মঙ্গলবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১২ আশ্বিন ১৪২৮

শিরোনাম: বারডেম হাসপাতালের কেবিনে বৃদ্ধার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার    দেশে ৪ কোটি ১৩ লাখের বেশি করোনার টিকা প্রয়োগ    বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সর্বত্র যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির    করোনা টেস্টের টাকা নিয়ে উধাও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট    দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র বানানোর ষড়যন্ত্র করছে বিএনপি: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী    মৃত্যু ও শনাক্ত দুটোই বেড়েছে    কমল ডেঙ্গু রোগী, বাড়ল মৃত্যু   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
লকডাউনে দুর্বিষহ জীবন কাটছে ছিন্নমুলের
মোশারফ হোসাইন
প্রকাশ: শনিবার, ২৪ জুলাই, ২০২১, ৯:০১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

করোনায় কিছুদিন পরপর পালটে যায় শহরের চিত্র। কখনো স্বাভাবিক থাকে, কখনো আবার করোনার তীব্র প্রকোপে লকডাউনে স্তব্ধ হয়ে যায় গোটা শহর। প্রতিটি লকডাউনে বিপদের মুখে পরে খেটে খাওয়া মানুষ। সরকারি সহযোগিতা অনেকে পেলেও সামান্য এই সহযোগিতার মধ্যেও আক্ষেপের শেষ নেই দিনমজুর মানুষদের। 

ঢাকার রাস্তা, রেলস্টেশন ও বস্তিতে ঘুমানো এসব মানুষের দুর্বিষহ জীবন আরও ধূসর হয়ে যায় করোনার লকডাউনে। স্বাভাবিক শহরেই যখন দু’বেলা খাবার জোগাতে কষ্ট হয় যে মানুষগুলোর, করোনার সংকটকালে তাদের সংকটাপন্ন জীবন যেন সাহারা মরুর মতোই শূণ্যতার দেখা দেয়।     

লকডাউনের কিছুদিন আগে বাসে বাসে পণ্য বিক্রিতে ব্যস্ত ১১ বছর বয়সী মিলন, পাশের সড়কে ফায়ার সার্ভিসের সংকেত শব্দ শুনার পর কৌতুহল আর আগ্রহ নিয়ে পণ্য বিক্রি বাদ দিয়ে শহরে বেড়ে ওঠা শিশুদের মতোই দেখার জন্য অকিঝুকি পাড়ছে। মিলনের সাথে কথা বলে জানা যায়, আগে ঢাকায় থাকতো করোনা ভাইরাস সংক্রমনের পর গ্রামে চলে যেতে হয়েছিল, এরপর শহরে এসেছে এবছর। করোনায় স্কুল বন্ধ তাই দু’বেলা ভাতের জোগান দিতে ও পরিবারের অভাবকে দূর করতে গাড়িতে গাড়িতে পণ্য বিক্রি কাজ করছে। শাহবাগ এলাকায় দেখা মিলে ৩য় শ্রেণীর শিক্ষার্থী আদনান এর, গাড়িতে গাড়িতে ফুল বিক্রিই তার কাজ। পিক আপ ভেনের চালক হিসেবে কাজ করেন ১৬ বছর বয়সী কিশোর সুজন, কাওরান বাজার এলাকায় কথা হয় সুজনের সাথে। তারও জীবন চক্র দু’মুঠো ভাতের জন্য লড়াই। 
লকডাউনে দুর্বিষহ জীবন কাটছে ছিন্নমুলের

লকডাউনে দুর্বিষহ জীবন কাটছে ছিন্নমুলের


করোনার লকডাউনে চার দেয়ালে বন্দী যখন বিত্তবানদের জীবন, যখন ঘুমিয়ে যায় পুরো শহর! তখন কী থাকে ছিন্নমুল মানুষ ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের আকাক্সক্ষা?। রাতের আধাঁর ঘুরে নিয়মিত পথশিশুদের খাবার দিয়ে সহযোগিতা করা সামাজিক সংগঠক পারভেজ হাসান বলেন, বাংলাদেশে ৬ লাখ পথশিশু, শুধুমাত্র ঢাকার শহরেই ৭৫% শিশুর বসবাস। 

