শনিবার ১৭ এপ্রিল ২০২১ ৪ বৈশাখ ১৪২৮

শিরোনাম: অভিনেত্রী কবরীর মৃত্যুতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর শোক    কবরীর মৃত্যু দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি: রাষ্ট্রপতি    দেশের চলচ্চিত্রে কবরী এক উজ্জ্বল নক্ষত্র: প্রধানমন্ত্রী    ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ    সারাহ বেগম কবরী আর নেই    আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ ঠেকাতেই হবে    স্বেচ্ছাসেবক লীগের উদ্যোগে মানবতার ভ্যান চালু   
বিএনপি-জামায়েতের চেয়েও খারাপ হেফাজত
#জামায়াতে ইসলামী ও হেফাজত ইসলাম একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ: ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী। #এদের বিরুদ্ধে সুসংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে: চৌধুরী হাফিজুর রহমান। #হেফাজত ইসলামের নামে দেশে উগ্রবাদিতা ছড়াচ্ছে: আতিয়ার রসুল কিটন।
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ৭ এপ্রিল, ২০২১, ১০:১৫ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বন্ধুরাষ্ট্র ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনের প্রতিবাদের নামে দেশে সহিংস তাণ্ডব চালিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। আসলে হেফাজত মৌলবাদীদেরই আরেকটি রূপ। এরা ধর্মান্ধ মৌলবাদী শক্তি জামাতেরই একটি ভিন্ন রূপ। জামায়াতে ইসলামী ও হেফাজত ইসলাম, এরা একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। দেশব্যাপী হেফাজতের তাণ্ডবের যে আস্ফালন সেটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা ইসলামের নাম দিয়ে দেশে উগ্রবাদিতা ছড়াচ্ছে।

দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপের ৩০২তম পর্বে বুধবার (৭ এপ্রিল) আলোচক হিসেবে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন- ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার  সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী অধ্যাপক ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী, ব্যারিস্টার, লিংকনস ইন লন্ডন (পাবলিক একসেস) ১২ ওল্ড স্কয়ার চেম্বার, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা চৌধুরী হাফিজুর রহমান, ইতালি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতিয়ার রসুল কিটন। দৈনিক ভোরের পাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভোরের পাতার সিনিয়র রিপোর্টার উৎপল দাস।

অধ্যাপক ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, আমাকে আজকে অতি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অধিবেশনে আমন্ত্রণ করবার জন্য আমি ভোরের পাতাকে ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এই বাংলাদেশ রাষ্ট্রটি ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রত্যক্ষ ঘোষণার মাধ্যমে সূত্রপাত হয়েছিল এবং তারই নেতৃত্বে ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় লাভ করেছিল ১৬ ডিসেম্বর, সেই বাংলাদেশের আজ ৫০ বছর পূর্তিতেও এই উগ্র মৌলবাদীদের আস্ফালন এখনো থেমে নেই। বঙ্গবন্ধু ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রের 'চতুর্থ স্তম্ভ' ঘোষণা করে বলেছিলেন, "বাংলাদেশ ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। ধর্মনিরপেক্ষ মানে ধর্মহীনতা নয়। মুসলমান মুসলমানের ধর্মপালন করবে, হিন্দু তার ধর্ম পালন করবে, খ্রিষ্টান তার ধর্ম পালন করবে, বৌদ্ধ তার ধর্ম পালন করবে। এ মাটিতে ধর্মহীনতা নেই, ধর্মনিরপেক্ষতা আছে। এর একটা মানে আছে। এখানে ধর্মের নামে ব্যবসা চলবে না। ধর্মের নামে মানুষকে লুট করে খাওয়া চলবে না। ধর্মের নামে রাজনীতি করে রাজাকার, আলবদর হওয়া চলবে না এবং সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করতে দেয়া হবে না।" আজ তার সেই ধর্মনিরপেক্ষতার বাংলাদেশে এই উগ্রবাদী শক্তিরা ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এদের পূর্বপুরুষরা ১৯৭১ সালেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিল পাকিস্তানকে রক্ষা করার জন্য সবকিছু করতে। সেদিন তারা বা তাদের পূর্বপুরুষরা বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ করেছে, বহু লোক হত্যা করেছে, বহু নারীকে নির্যাতিত করেছে। রাজাকার, আলবদর হিসেবে কাজ করেছে ধর্ম নিরপেক্ষ বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঠেকাতে। কিন্তু বাংলার মুক্তিকামী আপামর জনতার জোয়ারে ওরা সেদিন ভেসে গিয়েছিল, তবে নিঃশেষিত হয়নি। আজও বাংলাদেশে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বন্ধুরাষ্ট্র ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনের প্রতিবাদের নামে দেশে সহিংস তাণ্ডব চালিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। আসলে হেফাজত মৌলবাদীদেরই আরেকটি ‘মিউটেশন’। এরা ধর্মান্ধ মৌলবাদী শক্তি জামাতেরই একটি ভিন্ন রূপ। জামায়াতে ইসলামী ও হেফাজত ইসলাম, এরা একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। বাংলাদেশের সিংহভাগ মানুষই বিশ্বাস করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোনো দিন মৌলবাদী উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে আপোষ করবেন না। বঙ্গবন্ধুর চিন্তা-চেতনা-আদর্শ শেখ হাসিনা ধারণ করেন। এমনি পরিস্থিতিতে উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মোকাবেলা করার পাশাপাশি সরকারের ভেতরে লুকিয়ে থাকা অপশক্তিদেরকেও খুঁজে বের করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে এদের আসল রুপের আস্ফালন না দেখাতে পারে। 

