রোববার ২৫ জুলাই ২০২১ ১০ শ্রাবণ ১৪২৮

শিরোনাম: করোনা শনাক্ত ও মৃত্যুতে শীর্ষে ঢাকা: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর    বাঁশখালীতে নিহত ৭ শ্রমিকের পরিবার পেল ৩৫ লাখ টাকা    বরিশাল বিভাগে আরও ১৫ জনের মৃত্যু    আফগানিস্তানে সেনা অভিযান, ২৬৯ তালেবান নিহত    খুলনা বিভাগে করোনায় আরও ৪৫ জনের মৃত্যু    শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট কার্যক্রম স্থগিত    হঠাৎ গজিয়ে উঠা সংগঠনকে আ.লীগের সাথে সম্পৃক্ত করার সুযোগ নেই: কাদের   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
আওয়ামী লীগের চেয়েও জনপ্রিয় শেখ হাসিনা
#এক অনন্য সাধারণ ব্যক্তিত্ব আমাদের শেখ হাসিনা: ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। #শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা সকল সূচকেই এখন ঊর্ধ্বগামী: ড. বদরুজ্জামান ভূঁইয়া কাঞ্চন। #অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আ.লীগকে সুসংগঠিত করেছেন শেখ হাসিনা: মায়েদুল ইসলাম তালুকদার বাবুল।
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২১ মে, ২০২১, ১০:২১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

আমাদের জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা আজকে একটা বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বর্তমান অবস্থানে আছেন। তাঁর ধমনীতে জাতির পিতার রক্ত প্রবাহিত ও বাংলাদেশের জন্মের সম্পর্ক রয়েছে। সুতরাং তিনি সকল দিক থেকেই এক অনন্য সাধারণ ব্যক্তিত্ব। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বিবর্তন, ইতিহাস, জন্ম, পুনর্জন্ম এইগুলো সকল কিছুই সাফল্যগাথা।



দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপের ৩৪৬তম পর্বে শুক্রবার (২১ মে) আলোচক হিসেবে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন- বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় রংপুরের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. বদরুজ্জামান ভূঁইয়া কাঞ্চন, জার্মান আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা, বাংলাদেশ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং লেখক মায়েদুল ইসলাম তালুকদার বাবুল। দৈনিক ভোরের পাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভোরের পাতার সিনিয়র রিপোর্টার উৎপল দাস।

অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ বলেন, আমাদের জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা আজকে একটা বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বর্তমান অবস্থানে আছেন। তাঁর ধমনীতে জাতির পিতার রক্ত প্রবাহিত আছে। তাঁর সঙ্গে বাংলাদেশের জন্মের সম্পর্ক আছে। সুতরাং তিনি সকল দিক থেকেই একজন অনন্য সাধারণ ব্যক্তিত্ব ক্ষণজন্মা মানুষ। তাঁর তুলনা তিনি নিজেই। রাজনীতিটা তিনি আঁতুড়ঘরের মধ্য থেকেই অনুভব করেছেন এবং এই অনুভবের মধ্য দিয়েই তিনি বেড়ে উঠেছেন। শৈশব, কৈশোর এবং যৌবনে পদার্পণের মধ্য দিয়ে তার যে শিক্ষা জীবনে তিনি রাজনীতিকে ধারণ করেছেন এবং সক্রিয়তার মধ্য দিয়ে নিভিড়ভাবে উপলদ্ধি করার সুযোগ পেয়েছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে হত্যার জন্যই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবারের সদস্যসহ স্বাধীনতার মহানায়ক শেখ মুজিবকে হত্যা করা হয়। জাতির পিতা হত্যার ৭৯ দিনের মাথায় স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী চার জাতীয় নেতাকে ৩ নভেম্বর হত্যার পর পঁচাত্তরের ৭ নভেম্বর ক্ষমতায় আনা হয় জিয়াকে। জিয়া, এরশাদ ও খালেদা তাদের আড়াই দশকের শাসনামলে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে হত্যার মাধ্যমে একাত্তরের ঘাতক স্বাধীনতাবিরোধীদের রামরাজত্ব কায়েম করে। শেখ হাসিনা ১৭ মে স্বদেশে ফিরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুই দশক আন্দোলন-সংগ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের বাংলাদেশকে পুনরুদ্ধার করেন। তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনটাও কিন্তু ছিল যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের। তিনি ফিরে এলেন ১৭ মে, ১৯৮১। এ ফেরা যেন কণ্টকাকীর্ণ হয়, জিয়াউর রহমান এবং তার দোসররা ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টিতে সব কিছু করেছে। সেই দোসররা সাড়ে ৫ বছরের শাসনামলে ৩০ লাখ শহীদ ও চার লক্ষাধিক মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে অর্জিত প্রিয় মাতৃভূমি স্বাধীন বাংলাদেশকে পুরোপুরিভাবে পাকিস্তানি আদর্শ ও ভাবধারায় নিয়ে যায়। সেই কঠিন পরিস্থিতিতে অসম সাহসী মুজিবের দুঃসাহসী কন্যা পিতার মতোই নিজের জীবনকে উৎসর্গ করার মানসে ১৭ মে স্বদেশে ফিরে আসেন। শেখ হাসিনা চরম ঝুঁকি নিয়েই এসেছিলেন। স্বামী ও শিশু দুই সন্তান এবং বোন শেখ রেহানা তার সঙ্গী হতে পারেননি। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন ১৭ বছরের বেশি। তিন দফা ছিলেন জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেতা। কিন্তু তাঁর জীবনযাপন সেই আগের মতোই অনাড়ম্বর। 

