বুধবার ১২ মে ২০২১ ২৯ বৈশাখ ১৪২৮

শিরোনাম: অপ্রতিরোধ্য করোনায়ও প্রতিরোধ গড়েছেন শেখ হাসিনা    চাঁদ দেখা যায়নি সৌদিতে, ঈদ বৃহস্পতিবার    মিতু হত্যা মামলায় স্বামী বাবুল আক্তার গ্রেপ্তার    মালয়েশিয়ায় ঈদ বৃহস্পতিবার    মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল স্থগিত চেয়ে আইনি নোটিশ    ৪৩তম বিসিএসের প্রিলি পরীক্ষার তারিখ পেছাল    মন্ত্রীদের বক্তব্য শুধু অশালীন নয়, অমার্জিত ও অগ্রহণযোগ্য: ফখরুল   
মুজিবনগর সরকার দেশ ও জাতির সৃষ্টির সরকার
#শেখ হাসিনার হাতকে আরও শক্তিশালী করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে হবে: ফারুক খান। #মহান মুক্তিযুদ্ধে পুরোটাই নেতৃত্ব দিয়েছিল এই মুজিব নগর সরকার: মে. জে. (অব.) আব্দুর রশিদ। #বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণাকে বাস্তবে রূপান্তর করার জন্য মুজিব নগর সরকার গঠিত হয়: গোলাম কুদ্দুছ। #আজকের এইদিনে তরুণ প্রজন্মকে নতুন করে শপথ নিতে হবে: ইঞ্জি. হাসনাত মিয়া। #মুজিবনগর সরকার ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে গৌরবোজ্জ্বল সরকার: ড. মোহাম্মদ আলী মানিক।
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২১, ১১:৩৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক দিন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বাংলাদেশে যে সরকার এই যুদ্ধটা পরিচালনা করেছিল তার অস্তিত্বটা আসলে কি ছিল এটা আমাদের আগে জানতে হবে। অনেকেই মুক্তিযুদ্ধ কে পরিচালনা করেছিল; এইসব বিষয় বলে ইতিহাসকে তারা বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল। আজ ১৭ এপ্রিল, ২০২১। ১৯৭১ সালের এদিনে মেহেরপুরের এক নিভৃত গ্রাম বৈদ্যনাথতলার আমবাগানে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় যা ১০ এপ্রিলে গঠিত হয়েছিল।

দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপের ৩১২তম পর্বে শনিবার (১৭ এপ্রিল) আলোচক হিসেবে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন-  বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সংসদ সদস্য, সাবেক বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী এবং সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সামরিক গবেষক মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশিদ, লেখক ও গবেষক এবং  সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, জার্মান দূতাবাসে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার অনারারি কনস্যুলেট, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন জার্মানির প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার হাসনাত মিয়া, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ড. মোহাম্মদ আলী মানিক। দৈনিক ভোরের পাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভোরের পাতার সিনিয়র রিপোর্টার উৎপল দাস।

লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, আজকে এমন একটি ঐতিহাসিক দিনে ভোরের পাতা এমন একটি সংলাপের আয়োজন করেছে সেজন্য আমি ভোরের পাতাসহ এর সাথে জড়িত সকলকেই আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কিছু বলার পূর্বে এই ধরনের অনুষ্ঠানে আমাদের স্মরণ করতে হবে আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে সকল বীর শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের এবং করোনাকালে দেশে এবং প্রবাসে আমাদের যারা বাঙালি ভাই বোন মারা গিয়েছে তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং বিশেষ করে আজকের সংলাপের যে বিষয় বস্তু ঐতিহাসিক মুজিবনগর সরকারের শপথ অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশ সরকারের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদকে, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলীকে, এএইচএম কামরুজ্জামানকে, ইউসুফ আলী সহ অন্যান্য সকলকে। আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি আমাদের দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও আমার বন্ধু আবদুল মতিন খসরু সাহেবের প্রতি। তার মৃত্যু আমাদের জন্য বিশেষ করে আমাদের মধ্যে একধরণের শুন্যতা তৈরি করেছে। মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করছি আল্লাহ‌ যেনও তাঁকে বেহেস্ত নসীব করাক। আজকের দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন কারণ এই দিনটিতে মুজিব নগর সরকার বা প্রথম বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে। আপনারা জানেন ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন  করা হয়েছিল এবং সেখানে আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আমাদের রাষ্ট্রপতি এবং নজরুল সাহেবকে উপ রাষ্ট্রপতি করে ৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছিল। এবং তাদেরকে বিভিন্ন দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৭ এপ্রিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক দিন। ১৯৭১ এর এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে কুষ্টিয়ার মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে অনেক দেশি-বিদেশি সাংবাদিকের উপস্থিতিতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে। নতুন সরকার বাংলাদেশের রাজধানীর নামকরণ করে মুজিবনগর। মুজিবনগর সরকার গঠনের ফলে বিশ্ববাসী স্বাধীনতা সংগ্রামরত বাঙালিদের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতার হাত প্রসারিত করে। বিশ্ববাসী বিশেষ করে ভারত, রাশিয়া ও প্রবাসী বাঙালিরা মুক্তিযুদ্ধে সাহসী ভূমিকা পালন করে সাত কোটি বাঙালিকে বিজয়ের পথে নিয়ে যায়। স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে মুজিবনগর সরকার গঠন এক ঐতিহাসিক ঘটনা। প্রতি বছর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে বড় করে পালন করে কিন্তু এই বছর করোনাকালীন সময় হওয়ায় এটা এবার বড় করে পালন করা হয়নি।



মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশিদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বাংলাদেশে যে সরকার এই যুদ্ধটা পরিচালনা করেছিল তার অস্তিত্বটা আসলে কি ছিল এটা আমাদের আগে জানতে হবে। অনেকেই মুক্তিযুদ্ধকে পরিচালনা করেছিল; এইসব বিষয় বলে ইতিহাসকে তারা বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল। আজ ১৭ এপ্রিল, ২০২১। ১৯৭১ সালের এদিনে মেহেরপুরের এক নিভৃত গ্রাম বৈদ্যনাথতলার আমবাগানে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় যা ১০ এপ্রিলে গঠিত হয়েছিল। আজ সেই সরকারের শপথ গ্রহণের ৫০ বছরপূর্তি। মুজিবনগর সরকার, প্রবাসী সরকার যে নামেই ডাকা হোক না বা পরিচিতি পেয়ে থাক, পঞ্চাশ বছর আগে হানাদার কবলিত দেশকে সশস্ত্র লড়াই, রক্ত আর প্রাণের বিনিময়ে মুক্ত করেছে। হাজার বছর ধরে বঞ্চিত, লাঞ্ছিত, শোষিত, নিপীড়িত, ঘুমন্ত ও পশ্চাৎপদ জাতিকে সশস্ত্র সংগ্রামের ভেতর দিয়ে যুদ্ধ জয়ের নিশানায় পৌঁছে দিয়েছিল সাড়ে সাত কোটি মানুষের সমর্থিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, সেই একাত্তর সালে। মহান মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে পুরোটায় নেতৃত্ব দিয়েছিল এই মুজিব নগর সরকার। ১৭ই এপ্রিল সেদিন যখন মুজিব নগর সরকার শপথ গ্রহণ করে তার আগে যদি আমরা দেখি সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গেই মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী একটি সরকার গঠনের খবর দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে। দেশের অভ্যন্তরে যদিও পাকিস্তানের হানাদারবাহিনী গণহত্যা, দখলদারিত্ব, জনগণের ওপর বর্বরোচিত হামলা, অত্যাচার, নির্যাতন, পাশবিকতা, অগ্নিসংযোগ ইত্যাদি চালিয়ে ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু কর্তৃক ঘোষিত স্বাধীনতাকে ধূলিসাৎ করতে বাস্তবে দৃশ্যমান না হওয়ার জন্য সব কিছুই করছিল। কিন্তু জনগণের এরই মধ্যে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘটনা ঘটতে থাকে, পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় মুক্তিযোদ্ধারা আকস্মিকভাবে আক্রমণ প্রতিহত করতে থাকে। ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা ঘোষণার পর যখন সবাই স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ল তখন এটি কিন্তু এলাকা ভিত্তিক হয়েছিল এবং এর নেতৃত্ব দিয়েছিল সেখানকার পোস্টিংরত পুলিশ বা সামরিকবাহিনী এবং তাদের সাথে তৎকালীন সময়ে বেসামরিক বাহিনী। তারা এই মুক্তিযুদ্ধ সরকার গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