এরা সবাই বিপদগ্রস্থ, থাকার কোনো জায়গা নেই, নেই খাবারের নিশ্চয়তা, একটা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তলিয়ে যাচ্ছে এদের জীবন। আমি যখন এদের কাছে যাই এদের গল্পটা শুনি, বন্ধুর মত আচরণ করে এদের কষ্টগুলো বুঝার চেষ্টা করি, প্রাই সব শিশুর গল্পটা যেমন একই থাকে। কারো মা নেই, কারো বাবা নেই। কারো আবার কেউ-ই নেই। আবার দেখা যায় এমনো শিশু আছে যারা জানেনই না তাদের মা বাবাকে। যে সময়টা অন্যান্য শিশুদের মত হেসেখেলে তাদের জীবন অতিবাহিত করার কথা সেই সময়টা তারা জীবনের সাথে লড়াই করে কাটাতে হচ্ছে, খাবারের জন্য হাত পাততে হচ্ছে আমার আপনার কাছে, কেউ দয়া  করে দিলে খায় না দিলে না খেয়েই কাটাতে হয় জীবন। আমরা যখন সহমর্মিতা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে রাতের খাবার দেই, তখন জিজ্ঞেস করলে বেশিরভাগ শিশুর এক-ই উত্তর থাকে সেই দুপুরে খেয়েছি তারপর সারাদিন না খাওয়া। বেশিরভাগ সময় রাতের বেলাটা ওরা না খেয়ে ঘুমাতে হয়, আবার এখন তো লকডাউন এই মহূর্তে অদের জীবন আরো করুণ, দিনের বেলাও খাবার পাচ্ছেনা। 
লকডাউনে দুর্বিষহ জীবন কাটছে ছিন্নমুলের

লকডাউনে দুর্বিষহ জীবন কাটছে ছিন্নমুলের


আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি রাতের বেলা খাবার দেওয়ার সেটাও প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য।
বেশিরভাগ পথশিশু ড্যান্ডি নামক মাদকসহ অন্যান্য খারাপ কাজে লিপ্ত হচ্ছে। যাদের বয়স একটু বেড়ে যাচ্ছে তারা একটা সময়ের পর ছিনতাইকারী হচ্ছে, মানুষের ক্ষতি করছে। আর এটা করার পিছনে কিন্তু দায়ী আমরাই, কারণ আমরা তাদের অবহেলার চোখে দেখি, মানুষ হিসেবে গণ্যই করিনা। 

এমনকি তাদের সাথে হাসিমুখে কথাও বলিনা, আমাদের ভেতর আচরণে পরিবর্তন আনা জরুরি, সুযোগ দেওয়া উচিৎ। আমি প্রতিদিন নিয়ম করে পুরো ঢাকারশহর ঘুরার চেষ্টা করি, বিভিন্ন স্থানের পথশিশুদের সাথে আমাদের সখ্যতা আছে, আমরা তাদের বন্ধু হয়েছি ধীরেধীরে এদের থেকে বাছাই করে কিছু শিশুকে আমরা পরিচর্যা করে সুন্দর জীবন ফিরে পেতে সহযোগিতা করেছি। আমাদের রাতের খাবার প্রজেক্ট চলমান, তা ছাড়াও আমরা খাবারের পাশাপাশি যাদের পড়নে কাপড় নেই তাদের  পোশাক দিচ্ছি, কেউ অসুস্থ হলে তাকে তাতখনিক চিকিৎসা দিচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগে আমার একটি পথশিশুর সাথে কথা হয়। গল্প হয়, সে ক্ষুধার্ত ছিলো, আমার কাছে খাবার চাইলো, খাবার দিলাম। তারপর জিজ্ঞেস করলাম কোথায় থেকে এসেছে বিস্তারিত জেনে জানতে পারলাম। তার বাবা মারা গেছে, মা আবার অন্য কোথাও বিয়ে করে চলে গেছে সন্তানের খোঁজ নেয়না। ছেলেটা মায়ের জন্য সে প্রতিরাতে কাঁধে কেউ খাবার দিলেও গিলতে কষ্ট হয়, এই শহরে তার কেউ নেই এটা ভাবলেই সে হতাশ হয়। আমি যখন মুখে খাবার তুলে দিচ্ছিলাম, ওর চোখ দিতে পানি পড়ছিলো, আমি চোখ মুছে দিতেই বাচ্চাটি আমাকে বলে উঠলো আমি আপনাকে বাবা ডাকতে পারি? আমি উত্তর দিলাম অবশ্যই। ইচ্ছে আছে তাদের জন্য স্থায়ী একটা পূর্নবাসন করার। 

উইকিপিডিয়ার তথ্যানুাসরে বাংলাদেশে রাস্তার শিশুদের সংখ্যা নিয়ে সরকারি কোনো পরিসংখ্যান নেই, যা বছরে বাড়ছেই। ২০১৯ সালে শিক্ষায় প্রাথমিকে ঝরে পড়ার হার ছিল ১৭.৯ শতাংশ আর মাধ্যমিকে এই হার ছিল ৩৭.৬২ শতাংশ। ২০২১ সালে এই ঝরে পড়ার হার অনেক বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, ঝরে পড়ার পেছনে অন্যতম কারণ দারিদ্র্যতা। আর ছিন্নমূল পথশিশুরা এখনো শিক্ষার আওতাতেই আসেনি। 





ভোরের পাতা/কে 

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://www.dailyvorerpata.com/ad/Comp 1_3.gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]