মঙ্গলবার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ১২ আশ্বিন ১৪২৮

শিরোনাম: বারডেম হাসপাতালের কেবিনে বৃদ্ধার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার    দেশে ৪ কোটি ১৩ লাখের বেশি করোনার টিকা প্রয়োগ    বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সর্বত্র যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মানার নির্দেশ রাষ্ট্রপতির    করোনা টেস্টের টাকা নিয়ে উধাও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট    দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র বানানোর ষড়যন্ত্র করছে বিএনপি: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী    মৃত্যু ও শনাক্ত দুটোই বেড়েছে    কমল ডেঙ্গু রোগী, বাড়ল মৃত্যু   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
সাউথইস্ট ব্যাংক নিয়ে ‘বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচারের’ নেপথ্য কাশেম-আজিম সিন্ডিকেট!
ভোরের পাতা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ জুলাই, ২০২১, ১০:১২ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

বেসরকারি খাতের সাউথইস্ট ব্যাংক ১৯৯৫ সালে ব্যাংক স্থাপনের অনুমতির কিছু দিনের মধ্যেই তাদের যাত্রা শুরু করে। সেই সময় সরকারে ছিল খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি।


বেসরকারি এই ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান ছিলেন এম এ কাশেম। ২০০০ সালে চেয়ারম্যান হন আবদুল্লাহ ইউসুফ হারুন। এরপর আবারও চেয়ারম্যান হন এম এ কাশেম। পরবর্তী সময়ে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান আজিম উদ্দীন আহমেদ ও রাগীব আলী।

তাদের নেতৃত্বে সংকটে পড়ে ব্যাংকটি। ২০০৪ সালে সেই সংকটের মুহূর্তে হাল ধরেন আলমগীর কবীর। তার দক্ষ ও গতিশীল নেতৃত্বে সব সমস্যা কাটিয়ে সামনে এগিয়ে চলছে সাউথইস্ট ব্যাংক। তার সময়ে মুনাফা বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৭ গুণ।

অভিযোগ আছে, গত ১৭ বছরে আলমগীর কবীর যে সফলতা দেখিয়েছেন, তাতে লাগাম টানতে এবং তাকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে নানা ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে কাশেম-আজিম সিন্ডিকেট।

সাউথইস্ট ব্যাংকের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ব্যাংকটিরই চারজন পরিচালক তাদের ব্যক্তিগত অসৎ উদ্দেশ্য হাসিল করতে না পেরে এই অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তারা চাইছেন চেয়ারম্যান পদ থেকে আলমগীর কবীরকে সরিয়ে দিতে এবং এ পদে তাদের একজনকে বসাতে। ওই চার পরিচালক হলেন আজিম উদ্দীন আহমেদ ও তার স্ত্রী দুলুমা আহমেদ এবং এম এ কাশেম ও তার স্ত্রী জুসনা আরা কাশেম।

এদের মধ্যে আজিম উদ্দীন মিউচ্যুয়াল গ্রুপ অব কোম্পানিজের চেয়ারম্যান এবং এম এ কাশেম মিউচ্যুয়াল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান। তারা দুজনই নর্থ সাউথ ইউনির্ভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিতে রয়েছেন। বোর্ডের চেয়ারম্যান এখন আজিম উদ্দীন।

আজিম ও কাশেমের বিরুদ্ধে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে। মঙ্গলবার তাদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিকে দুর্নীতি ও জঙ্গিবাদের কবল থেকে রক্ষার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণও করা হয়।

সাউথইস্ট ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, ২০২০ সালে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পরিচালক আজিম উদ্দীনের মেয়ে তার এক পরিচিতকে ইভ্যালির মতো কোম্পানি খুলতে ১০ কোটি টাকা ঋণ পাইয়ে দেয়ার তদবির করেন। কিন্তু সেই ঋণ দিতে রাজি হয়নি সাউথইস্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এ কারণেই চেয়ারম্যান আলমগীর কবীরের ওপর ক্ষুব্ধ আজিম উদ্দীন।