গোলাম কুদ্দুছ বলেন, আমি আমার আলোচনার শুরুতেই আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের স্রষ্টা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ আমাদের এই যুদ্ধে যারা অংশগ্রহণ করেছিল এবং এই যুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছিল তাদের সবার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। এই যে মুজিব নগর যেটা গঠন হয়েছিল ১০ই এপ্রিল এবং শপথ গ্রহণ করেছিল ১৭ই এপ্রিল এই যে সরকারের গঠন করা হয়েছিল এর বৈধতাটা কি? তাহলে আমাদের একটু পিছনের দিকে যেতে হবে। ১৯৭০ সালের পাকিস্তান গণপরিষদ নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সে নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর থেকে ১৯৭১ সালের ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে শাসনতন্ত্র রচনার উদ্দেশ্যে প্রতিনিধি নির্বাচিত করা হয় এবং নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ ১৬৯টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ দলীয় ১৬৭ জন প্রতিনিধি নির্বাচিত করে; কিন্তু জেনারেল ইয়াহিয়া খান ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ শাসনতন্ত্র রচনার উদ্দেশ্যে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অধিবেশন আহবান করেও বেআইনিভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য তা বন্ধ ঘোষণা করেন। এই নির্বাচনে একটি বিষয় প্রমাণিত হয়েছে পূর্ব পাকিস্তানের ১৬৯টি আসনে মধ্যে ১৬৭টি আসন পাওয়ার মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধু এবং তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগই পূর্ব বাঙলার জনগণের পক্ষে কথা বলবার বৈধ অধিকার লাভ করে। পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী সে নির্বাচনের পর বিজয়ী শেখ মুজিবের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা করে। এর জের ধরে শুরু হওয়া তীব্র রাজনৈতিক সংকট শেষ পর্যন্ত গড়ায় ২৬শে মার্চে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে। এবং এটিই হচ্ছে এই সরকারের বৈধতা। বঙ্গবন্ধুর এই ঘোষণাকে বাস্তবে রূপান্তরিত করার জন্য তার অনুসারীরা ১০ই এপ্রিল গণপরিষদের এবং প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যরা মিলিত হয়ে তারা সম্মিলিতভাবে মুজিব নগর সরকার গঠন করে।

