মঙ্গলবার ২৬ অক্টোবর ২০২১ ৯ কার্তিক ১৪২৮

শিরোনাম: দেশে ৬ কোটি ১৪ লাখের বেশি করোনার টিকা প্রয়োগ    স্কটল্যান্ডকে ৬০ রানেই গুঁড়িয়ে দিল আফগানিস্তান    দারিদ্র্য বিমোচনে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর কাজ করা উচিত: প্রধানমন্ত্রী    ফৌজদারি কার্যবিধি আধুনিকায়নে কমিটি গঠন    আবাসিক এলাকায় নতুন গ্যাস সংযোগ দিতে হাইকোর্টের রুল    টস জিতে ব্যাটিংয়ে আফগানিস্তান    ই-কমার্সে আটকা গ্রাহকদের টাকা ফেরতের বিষয় যা বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
নগরজুড়ে আতঙ্ক ডেঙ্গু
#এডিস মশা নিধন করতে ব্যর্থ দুই মেয়র। #ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে স্বাস্থ্যসেবা। #সাড়ে ৯ হাজার ছাড়িয়েছে রোগীর সংখ্যা। #গতকাল আক্রান্ত ২৬৫ জন। #চলতি বছরে ৪০ জনের মৃত্যু।
রতন বালো, রমজান আলী
প্রকাশ: শনিবার, ২৮ আগস্ট, ২০২১, ১০:২৯ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

করোনা মহামারির মধ্যেই রাজধানী ঢাকায় ভয়াবহ আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ‘ডেঙ্গু’। জ্বর হলেই নগরবাসী প্রথমেই সেরে নিচ্ছেন ডেঙ্গু পরীক্ষা। আর ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য এখন প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা ভিড় লেগে থাকছে রাজধানীর সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছাড়িয়েছে সাড়ে ৯ হাজার। শুক্রবার বিকাল থেকে শনিবার বিকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন ২৬৫ জন। এর মধ্যে ঢাকাতেই ২১৪ জন। এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ মুহূর্তে রাজধানীর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বা হটস্পটে পরিণত হয়েছে রাজধানীর পূর্ব জুরাইন। চলতি আগস্ট মাসেই এই অঞ্চলে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন অন্তত ৮ জন।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, এ এলাকার (পূর্ব জুরাইন) প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই এখন ডেঙ্গু আক্রান্ত নারী-পুরুষ ও শিশু রয়েছে। এ এলাকা অ্যাক্টিভিস্ট আসলাম মোল্লা জানান, সিটি করপোরেশন মশা নিধনের জন্য যে ওষুধ ছিটায় তা কাজ করে না। এখানকার খোলা-অরক্ষিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং বৃষ্টির মওসুমে গোটা এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে থাকায় এডিস মশার প্রজনন অবাধ হচ্ছে। রাজধানীর ১৭ হটস্পটে ডেঙ্গুর বিস্তার কোনোভাবেই ঠেকাতে পারছে না দুই সিটি করপোরেশন। অথচ প্রায় প্রতিদিনই দুই সিটি মেয়র ডেঙ্গুরোধের আশা দিয়ে যাচ্ছে নগরবাসীকে। কিন্তু সে আশার গুড়ে বালি দিয়ে হাসপাতালে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা।  

রাজধানী মগবাজারে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালের দৃশ্য দেখে আঁতকে উঠবেন যে কেউ। ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে সেখানে ভিড় করেছেন শত শত রোগী। একই চিত্র রাজধানীর অন্যতম ডেঙ্গু ডেডিকেটেডে হাসপাতাল মিডফোর্ডেও। এছাড়া অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতালেও প্রতিদিন বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর ভিড়। জ¦র নিয়ে শরণাপন্ন হলেই ডাক্তাররা ডেঙ্গু নিশ্চিৎ হওয়ার জন্য রক্ত পরীক্ষা দিচ্ছেন। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, দুই সিটি করপোরেশনের সব ধরনের চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে বেড়ে চলেছে জীবনসংহারি এ রোগের বিস্তার। একদিকে করোনা অপরদিকে ডেঙ্গুÑ এই দুই জীবনসংহারী রোগ নিয়ে চরম অনিশ্চিয়তায় দিন কাটাচ্ছে রাজধানীবাসী। এক্ষেত্রে সব চেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হচ্ছে দুটি রোগের মাত্রা এবং চিকিৎসা ভিন্ন। একই ব্যক্তি এই দুটি রোগে আক্রান্ত হলে তার জীবনঝুঁকি মারাত্মক হতে পারে বলে চিকিৎসকদের মতামত। 

