বুধবার ১২ মে ২০২১ ২৯ বৈশাখ ১৪২৮

শিরোনাম: অপ্রতিরোধ্য করোনায়ও প্রতিরোধ গড়েছেন শেখ হাসিনা    চাঁদ দেখা যায়নি সৌদিতে, ঈদ বৃহস্পতিবার    মিতু হত্যা মামলায় স্বামী বাবুল আক্তার গ্রেপ্তার    মালয়েশিয়ায় ঈদ বৃহস্পতিবার    মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল স্থগিত চেয়ে আইনি নোটিশ    ৪৩তম বিসিএসের প্রিলি পরীক্ষার তারিখ পেছাল    মন্ত্রীদের বক্তব্য শুধু অশালীন নয়, অমার্জিত ও অগ্রহণযোগ্য: ফখরুল   
ফুলবাড়িয়া মার্কেট নিয়ে ষড়যন্ত্রের জাল!
আতঙ্কিত ব্যবসায়ী মহল
আরিফুর রহমান
প্রকাশ: রোববার, ১১ এপ্রিল, ২০২১, ৭:৫৪ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

ফুলবাড়িয়ার আকাশ থেকে কাটছেই না ভয়ের কালো মেঘ। বিশেষ করে রাজধানীর ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-২ এর উপর যে ভয় আর আতঙ্ক ভর করছে। এ মার্কেটকে নিয়ে চলছে বিশেষ মহলের নানামুখী ষড়যন্ত্র। ষড়যন্ত্রের জালে দিশেহারা স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে আদায় করা হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। সাবেক সভাপতির পোষা গুন্ডাবাহিনী দিচ্ছে নানা রকম হুমকি। তারা তোয়াক্কাই করছে না নগর ভবনের নির্দেশনাকেও! অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীর অন্যতম পাইকারী মার্কেট ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-২ এর সুনাম ধ্বংস করতে একটি কুচক্রি মহল চতুর্মুখী ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। 

এসব ষড়যন্ত্রকারীরা ইতোমধ্যেই এসব মার্কেট থেকে ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে নানা ফন্দি ফিকিরে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অনেকে বিষয়টি জেনেও টু শব্দটি করতে পারেনি। এর বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে চাইলে মার্কেটের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দেলু তার পোষা গুন্ডাবাহিনী দিয়ে প্রতিবাদকারীকে শায়েস্তা করতো। তিনি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দোকানের জোরপূর্বক ৬ মাসের ভাড়া এককালীন আগাম দিতে বাধ্য করতেন। কেউ দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তার দোকানে তালা লাগিয়ে পুনরায় খুলে দেওয়ার নামে আদায় করতো  ২ থেকে ৫ লাখ টাকা। চ্যালেঞ্জ করলেই তার উপর নেমে আসতো অত্যাচার আর জোড়পূর্বক কেড়ে নিতো দোকানের মালিকানা। শুধু ব্যবসায়ীদের ওপর অত্যাচারই নয় নগর ভবনকেও তোয়াক্কা না করে ঘরজামাই দেলু তার নিজস্ব নিয়মে চালায় মার্কেট।

কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিলেও সম্প্রতি ডিএসসিসি নকশা বহির্ভূত দোকান উচ্ছেদ শুরু করলে উধাও হয়ে যায় সভাপতি নামধারী এই দেলোয়ার হোসেন দেলু। ফলে ওই সময় অভিভাবকত্বহীনতায় অসহায় হয়ে পড়েন ব্যবসায়ীরা। তখন দিশেহারা এসব ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের বিভিন্নভাবে আশ্বস্ত করতে থাকেন জাকের সুপার মার্কেটের দোকান মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলহাজ ফিরোজ আহম্মেদ। তিনি ব্যবসায়ীদের সাথে থেকে উচ্ছেদকালে নানা কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধি নিয়ে বিষয়টি অবহিত ও সুষ্ঠু সমাধানে ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের সাথে সাক্ষাৎ করেন। এদিকে জাকের সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ীরা ঘরজামাই দেলুকে সভাপতির পদ থেকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন এবং কমিটি ভেঙে দেন। এরপরই মার্কেটে বিশৃঙ্খলা করাতে দেলোয়ার হোসেন দেলু বিভিন্ন ষড়যন্ত্র শুরু করেন বলেন অভিযোগ।

