মঙ্গলবার ২৬ অক্টোবর ২০২১ ৯ কার্তিক ১৪২৮

শিরোনাম: রাজধানীতে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত    দেশে ৬ কোটি ১৪ লাখের বেশি করোনার টিকা প্রয়োগ    স্কটল্যান্ডকে ৬০ রানেই গুঁড়িয়ে দিল আফগানিস্তান    দারিদ্র্য বিমোচনে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর কাজ করা উচিত: প্রধানমন্ত্রী    ফৌজদারি কার্যবিধি আধুনিকায়নে কমিটি গঠন    আবাসিক এলাকায় নতুন গ্যাস সংযোগ দিতে হাইকোর্টের রুল    টস জিতে ব্যাটিংয়ে আফগানিস্তান   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
ভোরের পাতার সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম
'আওয়ামী লীগে সাইবেরিয়ান বার্ডদের উৎখাতের সময় এসেছে'
উৎপল দাস
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১০:০৮ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার সুযোগ্য কন্যা, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একজন আদর্শিক, মানবিক গুণাবলীসম্পন্ন কর্মী হয়েই আমৃত্যু রাজনীতি করতে চান আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। শেখ হাসিনার প্রতি অবিচল বিশ্বাস আর আস্থা রেখে তিনি এখন জনমানুষের, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে সদা জাগ্রত, ঐতিহাসিক এবং উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করছেন। ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে পথচলা শুরু করে এই বাহাউদ্দিন নাছিম আওয়ামী লীগের সোনালী দুঃসময়ের নেতাদের একজন। তাকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কিছু নেই। ছাত্রলীগের কর্মী থেকে শুরু করে স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি বাহাউদ্দিন নাছিম মনেপ্রাণে বঙ্গবন্ধুর একজন আদর্শিক সন্তান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন ক্ষমতায় ছিলেন না তখন তার পাশে ছায়াসঙ্গী হিসাবে রাজনীতির মাঠে ছিলেন। নিজের জীবনের মায়া তুচ্ছ করেই বারবার নেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আস্থার প্রতিদান দিতে গিয়ে মামলা, হামলা, কারাবরণ করেন, নির্যাতনও সহ্য করেছেন বিএনপি-জামায়াত, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে। ওয়ান-ইলেভেন থেকে শুরু করে সাম্প্রদায়িক শক্তির নতুন করে উত্থান নিয়ে মোটেও বিচলিত নন আওয়ামী লীগের ত্যাগী এই নেতা।  

তিনি দৃঢ়ভাবে ভোরের পাতাকে বলেছেন, স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ সংগ্রামের ফলেই। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মূল চার নীতির একটি হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষতা। এই ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রকে যারা সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র বানানোর দুঃস্বপ্ন এখনো দেখছেন, তারা স্বাধীনতার আগেও ছিল, তাদের বংশধররাই এখনো ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। কিন্তু তাদের উত্থান বা আস্ফালন ঠেকাতে শেখ হাসিনার কর্মীরাই যথেষ্ট বলে মনে করেন বাহউদ্দিন নাছিম। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার কারণে দলটিতে অনেক সাইবেরিয়ান বার্ড অনুপ্রবেশ করেছে, এটাও তিনি অস্বীকার করেননি। তবে তাদের এখনই উৎখাত করার সময়। এক্ষেত্রে শেখ হাসিনার আদর্শিক কর্মীরাই যথেষ্ট বলে মনে করেন তিনি। সোমবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে ভোরের পাতার বিশেষ প্রতিনিধি উৎপল দাসের সাথে দীর্ঘ আলাপচারিতা হয় আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের। সেই আলাপচারিতার মধ্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রশ্ন এবং উত্তর ভোরের পাতার পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো। 

ভোরের পাতা: আপনি স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, স্বেচ্ছাসেবক লীগ গঠন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাই। 

