মঙ্গলবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১২ আশ্বিন ১৪২৮

শিরোনাম: বারডেম হাসপাতালের কেবিনে বৃদ্ধার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার    দেশে ৪ কোটি ১৩ লাখের বেশি করোনার টিকা প্রয়োগ    বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সর্বত্র যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির    করোনা টেস্টের টাকা নিয়ে উধাও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট    দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র বানানোর ষড়যন্ত্র করছে বিএনপি: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী    মৃত্যু ও শনাক্ত দুটোই বেড়েছে    কমল ডেঙ্গু রোগী, বাড়ল মৃত্যু   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
অর্থবছরে ২০ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়েছে
ঘুরেফিরে ঋণ পাচ্ছেন বড় ব্যবসায়ীরা
ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ন্যূনতম কিছু কাগজপত্র অবশ্যই দাখিল করতে হবে: মূখপাত্র, বাংলাদেশ ব্যাংক। উপযুক্ত গ্রাহক না পাওয়ায় ঋণ দিতে পারছি না: এমডি, সাউথ ইষ্ট ব্যাংক
রমজান আলী
প্রকাশ: সোমবার, ২৬ জুলাই, ২০২১, ১০:০৮ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

দেশের অর্থনীতিকে সচল করতে সরকার যে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, তার সুফল পাচ্ছে না কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো। শুধু বড় ব্যবসায়ীরা শতভাগ ঋণ পাচ্ছেন। করোনার কারণে দেশের অর্থনীতি সার্বিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। বড় ছোট সব উদ্যোক্তাই বিপদে। স্বল্প আয়ের মানুষের দুর্দশাতো চরমে। চলমান পরিস্থিতিতে সরকার গত বছরের এপ্রিল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত দু’ধরনের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। যার একটি প্যাকেজ অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের, অন্যটি সামাজিক সুরক্ষার। কিন্তু অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্যাকেজ থেকে অনেকেই স্বল্প সুদে ঋণ নিতে পারলেও বড় একটা অংশ সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত।  বিদায়ী বছরে বড় উদ্যোক্তাদের মধ্যে ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ পূরণ হলেও কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি দেশের ৪৫টি বাণিজ্যিক ব্যাংক। এরই মধ্যে ৩৯টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংককে নতুন করে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে ১৬ হাজার ১২০ কোটি টাকা। ৯টি সরকারি ও বিশেষায়িত ব্যাংককে লক্ষমাত্রা দেওয়া হয়েছে তিন হাজার ৩০ কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বড়রা যে করেই হোক টিকে থাকার চেষ্টায় কারখানা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ছোট অনেক প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। আবার ঋণ নেওয়ার আগে পরিশোধ বিষয়টি নিয়েও রয়েছে উদ্বিগ্নতা। সে তুলনায় বড় গ্রাহকদের উদ্বেগ অনেকটাই কম। বাংলাদেশে এ যাবত বিশেষ ছাড়ে ঋণ পুনর্গঠন ও পুনঃতফসিলের সুবিধার বেশিরভাগই বড় গ্রাহকরা পেয়ে আসছেন। অন্যদিকে, বরাবরের মতো ব্যাংকারদের মধ্যেও ক্ষুদ্র গ্রাহকদের ঋণ দিতে অনীহা রয়েছে। এসএমই উদ্যোক্তাদের অনেকে ব্যাংকে গিয়ে ঋণ পাননি এমন অভিযোগ পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকারদের অনেকে অবশ্য বলছেন, উপযুক্ত গ্রাহক না পাওয়ায় তারা ঋণ দিতে পারছেন না। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিদায়ী অর্থবছরে ২০ হাজার কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণ করতে পেরেছে ১৫ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা। এর মধ্যে তহবিল সংকটে পড়া ১৫টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের আওতায় ধার নিয়েছে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা। আবার এসব ঋণের বিপরীতে সরকারকে সুদের ওপর ৫ শতাংশ হারে ব্যাংকগুলোকে ভর্তুকি দিতে হবে প্রায় সাড়ে ৭০০ কোটি টাকা। প্রণোদনার বাইরে নতুন উদ্যোক্তাদের তেমন কোনো ঋণ বিতরণ না করায় ব্যাংকগুলোর হাতে পর্যাপ্ত তহবিল রয়েছে। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তেমন কোনো ধার নিতে হয়নি বেশিরভাগ বাণিজ্যিক ব্যাংককে। এদিকে বড় উদ্যোক্তাদের প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রার শতভাগই অর্জন করেছে ব্যাংকগুলো। কিন্তু ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ বিতরণে অনীহার বিষয়ে ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কাছে ঋণ বিতরণ করলে তার বেশিরভাগই আদায় হয়; তারপরেও তাদের অনীহা বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। বিপরীত চিত্র বড় উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে। নতুন অর্থবছরে আবার ২০ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রচলিত ৩০টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক দেবে ১০ হাজার ১৯৫ কোটি টাকা এবং ৯টি ইসলামী ব্যাংকের পাঁচ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা। ব্যাংকিং খাতে চলতি অর্থবছরে সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে ইসলামী ব্যাংককে (আইবিবিএল) দুই হাজার ২৫০ কোটি টাকা। এর পরের অবস্থান ব্র্যাক ব্যাংক, এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা এবং তৃতীয় অবস্থানে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংককে (ইউসিবিএল) এক হাজার ১০০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, ইতোমধ্যে ব্যাংকগুলোকে এখন থেকে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের চলতি মূলধনের পাশাপাশি মেয়াদি ঋণ বিতরণ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে শুধু এক বছরের জন্য সুদ হারের ভর্তুকি পাবেন উদ্যোক্তারা। অর্থাৎ ১০০ টাকা ঋণ দিলে সরকার উদ্যোক্তাদের ৫ শতাংশ সুদ হারে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। বাকি ৪ শতাংশ সুদ গ্রাহককে বহন করতে হবে। তিন বছর মেয়াদি ঋণ দিলে এক বছরের জন্য সুদ হারে ভর্তুকি পাবেন উদ্যোক্তারা। এবিষয়ে কথা হয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তাসনীয়া আজাদ লাভলীর সঙ্গে। যার প্রতিষ্ঠানটির নাম মানচিত্র। তিনি প্রণোদনার ঋণের জন্য বেইলি রোড ও পল্টনের দুটি ব্যাংক শাখায় গিয়ে ঋণ পাননি। দুটি শাখা থেকেই তাকে জানানো হয়েছে, সিএমএসএমই খাতের জন্য নির্ধারিত প্রণোদনার ঋণ আপাতত তারা দিচ্ছেন না। তবে চাইলে তিনি জামানত দিয়ে নিয়মিত সুদে ঋণ নিতে পারবেন। এ কারণে তার ভাগ্যে ঋণ জোটেনি।



এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে দেওয়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি ব্যাংকের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বিভাগীয়, জেলা ও শাখা পর্যায়ে নতুন লক্ষ্যমাত্রা বণ্টন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রধান কার্যালয় থেকে বিভাগীয় পর্যায়ে তদারকি করতে হবে। আর বিভাগীয় পর্যায় থেকে জেলা পর্যায়ে তদারকি করতে হবে। জেলা পর্যায় থেকে তদারকির মূল লক্ষ্য হচ্ছে শাখা পর্যায়ে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়তা দেওয়া। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এসব নির্দেশনা পরিপালনের বিষয়টি ইতোমধ্যে ব্যাংকগুলোকে অবহিত করা হয়েছে।

সাউথইষ্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কামাল হোসেন বলেন, করোনায় ছোট-বড় সব উদ্যোক্তাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বড় উদ্যোক্তারা যেভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন, ছোটরা সে সুযোগ পাচ্ছেন না। তবে আমরা ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে এগিয়ে রয়েছি। তিনি প্রশ্ন রাখেন, যাদের ব্যবসা বন্ধ তাদের কিভাবে আমরা ঋণ দিবো? এ জন্য অনেকে ব্যাংকে আসছেন না। এরপরও ব্যাংকগুলোর প্রণোদনার ঋণের টাকার যথাযথভাবে বিতরণ করেছে। এখনো ঋণ বিতরণ চলছে বলে জানালেন মো. কামাল হোসেন। 

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, বড় গ্রাহকরা নিয়ম মেনে কাগজপত্র দাখিল করছেন, তাই ঋণ বেশি পাচ্ছেন। ছোটদের বেলায় কাগজপত্রের ক্ষেত্রে আমরা অনেক ছাড় দিয়েছি। সময়ে সময়ে প্রয়োজনে আলোচনার প্রেক্ষিতে আরো ছাড় দেওয়া যেতে পারে। তবে ন্যূনতম কিছু কাগজপত্র অবশ্যই দাখিল করতে হবে।’ তিনি বলেন, ছোটরা যাতে বেশি ঋণ পায় সে জন্য আমরা ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছি। আমরা কেবল নির্দেশ দিয়েই দায়িত্ব শেষ করিনি, বিষয়টি আমরা তদারকিও করছি। আশা করছি আগামীতে ঋণ বিতরণের পরিমাণ আরো বাড়বে। 

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://www.dailyvorerpata.com/ad/Comp 1_3.gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]