বুধবার ১৬ জুন ২০২১ ২ আষাঢ় ১৪২৮

শিরোনাম: বাংলাদেশে হালাল ফুড এক্সপোর্টে গুরুত্ব দিলে নতুন দ্বার উন্মোচন হবে: ড. নূর রহমান    বাংলাদেশে অনলাইন ব্যাংকিং ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডে রূপান্তরিত করতে হবে: ইকবাল আহমেদ    আমাদের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো দ্রুত কাঠামোগত রূপ দিতে হবে: আব্দুস সালাম মুর্শেদী    করোনা মোকাবিলায় ঘাটতি বাজেট আরও বাড়ানো যেতে পারে: ড. আতিউর রহমান    মহামারিতেও অর্থনীতি সচল রাখার উন্নয়নমুখী বাজেট    এবার শাস্তির মুখে সাব্বির    মোংলায় লকডাউন বাড়লো আরও ৭ দিন   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
নেভে না বস্তির আগুন
মিথুন মুৎসুদ্দী
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ জুন, ২০২১, ১০:৪৩ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

গত সোমবার মধ্যরাতে ফের আগুন লাগে মহাখালীর সাততলা বস্তিতে! মাত্র সাত মাসের ব্যবধানে আবারো পুড়ল সাততলা বস্তিবাসীর স্বপ্ন। ছাই হয়ে গেছে তিনশর বেশি ঘর। মাথাগোঁজার ঠাঁই হারিয়েছেন কয়েক হাজার নিম্ন আয়ের হতদরিদ্র মানুষ। পরিশ্রান্ত শরীরে যখন সবাই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিল ঠিক তখন আগুনে পুড়ে অঙ্গার হয় একের পর এক ঘর। বস্তিতে আগুন লাগার মধ্য দিয়ে কমছে বস্তির আয়তনও। সর্বশেষ গতবছরের ২৩ নভেম্বর মধ্যরাতে ভয়াবহ আগুনে এই বস্তিরই পুড়ে গিয়েছিল প্রায় আড়াই শতাধিক ঘর। এর আগেও ২০১২, ২০১৫ ও ২০১৬ সালেও আগুনে পুড়েছিল মহাখালীর ওই বস্তি। বার বার এই অগ্নিকাণ্ড কি দুর্ঘটনা নাকি নাশকতা- তা নিয়ে সন্দীহান বস্তিবাসীরা। এদিকে, বস্তিতে আগুন লাগা ঠেকাতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্ট মহল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এসব আগুন লাগার অধিকাংশ ঘটনাই ঘটে মধ্যরাতেই। গত সোমবার মধ্যরাতে লাগা মহাখালীর সাততলা বস্তিতে আগুন নেভে ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিটের চেষ্টায়। আগুনে কেউ মারা না গেলেও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে তিনশর বেশি ঘর। মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে পথে বসে গেছেন ওই বস্তির বহু মানুষ। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় বস্তিবাসীদের অভিযোগ, জায়গা খালি করতে পরিকল্পিতভাবে বস্তিতে আগুন দেওয়া হতে পারে। এর পেছনে যারা জড়িত তাদের নাম তদন্তেও বের হবে না বলে আক্ষেপ করেন তারা।

বস্তিবাসীরা বলছেন, মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদফতরের যে ৫০ একর জমি বেহাত হয়েছিল, তার বড় অংশ জুড়ে এই সাততলা বস্তি। সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের ৮ একর জমি দখল করে সাততলা বস্তি গড়ে উঠেছে। হাসপাতালের দুই পাশ ঘিরে বস্তির অবস্থান। অন্যদিকে ওই বস্তিরই আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলছেন, এ বস্তিটির প্রতিটি ঘর এবং দোকান অবৈধ। এসব দোকান ও ঘর থেকে প্রতিমাসে ভাড়া, বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিল বাবদ কয়েক লাখ টাকা চাঁদা তুলতেন স্থানীয় কয়েকজন নেতা। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধও চলছে। এ কারণে পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগানো হয়েছে।