ইঞ্জিনিয়ার হাসনাত মিয়া বলেন, আজকে ভোরের পাতা সংলাপে আমন্ত্রিত সকল বিজ্ঞ অতিথিদেরকে অশেষ ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমরা যারা বিদেশে থাকি তারা বিশেষ করে মনে করি বাংলাদেশে শিক্ষা ব্যবস্থাকে যেকোনোভাবেই হোক রিফর্ম করতেই হবে। শুধু মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা না, আমদের যে বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা আছে সেটাকেও আধুনিক করতে হবে। মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা একটা দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষা ব্যবস্থা যেটা আমাদের এই প্রজন্মকে সেকেন্ড ক্লাস শ্রেণিতে তৈরি করছে। মুজিব নগর সরকারের যে ইতিহাস সেটা আমি মনে করি বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সফলতা সৃষ্টির প্রথম ধাপ। যখন একটা রাষ্ট্র সৃষ্টি হয় তখনি কিন্তু কূটনৈতিকভাবে মানুষের সাথে সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। এই সরকারের অংশগ্রহণকারী সকলেই ছিলেন ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী প্রতিনিধি। সুতরাং জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত সরকার দেশ-বিদেশে সকল মহলের সমর্থন লাভে আইনগত বৈধতা ছিল। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ একত্রিত হয়েই এই সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ১০ এপ্রিল সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাজউদ্দীন আহমদ সরকার গঠনের প্রেক্ষাপট, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং বঙ্গবন্ধু কর্তৃক ঘোষিত স্বাধীনতাকে বাস্তবের রূপ দেয়ার জন্য মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। ভাষণটি ১১ এপ্রিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত হওয়ার পর যুদ্ধরত মুক্তিযোদ্ধা এবং জনগণের মধ্যে আনন্দের ঢেউ সৃষ্টি হয়। মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য হাজার হাজার মানুষ তখন দেশের অভ্যন্তরে প্রস্তুতি গ্রহণ, একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ নেয়ার জন্য অনেকেই সীমান্ত অতিক্রম করতে থাকেন। এখন আমাদের নতুন প্রজন্মকে নতুন করে শপথ নেওয়ার সময় এসেছে। তার জন্য আমারা যারা আছি তাদেরকে আরও নতুন উদ্যমে এগিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশে বর্তমান সরকারের অনেক সফলতা আছে এবং আমি মনে করি আগামী দিনে এই সফলতাকে কেন্দ্র করে মুজিব আদর্শে এই সফলতাটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে সেজন্য আমাদের ধর্ম নিরপেক্ষতা যে চিন্তা ছিল সেটাকে আরও ত্বরান্বিত করতে হবে।

ড. মোহাম্মদ আলী মানিক বলেন, আজ ১৭ই এপ্রিল বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন। এই সরকার সেদিন গঠিত হয়েছিল বলেই সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল যে বাংলাদেশ নামক একটা রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছে। এজন্য ১০ এপ্রিলের আগে বিপুলসংখ্যক বিদেশি সাংবাদিক সমবেত হয়েছিলেন। আমাদের জাতীয় নেতা বাংলাদেশ সরকারের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ ও ব্যারিস্টার এম. আমীর-উল ইসলামসহ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের রূপকারদের সামনে। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল জনপ্রতিনিধিগণ বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে এই কথাটি উচ্চারণ করেছিলেন যে- “আমরা, বাংলাদেশের জনগণ, ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসের ২৬ তারিখে স্বাধীনতা ঘোষণা করিয়া জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করিয়াছি।” ১০ এপ্রিল রাতে স্বাধীনতার এই ঘোষণা কলকাতার আকাশবাণীর একটি বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত হয়। এ ঘোষণার পর পরই মুক্তিযুদ্ধ একটি নতুন মাত্রা পায়। মুক্তিযুদ্ধ নতুন করে গতিশীল হয়ে ওঠে, মুক্তিযোদ্ধারা ব্যাপকভাবে উৎসাহিত হন। মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে তথা ’৭১-এর এপ্রিলের ১০ ও ১৭ তারিখে প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্র ও সরকারের প্রধানতম লক্ষ্য ছিল সাংবিধানিকভাবে রাজনৈতিক বৈধতা নিশ্চিত করে সমগ্র বিশ্বের সমর্থন নিয়ে জনযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে শত্রুমুক্ত করে সুমহান বিজয় ছিনিয়ে আনা। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে মনে রাখতে হবে, একাত্তরে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের মতো মুজিবনগর সরকারের তাৎপর্যপূর্ণ দিক ছিল মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় যথার্থ পরিকল্পনা ও নির্দেশনা প্রদান।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


আরও সংবাদ   বিষয়:  ভোরের পাতা সংলাপ   মুজিবনগর সরকার  







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  

সারাদেশ

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]