মঙ্গলবার ২৬ অক্টোবর ২০২১ ৯ কার্তিক ১৪২৮

শিরোনাম: রাজধানীতে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত    দেশে ৬ কোটি ১৪ লাখের বেশি করোনার টিকা প্রয়োগ    স্কটল্যান্ডকে ৬০ রানেই গুঁড়িয়ে দিল আফগানিস্তান    দারিদ্র্য বিমোচনে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর কাজ করা উচিত: প্রধানমন্ত্রী    ফৌজদারি কার্যবিধি আধুনিকায়নে কমিটি গঠন    আবাসিক এলাকায় নতুন গ্যাস সংযোগ দিতে হাইকোর্টের রুল    টস জিতে ব্যাটিংয়ে আফগানিস্তান   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
বিলুপ্ত করা হচ্ছে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি, যেকোনো মুহুর্তে গ্রেপ্তার হচ্ছেন সাইদুর
উৎপল দাস
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৭:০০ পিএম আপডেট: ০২.০৯.২০২১ ৮:২০ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

সাংবাদিককে মারধর করে মোটরসাইকেল, ক্যামেরা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলার পর হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি গত  ৩০ জুলাই হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত করেন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টচার্য। তবে এ মামলায় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের  সভাপতি সাইদুর রহমানকে প্রধান আসামি করে ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলায় দীর্ঘ সময় নিয়ে পিবিআইয়ের তদন্তের পর  জেলা পরিষদের গেইটের সামনে সাংবাদিকদের মারধর করে মোটরসাইকেল, ক্যামেরা ও মোবাইল ছিনতাইয়ের অভিযোগে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সাতজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। গত ১৬ আগস্ট হবিগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াসিন আরাফাত এই আদেশ দেন। এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটি বিলুপ্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্তের কথাও ভোরের পাতাকে নিশ্চিত করেছে। 

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ভোরের পাতাকে বলেন, ছাত্রলীগের কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আসতেই পারে। কিন্তু আদালত থেকে যাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে, তাদের ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই। এর আগেও নানা সময় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের নেতাদের বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেনের বিনিময়ে কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগও ছিল। আমাদের সংগঠনের সর্বোচ্চ অভিভাবক শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুযায়ী কোনো বিতর্কিতকে ছাত্রলীগ করার সুযোগ দেয়া হবে না। 
বিলুপ্ত করা হচ্ছে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি, যেকোনো মুহুর্তে গ্রেপ্তার হচ্ছেন সাইদুর

বিলুপ্ত করা হচ্ছে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের কমিটি, যেকোনো মুহুর্তে গ্রেপ্তার হচ্ছেন সাইদুর

এ বিষয়ে মামলার বাদীর আইনজীবী শিবলী খায়ের বলেন, গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের গেটের সামনে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার তথ্য ও সংবাদ সংগ্রহের সময় দৈনিক আমার হবিগঞ্জ পত্রিকার সাংবাদিকদের মারধর করে মোটরসাইকেল, ক্যামেরা এবং মোবাইল ছিনতাই করে একদল দুর্বৃত্ত। এ ঘটনায় পরদিন ওই পত্রিকার প্রধান প্রতিবেদক তারেক হাবিব বাদী হয়ে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটির সভাপতি সাইদুর রহমানকে প্রধান আসামি করে নয়জনের নাম উল্লেখ করে হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। মামলা নম্বর- সিআর ৫/২১।

আইনজীবী আরও বলেন, বিচারক মামলার শুনানি শেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন। গত ১৮ জুলাই পিবিআই তদন্ত শেষে ঘটনার সত্যতা পেয়ে সাতজনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করে। ১৬ আগস্ট বিচারক প্রতিবেদন আমলে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী খালেদ আহম্মেদ বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা আসামিরা হলেন হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটির সভাপতি সাইদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মহিবুর রহমান মাহি, শহরতলীর বড় বহুলা গ্রামের যুবলীগ নেতা সাব্বির আহমেদ রনি, শহরের পুরান মুন্সেফি এলাকার কৌশিক আচার্য্য পায়েল, যশেরআব্দা এলাকার সৈকত দেবনাথ ও অজ্ঞাত দুইজন।

মামলার বাদী তারেক হাবিব বলেন, আদালতে মামলা দায়ের করায় ইতোমধ্যে তাঁকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে মিথ্যা মামলায় জড়ানোসহ তার ওপর একাধিকবার হামলার চেষ্টা চালানো হয়েছে। তার ছবি ও নাম ব্যবহার করে ফেইক আইডি তৈরি করে হয়রানির চেষ্টা করে আসছে। তিনি জানমালের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান।

পদ-বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, গরু চুরির মামলা, পত্রিকা অফিসে হামলা, ইয়াবা ইস্যু, মন্ত্রীকে নিয়ে কুরুচির্পূণ মন্তব্যসহ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ। এত অভিযোগ থাকার পরও অনেকটাই নীরব কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য। তবে এবার মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর এই কমিটি বিলুপ্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। 

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক  লেখক ভট্টাচার্য বলেন, ‘হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের বিষয়ে আমাদের কাছে কিছু অভিযোগ আসছে। আমরা খুব শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’