ওইদিন অগ্নিকাণ্ডের আট ঘণ্টা পর দুপুর ১২টার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম। সে সময় ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবারকে পাঁচ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। ঘটনাস্থল দেরিতে আসার কারণ জানতে চেয়ে মেয়রকে প্রশ্ন করেন উপস্থিত সাংবাদিকরা। ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়েই মেয়র আতিকুল ইসলাম ঘোষণা দেন- রাজধানীর প্রতিটি বস্তিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ফায়ার হাইড্রেন্ট (অগ্নিনির্বাপণ কাজে ব্যবহৃত বিশেষ পানিকল) বসানোর। সে সময় ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবারকে পাঁচ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ারও ঘোষণা দেন তিনি। একই সঙ্গে ত্রাণ না আসা পর্যন্ত সিটি করপোরেশনের খরচে খাবার ও টিন সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানানো হয় সে সময়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০১৪ সালের  বস্তিতে ‘শুমারি ও ভাসমান লোকগণনা’ শীর্ষক প্রকল্পের তথ্য জানাচ্ছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় অবস্থিত ১ হাজার ৬৪৪টি বস্তিতে ১ লাখ ৪২ হাজার পরিবার থাকে। উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় বস্তির সংখ্যা ১ হাজার ৭৫৬টি। দুই সিটি করপোরেশনে মোট ৩ হাজার ৩৯৪টি বস্তি রয়েছে। এসব বস্তিতে বাস করে ৪১ হাজার ৬১১টি পরিবার। প্রতিটি পরিবার বা খানার গড় সদস্যসংখ্যা ৩ দশমিক ৭৩। সে হিসাবে ঢাকায় বস্তিতে থাকে প্রায় ৬ লাখ ৮৫ হাজার মানুষ। অন্যদিকে, ২০১৫ সালের বস্তিশুমারি অনুযায়ী দেশে বস্তিবাসীর সংখ্যা সাড়ে ২২ লাখ। পাঁচ বছর পর সেটা কত হয়েছে তা নিশ্চিত নয়। অর্ধেকের বেশি বস্তি তৈরি সরকারি জমিতে। ভাড়া থাকেন ৬৫ শতাংশ বস্তিবাসী। ২০১৫ সালের পর এখন বস্তি বা বস্তিবাসীর সংখ্যা কত তার কোন হিসেব জানা নেই কারো।

বিদ্যুতের লাইন নিয়ে কুর্মিটোলা ক্যাম্প (বিহারি বস্তি) ও রাজু বস্তির মধ্যে বিতণ্ডা হতো প্রায়ই। তার মঝেই ঘটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা। এটা ২০১৪ সালের ঘটনা। সে সময় আগুনে পুড়ে প্রাণ হারায় ক্যাম্পের ১০ জন। এরপর, ২০১৬ সালের ২২ জানুয়ারি কল্যাণপুরের নতুন বাজার বস্তির ৮ নম্বর সেকশন এলাকা, ৫ অক্টোবর হাজারীবাগ বেড়িবাঁধ সংলগ্ন শিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশে বউবাজার বস্তি; ২০১৭ সালের ১৫ মার্চ, ২১ নভেম্বর ও ৪ ডিসেম্বর মহাখালীর কড়াইল বস্তি; ২০১৮ সালের  ১২ মার্চ রাজধানীর পল্লবীর ইলিয়াস আলী মোল্লা বস্তি, একই বছর ১৯ নভেম্বর বউবাজার বস্তি; ২০১৯ সালের ৩ মার্চ উচ্ছেদ অভিযানের মধ্যে কারওয়ান বাজার রেললাইন বস্তি, ওই বছরের ১৬ আগস্ট মিরপুরের রূপনগরের ৭ নম্বর সেকশনের ঝিলপাড় চলন্তিকা বস্তি, একই বছরের ২৬ ডিসেম্বরে মিরপুর বাউনিয়া বাঁধ বস্তি; এছাড়া বিগত বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে ভাসানটেকের সিআরপির পাশের বস্তি, ওই বছরের ২৪ জানুয়ারি এবং ১১ মার্চ মিরপুরের রূপনগরের ৭ নম্বর সেকশনের ঝিলপাড় চলন্তিকা বস্তিতে, ৩০ অক্টোবর কল্যাণপুরের নতুন বাজার বস্তির ৭ নম্বর সেকশন এলাকাতে লাগে ভয়াবহ আগুন। তাছাড়া মাঝে মাঝেই অগ্নিকাণ্ড ঘটতে থাকে বস্তিগুলোতে।

বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ২০১০ থেকে ২০১৮ সালের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সর্বোচ্চ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে রাজধানী ঢাকায়। শুধু গত বছরই রাজধানীসহ সারা দেশে অন্তত ৩২টি বস্তিতে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। এসব আগুনে শিশু-নারীসহ মারা গেছেন অন্তত ২০ জন। একই অধিদফতরের দেওয়া আরেক তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত চার বছরে রাজধানীর বিভিন্ন বস্তিতে ১২৩টি অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এসব ঘটনায় ১০ জন আহত এবং তিনজন নিহত হন। বস্তিগুলোতে ১২৩টি আগুনের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ১১ কোটি ৮১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৮৩ টাকার এবং টাকার অংকে উদ্ধারের পরিমাণ ১৯ কোটি ৫৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকা।  

