মঙ্গলবার ২৬ অক্টোবর ২০২১ ৯ কার্তিক ১৪২৮

শিরোনাম: রাজধানীতে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত    দেশে ৬ কোটি ১৪ লাখের বেশি করোনার টিকা প্রয়োগ    স্কটল্যান্ডকে ৬০ রানেই গুঁড়িয়ে দিল আফগানিস্তান    দারিদ্র্য বিমোচনে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর কাজ করা উচিত: প্রধানমন্ত্রী    ফৌজদারি কার্যবিধি আধুনিকায়নে কমিটি গঠন    আবাসিক এলাকায় নতুন গ্যাস সংযোগ দিতে হাইকোর্টের রুল    টস জিতে ব্যাটিংয়ে আফগানিস্তান   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
জনবল নিয়োগে হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টে শিখা চক্রবর্তীর মাস্তানি!
উৎপল দাস
প্রকাশ: রোববার, ২৯ আগস্ট, ২০২১, ৭:০৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

এ যেন মগের মুল্লুক, কোনো ধরণের সরকারি নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই, মাস্তান ভাড়া করে এনে জনবল নিয়োগের ব্যাপক অনিময় করার অভিযোগ উঠেছে হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের প্রকল্প পরিচালক শিখা চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। ধর্মীয় ও আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে পুরোহিত ও সেবাইতদের দক্ষতাবৃদ্ধিকরণ প্রকল্প - (২য় পর্যায়) এর প্রকল্প পরিচালক শিখা চক্রবর্তী বিএনপিপন্থী এক ব্যবসায়ীকে জনবল নিয়োগের কাজটি দেয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। এক্ষেত্রে সরকারি ক্রয় নীতিমালার নিয়ম নীতি তো দূরের কথা, দরপত্রে অংশ নেয়া যোগ্যতা সম্পন্ন ৯ টি কোম্পানির মধ্যে শুধু একটি কোম্পানিকে কাজ দেয়ার জন্য মাস্তান ভাড়া করে এনে হুমকিও দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাংলাদেশ হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের ধর্মীয় ও আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে পুরোহিত ও সেবাইতদের দক্ষতাবৃদ্ধিকরণ প্রকল্প - ২য় পর্যায় প্রকল্পের জনবল নিয়োগ আউটসোর্সিং কোম্পানির মাধ্যমে করানোর প্রক্রিয়া শুরু হয় চলতি বছরের এপ্রিল মাসের ৪ তারিখ। সেখান থেকে ৯ টি কোম্পানিকে প্রাথমিকভাবে জনবল নিয়োগের জন্য উপযুক্ত ঘোষণাও করা হয়। কিন্তু কোম্পানিগুলোর মধ্যে শুধু মাত্র মন্ডল ট্রেডার্স লিমিটেডকে কাজটি দেয়ার জন্য নানা ধরণের ফন্দি আঁটতে শুরু করেন শিখা চক্রবর্তী ও তার সিন্ডিকেটের লোকজন। 

কিন্তু দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী জনবল সরবরাহের জন্য অভিজ্ঞতাসম্পন্ন উপযুক্ত ৯ টি কোম্পানির জনবলের সরাসরি মৌখিক পরীক্ষা নেয়ার নিয়মের কথা উল্লেখ থাকলেও সেটা মানা হচ্ছে না। এমনকি ৯ টি কোম্পানির জনবলের পরীক্ষা নেয়া বাধ্যতামূলকও করা হয়েছে ২০.৪০ এবং ২৫.৫ ধারাতে। কিন্তু সেই নিয়ম মানা হয়নি। 

উপরন্তু, গত ২৪ আগস্ট হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের ধর্মীয় ও আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে পুরোহিত ও সেবাইতদের দক্ষতাবৃদ্ধিকরণ প্রকল্প - (২য় পর্যায়) এর প্রকল্প পরিচালক শিখা চক্রবর্তী মন্ডল ট্রের্ডাস লিমিটেডের সরবরাহকৃত জনবলের সাক্ষাতকার নেয়া শুরু করে দিলে বাকি ৮ টি কোম্পানির লোকজন এ বিষয়ে অভিযোগ করতে গেলে, শিখা চক্রবর্তীর নির্দেশে বিএনপিপন্থী ব্যবসায়ী মন্ডল ট্রের্ডাসের স্বত্ত্বাধিকারী ফিরোজ মন্ডল এবং শিখা চক্রবর্তীর ভাড়াটে মাস্তান সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী দপ্তরে চাকরি করেন এমন মিথ্যা পরিচয় দেয়া কবি শংকর, আগ্নেয়াস্ত্র পরিদর্শন করে ভয়ভীতি দেখান এবং অন্য কোম্পানিগুলো যেন এ কাজে বাধা না দেন, দিলে মেরে ফেলারও হুমকি প্রদান করা হয়। 



এ বিষয়ে প্যারেন্টস কোম্পানির মালিক ইমতিয়াজ জামান বাদী হয়ে ২৪ আগস্টই রাজধানীর শাহবাগ থানায় একটি অভিযোগ করেন। এমনকি বিষয়টি হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোঃ ফরিদুল হক খানকেও লিখিতভাবে এ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগটি জানান ইমতিয়াজ গত ২৬ আগস্ট। 

এ বিষয়ে  ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোঃ ফরিদুল হক খান ভোরের পাতাকে বলেন, আমি ২৬ আগস্টের আগেই নিজ নির্বাচনী এলাকা জামালপুরে চলে এসেছি। ঢাকায় যাবো দুয়েকদিনের মধ্যে। হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টে জনবল নিয়োগে কোনো ধরণের নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রকল্প পরিচালক বাদেও যদি এ ঘটনায় কেউ জড়িত থাকে, তাদেরও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

এসব বিষয়ে শিখা চক্রবর্তী এবং ফিরোজ মন্ডলের ভাড়াটে মাস্তান, সাবেক ছাত্রলীগের নেতা কবি শংকর রায় ভোরের পাতাকে বলেন, ওইদিন আমি মন্ডল ট্রের্ডাসের টেন্ডারের সাক্ষাতকারের জন্য হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে নামার পর কতিপয় সন্ত্রাসী ফিরোজ মন্ডলকে অপহরণ করার চেষ্টা করলে আমি বাধা দিই। আমার সাথে কয়েকজনের কথা কাটাকাটি হলে তাদের শুধু বলেছি, আমার সঙ্গে লাইসেন্স করা পিস্তল আছে। এরপর সন্ত্রাসীরা পিছিয়ে গেলে, আমরা থানায় গিয়ে এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরী করেছি ২৪ আগস্টেই। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী দপ্তরে চাকরি করেন না বলেও জানান কবি শংকর রায়। এ বিষয়ে তিনি বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন সুধাসদনে বসি। আমি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক স্টাফ হিসাবে দায়িত্ব পালন করছি বলেও জানান কবি শংকর। ফোনে কথা বলার সময় ফিরোজ মন্ডলের রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে বলেন, ‘ফিরোজ তুমি তো আওয়ামী লীগ করো, পাশে থাকা ফিরোজ মন্ডল জানান তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক। 

এ বিষয়ে শিখা চক্রবর্তীকে কমপক্ষে ৭ বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করে কথা বলেননি। এমনকি তিনি প্রতিবেদকের ফোন নম্বরটি ব্ল্যাক লিস্টে ফেলে দিয়েছেন। এছাড়া তাকে ক্ষুদেবার্তা (এসএমএস) পাঠালেও তিনি প্রতিউত্তর করেননি।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://www.dailyvorerpata.com/ad/Comp 1_3.gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]