মঙ্গলবার ২৬ অক্টোবর ২০২১ ৯ কার্তিক ১৪২৮

শিরোনাম: স্কটল্যান্ডকে ৬০ রানেই গুঁড়িয়ে দিল আফগানিস্তান    দারিদ্র্য বিমোচনে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর কাজ করা উচিত: প্রধানমন্ত্রী    ফৌজদারি কার্যবিধি আধুনিকায়নে কমিটি গঠন    আবাসিক এলাকায় নতুন গ্যাস সংযোগ দিতে হাইকোর্টের রুল    টস জিতে ব্যাটিংয়ে আফগানিস্তান    ই-কমার্সে আটকা গ্রাহকদের টাকা ফেরতের বিষয় যা বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী    বেড়েছে ডেঙ্গু রোগী    
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
নগর উন্নয়ন পরিকল্পনায় কালো সিন্ডিকেটের একচ্ছত্র আধিপত্য
হুমকির মুখে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ
উৎপল দাস
প্রকাশ: রোববার, ১৫ আগস্ট, ২০২১, ৭:৪৩ পিএম আপডেট: ১৫.০৮.২০২১ ৮:৫৬ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশ সরকারের রূপকল্প ২০২৫ ও রূপকল্প ২০৪১ এর আওতায় রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহরগুলোর নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। যার মধ্যে আছে সড়ক ও জনপথ পরিকল্পনা, পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ প্রভৃতি। কিন্তু এর মধ্যেও কতিপয় অসাধু কন্সাল্টেন্সি প্রতিষ্ঠান বা আরবান প্ল্যানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি তাদের তদবির এবং ব্যক্তিগত ও পেশাগত পরিচয় ব্যবহার করে সরকারি সকল নগর উন্নয়ন বিষয়ক প্রকল্প একচ্ছত্রভাবে বাগিয়ে নিচ্ছে। শুধু তাই নয়, বরঞ্চ তারা তাদের প্রকল্প বাস্তবায়নে অসাধু পন্থা অবলম্বন করছে, অন্যান্য কন্সাল্টেন্সি বা আরবান ডেভেলপমেন্ট ফার্মগুলোকে প্রতিযোগিতায় কোণঠাসা করে একটি অস্থিতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করে চলেছে।
 
এরকমই একটি অসাধু কনসালটেন্সি ফার্মের নাম ডেটেক্স , যার পরিচালনায় থাকা অবসরপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তারা।  তারা  পেশাগত সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে ও সরকারের সচিব পর্যায়ের বিভিন্ন অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিভিন্ন অনৈতিক সুযোগ দেয়ার বিনিময়ে এইসব উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বাগিয়ে নিচ্ছে। এই অসাধু চক্রের সাথে জড়িতরা প্রকল্পের অর্থমূল্য বাড়িয়ে নিয়ে অতিরিক্ত কোটি কোটি টাকা নিজেদের মধ্যেই ভাগাভাগি করে নিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি  শুধুমাত্র ডাটা মাইনিং, ডাটা ম্যানেজমেন্ট ও ডাটা অ্যাসেসমেন্টের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হলেও বর্তমানে তারা সরকারী, বেসরকারী ও বিদেশী প্রতিষ্ঠানেরও প্রকল্পের কাজ বাগিয়ে নিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী যেখানে কোন কনসালটেন্সি ফার্ম সরকারের একটি মন্ত্রণালয় বা বিভাগে একবারের বেশি কাজের সুযোগ পাবে না, সেখানে প্রতিষ্ঠানটি  বাপেক্স, বিজিবি, ওয়াটার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড, এলজিইডি, রোডস এন্ড হাইওয়েজসহ প্রায় সবগুলো বিভাগীয় শহরগুলোর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজ করে একাধিক কাজ হাতিয়ে নিচ্ছে। তাদেরকে কাজ দেয়ার জন্য জগলুল আহসান শামীমের মত অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তারা তাদের জুনিয়রদের উপরে চাপ প্রয়োগ করে এই অসাধু চক্রটি চালু রেখেছে প্রায় ২০ বছর ধরে।

যদিও তারা ডাটা সার্ভের কথা বলে কাজ বাগিয়ে নিচ্ছে, কিন্তু এই কাজটিও তারা অন্যান্য অনভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে আউটসোর্স করিয়ে নেয়। যদিও তাদের শুধুমাত্র ডাটা ম্যানেজমেন্টের লাইসেন্স আছে কিন্তু তা সত্ত্বেও বিভিন্ন প্রকল্পের আর্কিটেকচার প্ল্যানিং এর কাজও হাতিয়ে নিচ্ছে কোন লাইসেন্স ছাড়াই। এমনকি তাদের বিরুদ্ধে সরকারি এসব বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের গোপন তথ্য দেশের বাইরে পাচার করার মত গুরুতর অভিযোগও পাওয়া যায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারি একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন যে, এদের প্রভাব এতই বেশি যে তারা কাউকেই তোয়াক্কা করে না। এমনকি তারা সরকারি প্রকল্পের কাজ সময়মত শেষ করে না। এমনকি ইচ্ছা করে দেরি করে প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় বাড়িয়ে দিয়ে অধিক মুনাফা করার মত অভিযোগও তাদের বিরুদ্ধে আছে।



সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এই ধরনের অসাধু কনসালটেন্টদের কারণে একদিকে যেমন নতুন উদ্যোক্তারা হতাশ হয়ে প্রতিযোগিতা থেকে পিছিয়ে পড়ছেন, তেমনি সৎ সরকারি কর্মকর্তারাও তাদের নিকট জিম্মি হয়ে পড়ছেন। তদুপরি এই ধরণের অসাধু চক্রের মূল হোতারা তাদের পেশাগত ও আর্থিক প্রভাব প্রতিপত্তির জোরে ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকছে। এতে সরকারের অনেক জনহিতৈষী পরিকল্পনার সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। এদের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা না নেয়া হলে এই অনৈতিক অসাধু চক্রটি আরো শক্তিশালী হয়ে উঠবে। এমনকি সরকারের সুনামের জন্যও এরকম অসাধু কন্সাল্টেন্সি প্রতিষ্ঠান গোদের উপরে বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়াবে আজ নয়তো কাল। তাই এখনই নগর উন্নয়ন পরিকল্পনায় এই কালো সিন্ডিকেট ভেঙে দেয়া জরুরি বলে মনে করেন অনেকে। 

পরিবেশবিদ ও নিরাপদ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইবনুল সাঈদ রানা ভোরের পাতাকে বলেন,  নগর উন্নয়ন পরিকল্পনায় যারা নীতিগত সহায়তা দেয়ার কথা তাদের প্রায় সবারই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।  এ কথা চরমভাবে সত্য। মাত্র কয়েকটি প্রতিষ্ঠান মিলে অশুভ এই সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। যা কখনোই কাম্য নয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবার নগর উন্নয়ন পরিকল্পনার সাথে জড়িতদের কোনো প্রতিষ্ঠানকে কাজ না দেয়ার ঘোষণা দিলেও সংশ্লিষ্টরা কোন বিবেচনায় তা করেই যাচ্ছেন বছরেরর পর বছর ধরে, তা বোধগম্য নয়। আমরা যারা পরিবেশ নিয়ে কাজ করি তাদের মূল কাজ হচ্ছে, সরকারকে নীতিগত পরামর্শ দিয়ে রাজধানীসহ বাংলাদেশের সকল নগরীকে তিলোত্তমা নগরী হিসাবে গড়ে তোলা। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে  এই কালো সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারলে কখনোই নগরের উন্নয়ন এবং অবৈধ স্থাপনা দখলমুক্ত করা সম্ভব নয় বলেও মনে করেন ইবনুল সাঈদ রানা। 

গ্রিন বেল্ট ট্রাস্ট্রি বোর্ডের চেয়ারম্যান জসিম কাতাবী ভোরের পাতাকে বলেন, আপনি যে বিষয়টি নিয়ে বলছেন তা ওপেন সিক্রেট। কোনো সিন্ডিকেটই কোনো বিষয়ে ভালো ফলাফল বয়ে আনতে পারে না। সরকারের ক্রয় পরিকল্পনার সাথে বিরোধপূর্ণ এই সিন্ডিকেটের কাজগুলো খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যেই ধ্বংস করতে হবে। সুষ্ঠ কর্ম বন্টন ছাড়া নগরীকে তিলোত্তমা নগরীতে পরিণত করা যাবে না। আমরা দেখেছি, সরকারের পলিসি এডভোকেসি করার কথা থাকলেও একাধিক বিশেষ ব্যক্তি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সেখানে ব্যক্তিস্বার্থ  প্রধান্য দেয়া হচ্ছে। সরকারের হাতিরঝিল প্রকল্প থেকে শুরু করে অন্যান্য প্রকল্পেও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর) মানা হয়নি, সেখানে নামে মাত্র দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। 

জসিম কাতাবী আরো বলেন, আমি বলছি না যে, সিন্ডিকেটের লোকজনের ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ পাওয়ার যোগ্য নয়, তবে একচ্ছত্রভাবে শুধু তারাই কাজ করে যাচ্ছেন নিজেদের স্বার্থে। এভাবে চলতে থাকলে কখনোই ঢাকাসহ কোনো নগরীকেই সুন্দর ও বাসযোগ্যভাবে গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://www.dailyvorerpata.com/ad/Comp 1_3.gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]