অধ্যাপক ড. বদরুজ্জামান ভূঁইয়া কাঞ্চন বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে যখন আমাকে কোন কথা বলতে হয় তখন আমি অনেক আবেগাপ্লুত হয়ে যাই। অনেকটা স্মৃতিকাতর হয়ে উঠি আমি। তাঁর জীবনী যখন আমি পড়ি আমার কাছে মনে হয় আমি বাংলাদেশ সম্পর্কে পড়ছি। একটি বাংলাদেশের বিবর্তন, ইতিহাস, জন্ম, পুনর্জন্ম এইগুলো সকল কিছুই শেখ হাসিনার সাফল্যগাথা। তাঁর জীবনের বাকে বাকে নানান রকমের চড়াই উৎরায় আমাদেরকে বাংলাদেশকে ফিরে পেতে জানান দেয়। ১৯৮১ সালের ১৩-১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে ৬ বছর নির্বাসিত থাকা অবস্থায় বঙ্গবন্ধু কন্যা সর্বসম্মতিক্রমে দলের সভানেত্রী নির্বাচিত হন। ১৫ আগস্টের ভয়ংকর-নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞের পর শেখ হাসিনার দায়িত্বগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ছিল না। একটানা ৬ বছর ছিলেন নির্বাসিত জীবনে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভূলুণ্ঠিত। রাজনৈতিক অঙ্গনে জিয়াউর রহমানের পৃষ্ঠপোষকতায় একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যার সহযোগী আলবদর-রাজাকারদের দল জামায়াতে ইসলামী ও মুসলিম লীগ পুনর্বাসিত। অপরদিকে, আওয়ামী লীগ বিপর্যস্ত। বঙ্গবন্ধুকে যখন সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করল স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠী তখন জাতি হতাশায় নিমজ্জিত হলো। বঙ্গবন্ধুর আরাধ্য স্বপ্ন, গণতন্ত্র, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির বাংলাদেশ গঠন করার প্রক্রিয়া স্তব্ধ হয়ে গেল। এমন এক হতাশাগ্রস্ত জাতিকে যখন ভরসা দেওয়ার মতো কেউ রইল না, ঠিক তখনই ভরসাস্থল হয়ে ক্ষত পূরণের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। ১৯৮১ সালের ১৭ মে শেখ হাসিনা স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করলে লাখ লাখ মানুষ তাকে প্রাণঢালা সম্বার্ধনা জানায়। ওই দিন ঢাকায় আরেক ১০ জানুয়ারির পুনরাবৃত্তি হয়। শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে গণবিরোধী স্বৈরশাসনের ভিত কেঁপে ওঠে। বঙ্গবন্ধু কন্যার আগমনের পর ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট ছিনতাইকৃত স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে বাঙালি জাতি। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন এবং ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে এই জনসমর্থনের জোরেই তিনি ক্ষমতায় আসেন। একের পর এক সফল আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দেন। চার দশক আগে শেখ হাসিনা যখন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হাল ধরেছিলেন অর্থনীতি ছিল পর্যুদস্ত। ১৯৮১ থেকে ১৯৮৮ এই ৭ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় শেখ হাসিনা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছের মানুষে পরিণত হয়েছিলেন। অথচ ১৭ মে তাঁর দেশে ফেরা ছিল অতি সাধারণ, কারণ সেভাবেই তিনি দেশের জনগণের সামনে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন। সেদিন তিনি এক বৃহৎ শূন্যতার মাঝে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। এদেশে তাঁর ঘর নেই; ঘরের আপনজনও কেউ নেই। তাই সারা দেশের মানুষ তাঁর আপন হয়ে উঠল। আজকে তাঁর নেতৃত্বে আমরা সমস্ত জায়গায় জাতীয়, অর্থনীতি ও সামাজিক যে সূচকগুলো যে ঊর্ধ্বমুখী আছে সেটা কিন্তু তারই উন্নয়নের ছোঁয়াকে জানান দিয়ে যাচ্ছে। 