পরিসংখ্যানগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ২০১৭ সালে ঢাকার বস্তিতে ৩২টি, ২০১৮ সালে ৩৩টি, ২০১৯ সালে ৩১টি এবং ২০২০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ২৭টি আগুনের ঘটনা ঘটে। আরেকটি হিসেব বলছে, শুধু রাজধানীতেই গত দেড় বছরে প্রায় অর্ধশত বস্তিতে আগুন লেগেছে। এ নিয়ে নগর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত বস্তিগুলো সরকার বা ব্যক্তি মালিকানাধীন পরিত্যক্ত জমিতে গড়ে ওঠে। অনেক সময় ভূমি মালিক জমি খালি করার জন্য বস্তিতে আগুন লাগিয়ে দেন। প্রশাসনের দিকেও অভিযোগ রয়েছে। বস্তির অগ্নিদুর্ঘটনাগুলো স্বাভাবিক আগুন নয় বলে অনেকেই মনে করেন। তারা আরো বলছেন, সিটি করপোরেশন, থানা-পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের তদন্ত করে অগ্নিকাণ্ডের কারণ বের করতে হবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের সহায়তায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, অর্থাৎ সিটি করপোরেশনকে এগিয়ে আসতে হবে। রাজধানীতে বারবার অগ্নিকাণ্ডের শিকার বস্তি এলাকাগুলো ঘুরে পাওয়া যায় প্রায় একই ধরনের অভিযোগ, একই প্রশ্ন- বস্তি খালি করতে কারা দেয় আগুন?

ফায়ার সার্ভিস বলছে, প্রতিবারই প্রশ্ন ওঠে অবৈধ বিদ্যুৎ আর গ্যাস সংযোগ নিয়ে। কিন্তু কিছুদিন পরই সবাই তা ভুলে যায়। বরাবরের মতো সেসব বিদ্যুৎ আর গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করতে থাকেন সবাই। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি ঘটনায়ই তদন্ত করে কমিটি ফায়ার সার্ভিসের ডিজির মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দেয়। তবে তদন্তে নাশকতার কোনো প্রমাণ মেলে না। বস্তিতে নিয়মিত বিরতিতে অগ্নিকাণ্ড ঘটলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মামলা হয় না। হতাহত হলেই কেবল মামলা হয়, তা-ও অপমৃত্যুর। এরও আবার তদন্ত হয় না। এখন পর্যন্ত যত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, তাতে হয়েছে দফায় দফায় তদন্ত কমিটি, ভারী হয়েছে সুপারিশের তালিকা। তবে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের উদ্যোগের অভাবে থেকেছে কাগজপত্রের গণ্ডিতেই। গত পাঁচ বছরে দেশের বস্তিগুলোয় ১ হাজার ২০০টির বেশি অগ্নিকাণ্ড ঘটলেও একটিরও অভিযোগপত্র দাখিল করেনি পুলিশ। স্বাভাবিকভাবেই এসব অগ্নিকাণ্ডে কাউকে দায়ীও করা যায়নি। এ বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস কমিটিতে যুক্ত থাকা উপপরিচালক দেবাশীষ বর্ধন বলেন, বস্তিতে শুষ্ক মৌসুমের শুরুতে মূলত লুজ অ্যায়ারিংসহ বিভিন্ন কারণে আগুন লাগে। আমরা কাজ করার সময়ও সরকারি লোক বলে বস্তিবাসী আমাদের বিরুদ্ধে কথা বলে। হামলা করার ঘটনাও আছে। তবে আমরা পেশাদারির সঙ্গে জানমালের নিরাপত্তায় কাজ করি। বস্তিতে আগুন লাগলেই এর পেছনে রাজনৈতিক ইন্ধনের গুঞ্জন ওঠে। অনেক ঘটনায় বস্তিতে ঝামেলার তথ্য পাওয়া যায়। অভিযোগ আসে। তবে এগুলো তদন্তে প্রমাণিত হয় না। তাছাড়া, এসব দেখভালের দায়িত্ব ফায়ার সার্ভিসের নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। 

পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থা জানায় প্রতিটি ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার কথা। ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিন বছরে বস্তিতে ৯৫৩টি অগ্নিকাণ্ড ঘটলেও একটিতেও অভিযোগপত্র দাখিল করেনি পুলিশ। তাই কাউকে দায়ীও করা যায়নি। এসব ঘটনায় দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে না পারার কারণ হিসেবে নানা সীমাবদ্ধতার কথা বলছে পুলিশ। তাদের মতে, হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পুলিশ যেসব ক্লু পায়, বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে তা পাওয়া যায় না। এ ছাড়া বস্তিগুলোয় সিসি ক্যামেরাও থাকে না, যা থেকে অপরাধীদের শনাক্ত করা যায়। আগুন লাগার বিষয়ে কড়াইল বস্তিতে ৩০ বছর ধরে বসবাস করা সাইফুল ইসলাম দাবি করেন, একটা বস্তিতে এক বছরে যখন তিনবার আগুন লাগে, তখন আপনাকে বুঝতে হবে এটা স্বাভাবিক কোনো আগুন নয়। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, উচ্ছেদ ও দখল নিতে এসব বস্তিতে বারবার আগুন লাগানোর অভিযোগ করা হলেও কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে না। এসব অগ্নিকাণ্ডে দেশের অর্থনীতির যেমন ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি অমানবিক একটি পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এদিকে, এবারও মহাখালীর সাততলা বস্তিতে লাগা আগুনের পর দায়ী করা হয়েছে সেই অবৈধ বিদ্যুৎ আর গ্যাস সংযোগকে। প্রশ্ন উঠেছে, এসব অবৈধ সংযোগ দিচ্ছে কারা? স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রত্যেকটি আগুন লাগার পর ঘর কমে বড় বস্তিগুলোর আকার ছোট হয়ে আসে। আগুনে হতদরিদ্র মানুষের জীবনে মহাদুর্যোগ নেমে আসে। ঘটে প্রাণহানিও। ইচ্ছাকৃতভাবে আগুন লাগানোর অভিযোগ বারবার উঠলেও তদন্তে প্রমাণ মেলে না। 

তারা আরো জানান, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য মাসে ৩০০ বা ৩৫০ টাকা দিতে হয়। একইভাবে গ্যাসের জন্যও টাকা দিতে হয়। ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাদের নাম ভাঙিয়ে এসব টাকা তোলা হয়। 



এক্ষেত্রে সচেতন মহলরা বলছে- রাজধানীসহ সারাদেশের বস্তিগুলোতে কারা ওইসব অবৈধ সংযোগ দিয়ে মাসোয়ারা আদায় করে, সেটি কি কখনো খতিয়ে দেখেছে প্রশাসন? তাছাড়া দরিদ্র বস্তিবাসীদের আগুন নেভানোর ব্যপারে কেন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় না? 

এ বিষয়ে ঢাকা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) বলছে, অবৈধ সংযোগ স্থাপনের জন্য একটি চক্র গড়ে উঠেছে। যারা বিদুৎ কোম্পানির নিয়ন্ত্রণের বাইরে। তারা আরো বলছে, বস্তিতে বিদ্যুতের লাইন দেওয়ার মতো যথেষ্ট জায়গা নেই। যারা ওয়ার্নিং করে, তারা দুর্বল ক্যাবল ব্যবহার করে। যদিও এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ এখনো কোন কথা বলেনি। তবে বস্তি খালি করার জন্য অগ্নিকাণ্ডে প্রভাবশালী মহলের হাত থাকতে পারে। একই সঙ্গে সেবা সংস্থাগুলোর চরম সমন্বয়হীনতাকেও দায়ী বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বস্তি উন্নয়ন বিভাগ থাকলেও আদতে সেগুলোর কোনো কার্যক্রম নেই। বস্তিবাসীদের জীবনমান উন্নয়ন, পুনর্বাসনের মতো বিষয়ে সিটি করপোরেশনের কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও নেই। দুই সিটির বস্তি উন্নয়ন বিভাগের কার্যক্রম মূলত বিদেশি দাতা সংস্থার প্রকল্পকেন্দ্রিক। বেসরকারি সংস্থার প্রকল্পের অংশ হিসেবে বস্তিতে সচেতনতাবিষয়ক নানান কার্যক্রম চালানো হয়।

ফায়ার সার্ভিসের সাবেক পরিচালক মেজর (অব.) শাকিল নেওয়াজ বলছেন, বস্তিতে অনেক রাজনীতি থাকে, অনেক কোন্দল থাকে। প্রভাবশালীরা অনেক সময় জায়গা খালি করতে আগুন লাগিয়ে দিতে পারে। প্রশ্ন উঠছে- বস্তিতে আগুন জ্বালালে কাদের লাভ হয়? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক শ্রেণির মানুষ তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করে পুড়ে যাওয়া বস্তির  ছাই সরিয়ে গড়ে তুলেন অট্টালিকা, সুবিশাল শপিং মল, কারখানা। এভাবে গরিবের পেটে লাথি মেরে গড়ে ওঠা ধনিকশ্রেণির দাপট তৈরি হয়। তৈরি হয় শ্রেণিবৈষম্য।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/agrani.gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]