রোববার ২৫ জুলাই ২০২১ ১০ শ্রাবণ ১৪২৮

শিরোনাম: আফগানিস্তানে সেনা অভিযান, ২৬৯ তালেবান নিহত    খুলনা বিভাগে করোনায় আরও ৪৫ জনের মৃত্যু    শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট কার্যক্রম স্থগিত    হঠাৎ গজিয়ে উঠা সংগঠনকে আ.লীগের সাথে সম্পৃক্ত করার সুযোগ নেই: কাদের    ২৮ জুলাই থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন শুরু    মতিঝিলে গাড়ির গ্যারেজে আগুন    খুলেছে ব্যাংক, লেনদেন দেড়টা পর্যন্ত   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
মহামারিতেও অর্থনীতি সচল রাখার উন্নয়নমুখী বাজেট
করোনা মোকাবিলায় ঘাটতি বাজেট আরও বাড়ানো যেতে পারে:ড. আতিউর রহমান#আমাদের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো দ্রুত কাঠামোগত রূপ দিতে হবে:আব্দুস সালাম মুর্শেদী#বাংলাদেশে অনলাইন ব্যাংকিং ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডে রূপান্তরিত করতে হবে:ইকবাল আহমেদ# বাংলাদেশে হালাল ফুড এক্সপোর্টে গুরুত্ব দিলে নতুন দ্বার উন্মোচন হবে:ড. নূর রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ১৬ জুন, ২০২১, ১১:১২ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

এই বাজেটটি সর্টটার্ম ও লংটার্ম। এই বাজেটে যেমন সমকালীন বাস্তবতা চিন্তা করা হয়েছে ঠিক একইভাবে বাংলাদেশকে যে সম্ভাবনাময় একটি অবস্থানে নিয়ে যাওয়া যায় সে জায়গায় অনেকটা জোর দেওয়া হয়েছে। বর্তমান করোনাকালীন সময়ে এই বাজেটে ব্যাবসা-বাণিজ্যের সব খাতকে কনসিডারেশনের আওতায় আনা হয়েছে। তবে কিছু খাতকে একটু বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং আরও কিছু খাতে আরও একটু গুরুত্ব দেওয়া দরকার। 

দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপের ৩৭২তম পর্বে বুধবার আলোচক হিসেবে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন- বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি, সংসদ সদস্য, আব্দুস সালাম মুর্শেদী, সীমার্ক গ্রুপের চেয়ারম্যান, এন আর বি ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ইকবাল আহমেদ, ওবিই, ঘানিম ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন (ব্রুনাই হালাল ফুডস), ব্রুনাই’র সিইও, ব্রুনাই বঙ্গবন্ধু পরিষদের উপদেষ্টা, অস্ট্রেলিয়া বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাবেক সভাপতি এবং সাবেক ছাত্রনেতা ড. নূর রহমান। দৈনিক ভোরের পাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাবেক তথ্য সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ।