অভিযোগ আছে, মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোতে না পারা এম এ কাশেম আবারও ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হতে চাইছেন। তিনি চেয়ারম্যান থাকার সময় নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ২৫০ জনকে নিয়োগ দেন। আলমগীর কবীর এদের সবার শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই করে অর্ধশত কর্মকর্তার ভুয়া সনদ পান। পরবর্তী সময়ে তাদের সবার চাকরি চলে যায়, যারা সবাই ছিলেন কাশেম-আজিম সিন্ডিকেটের আত্মীয়।

আরও অভিযোগ আছে, আরেক পরিচালকের ছেলে একটি কোম্পানিকে সাউথইস্ট ব্যাংক থেকে ৫২ কোটি টাকার ঋণ তুলে দেয়ার কথা বলে বিলাসবহুল গাড়ি নেন। এই ঋণের জন্য আবেদন করা হয় গত ১৬ ফেব্রুয়ারি। ঝুঁকিপূর্ণ মনে হওয়ায় ঋণ আবেদনটি বাতিল করে দেয় সাউথইস্ট ব্যাংক।

এ ঘটনায়ও চেয়ারম্যান আলমগীর কবীরের ওপর ক্ষুব্ধ কাশেম-আজিম সিন্ডিকেট।

ব্যাংকটি নিয়ে অপপ্রচার ও চেয়ারম্যান আলমগীর কবীরকে সরানোর ষড়যন্ত্র এবং নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে জানতে কথা বলা হয়েছে পরিচালক আজিম উদ্দীন ও এম এ কাশেমের সঙ্গে। তারা দুইজনই সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে তাদের কথায় চেয়ারম্যান আলমগীর কবীরের বিরুদ্ধে ক্ষোভের বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছে।

সাউথইস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এম. কামাল হোসেন বলছেন, সাধারণ মানুষ ও গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করে ব্যাংকটির সুনাম ক্ষুণ্ন করতে মনগড়া প্রতিবেদন প্রচার করা হচ্ছে। ব্যবহার করা হয়েছে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর সব তথ্য।

সাউথইস্ট ব্যাংক নিয়ে অপপ্রচারের নেপথ্যে কাশেম-আজিম সিন্ডিকেট
ব্যাংকটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিভিন্ন মাধ্যমে সাউথইস্ট ব্যাংক নিয়ে ব্যাপক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে, দুর্নীতির উৎসবে যেন গা ভাসিয়েছে পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। মালিকদের স্বার্থে নিরাপত্তা সঞ্চিতির খাতাতেও রয়েছে বড় গরমিল; দুর্বল হচ্ছে মূলধন কাঠামো। ফলে ঝুঁকি বাড়ছে গ্রাহকের আমানতে।

তাদের ভাষ্য, প্রণোদনা বিতরণ হয়েছে বড় অনিয়ম করে। বাণিজ্যের কোটা থেকে গ্রাহকের আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের বিল গেছে। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে খেলাপি ঋণ। আর সব ছাপিয়ে গেছে পরিচালনা পর্ষদের গৃহবিবাদ।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, এসব অভিযোগ করা হচ্ছে সাউথইস্ট ব্যাংক নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২০ সালের ৩০ জুনের স্থিতিভিত্তিক বিশদ পরিদর্শনের প্রতিবেদনকে ভিত্তি ধরে। এই প্রতিবেদনটি খুবই গোপনীয়, যা শুধু বাংলাদেশ ব্যাংক এবং যে ব্যাংকের ওপর করা সেই বাংকের কাছে সংরক্ষিত থাকে।

এ বিষয়ে সাউথইস্ট ব্যাংকের কর্মকতারা জানিয়েছেন, এটা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়মিত কাজ। কোনো ব্যাংক পরিদর্শনে কোনো বিষয় নিয়ে অসামঞ্জস্য দেখা দিলে ব্যাখ্যা চায় বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই ব্যাংক সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিলে বিষয়টির সুরাহা হয়ে যায়। আর ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে নিজস্ব আইন অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। সাউথইস্ট ব্যাংকের ব্যাখ্যার পর এখনও কোনো প্রশ্ন তোলেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ক্রেডিট কার্ড ইস্যু

