বুধবার ১৬ জুন ২০২১ ২ আষাঢ় ১৪২৮

শিরোনাম: বাংলাদেশে হালাল ফুড এক্সপোর্টে গুরুত্ব দিলে নতুন দ্বার উন্মোচন হবে: ড. নূর রহমান    বাংলাদেশে অনলাইন ব্যাংকিং ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডে রূপান্তরিত করতে হবে: ইকবাল আহমেদ    আমাদের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো দ্রুত কাঠামোগত রূপ দিতে হবে: আব্দুস সালাম মুর্শেদী    করোনা মোকাবিলায় ঘাটতি বাজেট আরও বাড়ানো যেতে পারে: ড. আতিউর রহমান    মহামারিতেও অর্থনীতি সচল রাখার উন্নয়নমুখী বাজেট    এবার শাস্তির মুখে সাব্বির    মোংলায় লকডাউন বাড়লো আরও ৭ দিন   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
কঠোর অবস্থান না নিলে কি বিপদ আসছে?
সাজ্জাদ হোসেন চিশতী
প্রকাশ: বুধবার, ৯ জুন, ২০২১, ৪:৫০ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

করোনার ভয়াবহতা থেকে কোন ভাবেই নিস্তার পাচ্ছে না পুরো বিশ্ব। একের পর এক নতুন ধরণে ভয়াবহতা তৈরি হচ্ছে আরও বেশি। বাংলাদেশও তার ব্যাতিক্রম নয়। যদিও অনেকটা অসচেতনতা এই দেশের মানুষ দ্বায়ী। যেখানে বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশ গুলো এত সচেতনতার পরেও কোন ভাবে কূল পাচ্ছে না সেখানে বাংলাদেশের মানুষকে স্বাস্থ্যবিধি মানানোটাই একেবারে অসাধ্য হয়ে পড়েছে। অথচ মহামারি করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত কতটা অসহায় হয়ে পড়েছে তা আমরা মিডিয়া গুলোতে তাকালেই দেখতে পাবো। এর মধ্যে ভারতের ১০টি রাজ্য ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। করোনা মৃত্যু আর লাশ দাহ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে মানুষ। এরই মধ্যেই দেশটি বিশ্বের করোনাভাইরাস আক্রান্তে দ্বিতীয় এবং মৃত্যুতে তৃতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে। ভারতে এখন সংক্রমণের এক ভয়াবহ ‘দ্বিতীয় ঢেউ’ চলছে। ভারতে শনাক্ত করোনাভাইরাসের ভ্যারিয়েন্ট বা ধরণের এর ভয়াবহতা সারা বিশ্বের বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছেন। ভারতে এই ভ্যারিয়েন্ট গত ৫ অক্টোবর প্রথম শনাক্ত হয় মহারাষ্ট্রে। সম্প্রতি এটি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। সংক্রমণ ঠেকাতে দেশটির অনেক রাজ্যের বড় বড় শহরে কার্ফু জারি করা হয়েছে। ভারতের মিডিয়াগুলোতে খবর বের হয়েছে, রাজধানী দিল্লিতে করোনায় মৃতদের দাহ করতে লাশ নিয়ে দিনের পর দিন অপেক্ষা করছে স্বজনরা। প্রতিদিন দেশটিতে করোনা আক্রান্ত ও মৃতের পারদ ওপরে উঠছে।  

অত্যান্ত দুঃখের বিষয় হচ্ছে ইতিমধ্যে গত ৮ মে দেশে করোনাভাইরাসের ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট (ধরন) শনাক্ত হয়েছে। যা বাংলাদেশের জন্য অত্যান্ত দুঃসংবাদ। ইতিমধ্যে বিভিন্ন জেলায় এ ধরণ শনাক্ত হয়েছে।স্বাস্থ্য অধিদফতর দেশের ২৯টি জেলাকে সংক্রমণের হার বিবেচনায় ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ভারতীয় ধরণ ঠেকানোর জন্য বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে যাতায়াত বন্ধ করা হয়। কিন্তু কথায় আছে না চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনী। সীমান্ত বন্ধ থাকলেও মানুষ সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিনই যাতায়াত করছেন। আর তাই দেশে ‘ভারতীয় ধরণ’ ছড়িয়ে পড়েছে। যার কারনে সীমান্তে দ্রুত রেড অ্যালার্ট জারি করা জরুরী বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা । অন্যথায় ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়তে পারে দেশ। একই সঙ্গে বৈধপথে যারা ফিরছেন তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কিন্তু যারা অবৈধপথে ফিরছেন তাদের চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে দেশে এই ভ্যারিয়েন্ট মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই সেই বিষয়টিও সরকারকে বিবেচনা করা জরুরী। 

