ্গলবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১২ আশ্বিন ১৪২৮

শিরোনাম: বারডেম হাসপাতালের কেবিনে বৃদ্ধার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার    দেশে ৪ কোটি ১৩ লাখের বেশি করোনার টিকা প্রয়োগ    বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সর্বত্র যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির    করোনা টেস্টের টাকা নিয়ে উধাও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট    দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র বানানোর ষড়যন্ত্র করছে বিএনপি: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী    মৃত্যু ও শনাক্ত দুটোই বেড়েছে    কমল ডেঙ্গু রোগী, বাড়ল মৃত্যু   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
যারা স্বাক্ষর দিতে পারেনা তারাও সাক্ষরতার হারে!
মোশারফ হোসাইন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৮:৩৩ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

যেখানে শিক্ষার আওতাতে আসেনি সেখানে বেদে জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের প্রাথমিকে ৭০০, মাধ্যমিকে ৮০০, উচ্চমাধ্যমিকে ১ হাজার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ১২০০ টাকা উপবৃত্তি দেন বলে দাবি সমাজসেবা অধিদফতরের।

সরকারি হিসেব মতে দেশে প্রতি বছরই বাড়ছে সাক্ষরতার হার। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের চেয়ে এবছর হার প্রায় ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে সাক্ষরতার হার ৭৫ দশমিক ৬ শতাংশ, গত বছর ছিল ৭৪ দশমিক ৭ শতাংশ। সাক্ষরতার হার বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও দেশে এখনও মোট জনসমষ্টির ২৪ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ নিরক্ষতায় রয়েছেন। আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস সামনে রেখে (৬ সেপ্টেম্বর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। ১৯৬৬ সালের ২৬ অক্টোবর ইউনেস্কোর সাধারণ সম্মেলনের ১৪তম অধিবেশনে ৮ সেপ্টেম্বর তারিখকে ‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৯৬৭ সালে প্রথমবারের মতো দিবসটি উদ্যাপিত হয়। দিবসটির লক্ষ্য ব্যক্তি, সম্প্রদায় এবং সমাজের কাছে সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরা। বর্তমানে জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্র এ দিবসটি উদ্যাপন করে থাকে। আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস হলো শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা বা ইউনেস্কো-ঘোষিত একটি আন্তর্জাতিক দিবস।



প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার সুযোগবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে সাক্ষরজ্ঞান দেওয়া, জীবনব্যাপী শিক্ষা সুযোগ সৃষ্টি, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জীবিকায়ন, দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিদ্যালয়বহির্ভূত ঝরেপড়া শিশুদের শিক্ষার বিকল্প সুযোগ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সরকার উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা আইন-২০১৪ প্রণয়ন করেছে। এ আইন অনুযায়ী উপানুষ্ঠানিক প্রাথমিক শিক্ষা ৮-১৪ বছর বয়সের শিশু, যারা কখনোই স্কুলে যায়নি বা প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার আগে ঝরে পড়েছে এবং বয়স ১৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সের নারী-পুরুষ যারা স্কুলে যাননি, তাদের এ শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় সাক্ষরজ্ঞান দেওয়া হয়।