বাণিজ্যের কোটা থেকে গ্রাহকের আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের বিল গেছে বলেও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাউথইস্ট ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘উক্ত কার্ডদ্বয়ের বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রার অংশটুকু তারা ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যেই (তৈরি পোশাকশিল্পের বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, তাদের উপহার প্রদান, আপ্যায়ন ও বিদেশে তাদের গোডাউন পরিদর্শন ইত্যাদিতে) খরচ করেছেন বলে আমাদের নিশ্চিত করেছেন।

‘এমতাবস্থায় উক্ত কার্ডদ্বয়ের বৈদেশিক মুদ্রার অংশটুকু (paragraph-28-(A)(i), Chapter-13 of GFET-এ বর্ণিত বিধানের ভিত্তিতে ERQ Account থেকে পরিশোধিত হয়ে থাকে। উল্লেখিত ক্রেডিট কার্ডসমূহ বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য গ্রাহকদ্বয়কে বিশেষ পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে।’

ব্যাংকটির এমডি বলেন, ‘রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানের ইআরকিউ হিসাব থেকে গ্রাহকের আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের বিল প্রদান একটি অনুমোদিত বিষয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ গাইডলাইনের চ্যাপ্টার ১৯ অনুযায়ী একটি রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ তিনজন টপ টায়ার নির্বাহীর নামে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড ইস্যু করা যায় এবং উক্ত কার্ডে কোম্পানির ইআরকিউ হিসাব থেকে অর্থ স্থানান্তর কারা যায়।’

ঋণখেলাপি: বাড়েনি, বরং কমেছে 

সাউথইস্ট ব্যাংকের নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, তাদের খেলাপি ঋণ বাড়েনি, বরং কমেছে।

২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর সাউথইস্ট ব্যাংকের মোট শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৪৩৭ দশমিক ৫৩ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ। ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর শ্রেণিকৃত ঋণ কমে দাঁড়ায় ৯৯৩ দশমিক ৯৮ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩ দশমিক ১০ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরে শ্রেণিকৃত ঋণ কমেছে ৩০ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

ব্যাংকটির এমডি  বলেন, ‘অভিযোগ করা হয়েছে, সাউথইস্ট ব্যাংকের মন্দ ঋণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু ২০২০ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে পরিলক্ষিত হয় যে, ২০১৯ সালে মন্দ ঋণ ছিল ৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ, যা ২০২০ সালে ১ দশমিক ৭৭ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৩ দশমিক ১০ শতাংশে উপনীত হয়।’

মুনাফা বেড়েছে সাড়ে ৭ গুণ

আলমগীর কবীর চেয়ারম্যান হওয়ার পর সাউথইস্ট ব্যাংকের ধারাবাহিক উন্নতির চিত্র পাওয়া গেছে ব্যাংকটির ওয়েবসাইট ঘেঁটেও।

এতে দেখা যায়, ২০০৪ সালে আলমগীর কবীর যখন দায়িত্ব নেন তখন ব্যাংকটির ডিপোজিট ছিল ২ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা, যা এখন বেড়ে হয়েছে ৩৫ হাজার ৯৫৩ কোটি টাকা। ২০০৪ সালে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা। ২০২০ সালে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ৩২ হাজার ২২৫ কোটি টাকা। ২০০৪ সালে ব্যাংকটি মুনাফা করেছিল ২৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। ২০২০ সালে তা প্রায় সাড়ে ৭ গুণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

সংস্থান ঘাটতি নিয়ে অপপ্রচার

ব্যাংকটির এমডি কামাল হোসেন বলছেন, সংস্থান ঘাটতির কারণে সাউথইস্ট ব্যাংক ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

কামাল হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার নং- DOS-01 ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ অনুযায়ী সংস্থান ঘাটতি থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংক নগদ লভ্যাংশ প্রদানের অনুমতি প্রদান করতে পারে না। কিন্তু ২০২০ সালে সাউথইস্ট ব্যাংক ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রদান করে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন দল কর্তৃক নিরীক্ষা কার্যক্রম শেষে ২০২০ সালে সাউথইস্ট ব্যাংকের ঋণের বিপরীতে ৫২৭ দশমিক ৪৩ কোটি টাকা অতিরিক্ত সংরক্ষণের পরামর্শ দেয়া হয়, যার মধ্যে ১২৭ দশমিক ৪৩ কোটি টাকা ২০২০ সালে লাভ-ক্ষতি হিসাব থেকে সংরক্ষণ করা হয়।

