মঙ্গলবার ১১ মে ২০২১ ২৮ বৈশাখ ১৪২৮

শিরোনাম: চাঁদ দেখা যায়নি সৌদিতে, ঈদ বৃহস্পতিবার    মিতু হত্যা মামলায় স্বামী বাবুল আক্তার গ্রেপ্তার    মালয়েশিয়ায় ঈদ বৃহস্পতিবার    মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল স্থগিত চেয়ে আইনি নোটিশ    ৪৩তম বিসিএসের প্রিলি পরীক্ষার তারিখ পেছাল    মন্ত্রীদের বক্তব্য শুধু অশালীন নয়, অমার্জিত ও অগ্রহণযোগ্য: ফখরুল    কমেছে বেসরকারি পর্যায়ে করোনা টেস্ট ফি    
রাষ্ট্র, সমাজ দুই-ই মুক্তি চায় পাপাচার গোষ্ঠী মামুনুল গংদের ছোবল থেকে
খুরশীদুল আলম শাহীন
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২১, ৭:৩৯ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

দেশের অধিকাংশ গণমাধ্যমে আজকের  সংবাদ শিরোনাম-"কওমি মাদ্রাসায় ছাত্র-শিক্ষকদের রাজনীতি নিষিদ্ধ"। একটি পোর্টালে উল্লেখিত সংবাদটি হুবহু তুলে ধরছি- কওমি মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকদের রাজনীতি নিষিদ্ধ।

দেশের বিভিন্ন স্থানে সম্প্রতি হেফাজতে ইসলামের সহিংস কর্মকাণ্ডের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সব কওমি মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

রোববার (২৫ এপ্রিল) কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী বোর্ড আল-হাইআতুল উলয়া লিল জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশের স্থায়ী কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বোর্ডের অফিস সম্পাদক মু. অছিউর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সভায় সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া কওমি মাদরাসার ছাত্র, শিক্ষক, আলেম-ওলামা, ধর্মপ্রাণ মুসলমান এবং মসজিদের ইমাম ও মুসল্লিদের রমজানের এই রহমতের মাস বিবেচনায় সরকারের নিকট তাদের মুক্তির আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি আলেম-ওলামা, মাদরাসার ছাত্র ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের হয়রানি না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়।

এছাড়া সভায় ঠিক হয়, কওমি মাদরাসা সম্পর্কিত যাবতীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নেবে আল-হাইআতুল উলয়া। আল-হাইআতুল উলয়ার অধীন এক বা একাধিক বোর্ড কিংবা কোনো সংগঠন বা ব্যক্তি আল-হাইআতুল উলয়ার সিদ্ধান্ত ব্যতীত পৃথকভাবে কওমি মাদরাসা বিষয়ক কোনো সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ বা উদ্যোগ নিতে পারবে না।

উপরের নিউজটিতে বিবৃতিদাতা মুঃ অছিউর রহমানের বিবৃতিতে একটি লাইনও নেই যেখানে তারা বলেছে আজ থেকে কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হলো। অথচ সব কয়টা নিউজের শিরোনাম-কাওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকদের রাজনীতি নিষিদ্ধ। 

সংবাদ মাধ্যম গুলির শিরোনাম সংক্রান্ত  আলোচনায় না যেয়ে তর্কের খাতিরে যদি ধরেই নেই নিষিদ্ধ হলো কওমি মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক রাজনীতি। তাহলে হেডলাইন গুলির ভাষায় বোঝা যাবে এই নিষিদ্ধটি করেছে সরকার কিংবা সরকার নিয়ন্ত্রিত কোন সংস্থা। ঘটনা কিন্তু আসলে তা নয়। প্রথমতঃ তারা নিজেরাও ছাত্র-শিক্ষকদের রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষনা করে নাই দ্বিতীয়তঃ সরকারের তরফ থেকেও এব্যাপারে কোন হস্তক্ষেপ নাই। অথচ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ মিডিয়া গুলি এই ধরনের একটি শিরোনাম করে ব্যাপক উৎফুল্ল হচ্ছে । আবারও তর্কের খাতিরে যদি ধরেই নেই "আল-হাইআতুল উলআা লিল জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ"এর বোর্ড সভায় এমনটিই সিদ্ধান্ত হয়েছে তাতে করেও উৎফুল্ল হওয়ার কিছু নেই। বিপদে চামড়া বাঁচানোর জন্যে অনেকেই অনেক রকমের কৌশল নেয়। এরাও গর্তে ঢোকার আগে ঠিক সেরকমই একটি  কৌশলই নিয়েছে। যা কোনভাবেই বিশ্বাসযোগ্য নয়।