জীবনের সংগ্রামে থাকা বেদে জনগোষ্ঠীর শিশুদের জীবন হতে পারতো রঙিন, তারাও স্বাক্ষর দিয়ে সাক্ষরতার হারে নাম লেখাতে পারতো। জীবনের নির্মম বাস্তবতায় সারা দেশে বসবাসরত এই জনগোষ্ঠীর শিশুরা এখনও শিক্ষার বাইওে, অনেক শিশুই দিতে স্বাক্ষর তবুও তারা সাক্ষরতার হারে। সারা দেশের সব শিশু যখন নতুন বই হাতে নিয়ে পাঠ্য বইয়ের সুগন্ধ নেয় তখন বই উৎসবের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয় বেদে জনগোষ্ঠীর শিশুরা। আর করোনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় জীবনজীবিকা ও শিক্ষা এক অবিশ্বাস্য পথ হয়ে দাড়িয়েছে এই জনগোষ্ঠীর। দেশের নাগরিক হয়েও শিক্ষা অধিকার পায়নি অনেক শিশু সন্তানরা- এমন অভিযোগ বেদে জনগোষ্ঠীর। বেদে জনগোষ্ঠীর শিশুরা জানান, স্কুলে গেলেও তাদের নানা বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়। তাদের সঙ্গে মিশতে চায়না অন্য শিশুরা। ফলে নিগ্রহ ও বৈষম্যের শিকার হয়ে স্কুলবিমুখ হতে বাধ্যহতে হয়।  দেশের বিভিন্ন জেলায় এখনো শিক্ষাবঞ্চিত বেদে জনগোষ্ঠীর শিশুরা এমন খবর প্রকাশিত হয়েছে দেশের জাতীয় গণমাধ্যমগুলোতেও। বেদে জনগোষ্ঠী বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার একটি ক্ষুদ্র অংশ, সমাজসেবা অধিদফতরের জরিপমতে বাংলাদেশে বেদে জনগোষ্ঠী প্রায় ৭৫০০০ জন। যাযাবর জীবন যাপনের ফলে তারা শিক্ষার আওতায়তেই আসতে পারেনি। তাদের জন্য বিকল্প কোনো শিক্ষা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে কীনা? মুঠোফোনে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন যেহেতু আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসটির কর্মসূচির হাতে নিয়ে প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রণালয় সেহেতু এই এই বিষয় নিয়ে আমি তেমন কিছুই জানাতে পারবো না!। এর আগে ভোরের পাতার এক বিশেষ প্রতিবেদনের সাক্ষাতকারে তিনি বলেছিলেন বেদে জনগোষ্ঠীর শিশুদের শিক্ষার আওতায় আনা এখনো সম্ভব হয়নি, এটা শুধু দেশে নয় বিশ্বব্যাপী সমস্যা কারণ তারা যাযাবর জীবন যাপন করে। সমাজসেবা অধিদফতরের সামাজিক নিরাপত্তা অধিশাখার উপপরিচালক (বেদে, অনগ্রসর ও হিজড়া জনগোষ্ঠী) মোঃ শাহ জাহান বলেন, বেদেজনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থী আছে এবং তাদের আমরা উপবৃত্তি দেই, সারা দেশে যারা প্রাথমিকে পড়ে তারা ৭০০ টাকা, মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা পান ৮০০ টাকা, উচ্চমাধ্যমিকে ১ হাজার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পান ১২০০ টাকা। এবং তার দাবি সারা দেশের বেদে জনগোষ্ঠীর শিশুরা সাক্ষরতার আওতায় আছে। শেরপুর, জামালপুর ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলের বেদে জনগোষ্ঠীদের কথা বলে জানা যায় তাদের সন্তানরা স্কুলেই যায়না উপবৃত্তি পাবে কীভাবে?। তাদের প্রশ্ন আমাদের এই টাকা তাহলে যায় কোথায়?। প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়য়ের সচিব গোলাম মোঃ হাসিবুল আলমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, ক্ষুদে বার্তা দিয়েও তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি। 

সরকারের মৌলিক সাক্ষরতার প্রকল্পের প্রতিবেদনে বলা আছে, বাংলাদেশের সংবিধানে সকল নাগরিকের শিক্ষার সুযোগ প্রদানসহ দেশ হতে নিরক্ষরতা দূরীকরণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। ‘সবার জন্য শিক্ষা’ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ফোরামে অঙ্গীকারাবদ্ধ। এছাড়া বর্তমান সরকার তাদের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশ থেকে নিরক্ষরতা দূর করবে। এ সকল নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে সাক্ষর করতে না পারলে কাঙিক্ষত উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই বিপুল জনগোষ্ঠির নিরক্ষরতা দূরীকরণসহ তাদেরকে দক্ষ মানবসস্পদে পরিণত করার লক্ষ্যে সরকার দেশের বিদ্যমান ১৫-৪৫ বছর বয়সী ৪৫ লক্ষ নিরক্ষর নারী পুরুষকে কার্যকর জীবনদক্ষতা ভিত্তিক সাক্ষরতা প্রদান করার জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর আওতায় সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে “মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্প (৬৪ জেলা)’’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে ৬৪ জেলায় কতদূর এগিয়েছে এই প্রাথমিক ও গণশিক্ষা কার্যক্রম এবং সাক্ষরতা?। প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষার্থীরা একদিনও ক্লাস করেনি এমন তথ্যও মিলে।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন এর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার, সাক্ষরতার স্বার্থে অবশ্যই শিক্ষার দায়িত্ব নিতে হবে রাষ্ট্রের, কোনো জনগোষ্ঠী যদি শিক্ষা বঞ্চিত থাকে তাহলে রাষ্ট্রের উচিৎ তাদের শিক্ষার আওতায় আনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালমা আক্তার বলেন, সারাদেশের বেদে জনগোষ্ঠীর মানুষ ও শিশুদের শিক্ষার আওতায় আনাটা কঠিন, তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গাঘুরে। আমি যতোদূর জানি তাদের একজন দলনেতা থাকে এবং তার মাধ্যমে তাদের সবার কাছে পৌছাতে হয়, শুধু মাত্র সরকার তাদের শিক্ষার আওতায় আনার জন্য কাজ করবে এমনটি যেন নাহয় অন্যসংস্থাগুলোও এগিয়ে আসতে পারে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://www.dailyvorerpata.com/ad/Comp 1_3.gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]