শনিবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২ আশ্বিন ১৪২৮

শিরোনাম: ফিনল্যান্ড পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা    কমেছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা    কমেছে মৃত্যু, বেড়েছে শনাক্ত     বাংলাদেশের নতুন কোচ অস্কার    সাতক্ষীরায় ধানক্ষেতে মিললো দুই যুবকের মরদেহ    ইভ্যালির রাসেল-শামীমা ৩ দিনের রিমান্ডে    বগুড়ায় বাসের ধাক্কায় চুরমার অটোরিকশা, নিহত ২   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
করোনায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন করেছে: ড. বদরুজ্জামান ভূঁইয়া কাঞ্চন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ জুলাই, ২০২১, ১০:৩৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

বিশ্ব যে চিরাচরিত শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত ছিল এবং অর্থনীতিভাবে বিগত দশকগুলোতে যে অগ্রগতির ধারায় এগুচ্ছিল সেখানে করোনায় ব্যাপকভাবে তার নেতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে। দীর্ঘকালের ধারাবাহিকতায় শিক্ষা ব্যবস্থার ক্রমশ পরিবর্তন হয়েছে এবং এটাতে আধুনিকায়ন হয়েছে। এই করোনাকালে আমাদের যেটা উপকার হয়েছে সেটা হলো আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যাপক উন্মেষ ঘটেছে। করোনা যদি না আসতো তাহলে আমরা এই যে জুমে সংলাপ, মিটিং, অনলাইনে ক্লাস করার যে প্রক্রিয়া সেটা এতো তরান্বিত হতো না। 

দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপের ৪১২তম পর্বে সোমবার আলোচক হিসেবে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. বদরুজ্জামান ভূঁইয়া কাঞ্চন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ বিভাগের সাবেক ডিন অধ্যাপক ড. অরবিন্দ সাহা, বেলজিয়াম আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা, বেলজিয়াম বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফারুক মির্জা। দৈনিক ভোরের পাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাবেক তথ্য সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ।

অধ্যাপক ড. বদরুজ্জামান ভূঁইয়া কাঞ্চন বলেন, বিশ্ব যে চিরাচরিত শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে পরিচিত ছিল এবং অর্থনীতিভাবে বিগত দশকগুলোতে যে অগ্রগতির ধারায় এগুচ্ছিল সেখানে করোনার কারণে ব্যাপকভাবে তার নেতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে। দীর্ঘকালের ধারাবাহিকতায় শিক্ষা ব্যবস্থার ক্রমশ পরিবর্তন হয়েছে এবং এটাতে আধুনিকায়ন হয়েছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চ হতে বিশ্বের দেশে দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো করোনা মহামারির কারণে বন্ধ হতে শুরু করে। দীর্ঘ দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে আমাদের দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।  আজকে আমরা দেখতে পারছি করোনার কারণে দেশে শিক্ষা ব্যবস্থা পুরোই ল-ভ- হয়ে গিয়েছে। যার জন্য বিপাকে পড়েছে সাড়ে চার কোটি শিক্ষার্থী ও ৫০ লাখ শিক্ষক। বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রথম বর্ষে কোন শিক্ষার্থী অটোপাসের মাধ্যমে যারা এইচএসসি পাস করেছিল সেসব শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার কথা ছিল। সঠিক নিয়মে যদি ভর্তি প্রক্রিয়া চলতো তাহলে আমরা গত বছরের অক্টোবর নভেম্বরের দিকে আমরা তাদের ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফেলতাম। কিন্তু টানা ১৮-১৯ মাস আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ। একটি জরিপ আমরা চালিয়েছিলাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সেখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি মাত্র ৪৭% অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থাকে পছন্দ করছেন এবং আরেকটি জরিপে আমরা দেখেছি যে মাত্র ৩১% এই অনলাইন শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে আছে যদিও শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে এটার হার ৯২%। উন্নত বিশ্বের শিক্ষা পদ্ধতি আগে থেকেই প্রযুক্তি নির্ভর হওয়ায় অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম অনেকাংশে সুস্থভাবে চালিয়ে নিতে পারলেও অনলাইনে শিক্ষা গ্রহণের সন্তুষ্টির ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের একই রকম নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। এখনো প্রতিটি দেশ করোনা মহামারির বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে, কিছু কিছু দেশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিচ্ছে বা দিলেও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে পরক্ষণেই আবার বন্ধ করছে। সংকটের কথা চিন্তা করে অধিকাংশ দেশ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রেখেছে। কেউ কেউ আবার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে খুলতে চাইলেও পরিস্থিতি পাল্টে যাওয়ায় খুলতে পারছে না। করোনার প্রাদুর্ভাবের মাত্রার তথ্য পর্যালোচনা করে বিজ্ঞানভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যতটা সহজ হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ বা খোলা রাখার ব্যাপারে, ঠিক ততটাই কঠিন হচ্ছে বিজ্ঞানভিত্তিক ভাবে ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের সময়েও লকডাউন চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে। এখনো ১৬০টির মতো দেশ কোনোরকম শিক্ষা ব্যবস্থার কার্যক্রম চালাতে পারেনি এবং ১০০ কোটির মতো শিক্ষার্থী সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেখা যাচ্ছে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার কারণে ৯৪% শিক্ষার্থী কোন না কোনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা দেখতে পারছি ১ কোটি শিক্ষার্থী আর কখনোই স্কুলে ফিরে আসবে না এবং ১২ কোটি শিশু সরাসরি দারিদ্র্যের শিকার হবেল। এটার মূল জায়গাটা হচ্ছে আফগানিস্তান, আইভরিকোস্ট, নাইজেরিয়াসহ এসব জায়গায়। ১৬০ কোটি  তরুণ-তরুণী স্কুল-কলেজের শিক্ষা জীবন থেকে একেবারেই বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে যা শতকরা প্রায় ৯০ভাগ।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


আরও সংবাদ   বিষয়:  ভোরের পাতা সংলাপ   ড. বদরুজ্জামান ভূঁইয়া কাঞ্চন  







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/agrani.gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]