স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ের আগে যাদের জন্ম তারা নিশ্চয় জানেন,এই আলেম সমাজই আমাদের মুক্তিযুদ্ধকে হিন্দু- মুসলিমের যুদ্ধ বলে আখ্যা দিয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে পরিকল্পিত ব্যাংক লোটের কাহিনী সাজিয়েছিল। বঙ্গবন্ধু পরিবারকে নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িয়েছিল। ১৫ আগস্ট পরবর্তীতে এই এরাই বলতো আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দেশ ভারতের কাছে বিক্রি হয়ে যাবে। দেশের মসজিদ গুলি সব মন্দির হয়ে যাবে। নৌকায় ভোট দিলে বিবি তালাক হয়ে যাবে। আরও কতো কি প্রোপাগান্ডা যে এরা করেছিল তার হিসাব নাই বা দিলাম। 



একজন নাগরিক হিসাবে প্রশ্ন-এদের কোন একটা প্রোপাগান্ডা কি পরবর্তীতে সত্য বলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। হয় নাই। বরং এদের সবকয়টা প্রোপাগান্ডাই মিথ্যে বলে প্রমাণ হয়েছিল। মিথ্যে বলে ধর্মীয় অনুভুতিকে কাজে লাগিয়ে সমাজে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করা এদের মজ্জাগত স্বভাব। অতএব থেমে যেন না যাই আমরা। চাতুরী ভরা এদের মিথ্যের ঝুড়িতে যেন আমরা গা ভাসিয়ে না দেই।

বিশ্বাস কাকে করা যায়? যার অতীত রেকর্ড আছে বিশ্বস্ততার। কথিত এই মোল্লাদের অতীত কর্মকাণ্ডে বিশ্বস্ততার লেশমাত্র রেকর্ডও নাই। এরা মোনাফেক। এদেরকে বিশ্বাস করা যায় না। এদের বিশ্বাস করা আর দুধকলা দিয়ে কালসাপ পোষা সমান কথা। অতীত রেকর্ড তাই বলে। এদেরকে ক্ষমা করার আর সময় নাই। এদের অপরাধকে অপরাধ হিসাবে বিবেচনা করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। অন্যথায় জঙ্গিবাদে বিশ্বাসী এই চক্রটির ধারাবাহিক কর্মকাণ্ডে রাষ্ট্রকে এক সময় দীর্ঘমেয়াদি খেসারত দিয়ে যেতে হবে। পস্তাতে হবে।

এবার একটু আলোচনা করি প্রতারক ভণ্ড গোষ্ঠীর আজকের বিবৃতিটি নিয়ে। বিবৃতিতে তারা গ্রেফতারকৃত মামুনুল গংদের মুক্তি দাবী সহ ছাত্র-শিক্ষক এবং মসজিদ ভিত্তিক ধর্মপ্রাণ মুসল্লীদের গ্রেফতার তথা হয়রানি না করার আহবান জানিয়েছে। বিবৃতির কোথাও উল্লেখ করেনি গ্রেফতারকৃত মামুনুল গংরা ধর্মীয় অথবা রাষ্ট্রীয় আইনে অপরাধী হলে তাদেরকে যেন বিচারের মুখোমুখি করে ধর্মীয় এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়। বিবৃতির কোথাও উল্লেখ নেই বলাৎকারের ব্যাপারে। উল্লেখ নেই পরনারী নিয়ে প্রমোদ ভ্রমনের ব্যাপারে তাদের কি অবস্থান তা নিয়ে। জ্বালাও পোড়াও করে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস নিয়ে। এতে কি বোঝা গেল? তারা ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে মানুষকে ক্ষ্যাপিয়ে দিয়ে ধারাবাহিক আরও কিছু নাশকতার পরিকল্পনায় করছে।

অতএব রাষ্ট্র তথা আইনকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে পাপাচার তথা রাষ্ট্রের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কি পদক্ষেপ নিলে রাষ্ট্র রক্ষা পাবে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের ছোবল থেকে। সমাজ কিভাবে মুক্তি পাবে এদের পাপাচার থেকে। রাষ্ট্র, সমাজ দই-ই মুক্তি চায় পাপাচারী গোষ্ঠী মামুনুল গংদের হাত থেকে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  

সারাদেশ

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]