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, ডেঙ্গু মশাবাহিত একটি রোগ। ডেঙ্গু থেকে রক্ষা পেতে হলে এডিস মশা নিধন করতে হবে। মশার উৎপত্তিস্থল ধ্বংস করতে হবে। এক্ষেত্রে অবহেলা করা হলে সামনে মহাবিপদ অপেক্ষা করছে। এদিকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর থেকে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটে গত জুলাইয়ে। আক্রান্ত এবং মৃত্যুর নতুন নতুন রেকর্ড যা মানুষের ভেতরে ভীতি ছড়িয়ে দেয়। করোনা ভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণের মধ্যেই এখন মারাত্মকরূপ নিতে শুরু করে ডেঙ্গু জ্বর। যদিও এরোগের একমাত্র বাহক মশা যাকে এডিস মশা বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। এসব মশা সাধারণত দিনের বেলায় কামড়ায় এবং এদের লাভা পরিস্কার পানিতে জন্মায়। 

চিকিৎসকরা বলছেন, ইদানিং তারা এমন অনেক রোগী পাচ্ছেন যারা একই সাথে কোভিড-১৯ এবং ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। তারা জানান, সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরের মৌসুম। শুধু গতকালই ২৬৫ জন নতুন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। যা চিকিৎসকদের মাঝেও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বমোট এক হাজার ১১১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। এর মধ্যে ঢাকার ৪১টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ৯৬৭ জন এবং অন্যান্য বিভাগে বর্তমানে সর্বমোট ১৪৪ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ৪০ জন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এই সংখ্যা গত ১৮ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যু। দেশে গত দুই দশক ধরে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব চলছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর ২০০০ সাল থেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর বছরভিত্তিক তথ্য রাখছে। 

তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০০০ সালে ডেঙ্গুতে মারা গিয়েছিল ৯৩ জন। এর পরের দুই বছর যথাক্রমে ৪৪ ও ৫৮ জন মারা যায়। ২০০৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত টানা চার বছর ডেঙ্গুতে কোনো প্রাণহানি হয়নি। ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যাসব বছরের রেকর্ড ছাড়ায় ২০১৯ সালে। ওই বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৩০০ জনের মৃত্যু হয়। তবে সরকারি হিসাবে মৃতের সংখ্যা ১৭৯। গত জুন মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে দৈনিক ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ছিল ১০০ জন। জুনে আক্রান্ত হয় ২৭২ জন। জুলাই মাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ২ হাজার ২৮৬। চলতি মাসের ২৬ দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ৬ হাজার ৪৬২ জন। দুই দশকের বেশি সময় ধরে ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব চললেও ২০১৯ সালে ঢাকায় ব্যাপকভাবে এ রোগ ছড়ায়। সে সময় সরকারি হিসাবে দেশে লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত ও দেড় শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। এরপর সমালোচনার মুখে দুই বছর ঢাকায় মশকনিধনে ব্যাপক কার্যক্রম চালায় দুই সিটি করপোরেশন। এবার করোনা মহামারির মধ্যে আবার সেই ডেঙ্গু নতুন দুশ্চিন্তা হয়ে দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য মতে, জুন মাসের তুলনায় জুলাই মাসে ডেঙ্গু রোগী বেড়েছে ৮গুণ বেশি। এখন পর্যন্ত ঢাকা শহরেই মূলত এর প্রকোপ বেশি। এই প্রেক্ষিতে ঢাকার চারটি হাসপাতালকে শুধু ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসার জন্য নির্ধারণ করেছে সরকার। 