ড. আতিউর রহমান বলেন, এই বাজেটটি সর্টটার্ম ও লংটার্ম। এই বাজেটে যেমন সমকালীন বাস্তবতা চিন্তা করা হয়েছে ঠিক একইভাবে বাংলাদেশকে যে সম্ভাবনাময় একটি অবস্থানে নিয়ে যাওয়া যায় সে জায়গায় অনেকটা জোর দেওয়া হয়েছে। এই যে জোর দেওয়ার বিষয়টা আমি বললাম এর কারণ হচ্ছে, অনেকেই বলে এই বাজেটটি যেহেতু ব্যবসাবান্ধব, ব্যবসাই বান্ধব তাই এটা জনবান্ধব নয়। আমি এই জায়গাটি একমত পোষণ করতে পারছি না কারণ ব্যবসা বাণিজ্য কিন্তু হাওয়াই ভাসে না। ব্যবসা কিন্তু ভোক্তাদেরকে নিয়েই করতে হয়। এই বাজেটটি যদি ব্যবসাবান্ধব হয়ে থাকে তাহলে এটা জনবান্ধবও বটে। আরেকটি বিষয় খেয়াল করতে হবে যে, বাজেট কিন্তু এক বছরের হিসেব। আগামী এক বছরে আমরা কত আয় করবো, কত ব্যয় করবো তার একটি হিসাব। এর মধ্যে আবার অনেক ভাগ থাকে। মনে রাখতে হবে আমাদের হাতে কিন্তু পঞ্চবার্ষিকীর পরিকল্পনা আছে, ডেল্টা পরিকল্পনা আছে; একটা ৫ বছরের, একটা ২০ বছরের, একটা ১০০ বছরের। তো এই পরিকল্পনাগুলো বাজেটে কিন্তু দেওয়া আছে। এখন আমাদের দেখতে হবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমরা ঠিক কাজটি করতে পারছি কি পারছি না। এই রকম লক্ষ্য রেখেই এই বাজেট করা হয়েছে। এখন অনেকেই প্রশ্ন করে যে, আমরা এখন যে সমস্যার মধ্যে আছি যেটা কোভিডকালীন সমস্যা সেটার উপর ভিত্তি করে আমাদের এই বাজেটটা পরিকল্পনা করা হয়েছে কি না। আমি মনে করি, বাজেটে এই বিষয়ে নজর আছে কিন্তু আরও অনেক কিছু করা যেতো। আমাদের স্বাস্থ্য খাতে, শিক্ষা খাতে, সোশ্যাল সিকুউরিটি খাতে আরও বেশি ব্যয় করা যেত কিন্তু আমাদের আয় তো আর ততো বেশি না, তাই আমরা এটি করতে পারিনি। আরও একটি কথা হলো, এইসব জায়গায় আমরা যেসব খরচ করবো সেসব জায়গায় সক্ষমতা কেমন, তাদের দক্ষতা কেমন সেটা ভেবেও কিন্তু বাজেট প্রণয়নের সময় বাজেট প্রণেতারা ভেবেছেন। তারপরেও আমি বলবো আমাদের যদি বাজেটের ব্যয়ের বাইরেও যদি আরও টাকা প্রয়োজন হয়, যেমন এখন করোনার টিকা কেনার জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে এখন যদি আমাদের আরও টাকা প্রয়োজন হয় তাহলে কি আমরা বসে থাকবো টিকা না কিনে, অবশ্যই আমাদের আরও টাকা বের করতে হবে এই টিকা কেনার জন্য। এখন কথা হলো আমরা এই অতিরিক্ত টাকা কোথা থেকে বের করবো। এখন আমাদের এবারের ঘাটতি বাজেট ধরা হয়েছে ৬.২%। এখন যদি এই করোনা মোকাবিলার জন্য আমাদের আরও টাকা প্রয়োজন হয় তাহলে দরকার পড়লে ০.১% আরও বাড়ানো যেতে পারে এই ঘাটতি বাজেটে। 



আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেন, বাংলাদেশের এই সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে ২০২১-২০২২ অর্থবছরের জন্য গত তেসরা জুন জাতীয় সংসদে ‘জীবন জীবিকায় প্রাধান্য দিয়ে সুদৃঢ় আগামীর পথে বাংলাদেশ’ শিরোনামে জনকল্যাণমুখী জাতীয় বাজেট পেশ করা হয়েছে। এই বাজেটটি ৩৫ হাজার ৬৮১ কোটি টাকার থেকেও বেশি। গতবারের মতো এবারও করোনা মোকাবিলা করে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আমার কাছে যেটা একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতা থেকে যেটা মনে হয় সেটা আমি বলতে চাচ্ছি যে, বর্তমান করোনাকালীন সময়ে এই বাজেটে ব্যবসা-বাণিজ্যের সব খাতকে কনসিডারেশনের আওতায় আনা হয়েছে। তবে কিছু খাতকে একটি বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং আরও কিছু খাতে আরও একটু গুরুত্ব দেওয়া দরকার বলে আমি মনে করি। এই বাজেটটি ব্যবসাবান্ধব, জনবান্ধব ও বিনিয়োগ বান্ধব বাজেট হয়েছে। আমরা সবাই জানি যে, বর্তমান কোভিড পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিকভাবে বিশ্ব বাজার সংকুচিত হয়েছে। বিশ্ব বাজার অর্থনীতি একটা ভঙ্গুর অবস্থায় আছে। সেই জায়গায় একটা পণ্যের দরপতন হবে, এর চাহিদা বাড়বে কমবে। সেই জায়গায় আমাদের প্রচুর প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং এই ধরনের চ্যালেঞ্জে আমাদের জন্য কিছু সুযোগ তৈরি হয়। এই বাজেটে কিন্তু সেই সুযোগগুলো আছে। গত অর্থবছরের আগের অর্থবছরে শতাধিক অর্থনৈতিক অঞ্চল পাশ হয়েছিল সংসদে। আমি মনে করি এই অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো যদি একটি অর্থনৈতিক কাঠামো দিয়ে যদি দ্রুত তৈরি করে দেওয়া হয় তাহলে অনেক বিদেশি বিনিয়োগকারী ও সাথে সাথে দেশি বিনিয়োগকারীরা এই সুযোগটাকে কাজে লাগাতে পারবে। 