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম: বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ জয়ের মাধ্যমে। একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে পরাস্ত করলেও পরাজিত শক্তিরা প্রতি বিপ্লব করতে পারে, এমন একটি চিন্তা থেকেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা পরবর্তী সময়েই স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠন করেছিলেন। মূলত তৎকালীন সময়ে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের আক্রমণ থেকে দেশপ্রেমিক জনগণকে রক্ষা করতে এবং আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মীদের জীবন রক্ষার্থেই এ বাহিনী গঠন করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছিল। স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি এবং আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান এবং পরবর্তীতে জাতীয় নেতা আব্দুর রাজ্জাক। সরাসরি জাতির পিতার নির্দেশেই কাজ করতো এই বাহিনী। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতের আগ পর্যন্ত এ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী সক্রিয় থাকলেও পরবর্তীতে সংগঠনটির কার্যক্রম এক প্রকার বন্ধই হয়ে যায়। এরপর ১৯৮১ সালের ১৭ মে বঙ্গবন্ধুর অসামপ্ত স্বপ্নগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্বৈরশাসকের রক্তচুক্ষুকে উপেক্ষা করে দেশে ফিরেন আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা। ১৯৯১ সালে আন্তজার্তিক ষড়যন্ত্রে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যেতে না পারলেও সংসদে প্রধান বিরোধী দলে ছিল। বিরোধী দলের নেতা শেখ হাসিনা তখন স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর মতো স্বেচ্ছাসেবক লীগ গঠনের জন্য তাগিদ অনুভব করেন। আমি তখন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা এবং আমাদের আশা ও আশ্রয়ের শেষ ঠিকানা বঙ্গবন্ধু কন্যার ছায়াসঙ্গী হিসাবেই কাজ করছি। দলের নেতাকর্মীদের উপরও খালেদা জিয়া সরকারের চরম জুলুম নির্যাতন চলছে। এ অবস্থায় নেত্রী আমাকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগ গঠন করার। শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ ১৯৯৪ সালের ২৭ জুলাই ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের সাবেক নেতাকর্মীদের নিয়ে গঠিত হয়। তখন আহ্বায়ক কমিটিতে আমি ২ নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসাবে মনোনীত হয়েছিলাম। এরপর প্রথম সম্মেলনে নেত্রী আমাকে সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেন। এভাবেই স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে আজ অবদি সংগঠনটির জন্য কাজ করে যাচ্ছি। কারণ এই সংগঠনটি বঙ্গবন্ধুর স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী থেকেই শেখ হাসিনার আজকের বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ হয়েছে। 

ভোরের পাতা: স্বেচ্ছাসেবক লীগ গঠন প্রক্রিয়ার সময় কোনো ধরনের বাধা বা চাপ ছিল কি না?

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম: ১৯৯৪ সালের ২৭ জুলাই যখন বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ গঠন করা হয়েছিল তখন আমাদের অন্য একটি সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে এমনকি তৎকালীন আওয়ামী লীগের অনেক কেন্দ্রীয় নেতাই এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবক শেখ হাসিনা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এ কারণেই অনেক সহযোগী সংগঠনের তুলনায় বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ এই বৈশ্বিক মহামারি করোনাকালীন সময়ে মানকিতার অনবদ্য ইতিহাস সৃষ্টি করে কাজ করে যাচ্ছে। ছাত্রলীগের আদর্শিক সাবেক নেতাকর্মীদের নিয়ে গঠন করা এই সংগঠনটির প্রতিটি স্তরের নেতাকর্মীই শেখ হাসিনার নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে পালন করে যাচ্ছেন। এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকালীন একজন কর্মী হিসাবে নিজেই বিষয়টি নিয়ে গর্ববোধ করি। 

ভোরের পাতা: আওয়ামী লীগ টানা এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় রয়েছে। এ সময়ে সংগঠনে অনুপ্রবেশের অভিযোগ উঠেছে। অনুপ্রবেশকারীদের কিভাবে উৎখাত করা যায়? 



আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম: আওয়ামী লীগ ঐতিহ্যবাহী বিশাল রাজনৈতিক সংগঠন। উপমহাদেশে এমন আর কোনো রাজনৈতিক সংগঠন খুঁজে পাওয়া দুষ্কর, যে সংগঠনের নেতৃত্বে একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ পেয়েছে। নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়েই আজকের শক্তিশালী অবস্থানে এসেছে আওয়ামী লীগ। তবে এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই, আওয়ামী লীগে নানা পর্যায়ে অনুপ্রবেশ ঘটেনি। তবে আমি অনুপ্রবেশকারীদের সাইবেরিয়ান বার্ড হিসাবেই আখ্যা দিতে চাই। এখনই সময় তাদের উৎখাত করার। এ বিষয়ে আমাদের নেত্রীর নির্দেশনা কঠোরভাবে মানা হচ্ছে না। অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আরো কঠোর এবং কঠিনভাবে নামতে হবে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে কেন্দ্রেও কোনো অনুপ্রবেশ যেন না ঘটতে পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকেই সচেতন হতে হবে। 
ভোরের পাতা: বর্তমান রাজনীতিবিদদের নিয়ে আপনার মতামত শুনতে চাই?

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম: একটা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই। এক সময় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে প্রতিদিন ৫০০ টাকা নিয়ে আমরা ১০ থেকে ১২ জনের একটি গ্রুপ চালাতাম। সময়টা তখন আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে কণ্টকাকীর্ণ ছিল। নেতাকর্মীদের ওপর জুলুম নির্যাতনের মাত্রা ছিল চরমে। খালেদা জিয়ার দুঃশাসনের প্রতিবাদ এবং নেত্রীকে রক্ষা করার জন্য আমরা জীবনবাজি রেখেছি শুধু আদর্শিক এবং আবেগের কারণেই। কারণ শেখ হাসিনা না থাকলে আমরা কেউ আজকের অবস্থানে আসতে পারতাম না। তখন ৫০০ টাকায় দুইবেলা খাবার খেতে হতো। আমাদের নেত্রীর কাছ থেকে অনেকেই টাকা নিয়ে বাড়িও গেছেন। বিয়েও করতে গেছেন নেত্রীর আর্শিবাদ নিয়ে। কিন্তু কোনোদিন ধানমন্ডির ৩২ নম্বর থেকে আমরা বরযাত্রী যাইনি। কারণ রক্তস্নাত ধানমন্ডির ৩২ থেকে এ কাজে যেতে নেত্রীর নিষেধ ছিল। আজকাল অনেক রাজনীতিবিদদের মধ্যে হতাশা দেখি। তারা মাঝেমধ্যেই এসে বলেন, এই দীর্ঘ ১২ বছরে রাজনীতি করে কি পেলাম? তখন ওইসব লোকদের গালে চপেটাঘাত করতে ইচ্ছে করে। কারণ তারা আওয়ামী লীগের সোনালী সময়ে রাজনীতি করেও প্রত্যাশা করে। কিন্তু আমরা রাজনীতি করতে এসেছি, জনগণের জন্য। শেখ হাসিনার আদর্শিক কর্মী হিসাবে আমাদের রাজনীতিতে চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকেই আমরা পরমব্রত হিসাবে মানি। রাজনীতি করতে এসেছি বলেই অনেক সময় অনেক কথা বলতে পারি না, এটা যেমন সত্য; তেমনি দেয়ালে পিঠ থেকে গেলে আমরা যে কতটা প্রতিবাদী হতে পারি, সেটা বাংলাদেশের মানুষ জানে। দু’দিনের রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে ত্যাগের কথা শুনলে আমাদের খারাপ লাগে। 

ভোরের পাতা: রাজনৈতিক সন্ধ্যায় অনেক জানা অজানা কথা খোলামেলাভাবে বলার জন্য আপনার প্রতি ভোরের পাতার পক্ষ থেকে পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসান, সিআইপি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। 

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম: ভোরের পাতাকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে গণমাধ্যমে সরকার ও দলের গঠনমূলক সমালোচনা কাম্য। আশা করছি ভোরের পাতা এ বিষয়ে আরো যচেষ্ট থেকে আরো এগিয়ে যাবে এবং সরকারের উন্নয়নগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরবে। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক। 

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://www.dailyvorerpata.com/ad/Comp 1_3.gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]