শনিবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২ আশ্বিন ১৪২৮

শিরোনাম: ফিনল্যান্ড পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা    কমেছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা    কমেছে মৃত্যু, বেড়েছে শনাক্ত     বাংলাদেশের নতুন কোচ অস্কার    সাতক্ষীরায় ধানক্ষেতে মিললো দুই যুবকের মরদেহ    ইভ্যালির রাসেল-শামীমা ৩ দিনের রিমান্ডে    বগুড়ায় বাসের ধাক্কায় চুরমার অটোরিকশা, নিহত ২   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে ঈর্ষণীয় সাফল্য
২০৩০ সালে ৩৩,৭০৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা
রতন বালো
প্রকাশ: সোমবার, ১৯ জুলাই, ২০২১, ১০:১৬ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

চলতি অর্থবছরে  সারাদেশে শতভাগ বিদ্যুতায়নের রেকর্ড গড়ার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এ প্রকল্প  বাস্তবায়নে আগামী ২০২৫ সালে ২৫ হাজার ১৯৯ আর ২০৩০ সালে ৩৩ হাজার ৭০৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২১ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হবে এমনটাই আশা প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেছেন, ২০২১ সালের মধ্যে সবার জন্য বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিতকল্পে উৎপাদন ক্ষমতা ২৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার কার্যক্রম চলছে। চলতি বছরেই জাতীয় গ্রীডে ১ হাজার ৮৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হবে।

জানা গেছে, ২০০৯ সালে ৪ হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা থেকে বর্তমানে ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৮৩৮ মেগাওয়াটে। সব মিলিয়ে দেশ ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে। এছাড়াও বাংলাদেশে চাহিদার চেয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অনেক বেশি ধরা হয়েছে এবং প্রয়োজনের চেয়ে ১৬টির বেশি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণেরও অনুমতি দেওয়া হয়। আগামী অর্থবছরে সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থা জোরদার করে গ্রাহকের নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে ৩০ হাজার ৭৩৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ের অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় এই লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এই সময় বিদ্যুৎ গ্যাসের দাম সমন্বয় করে ভর্তুকি কমানো হবে। বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে নেওয়া হবে ৩০ হাজার মেগাওয়াটে। এর ১০ ভাগ হবে নবায়নযোগ্য। বেশি খরচের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পর্যায়ক্রমে করা হবে বন্ধ। আর এ সময়ে এই খাতে বরাদ্দ দেওয়া হবে পৌনে ২ লাখ কোটি টাকা। প্রাথমিক জ্বালানি চাহিদা মেটানোর প্রধান উৎস থাকছে আমদানি। বিদ্যুৎ জ্বালানির পরিকল্পনায় প্রধানত দুটো বিষয়কে জোর দেওয়া হয়েছে। দাম সমন্বয়ের মাধ্যমে ভর্তুকি কমানো আর পরিবেশবান্ধব জ্বালানি বাড়ানো। বিদ্যুৎ জ্বালানির বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি একাধিক জ্বালানি ব্যবহার করা হবে মাতারবাড়িসহ একাধিক স্থানে। বিশেষ করে, যেসব অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে তার আশপাশে এই বিকল্প জ¦ালানি ব্যবহার হবে। সরবরাহ ব্যবস্থায় আনা হবে ব্যাপক পরিবর্তন।

২০২১-২০৪১ মেয়াদে বিদ্যুতের চাহিদা ৯ দশমিক ৩ শতাংশ হারে বাড়বে। সেই লক্ষ্যপূরণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগের পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগামী ৫ বছরে প্রায় নয় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। এই লক্ষ্যপূরণের জন্য নতুন করে কোন বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া লাগবে না। চলমান কেন্দ্রগুলো উৎপাদনে এলেই হবে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মাতারবাড়ি, রামপাল, পায়রা এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। এখন সরকারি ও বেসরকারিভাবে ৪৪টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণাধীন। যার উৎপাদন ক্ষমতা ১৫ হাজার ৯২৪ মেগাওয়াট। পর্যায়ক্রমে ২০২২ সালে ২৬ হাজার মেগাওয়াট, ২০২৩ সালে ২৮ হাজার, ২০২৪ সালে ২৯ হাজার এবং ২০২৫ সালে ৩০ হাজার মেগাওয়াট। পর্যায়ক্রমে বেশি দামের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হবে। তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পর্যায়ক্রমে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে খরচ বেশি। সাশ্রয়ী দাম নিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্ত। বর্তমানে বিভিন্ন জ্বালানি দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। জ্বালানি ভেদে উৎপাদন খরচে অনেক পার্থক্য রয়েছে। ২০২০ সালের হিসাব অনুযায়ী, ডিজেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ সবচেয়ে বেশি। আর সবচেয়ে কম পানি বিদ্যুতে। ডিজেল দিয়ে উৎপাদন খরচ হয় প্রতি ইউনিটে ২৬ টাকা। এরপর বেশি খরচ হয় ফার্নেস অয়েলে প্রতি ইউনিট ১৭ টাকা। এলএনজিতে ১৩ টাকা, সৌর ১২ টাকা, আমদানি করা কয়লায় ৮ টাকা ১০ পয়সা, ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুৎ ৬ টাকা ৪৬ পয়সা, দেশীয় কয়লায় ৬ টাকা, দেশের গ্যাসে ২ টাকা ৫৭ পয়সা এবং পানি বিদ্যুতে উৎপাদন খরচ গড়ে প্রতি ইউনিট ১ টাকা। বিদ্যুৎ জ্বালানিতে ভর্তুকি কমানোর কৌশল নেওয়া হয়েছে। এজন্য আগামী পাঁচ বছর পর্যায়ক্রমে গ্যাস বিদ্যুতের দাম সমন্বয় করা হবে। দাম বাড়িয়ে ভর্তুকি কমানো হবে। উচ্চমূল্যের জ্বালানি ব্যবহার বাড়ার ফলে বাড়ছে ভর্তুকিও। এসব ভর্তুকি কমানোর চেষ্টা চলছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিদিন গড় বিদ্যুৎ চাহিদা প্রায় ১০ হাজার  মেগাওয়াট।  ২০০৯ সালে ৪ হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা থেকে বর্তমানে (২০২০-২১)  ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৩৪০ মেগাওয়াটে। চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের কোন ঘাটনি নেই। এর পরও  রাজধানীর কোন কোন এলাকায় দিন-রাতে  এক-দুই বার লোডশেডিংয়ের ঘটনা ঘটছে। জাতীয় সংসদে ২০২১-২২ অর্থবছরের উত্থাপিত বাজেটে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বিদ্যুৎ বিভাগ এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের জন্য ২৬ হাজার ৭৫৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেন।
 
বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানিয়েছিলেন, আগামী অর্থবছরে সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থা জোরদার করে গ্রাহকের নিরবিচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে ৩০ হাজার ৭৩৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে তার মন্ত্রণালয়। তবে প্রত্যাশার চেয়ে কম বরাদ্দ পেয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, বর্তমানে ১৬ হাজার ৮৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৪৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। দুই হাজার ৭৮৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১২টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি স্বাক্ষর প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া ৬৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান। ভবিষ্যতে আরও ১৯ হাজার ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ১৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও বলেন তিনি। 

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/agrani.gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]