সোনামসজিদ ইমিগ্রেশন অফিসার সূত্র মতে, প্রতিদিনই সীমান্ত পাড় হয়ে বাংলাদেশে আসছে মানুষ।এছাড়াও প্রতিদিন সাতক্ষীরা, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, সিলেট, কুমিল্লার সীমান্ত এলাকা থেকে অনেক মানুষ দেশে প্রবেশ করছে। যাদের সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার আখাউড়া ও বিবিরবাজার; যশোরের বেনাপোল; পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া-বাংলাবান্ধা; কক্সবাজার-টেকনাফ; ফেনীর বিলোনিয়া; রাজশাহীর সোনা মসজিদ; সাতক্ষীরার ভোমরা, চুয়াডাঙ্গার দর্শনা; লালমনিরহাটের বুড়িমারি, কুড়িগ্রামের সোনাহাট ও তুরা রোড, রৌমারী; দিনাজপুরের হিলি ও রাধিকাপুর; সিলেটের তামাবিল; গোয়াইনঘাট, সুতারকান্দি-বিয়ানিবাজার; হবিগঞ্জ-জকিগঞ্জ; বাল্লা চুনারুঘাট, মৌলভীবাজারের ফুলতলা, চাতলা; ময়মনসিংহের নাকুগাও; শেরপুরের-গোবরা কুড়া, হালুয়াঘাট; জামালপুরের- ধানুয়া বকশিগঞ্জ থেকে বৈধ পথে প্রতিদিন ভারতে থেকে বাংলাদেশি নাগরিকরা প্রবেশ করছে। আর এইসব অবাধ প্রবেশের কারণে বিভিন্ন জেলায় ভারতীয় ধরণ ছড়িয়ে পড়েছে। এমত অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ জেলা গুলোকে কঠোর লকডাউনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। সেই সাথে ভারতের সাথে সিমান্তগুলোতে রেড এলার্ড জারি করতে হবে । চাঁপাইনবাবগঞ্জ, যশোর, সাতক্ষীরা, খুলনা, নোয়াখালীর বিভিন্ন জায়গায় লকডাউন ঘোষনা করা হয়েছে। সেটাকে সাধুবাদ জানাই কিন্তু রাজশাহীতে দেখলাম সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত শপিংমলসহ অন্যান্য দোকানপাট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাহলে কি সেখানে সন্ধ্যা ৭ টার পর করোনা থাকে না? অথচ সেখানে প্রতিদিনই বাড়ছে সংক্রমণ, করোনা শনাক্তের হার প্রায় ৫০ শতাংশের কাছে। তাই এভাবে ডিলেঢালা লকডাউনে কোন কাজ হবে না। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, সাতক্ষীরা, যশোর, রাজশাহী, কুষ্টিয়া ও খুলনাসহ যেসব জেলা গুলোকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এসব জেলা গুলোতে কঠোর ভাবে লকডাউন দিতে হবে। সেসব জেলার সাথে অন্য জেলার যোগাযোগ সাময়িক বন্ধ রাখতে হবে। তাহলে করোনা নিয়ন্ত্রন করা অনেকটা সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি। কিন্তু দেশে আজ লকডাউনের এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে এক সময় বিএনপি যেমন মানুষকে দমানোর জন্য হরতাল ডাকতো ঠিক তেমনি এখন সরকারও লকডাউন দিচ্ছে সরকার। মানুষের এসব ভ্রান্ত ধারণা আমাদের সরকারকে দূর করাতে হবে। এভাবে ঢিলেঢালা লকডাউন না দিয়ে ১ সপ্তাহের জন্য সারা দেশে রেড এলার্ড জারি করে দিন। মানুষের যা সমস্যা যা ক্ষতি হওয়ার তা ১ সপ্তাহ পর্যন্ত সিমাবন্ধ থাকতে কিন্তু এখন যেভাবে লকডাউন দেওয়া হচ্ছে এতে মানুষ আরও বেশি ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছে। সাধারণ মানুষ অনেক ভোগান্তিতে পড়ছে। এক দিকে শপিংমল রেস্তোরা খোলা অন্য দিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ এতে মানুষের আস্থা দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে এবং দেশের শিক্ষাব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। এদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে বেশিভাগ শিক্ষার্থী মোবাইল ফোনে আসক্ত হয়ে ধ্বংসের মুখে ঝুকে পড়ছে। গ্রামে বাল্য বিবাহের প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে। শিশুশ্রম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এভাবে হলে আমাদের দেশ পিছিয়ে যাবে। আমাদের মানবতার মা, আমাদের আস্থা ভরসা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে ভিশন হাতে নিয়েছে তা তো নষ্ট হয়ে যাবে। তাই স্বাস্থ্যবিধি কঠোর ভাবে মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়া যেতে পারে।