মায়েদুল ইসলাম তালুকদার বাবুল বলেন, ৪০ বছর আগে যখন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে দেশে ফিরেছিলেন বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা। ১৯৮১ সালের সেই দিনে ঘোর অমানিশার অন্ধকারে পিতাকে হত্যার ছয় বছর পর কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে তিনি দেশে ফিরেছিলেন। দেশে ফিরে হাল ধরেছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী প্রাচীন ও সর্ববৃহৎ দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের। ১৯৮১ সালে ১৭ মে ঢাকার আকাশ মেঘাচ্ছন্ন সন্ধ্যা নামার আগে সূর্য ঢাকা পড়েছে ঘন কালো মেঘে, মাঝে মধ্যে দমকা ঝোড়ো হাওয়া জানান দিচ্ছে, যে কোনো সময়ে আকাশ ভেঙে নামবে বৃষ্টি। এমন এক গুমট পরিবেশের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বিশ্বাসীদের রাজনৈতিক আকাশে আরেক সূর্যের আলোকছটা হাজারো দুঃখ-কষ্ট যন্ত্রণাকে ধারণ করে পিতা-মাতা ভাই আত্মীয়-স্বজন হারানোর বেদনাকে সাথী করে প্রায় ৬ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আত্মা তাঁর কন্যা শেখ হাসিনার দেহে প্রবেশ করে বাংলাদেশে পদার্পণ করলেন। সেই যে পথ চলা শুরু ১৯৮১ সালের ১৭ মে থেকে ১৯৯৬ সালের জুন, দীর্ঘ লড়াই সংগ্রাম, কারাবাস আর বারবার হত্যা চেষ্টার জাল ছিন্ন করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বুনেছেন শেখ হাসিনা। লাগাতার দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের মর্যাদা যখন ক্ষুণ্ন ঠিক তখনই অদ্যম সাহসিকতার সঙ্গে শেখ হাসিনা বিএনপি-জামায়াতের সমস্ত অপকর্মের বিরুদ্ধে বাংলার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে লাগাতার আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের বিজয় সুচিত করেন। ‘৭১ এর খুনি রাজাকার আলবদর সরদারদের বিচার করে ফাঁসির রায় কার্যকর, ‘৭৫ এর বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবার এবং জেলখানায় জাতীয় চার নেতার খুনিদের বিচারের মাধ্যমে ফাঁসির রায় কার্যকরের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে কলঙ্কমুক্ত করে হত্যা ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি বন্ধ করেন তিনি।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/agrani.gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]