রোববার ২৫ জুলাই ২০২১ ১০ শ্রাবণ ১৪২৮

শিরোনাম: টস হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ    করোনা শনাক্ত ও মৃত্যুতে শীর্ষে ঢাকা: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর    বাঁশখালীতে নিহত ৭ শ্রমিকের পরিবার পেল ৩৫ লাখ টাকা    বরিশাল বিভাগে আরও ১৫ জনের মৃত্যু    আফগানিস্তানে সেনা অভিযান, ২৬৯ তালেবান নিহত    খুলনা বিভাগে করোনায় আরও ৪৫ জনের মৃত্যু    শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট কার্যক্রম স্থগিত   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
গ্রেফতারের সময় পরীমনিকে নিয়ে যা বললেন নাসির!
বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৪ জুন, ২০২১, ৮:০১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

নায়িকা পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা মামলার প্রধান আসামি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তিন নারীসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরা-১ নম্বর সেক্টরের-১২ নম্বর রোডে নাসির উদ্দিনের রাজকীয় বাসায় অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় তার বাসা থেকে বিদেশি মদ ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন অর রশীদ বলেন, এটা অমির বাসা। পরীমনির সংবাদ সম্মেলনের পর থেকে নাসির তার তিন রক্ষিতাকে নিয়ে এ বাসায় পালিয়ে ছিলেন। মাদক রাখার অভিযোগে ওই তিন নারীকেও আমরা গ্রেফতার করেছি।

নাসির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নাসিরের বিরুদ্ধে আগেও মাদক ও নারী নির্যাতনের মামলা হয়েছে। নানা অভিযোগে তাকে উত্তরা ক্লাব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জেনেছি। কেউ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে আমরা সেগুলোর তদন্ত করব।

এদিকে, পুলিশের গাড়িতে ওঠানোর আগে সাংবাদিকদের সামনে পরীমনির আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন নাসির উদ্দিন মাহমুদ। তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, আমি বুধবার রাতে যখন ক্লাব থেকে বের হই তখন তারা (পরীমনি ও তার বন্ধু) ক্লাবে ঢুকে। তারা তখন মদ্যপ অবস্থায় ছিল। তাদের মধ্যে একটি ছেলে উশৃঙ্খল ছিল। ক্লাবে ঢোকার পর আমাদের বারের কাউন্টার থেকে বড় বড় ও দামি ড্রিংকসের বোতল জোর করে নেয়ার চেষ্টা করে তারা। তখন আমি তাদের কাছে গিয়ে বলি, আপনারা ড্রিংকসগুলা নিতে পারেন না। আমি তাদের বাধা দেই। আমি বলি, এটা শুধুমাত্র ক্লাবের মেম্বারদের জন্য। এখান থেকে মদ নিতে হলে তোমাদের কোনো সদস্যের অ্যাকাউন্টের বিপরীতে নিতে হবে। তারপর আমি আমার সিকিউরিটিদের ডাক দেই। নিরাপত্তারক্ষীরা এসে তাদের নিয়ে যায়।

ক্লাবের মেম্বার ছাড়া ওই মদ যে কারো কাছে বিক্রয়যোগ্য নয় উল্লেখ করে নাসির বলেন, আমি তাকে (পরীমনিকে) বলেছি- এটা বিক্রয়যোগ্য না। তাছাড়া এতো রাতে আমাদের বার ক্লোজড্। তাই কোনোভাবেই সম্ভব না। তবে তার আগেই কোথা থেকে যেনো পরীমনি মদ পান করে এসেছিলো। ওই অবস্থাতেই আমাদের কাছে দামি মদ না পেয়ে সে উত্তেজিত হয়ে যায়, আমার উপর চড়াও হয় এবং বারের মধ্যেই একটার পর একটা কাঁচের গ্লাস ভাঙচুর করে। ওই সময়ে আমাকে সে গালিগালাজ করে। তখন আমাদের স্টাফরা তাকে থামানো চেষ্টা করে।

একপর্যায়ে পরীমনির সঙ্গে থাকা ছেলেটা আমাকে চড়-থাপ্পর দেয়। এরমধ্যে পরীমনি আমার দিকে গ্লাস ছুঁড়ে মারলে তা আমার ঘাড়ে এসে লাগে। এমন পরিস্থিতিতে আমি সিকিউরিটিদের নির্দেশ দেই- তাকে সরিয়ে নিতে। তখন সিকিউরিটিরা তাকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। তখন পরীমনি অতিরিক্ত মদ্যপ অবস্থায় ছিলো, যে কারণে সে ঠিকমতো গাড়িতে উঠতে পারছিলো না। এ ঘটনার রেকর্ডও আমাদের সিসি ক্যামেরায় সংরক্ষিত আছে।

পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার আগে ব্যবসায়ী নাসির আরো বলেন, ঘটনার পরের দিনই আমাদের ক্লাবের নিয়ম অনুযায়ী এ বিষয়ে একটি জাজম্যান্ট রিপোর্ট জমা হয়। যেখানে ক্লাবের স্টাফরা ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে। মূলত আমার সঙ্গে তার (পরীমনির) কিছুই হয়নি। ক্লাবের কর্মকর্তা হিসেবে আমি তার (পরীমনির) উশৃঙ্খল আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছি মাত্র। তাছাড়া এই ঘটনার আগে আমি তাকে চিনতাম না।

এর আগে, ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সোমবার দুপুর ১২টার দিকে সাভার থানায় নাসির উদ্দিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন পরীমনি। সাভার মডেল থানার ওসি কাজী মাইনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এতে নাসির উদ্দিন ও তার বন্ধু অমির নাম উল্লেখ করে আরও চারজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এর আগে সকালে রূপনগর থানার মাধ্যমে লিখিত অভিযোগ করেন পরীমনি।

মামলায় এক নম্বর আসামি করা হয় উত্তরা ক্লাবের সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দিন মাহমুদকে। দুই নম্বর আসামি পরীমনির বন্ধু অমি। এছাড়া চার জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।



মামলার এজহারে পরীমনি লিখেছেন, গত ৮ জুন রাত সাড়ে ১১টার দিকে তার বনানীর বাসা থেকে কস্টিউম ডিজাইনার জিমি (৩০), অমি (৪০) ও বনিসহ (২০) দুটি গাড়িযোগে তারা উত্তরার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। পথে অমি জানান ঢাকা বোট ক্লাবে তার দুই মিনিটের কাজ আছে। ১২টা ২০ মিনিটের দিকে বোট ক্লাবের সামনে গাড়ি দাঁড় করানো হয়। কিন্তু বোট ক্লাব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অমি কোনো এক ব্যক্তির সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেন। তারপর ক্লাবের সিকিউরিটি গার্ডরা গেট খুলে দেন।

পরীমনি লিখেছেন, অমি অনুরোধ করে এখানের পরিবেশ অনেক সুন্দর, তোমরা নামলে নামতে পারো। আমরা বোট ক্লাবে প্রবেশ করে বারের কাছের টয়লেট ব্যবহার করি। টয়লেট থেকে বের হতেই অভিযুক্ত আসামি নাসির উদ্দিন মাহমুদ আমাদের ডেকে বারের ভেতরে বসার অনুরোধ করেন এবং কফি খাওয়ার প্রস্তাব দেন।

এজাহারে বলা হয়েছে, এক নম্বর আসামি (নাসির উদ্দিন মাহমুদ) আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং আমার শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করে এবং আমাকে জোর করে ধর্ষণের চেষ্টা করে। সে উত্তেজিত হয়ে টেবিলে থাকা গ্লাস ও মদের বোতল ভাঙচুর করে আমার গায়ে ছুঁড়ে মারেন। তখন কস্টিউম ডিজাইনার জিমি নাসির মাহমুদকে বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করে নীলাফোলা জখম করে।
 
এ অবস্থায় ৯৯৯-এ কল দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন উল্লেখ করে পরীমনি আরো লেখেন- ৯৯৯ এ কল দিতে গেলে আমার ব্যবহৃত ফোনটি টান মেরে ফেলে দেয়া হয়। ফোনটি উঠিয়ে কল দিতে চাইলে আবারো ফোনটি টেনে ফেলে দেয়া হয়। অমিসহ অজ্ঞাতনামা চার আসামি নাসিরকে সহায়তা করে। আমি অজ্ঞাতনামা আসামিদের দেখলে শনাক্ত করতে পারবো।

আসামিরা বিভিন্ন মাধ্যমে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছেন অভিযোগ করে পরীমনি আরো লেখেন, এ বিষয়ে আমি আমার পরিবার, শিল্পী সমিতি ও অন্যান্যদের সঙ্গে আলোচনা করে এজাহার দায়ের করেছি।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/agrani.gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]