‘অবশিষ্ট ৪০০ কোটি টাকার মধ্যে ২১৫ কোটি টাকা অবণ্টিত মুনাফা (Retained Earnings) থেকে সাধারণ সংস্থানে স্থানান্তর করা হয়। বাকি ১৮৫ কোটি টাকা সাধারণ সংস্থান থেকে স্থানান্তর করে ঘাটতি সংস্থান পূরণ করা হয়। এমতাবস্থায় ব্যাংকের CRAR (Capital to Risk-weighted Asset Ratio) ১৪ দশমিক ৫০ শতাংশে উপনীত হয় (পরিগণনা সংযুক্ত)।’

কামাল হোসেন আরও বলেন, ‘২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সাউথইস্ট ব্যাংক ঝুঁকি হ্রাসের উদ্দেশ্যে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের বিপরীতে ৩৫৬ কোটি টাকা ইতিমধ্যে সংস্থান করেছে এবং সাধারণ সঞ্চিতিতে ২৪ দশমিক ৭৫ কোটি টাকা অতিরিক্ত সংস্থান করা রয়েছে।’

প্রণোদনা বিতরণ

অনিয়ম করে প্রণোদনা বিতরণ হয়েছে বলে যে অভিযোগ করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন সাউথইস্ট ব্যাংকের এমডি।

তিনি বলেন, ‘প্রণোদনা বিতরণে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বর্ণিত নিয়ম-কানুন পরিপালন করে ইতিমধ্যে ২৩০৬ জন গ্রাহকের অনুকূলে বিভিন্ন প্রণোদনার অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের প্রকৃত ক্ষতি নিরূপণ ও প্রয়োজনীয়তা যাচাইপূর্বক বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সার্কুলারের নির্দেশনা পূর্ণ প্রতিপালন সাপেক্ষে ঋণ মঞ্জুর করা হয়েছে।’

কাশেম-আজিমের ‘দুর্নীতি’ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন

সেগুনবাগিচায় মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনটি করে প্রটেকশন ফর লিগ্যাল হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন নামের একটি সংগঠন।

সাউথইস্ট ব্যাংক নিয়ে অপপ্রচারের নেপথ্যে কাশেম-আজিম সিন্ডিকেট
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১৯৯২ সালে যাত্রা শুরু করা নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম শীর্ষ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হলেও পরিচালনা পর্ষদের দুয়েকজন ব্যক্তির কারণে ডুবতে বসেছে প্রতিষ্ঠানটি। নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হয় একটি ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে। এই ট্রাস্টি বোর্ড একটি মানবহিতৈষী, দানশীল, জনহিতকর, অরাজনৈতিক, অলাভজনক ও অবাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান।

কিন্তু আজিম উদ্দীন আহমেদ ও এম এ কাশেম মানবহিতৈষী ও অবাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানটিকে বেআইনিভাবে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে রূপদান করে শত শত কোটি টাকা বাণিজ্য করছেন এবং সেই টাকা আত্মসাৎ করেছেন এবং এ ধারা অব্যাহত রেখেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, রাষ্ট্রের স্বার্থে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি প্রতিষ্ঠানে এমন লাগামহীন দুর্নীতি ও বিশ্ববিদ্যালয়টিকে জঙ্গি তৈরির কারখানায় রূপান্তর করা দুই ট্রাস্টি আজিম উদ্দীন ও এম এ কাশেমের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতির হাত থেকে প্রতিষ্ঠান ও দেশকে বাঁচানোর দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

সংবাদ সম্মেলনে ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা ড. সুফি সাগর সামস্ নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই দুই ট্রাস্টির দুর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরেন।