গুদাম মালিক ও মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উচ্ছেদ অভিযানের সময় জাকের সুপার মার্কেটের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেটে-২ এর তিনটি ব্লকের ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ানোয় প্রায় সকলেই এখন তার নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে আছেন। যদিও এর আগে এই মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ ছিল মার্কেটের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দেলু নামের এই ঠিকাদারের হাতে। প্রকৃতপক্ষে মার্কেটের তিনটি ব্লকের কোথাও তার কোনো ব্যবসা নেই, তবে দুই ব্লকে দুটি দোকান আছে যা ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দেওয়া। তার অত্যাচারে ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল। ক্যাসিনো কিং ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের অন্যতম ঘনিষ্ঠ এবং ক্যাসিনো কেলেঙ্কারীর তালিকায় ঘরজামাই দেলুর নাম উঠে আসায় তিনি মার্কেটে না গিয়ে আড়ালে থেকে মার্কেট নিয়ন্ত্রণ করতে থাকেন।

ব্যবসায়ীরা আরও জানান, সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনের নাম ভাঙিয়ে অবৈধ দোকান বৈধ করার আশ্বাস দিয়ে একসময় মার্কেটের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দেলু দোকানিদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল। এসব দোকানে বিদ্যুৎ সংযোগ, জমাখারিজ করানোসহ বিভিন্ন অজুহাতে প্রতি দোকান থেকে কমপক্ষে ৫ লাখ টাকা করে নিয়েছেন। কেউ দিতে অস্বীকৃতি জানালে বরাদ্দপত্র থাকলেও দোকান কেড়ে নিয়ে তাকে মার্কেট থেকে বের করে দেওয়া হতো। তারা বলেন, সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দেলু মার্কেটের দোকান ভাড়া দিয়ে বছরে দুইবার ভাড়া নেন অর্থাৎ প্রতি ছয়মাসের ভাড়া তিনি আগাম এককালীন নিয়ে নেন।

দেলোয়ার হোসেন দেলুর রোষানলে পড়া তেমনই একজন ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম চৌধুরী। তিনি জাকের সুপার মার্কেটের দোকান মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক থাকাকালীন সময়ে ঘরজামাই দেলুর এসব অত্যাচারের প্রতিবাদ করলে তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি দিয়ে মার্কেট থেকে বিতাড়িত করে দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে মো. খোরশেদ আলম চৌধুরী এ প্রতিবেদককে বলেন, দেলোয়ার হোসেন দেলুর কোনো মনুষ্যত্ব নেই। তিনি স্বার্থের জন্য পারে না এমন কোনো নিকৃষ্ট কাজ নাই। তিনি প্রকৃত পক্ষে কোনো ব্যবসায়ী নন, মার্কেট নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নগরভবনের কতিপয় কর্তা ব্যক্তিদের সাথে সখ্যতা গড়ে দুটি দোকান ক্রয় করে তা আবার ভাড়া দিয়ে দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, দেলোয়ার হোসেন দেলুুর আয়ের উৎস নিয়ে খোঁজ নিলে প্রশাসন জানতে পারবেন তার অর্থ সম্পত্তির নেপথ্য উৎস কোথায়। তার আয়ের সাথে কতটা অসঙ্গতি রয়েছে। তাছাড়া তিনি যে অসৎ মানুষ তা নিজেই প্রমাণ করেছেন সাবেক মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকনকে ঘুষ দিয়ে আবার আদালতে মামলা করেছেন। ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-২ এর সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দেলুর কাছে এ ব্যাপারে জানতে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগে আরো জানা যায়, ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-২ এর এ ও বি ব্লকের নির্মাণ কাজ করছে মার্কেটটির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দেলুর মালিকানাধিন হৃদি কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড সাপ্লায়ার্স নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানটি মার্কেটের নির্মাণ কাজ এতোটাই নি¤œমানের করেছে তখন আরও একটি রানা প্লাজা ট্রাজেডি ঘটতে পারে বলে স্থানীয়দের দাবি। এসব মার্কেটের নির্মাণ কাজ শেষ হলেও দীর্ঘদিন তা ডিএসসিসিকে বুঝিয়ে না দিয়ে মানভেদে দোকান মাসে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা করে এককালীন ছয় মাসের ভাড়া তুলে নেন দেলোয়ার হোসেন দেলু। এর মধ্যে ব্লক বি (নগর প্লাজা) থেকে ২০১৯ সাল থেকে এবং ব্লক এ (সিটি প্লাজা) এর ভাড়া তুলে নিচ্ছেন ২০২০ সাল থেকে। যদিও তিনি মার্কেটে দোকান নিয়ে নয় ছয় এবং জুলুম নির্যাতন ১৯৯৬ সাল থেকে করছেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও এসব মার্কেটে থাকা গুদামও ভাড়া দিয়েছেন তিনি। কিন্তু নিজের এসব কর্মকান্ডের দায় জাকের সুপার মার্কেটের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহম্মেদের ওপর চাপিয়ে কতিপয় গণমাধ্যমে ভুয়া তথ্য পরিবেশন করানো হয়। জাকের সুপার মার্কেটে কোনো গুদাম না থাকলেও বলা হয়েছে ফিরোজ আহম্মেদ ডিএসসিসিকে গুদাম বুঝিয়ে না দিয়ে তা অবৈধভাবে ভাড়া দিচ্ছে। আবার অন্য দুই মার্কেটে রয়েছে আলাদা কমিটি। যার মধ্যে সিটি প্লাজার সুমন দেওয়ান এবং নগর প্লাজার মো. মহিউদ্দিন সাধারণ সম্পাদক আর এর সভাপতি দেলোয়ার হোসেন দেলু। যত দ্রুত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে ডিএসসিসি তাদের মার্কেট বুঝে নিবে ব্যবসায়ীদের জন্য ততই মঙ্গল বলে জানান তারা।



