বৃহস্পতিবার ১৭ জুন ২০২১ ২ আষাঢ় ১৪২৮

শিরোনাম: বাংলাদেশে হালাল ফুড এক্সপোর্টে গুরুত্ব দিলে নতুন দ্বার উন্মোচন হবে: ড. নূর রহমান    বাংলাদেশে অনলাইন ব্যাংকিং ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডে রূপান্তরিত করতে হবে: ইকবাল আহমেদ    আমাদের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো দ্রুত কাঠামোগত রূপ দিতে হবে: আব্দুস সালাম মুর্শেদী    করোনা মোকাবিলায় ঘাটতি বাজেট আরও বাড়ানো যেতে পারে: ড. আতিউর রহমান    মহামারিতেও অর্থনীতি সচল রাখার উন্নয়নমুখী বাজেট    এবার শাস্তির মুখে সাব্বির    মোংলায় লকডাউন বাড়লো আরও ৭ দিন   
https://www.dailyvorerpata.com/ad/Inner Body.gif
মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত কি নতুন মিন্নি!
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৪ মে, ২০২১, ১১:১৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

বরগুনার আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির কথাই ঘুরে ফিরে আলোচনায় আসছে আবার! প্রসঙ্গ গুলশানে সেই মুনিয়ার আত্মহত্যার ঘটনা। অনেকে বলছেন, তবে কি মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত কি নতুন মিন্নি? ২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনায় ঘটে এক সন্ত্রাসী ঘটনা সেখান থেকেই শুরু হয় মিন্নি কথন। সেই সন্ত্রাসী ঘটনায় নয়ন বন্ডের হামলায় আহত হয়ে পরবর্তীতে মারা যান রিফাত। রিফাতের স্ত্রী ছিল মিন্নি। গণমাধ্যমে ছবি প্রকাশিত হয় মিন্নি রিফাতের রক্তাক্ত দেহ নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছে এবং মিন্নিই বাদী হয়ে রিফাত হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেল যে বাদীই আসামি। 

অনুসন্ধানে পাওয়া গেলো যে, রিফাত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মিন্নি জড়িত ছিল এবং নয়ন বন্ডের সঙ্গে মিলে রিফাতকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য এই বীভৎসতা ঘটানো হয়েছিল কলেজ প্রাঙ্গণে। পরবর্তীতে আদালতের রায়ে প্রমাণিত হয়েছিল যে মিন্নি তার স্বামী রিফাত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত এবং এ জন্য আদালত থেকে শাস্তি পেয়ে তিনি কারাগারে রয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে গুলশানে মুনিয়ার আত্মহত্যার ঘটনার পর আবার মিন্নির ঘটনাটি সামনে এসেছে। অনেকেই সেই সূত্রেই মেলাচ্ছেন দুয়ে দুয়ে চার। এই আত্মহত্যার ঘটনার পর থেকে মুনিয়ার বড় বোন নুসরাত যা কিছু করছেন সবকিছুই আবার মনে করিয়ে দিচ্ছে সেই মিন্নিকেই। মিন্নি যেভাবে বাদী থেকে আসামিতে পরিণত হয়েছিলেন নুসরাতও কি সেরকম বাদী থেকে আসামিতে পরিণত হতে যাচ্ছেন? একাধিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যতই মুনিয়ার আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলার ব্যাপারে অনুসন্ধান করছেন ততই এই মামলায় নুসরাতের ভূমিকা নিয়ে নানারকম রোমাঞ্চকর তথ্য তাদের কাছে আসছে। 



মুনিয়ার আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় যে শেষ পর্যন্ত নুসরাত আসামি হয়ে যেতে পারেন তার পেছনে যে বিষয়ে আইন বিশ্লেষকরা বলছেন- 

প্রথমত, এই বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন নুসরাত এবং তার স্বামী। এটি মুনিয়ার বাড়ি নয় এবং নুসরাত এবং তার স্বামীর ভোটার আইডি কার্ড দিয়ে বাড়ি ভাড়া নেওয়া হয়েছিলো। প্রথম বাড়ির যে এডভান্সের টাকা সেটিও নুসরাত দিয়েছিলেন। নুসরাত বাড়ি ভাড়া নিয়েও মিথ্যাচার করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যে তিনি এবং তার স্বামী তার ছোটবোন মুনিয়াকে নিয়ে এখানে থাকবেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি থাকেননি মুনিয়াকে নিয়ে। 

দ্বিতীয়ত, এই মুনিয়ার আত্মহত্যার ঘটনায় আগে মুনিয়ার কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা চেয়েছিলেন নুসরাত এবং এই টাকাটা দিয়ে নুসরাত কি করেছিলেন সেটিও অজানা। অনুসন্ধানে পাওয়া যাচ্ছে যে, বিভিন্ন সময়ে নুসরাত মুনিয়াকে টাকার জন্য চাপ দিতেন। টাকার জন্য বিভিন্নভাবে মুনিয়াকে ব্যবহার করতেন। আর এই টাকা জোগাড় করতে করতেই মুনিয়ার এই পরিণতি হয়েছে। কাজেই বোনের জন্য টাকা জোগাড়ের যে চাপ সেই চাপ মুনিয়াকে বিপর্যস্ত করেছিল। এটিও এই মামলার অন্যতম একটি উপজীব্য হতে পারে। 

তৃতীয়ত, মুনিয়ার মৃত্যু এবং ঢাকায় এসে নুসরাতের একের পর এক কর্মকাণ্ড কথাবার্তা সেগুলো যখন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা পাশাপাশি মিলাচ্ছে তখন দেখা যাচ্ছে অসংলগ্ন। একটি তথ্য গোপন করে আরেকটি তথ্য প্রকাশের চেষ্টা এবং বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম তথ্য দেওয়া। এ থেকে মনে করা হচ্ছে যে, নুসরাতের অন্য কোনো উদ্দেশ্যে আছে। তিনি কোনো তথ্য গোপন করতে চাইছেন। চতুর্থত, পুরো ঘটনায় নুসরাতের অতি উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং বিশেষ একজন ব্যক্তিকে টার্গেট করে তিনি বক্তব্য বিবৃতি এবং কথাবার্তা বলছেন। অর্থাৎ তিনি নুসরাতকে কিছু দিতে পারবেন। আর এর ফলেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে যে, নুসরাত কি তাহলে মিন্নির মতোই আচরণ করছেন? মিনি যেমন হত্যাকারী হয়েও বাদী হয়েছিলেন, নুসরাতও সে রকম আত্মহত্যার প্ররোচনাকারী হয়ে নিজেই বাদী হলেন?

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
https://www.dailyvorerpata.com/ad/last (2).gif
https://www.dailyvorerpata.com/ad/agrani.gif
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]