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও ইউজিসি অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, ‘জ্বরের সঙ্গে শরীরে প্রচ- ব্যথা থাকলে অবশ্যই ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন কি না টেস্ট করে দেখতে হবে। এ সময় চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ট্যাবলেট খাওয়া যাবে না। শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। করোনা ও ডেঙ্গু রোগী বাড়তে থাকায় সবাইকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে। এটা উদ্বেগজনক। বর্তমানে কারো সর্দি, কাশি ও জ্বর হলে ডেঙ্গু ও করোনা দুটোর পরীক্ষা এক সাথে করতে হবে। ডেঙ্গু হলে প্যারাসিটামল ছাড়া কোন ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া যাবে না। ডাক্তারের পরামর্শে চলতে হবে।
এ বিষয়ে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট আইইডিসিআরের প্রধান ডা. তাহমিনা শিরিন বলছেন, ‘করোনা ও ডেঙ্গু এই দুটো রোগেরই উপসর্গে কিছু মিল রয়েছে। বিশেষ করে আক্রান্ত হওয়ার শুরুর দিকে। কিছুদিন আগেও জ্বর, মাথা ব্যথা, গলা ব্যথা, শরীর ব্যথা হলেই আমরা বলতাম কোভিড টেস্ট করেন। আমরা এখন যেটা করছি, এসব উপসর্গ দেখলে করোনা এবং ডেঙ্গু দুটোর জন্যই পরীক্ষা করাতে বলছি। 



ডেঙ্গুর চারটির ধরন রয়েছে এ বিষয়ে ভাইরোলজিস্ট ডা. সাবেরা গুলনাহার বলেছেন, প্রথম ধরনে আক্রান্ত ডেঙ্গু রোগীদের তেমন একটা সমস্যা হয় না। তাদের শুধু জ্বর থাকে। এর পরের গুলো হলেই লক্ষণ প্রকাশ পায় এবং তা কখনো কখনো জটিল রূপ নেয় যেমন রক্তে প্লাটিলেটের সংখ্যা কমে যেতে পারে, রক্তক্ষরণ হতে পারে।’

ডা. গুলনাহার বলছেন, ‘যদি ১ নম্বর ধরনের ডেঙ্গুর পরবর্তী ধরনগুলোর মাধ্যমে কেউ ডেঙ্গু আক্রান্ত হন এবং একইসাথে কোভিড হয় তাহলে ভয়ের কারণ রয়েছে। কোভিডের কারণে যদি ফুসফুস বেশি আক্রান্ত হয় তাতে রোগীর প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক বেশি কমে যাবে। আবার কোভিড রক্তে যে সমস্যা তৈরি করে তেমন ডেঙ্গুও রক্তে একই রকম সমস্যা তৈরি করে। যাকে বলে ভাস্কুলাইটিস। এসব কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যাবে।’ এই দুটি রোগের জটিলতা একসাথে দেখা দিলে দুটোর জন্যে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ দেয়া হয়। বেশি স্টেরয়েড দেবারও রয়েছে বাড়তি ঝুঁকি। 

অপর ভাইরোলজিস্ট ডা. নজরুল ইসলাম জানান, ‘যদি একই সাথে ডেঙ্গুর কারণে রক্তে প্লাটিলেট স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি কমে যায় এবং কোভিডের কারণে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রাও ৯০ এর নিচে নেমে যায় তাহলে বিষয়টি বিপদজ্জনক। তখন একই সাথে প্লাটিলেট দিতে হবে, অক্সিজেন দিতে হবে। চিকিৎসকরা এর সিদ্ধান্ত নেবেন। এদিকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন, ডেঙ্গু বাসায় থাকা এডিস মশার কামড়ে হয়। নগরীর চার পাশের ময়লা-আবর্জনার স্তূপ থাকা, নোংরা ড্রেন পরিষ্কার না করায় চলতি বর্ষা মৌসুমে মশার প্রজনন বেড়ে গেছে। অথচ নগরীকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখলে এবং মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস করলেই মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব বলে চিকিৎসকরা জানান।

মুগদা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর বলেন, এবার ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। রোগীর রক্তক্ষরণ হচ্ছে, প্লাটিলেট কমে যাচ্ছে। তাই সোসাইটি অব মেডিসিনের পক্ষ থেকে করোনা ও ডেঙ্গুর চিকিৎসা প্রটোকল আপডেট করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ১৩টি সরকারি মেডিকেল কলেজের ডাক্তারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রাইভেট মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকদেরও প্রশিক্ষণের আওতায় আনার কথা জানালেন এই চিকিৎসক। 

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://www.dailyvorerpata.com/ad/Comp 1_3.gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]