ডিএসসিসি’র প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. রাসেল সাবরিন এ ব্যাপারে বলেন, ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-২ এর সকল নকশা বহির্ভূত দোকান উচ্ছেদ করা হয়েছে। তারপরও প্রকৌশল বিভাগকে এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে। মার্কেটের দোকান ও গুদাম ভাড়া দেওয়ার বিষয় জানতে চাইলে জাকের সুপার মার্কেটের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলহাজ ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, ‘কে বা কারা দোকান ভাড়া নিচ্ছেন বা দিচ্ছেন, তা আমাদের নলেজে নেই। তাছাড়া আমার মার্কেটে কোনো গুদাম নেই, তাই ভাড়া দেওয়ার বিষয়টিও আমার জানা নেই।’

তিনি বলেন, ইতোমধ্যেই একটি মহল মার্কেটটি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। যারা এই মার্কেটটি থেকে বৈধ অবৈধ সকল সুযোগ সুবিধার নামে লুটপাট করেছে কিন্তু সাধারণ ব্যবসায়ীদের এমন অসময়ে এসব নেতাদের কেউ তাদের পাশে এসে দাঁড়ায় নি, এমনকি খোঁজও নেয়নি। আর এখন আবার কতিপয় মিডিয়ার মাধ্যমে নানা প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে মার্কেটে অস্থিরতা ছড়িয়ে পুনরায় ফায়দা নিতে চাচ্ছে।

ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, ‘নগর প্লাজা ও সিটি প্লাজায় নতুন করে বেশ কিছু দোকান ও গুদাম নির্মাণ করা হলেও তা নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানটি এখনো ডিএসসিসিকে বুঝিয়ে দেয়নি। আর এসব মার্কেটে আলাদা কমিটি রয়েছে, যার সভাপতি হলেন এসব দোকান নির্মাণকারী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হৃদি কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড সাপ্লায়ার্সের স্বত্বাধিকারী দেলোয়ার হোসেন দেলু। তিনিই বলতে পারবেন কারা এসব দোকান ভাড়া দিচ্ছেন। আমার এ দুটি মার্কেটের সাথে কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

ভোরের পাতা/এএম

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  

সারাদেশ

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]