সুফি সাগর বলেন, দুই ট্রাস্টি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আশালয় হাউজিং লিমিটেডের কাছ থেকে জমি কিনে প্রায় ২০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। ২০১৯ সালে বিলাসবহুল গাড়ি কিনে ২১ কোটি টাকা অপব্যয় ও আত্মসাৎ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদনের বাইরে ১০টি সেকশন চালু করে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তিপূর্বক বিশাল অঙ্কের টাকা বাণিজ্য করেন এবং এই টাকা বিভিন্নভাবে আত্মসাৎ করেন।

এসব অভিযোগ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আজিম উদ্দীন বলেন, ‘আমি আর আমার স্ত্রী শুধু ডাইরেক্টরই না, স্পন্সর প্রতিষ্ঠাতা ডাইরেক্টর। আমরা তো কোনো গণমাধ্যমে যাইনি, কে কে গেছে, কেন গেছে, আমরা তো বলতে পারব না।

‘আমরা সেদিন এজিএমে যাইনি। আমরা অনুপস্থিতি ছিলাম। কারণ এটার ভেতরে আমাদের একটা ক্ষোভ ছিল। কারণ কিছু কর্মকাণ্ডের প্রতি আমাদের সমর্থন ছিল না।’

‘ব্যাংকটি কি সঠিক পথেই আছে, নাকি বেঠিক পথে আছে?’

এ প্রশ্নে সাউথইস্ট ব্যাংকের এই পরিচালক বলেন, ‘সঠিক পথেই তো চলে। এর ভেতরে কিছু ব্যত্যয় থাকতে পারে। সেটাই আমরা প্রতিবাদ করেছি। অনিয়ম কিছু আছে। সেটা আমি বিশদভাবে বলতে পারব না।

‘আমাদের চেয়ারম্যান আলমগীর সাহেব এককভাবে ১৭ বছর ধরে ব্যাংকটি চালাচ্ছেন। তাকে আমরা সমর্থন দিয়েছি। তিনি চালিয়েছেন। কিন্তু এর মধ্যে কিছু অভিযোগ, অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে বলে আমাদের কানে আসছে। সেটার প্রতিবাদস্বরূপ আমরা সেই এজিএমে যাই নাই।’

‘অভিযোগ আছে, ব্যাংক নিয়ে অপপ্রচারের নেপথ্যে রয়েছেন আপনি আর এম এ কাশেম।’

এ প্রশ্নের জবাবে আজিম উদ্দীন বলেন, ‘আমরা তো কোনো মাধ্যমেই আসি নাই, আমরা তো কিছুই জানি না।’

‘অভিযোগ আছে, আপনার পরিবারের সদস্যরা ঋণের তদবির করে সুবিধা নিয়েছেন। কিন্তু সেই ঋণ আটকে যায়। আর এ কারণে আপনি নাকি চেয়ারম্যানের ওপর ক্ষুব্ধ।’

এ প্রশ্নে আজিম উদ্দীন বলেন, ‘আজ থেকে ২৬ বছর আগে এই ব্যাংক আমরা প্রতিষ্ঠা করি। প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন কাশেম সাহেব। আলমগীর সাহেব চাকরি করতেন। এরপর এখানে এসে উনি সবকিছুর মালিক হয়ে গেছেন। আমরা তাকে চালাতে দিয়েছি, তিনি চালিয়ে গেছেন।



‘কিন্তু উনি যে এত নিচে নামতে পারেন, এটা আমাদের ধারণা ছিল না। যেভাবে তিনি আমাদের নিয়ে মিডিয়াতে কথা বলেছেন তা অসত্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘কাশেম সাহেবের শিক্ষাগত যোগ্যতা কতটুকু তা উনিই জানেন, আমি জানি না। তবে তিনি এফবিবিসিআইয়ের সভাপতি ছিলেন। তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী।’

এম এ কাশেম চেয়ারম্যান থাকার সময় নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আজিম উদ্দীন বলেন, ‘সব ব্যাংকেই তো দুই-একটা সার্টিফিকেট এদিক-ওদিক গোলমাল করে। তাই দুয়েকটা ওই রকম তো হতেই পারে।’

এম এ কাশেমের কাছেও এসব অভিযোগ নিয়ে বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, আজিম উদ্দীন যেসব বক্তব্য দিয়েছেন, একই বক্তব্য তারও।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
http://www.dailyvorerpata.com/ad/Comp 1_3.gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]