শনিবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ২ আশ্বিন ১৪২৮

শিরোনাম: ফিনল্যান্ড পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা    কমেছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা    কমেছে মৃত্যু, বেড়েছে শনাক্ত     বাংলাদেশের নতুন কোচ অস্কার    সাতক্ষীরায় ধানক্ষেতে মিললো দুই যুবকের মরদেহ    ইভ্যালির রাসেল-শামীমা ৩ দিনের রিমান্ডে    বগুড়ায় বাসের ধাক্কায় চুরমার অটোরিকশা, নিহত ২   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
সকল উৎপাদনশীল শিল্প-কারখানা চালু রাখার দাবি এফবিসিসিআইর
অর্থনৈতিক প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ জুলাই, ২০২১, ১১:৫৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

মহামারি করোনা রোধে সরকার ঘোষিত বিধিনিষেধের আওতায সব ধরনের শিল্প-কারখানা বন্ধ রাখা হলে দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। সম্পূর্ণভাবে বিঘিœত হবে সাপ্লাই চেইন (সরবরাহ ব্যবস্থা)। এতে উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তাই দেশের উৎপাদনশীল সকল প্রকার শিল্প-কারখানা কোভিডজনিত বিধি-নিষেধের বাইরে রেখে সচল রাখার দাবি সরকারের কাছে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী- শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। 

তিনি বলেছেন, বর্তমান কোভিড পরিস্থিতিতে জীবন রক্ষাকে অবশ্যই অগ্রাধিকার দিতে হবে। কিন্তু উৎপাদন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হলে খাদ্য-পণ্যসহ অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য থেকে সকলেই বঞ্চিত হবেন। 



তিনি বলেন, কোভিড বিস্তার রোধে জারিকৃত বিধি-নিষেধ সংক্রান্ত সার্কুলারে ওষুধ কারখানা বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনা নেই। যদি ওষুধ কারাখানা বন্ধ রাখা হয়, তবে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হবে। অপরদিকে ট্যানারি কারখানা বন্ধ রাখা হলে কোরবানি ঈদে সংগৃহীত চামড়া সংরক্ষণ কার্যক্রম ব্যাহত হবে। গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এ সব কথা বলেন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন- এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। 

তিনি বলেছেন, সকল প্রকার শিল্প-কারখানা বন্ধ রাখা হলে অর্থনৈতিক কার্যক্রমের প্রাণশক্তি উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে এবং সাপ্লাই চেইন (সরবরাহ ব্যবস্থা) সম্পূর্ণভাবে বিঘিœত হবে। এতে উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যন্ত প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত সকলেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিশেষ করে, খাদ্য-সামগ্রী, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, বোতলজাত পানীয়, নিত্য-প্রয়োজনীয় পণ্য ইত্যাদি উৎপাদন বন্ধ থাকলে ভোক্তা সাধারণ সমস্যার সম্মুখীন হবেন। পণ্য-সামগ্রী সঠিকভাবে সরবরাহ ও বাজারজাত না হলে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাবে। এতে স্বল্প আয়ের ক্রেতারা ভোগান্তির শিকার হবেন। এই শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা বলেন, রফতানি খাতের উৎপাদন ব্যবস্থা বন্ধ থাকলে সময়মত পরবর্তী রফতানি অর্ডার অনুযায়ী সাপ্লাই দেওয়া সম্ভব হবে না। এতে রফতানি অর্ডার বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য যে, ঈদের ছুটিসহ প্রায় ১৮-২০ দিন কারখানা বন্ধ থাকলে এক অনিশ্চয়তার মাঝে লেইট সামার, ক্রিসমাস ও বড়দিন এবং আগামী শীতের কার্যাদেশসমূহ হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এক মাসের রফতানি শিডিউল বিঘিœত হলে পরবর্তি ছয় মাসের রফতানি শিডিউলে নেতিবাচক প্রভাব পরবে। সে সাথে উৎপাদন বন্ধ থাকলে আমদানিকৃত কাঁচামাল অব্যবহৃত হয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এতে আমদানিকারক ও উৎপাদক উভয়ই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এছাড়া ক্ষুদ্র ও ছোট কারখানাসমূহ বন্ধ রাখা হলে উদ্যোক্তাগণ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং কারখানাসমূহ পুনরায় চালু রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে। এ অবস্থায়, ইতিমধ্যে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ, প্লাস্টিক গুড্স ম্যানুফ্যাকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টারর্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ টেরি-টাওয়েল ম্যানু: এন্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনসহ রফতানি ও উৎপাদনের সাথে সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনসমূহ ও চেম্বারসমূহ শিল্প-কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখার বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য এফবিসিসিআই’র প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে।  

এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, সর্বোপরি প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য নেতৃত্ব ও দিক-নির্দেশনায় বিদ্যমান বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রয়েছে এবং জাতীয় প্রবৃদ্ধি ৬.১% অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। যদি উৎপাদন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয় তাহলে অর্থনীতির চলমান গতিধারা ব্যাহত হবে। জীবন ও জীবিকার মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক কার্যক্রমকেও সচল রাখতে উৎপাদন ব্যবস্থাকে চলমান রাখা জরুরি।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/agrani.gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]