বুধবার ১৬ জুন ২০২১ ২ আষাঢ় ১৪২৮

শিরোনাম: বাংলাদেশে হালাল ফুড এক্সপোর্টে গুরুত্ব দিলে নতুন দ্বার উন্মোচন হবে: ড. নূর রহমান    বাংলাদেশে অনলাইন ব্যাংকিং ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডে রূপান্তরিত করতে হবে: ইকবাল আহমেদ    আমাদের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো দ্রুত কাঠামোগত রূপ দিতে হবে: আব্দুস সালাম মুর্শেদী    করোনা মোকাবিলায় ঘাটতি বাজেট আরও বাড়ানো যেতে পারে: ড. আতিউর রহমান    মহামারিতেও অর্থনীতি সচল রাখার উন্নয়নমুখী বাজেট    এবার শাস্তির মুখে সাব্বির    মোংলায় লকডাউন বাড়লো আরও ৭ দিন   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
অযত্নে অবহেলায় রাজা টংকনাথের রাজবাড়ি ও ঐতিহ্য!
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২৪ মে, ২০২১, ৭:৩৯ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

অযত্নে অবহেলায় পড়ে রয়েছে ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈলে উপজেলার রাজা টংকনাথের বাড়ি। টংকনাথের ইতিহাস সংরক্ষণ ও রাজ বাড়ি সংস্কার করে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন জেলাবাসী। ১৯ শতকের শেষ ভাগে নির্মিত হয় উপজেলার মালদুয়ার জমিদার রাজা টংকনাথের বাড়ি। সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এটি। এরই মধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে স্থাপনার কিছু অংশ। চুরি হয়ে যাচ্ছে দরজা, জানালা ও  বিভিন্ন স্থাপনা। সংস্কার না হলে যেকোন সময় ভেঙ্গে পড়তে পারে ইতিহাসের সাক্ষী এ রাজবাড়ি।

জানাযায়, রাজা টংকনাথ ১৯১১ সালে তৎকালীন বৃহত্তর দিনাজপুর জেলার মধ্যে একমাত্র ব্যক্তি ছিলেন, যিনি কলকাতা প্রেসিডেন্সী কলেজে থেকে বি,এ পাশ করেন। তিনি দীর্ঘদিন বেঙ্গল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। টানা ১৫ বছর তিনি জেলা বোর্ডের সদস্য ছিলেন ও প্রথম ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এছাড়া তিনি নিজ খরচে দুইটি দাতব্য চিকিৎসালয় প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করতেন। ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত অনুদান দিতেন। রাজা টংকনাথ একটি ইংলিশ স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন এবং ২শ ছাত্রের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থাসহ স্কুলের উন্নয়নের সার্বিক দায়ভার গ্রহণ করেন। তার পিতা বুদ্ধিনাথ চৌধুরীর নামানুসারে প্রতিষ্ঠিত তৎকালীন (B.N institute) ইংলিশ মিডিয়াম বর্তমানে যা রাণীশংকৈল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়  নামে পরিচিত। তিনি শিক্ষানুরাগী হিসেবে শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই স্থাপন করেননি, তাঁর লাইব্রেরীও ছিল বিভিন্ন বইয়ে সমৃদ্ধ। তাঁর সংগৃহীত বিভিন্ন বই এখনও দিনাজপুর সরকারী কলেজ,কারমাইকেল কলেজ লাইব্রেরীতে সংরক্ষিত আছে।

রাজা টংকনাথ চৌধুরীর পূর্ব-পুরুষদের কেউ জমিদার ছিলেন না। বর্তমানে রাণীশংকৈল থেকে ৭ কি: মি পূর্বে কাতিহার নামক জায়গায় গোয়ালা বংশীয় নিঃসন্তান এক জমিদার বাস করতেন। জমিদারের মন্দিরে সেবায়েত হিসাবে কাজ করতেন টংকনাথের পিতা বুদ্ধিনাথ। গোয়ালা জমিদার ভারতের কাশি যাওয়ার সময় তাম্রপাতে দলিল করে যান যে, তিনি ফিরে না এলে মন্দিরের সেবায়েত বুদ্ধিনাথ জমিদারির মালিক হবেন। গোয়ালা জমিদার ফিরে না আসায় সে অনুযায়ী বুদ্ধিনাথ জমিদারির মালিক হন। জমিদার বুদ্ধিনাথের মৃত্যুর পর টংকনাথ জমিদারির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের আস্থা অর্জন করার জন্য মালদুয়ার স্টেট গঠন করেন।

রাজা টংকনাথ চৌধুরী খুব বড় মাপের জমিদার না হলেও তার আভিজাত্যের কমতি ছিল না। ১৯২৫ সালের ১৮ নভেম্বর তৎকালীন ব্রিটিশ গভর্নর হাউসে টংকনাথ চৌধুরীকে ব্রিটিশ সরকার চৌধুরী উপাধিতে ভূষিত করেন। কথিত আছে, টংকনাথের আমন্ত্রণে তৎকালীন বড়লাট এবং দিনাজপুরের মহারাজা গিরিজনাথ রায় রাণীশংকৈলে এলে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দকে টাকা নোট পুড়িয়ে রীতিমতো রাজকীয় অভ্যর্থনা ও আপ্যায়ন করান এবং পর্যাপ্ত স্বর্ণালংকার উপহার দেন। এর ফলে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে চৌধুরী উপাধি এবং দিনাজপুরের মহারাজা গিরিজনাথ রায়ের কাছ থেকে রাজা উপাধি পান।



রাজা টংকনাথের নির্মিত এ বাড়ির প্রধান ভবনটি একসময় কারুকাজে সজ্জ্বিত ছিল। বাড়িটিতে ঢুকতেই বড় এক সিংহ- দরজা। অনেক পুরাতন হলেও এখনো অনেকটা স্পষ্ট প্রাচীন কারুকার্য গুলো। এর স্থাপত্যশৈলীতে আধুনিকতার ছোঁয়ায় এখনো প্রতিদিনই এখানে  অনেক দর্শনার্থী  ভিড় করে।

ঠাকুরগাঁও কর্ণেট সাংকৃতিক সংসদের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম প্রবাল জানান, ইতিহাসের সাক্ষী রাজা টংকনাথের জমিদারবাড়িটি কোন মতো দাঁড়িয়ে আভহে। এটিকে সংস্কার ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না করলে যে কোন সময় ভেঙে পড়বে আর বঞ্চিত হবে নতুন প্রজন্ম কালের সাক্ষী রাজবাড়িটি দেখার।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. কেএম কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, শীঘ্রই বাড়িটি সংস্কার করে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। 

১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট ভারতবর্ষ ব্রিটিশদের শাসন থেকে মুক্ত হলে রাজা টংকনাথ চৌধুরী ১৭ আগস্ট স্বপরিবারে ভারতে চলে যান। তবে কথিত আছে রাজা মৌমাছির আক্রমণের শিকার হয়ে অসুস্থ অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতায় যান এবং ১৯৪৮ সালে সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।
 
ভোরের পাতা/পি

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


আরও সংবাদ   বিষয়:  অযত্ন   অবহেলা   রাজা টংকনাথ   রাজবাড়ি   ঐতিহ্য  







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/agrani.gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]