ইকবাল আহমেদ বলেন, ইংল্যান্ডের বর্তমানে তারা তাদের অর্থনীতি নিয়ে যেভাবে তারা ফরকাস্ট করছে সেখানে তাদের আগামী ৬ মাসে ৭% গ্রোথ হবে কারণ এই ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। এখানে যতোগুলো অনলাইন রিলিটেড ব্যবসা বা অন্যান্য ধরনের যে সার্ভিসগুলো দেওয়া হচ্ছে সেটা কিন্তু অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে করা হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে এই সুযোগটা তেমন বিস্তার হচ্ছে না। বাংলাদেশে যদি এটা একেবারে সহজ করে দেওয়া হয় তাহলে দেশে একটা ক্রিটিয়েবনেস আসবে এবং সবাই এটাকে স্বাগত জানাবে। আমাদের দেশে এই ব্যবস্থা ডমিস্টিকলি করা হয়েছে কিন্তু এটা যদি ইন্টারন্যাশনালি করা যেতো তাহলে আরও অনেক দূরে এগিয়ে যেতাম। আমার একটাই কথা যে, আমার বাংলাদেশের মানুষ যাতে ঘড়ে বসেই অতি সহজেই যাতে তার চাহিদা মোতাবেক পণ্য এক্সপোর্ট করতে পারে। আরেকটা বিষয় যেটা, আমাদের রেমিটেন্স থেকে যে পরিমাণ আমরা আয় করি সেটা দিয়ে কিন্তু আমরা ভেলু এডিশন করতে পারি। আমরা যদি কিছু রিসার্চ এন্ড ট্রেনিংয়ের আওতায় এনে এটা করতে পারি। আমাদের দেশের মেয়েরা যারা গার্মেন্টসে কাজ করে তাদেরকে যদি আরও একটু নারসিং করা যেতো হাইয়ার এডুকেশনের মাধ্যমে তাহলে তাদের স্কিল আরও ডেভেলপ হতো। 

ড. নূর রহমান বলেন, যখন কোন দুর্যোগ আসে তখন সেই দুর্যোগে কিন্তু একটা সুযোগও আসে। আমরা যদি আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলো দেখি সেখানে কিন্তু বাংলাদেশ অনেকভালো ভাবে এই কোভিড মোকাবিলা করতে পারেছে। এই দুর্যোগতম পরিস্থিতিতে আমরা একটা সুযোগ পেয়েছি। আজকে আমরা যে বাজেটটি পেয়েছি সেটার একমাত্র কারণ হচ্ছে আমরা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সুসময়ে একটা সঞ্চয় করতে পেরেছি এবং আমাদের শক্তিটা বেড়েছে, সাহস বেড়েছে। সব ভিসনারি লিডাররা কিন্তু এই কথা চিন্তা করে যে, ‘ড্রিম বিগ বাট এক্ট স্মল’, এই কাজটি কিন্তু আমাদের ভিসনারি লিডার জননেত্রী শেখ হাসিনা করে দেখিয়েছেন। সার্বিক পর্যালোচনায় বলা যায় যে, ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটটিতে জীবন ও জীবিকার মধ্যে অত্যন্ত চমৎকার সমন্বয়ের বিভিন্ন দিক প্রতিফলিত হয়েছে। যেমন, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, কৃষি এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি ইত্যাদির জন্য বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি, কর অবকাশসহ নানা ধরনের কর ছাড় ও কর মওকুফের বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পেয়েছে। এই বাজেটে অনেক সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে যার মধ্যে একটি হচ্ছে হালাল ফুড। হালাল ফুডে যে কালচারাল উন্নয়ন হয়েছে গত ১ দশকে বার তার চেয়ে বেশি সময়ে সেখানে কিন্তু আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছি। আমাদের পাশের দেশে মিট এক্সপোর্ট করে কিন্তু আমরা তা করতে পারছি না। এখন যদি আমরা এই খাতে সঠিকভাবে কাজ করতে পারি তাহলে এটাও একটা সম্ভাবনার দিক উন্মোচন করবে। 

ভোরের পাতা/পি

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/agrani.gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]