মূল কথা হলো—পাশের দেশের ভারতীয় ধরন যতই বিপজ্জনক হোক না কেন, আমরা একে প্রতিহত করতে পারব যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে। যেমন—সীমান্তে চলাচল রোধ করতে হবে। সীমান্তে অন্তত দুই মাসের জন্য কারফিউ দেওয়া উচিত। যারা ভারত থেকে আসবেন তাদের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করতেই হবে।

সারা দেশে দোকানপাট যানবাহন খোলা থাকুক, কিন্তু মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক এবং এই বিধান কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। যানবাহন-দোকানে-রেস্তোরাঁয় ধারণ ক্ষমতার এক-তৃতীয়াংশের বেশি লোক সমাগমের অনুমতি দেওয়া যাবে না। যেসব জেলা গুলোর অবস্থা ভয়াবহ সেসব গুলোতে কঠোর লকডাউন দিতে হবে। সভা-সমাবেশ ও বিয়ের অনুষ্ঠানসহ সব ধরনের জমায়েত অন্তত তিন মাসের জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।



আর যত দ্রুত সম্ভব, অন্তত শহরগুলোতে হার্ড ইমিউনিটির লক্ষ্যে টিকাদান প্রকল্পকে প্রসারিত করতে হবে। ইতিমধ্যে দেশে টিকা বিতরণ ১ কোটি ডোজ ছাড়িয়েছে। আমরা জানি গত ১২ই মে চীনের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে দেওয়া করোনারভাইরাসের পাঁচ লাখ ডোজ টিকা ঢাকায় পৌঁছেছে। এদিকে দেশে সিনোভ্যাক করোনা টিকা, সিরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা, রাশিয়ার স্পুটনিক-ভি, চীনের সিনোফার্মের টিকা এবং ফাইজারের টিকা জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তাই দেশে ১৬ কোটি মানুষের টিকা দান নিশ্চিত করতে হবে। কারণ টিকা নিলে অনেকটা করোনা নিয়ন্ত্রন সম্ভব বলে দাবী করেছেন বিশেষজ্ঞরা।  

তাই আসুন আমরা সচেতন হই। করোনার কাজ করোনা চালিয়ে যাবে। আমরাও আমাদের প্রতিরোধ-প্রতিরক্ষার কাজ চালিয়ে যাব। এতে জয় আমাদেরই হবে। জয় হবে মানুষের, জয় হবে মানুষের সুবুদ্ধির।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অনুরোধ হয়তো দেশে কঠোর লকডাউন দিন না হলে সব খুলে দিন। 

লেখক: গণমাধ্যম শ্রমিক।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/agrani.gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]