এদিকে, হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার মোরা কুড়িগ্রামের টিক্কার হাওড়া নববধূকে গণধর্ষণের ঘটনায় মুড়াকরি গ্রামের ইকবাল হোসেন ছোট্টু মিয়ার পুত্র উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা সোলায়মান হোসেন রনি সহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই এ মামলার দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মামলার অন্য আসামীরা হলেন, মোড়াকরি গ্রামের বাসিন্দা খোকন মিয়ার পুত্র মুছা মিয়া, ইব্রাহিম মিয়ার পুত্র মিঠু মিয়া, পাতা মিয়ার পুত্র হৃদয় মিয়া, বকুল মিয়ার পুত্র সুজাত মিয়া, মিজান মিয়ার পুত্র জুয়েল মিয়া, ওয়াহাব মিয়ার পুত্র মুছা মিয়া ও রুকু মিয়ার পুত্র শুভ মিয়া। ধর্ষণের শিকার গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২ সেপ্টেম্বর মামলা দায়ের করেন। 

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ আগস্ট ধর্ষণের শিকার ওই নারী তার স্বামী ও স্বামীর বন্ধুকে নিয়ে কৃষ্ণপুর গ্রামের পাশের টিক্কাপুর হাওড়ে নৌকা ভাড়া করে নৌকা ভ্রমণে যান। ঐদিন দুপুরে ইঞ্জিনচালিত আরেকটি নৌকায় করে অভিযুক্ত আসামিরা তাদেরকে ঘেরাও করে ফেলেন। এ সময় মুছা মিয়া, সুজাত মিয়া, জুয়েল মিয়া ভিকটিমের স্বামী স্বামীর বন্ধু ও নৌকার মাঝিকে প্রচন্ড মারধর করেন। এরপর অভিযুক্তরা গৃহবধূর স্বামী স্বামীর বন্ধুকে তাদের ইঞ্জিনচালিত নৌকায় গোড়ায় হাত পা বেঁধে রাখেন। নৌকার মাঝিকে খুন করার ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক হাওরের সুইচগেট এ নৌকাটি নিয়ে যেতে বাধ্য করেন। সুইচ গেটে নৌকাটি বেঁধে রেখে অভিযুক্ত সকল আসামীরা নৌকাটিতে উঠে পালাক্রমে দীর্ঘ প্রায় দু'ঘণ্টা ধরে ওই নববধূকে গনধর্ষণ করেন। এ সময় পৈশাচিক যৌন নির্যাতনে ওই গৃহবধূ নিস্তেজ হয়ে পড়েন। এরপর আবারো ধর্ষিতার স্বামী ও স্বামীর বন্ধুকে ধর্ষকেরা মারধর করে তাদের শরীরের সকল কাপড়-চোপড় খুলে ধর্ষিতার পাশে শুইয়ে দিয়ে তাদের উলঙ্গ অবস্থায় ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। ৯ লক্ষ টাকা না দিলে এসব ছবি ও ভিডিও ভাইরাল করে দেবেন বলে ধর্ষকেরা হুমকি দেন। এসময় এ ঘটনা নিয়ে কোনো প্রকার মামলা-মোকদ্দমা কিংবা লোক জানাজানি করলে তাদেরকে হত্যা করে লাশ পানিতে ভাসিয়ে দেয়ার হুমকি ও দেন তারা। বিকাল তিনটার দিকে তাদেরকে এ অবস্থায় ফেলে রেখে ধর্ষকরা চলে যায়। লোকলজ্জায় ও অত্যন্ত প্রভাবশালী ধর্ষকদের ভয়ে ধর্ষিতার চিকিৎসা না করে তার স্বামী ও স্বামীর বন্ধু পার্শ্ববর্তী নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। কিন্তু পরবর্তীতে ধর্ষিতার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হওয়ায় তাকে ১ আগস্ট হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে লাখাই থানা অফিসার ইনচার্জ সাইদুল ইসলাম জানান ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জোর পুলিশি তৎপরতা চলছে। ইতিমধ্যে দুজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদেরও গ্রেফতার করা হবে।

হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ: 

গরু চুরির মামলা : ২০১০ সালে হবিগঞ্জের বানিয়াচং থানায় গরু চুরির মামলা হয় জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহির বিরুদ্ধে। মামলা নম্বর ৭, তারিখ ৯/৩/২০২০। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনেও মাহির নাম ছিল।

গরু চুরির মামলার বিষয়ে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মহিবুর রহমান মাহি বলেন, ‘গরু চুরির ঘটনায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভুল করে আমার নাম দিয়েছিলেন, পরে আদালত আমাকে নির্দোষ ঘোষণা করেন।’



পত্রিকা অফিসে হামলা : এ ছাড়া গত ১৯ এপ্রিল হবিগঞ্জের স্থানীয় একটি পত্রিকার অফিসে মাহির নেতৃত্বে হামলা করা হয়। এরপর পত্রিকাটির সম্পাদকের বাসভবনেও হামলা করেন মাহি। এ ছাড়া মাহির বিরুদ্ধে ভূমি দখল ও চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

ইয়াবা ইস্যু : ২০২০ সালের ২৫ আগস্ট ৩০০ পিস ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয় মাহির অন্যতম সহযোগী বানিয়াচং উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদ হোসেন খান। এ ঘটনায় মাহমুদ হোসেন খানকে শৃঙ্গলাভঙ্গের অভিযোগে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

এ ছাড়া মাহির সঙ্গে কারো মতপার্থক্য হলেই ইয়াবা মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ারও হুমকি দিয়ে থাকেন তিনি। এমন একাধিক ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল।

মন্ত্রীকে নিয়ে কুরুচির্পূণ মন্তব্য : বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন আহমদকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন মহিবুর রহমান মাহি। এজন্য তাঁকে এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে জেলা ছাত্রলীগের একাংশ।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://www.dailyvorerpata.com/ad/Comp 1_3.gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]