চৌধুরী হাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের গত কয়েকদিনের বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা করে দেখলাম যে, এখানে এই ধর্মান্ধ গোষ্ঠী দেশে অরাজকতার পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য খুবই ট্রাই করছে এবং সরকার খুবই সহিষ্ণুভাবে এদেরকে সামলাচ্ছে যার জন্য আমি সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কিন্তু ধৈর্যের একটা সীমা আছে, এটা তাদের মনে রাখা দরকার। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফর নিয়ে দেশব্যাপী হেফাজতের তাণ্ডবের যে আস্ফালন সেটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা বাঙালিরা খুব শান্তিপ্রিয়। তাদের আস্ফালন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে। কিন্তু দেশের মহান স্বাধীনতা দিবসকে রক্তাক্ত দিবসে পরিণত করার একটাই কারণ হতে পারে, যা হলো- দেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে তাদের লুকায়িত মনোবাঞ্ছনা। পাকিস্তানপন্থিদের পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে নতুন যারা জন্মেছে তাদের মধ্যে রয়েছে কুখ্যাত রাজাকার পুত্র মামুনুল হক, শোয়েব আহমেদ ইত্যাদি। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আমারা সকল গোত্রের লোক আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পাকিস্তানি প্রেতাত্মাদের পরাজিত করেছিলাম। আজ আবার সেই পরাজিত শক্তিরা যে আস্ফালন দেখাচ্ছে বাঙলার মাটিতে এটা কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের সহ্যের সীমার শেষের দিকে এসে পড়েছে। আমি মনে করি এই ধরণের জন্ডাল প্রকৃতির শক্তিদেরকে রুখতে হলে বাঙলার প্রতিটি ঘরে ঘরে জাতির জনকের সেই ৭ই মার্চের ভাষণের আলোকে আমাদের সংঘটিত হয়ে, শৃঙ্খলাবোধ হয়ে এই অপশক্তিকে প্রতিহত করতে হবে। এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীদের লোকদেরকে সহযোগিতা করে এদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

আতিয়ার রসুল কিটন বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে হেফাজতের নেতৃত্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ধ্বংসলীলা সংগঠিত হয়েছে। ২০১৬ সালের আগেও এখানে হেফাজত এবং স্থানীয় একটি মৌলবাদী গোষ্ঠী আন্দোলন সংগ্রামের নামে রেললাইন, রেলস্টেশন এবং কিছু স্থানে আক্রমণ করেছিল। এখন দেশে একদিকে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরকে কেন্দ্র করে ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর সন্ত্রাস। অন্যদিকে প্রাণঘাতী করোনা বাড়াচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফর নিয়ে দেশব্যাপী হেফাজতের তাণ্ডব রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা এটা করার সুযোগ ও সাহস কোথায় পেল? জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতাই বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগের পরিচয়। আর ধর্মান্ধ মৌলবাদী যে কোনো সংগঠন বা গোষ্ঠীই হলো প্রগতির বিরুদ্ধে, গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে, অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিরুদ্ধে। এরা কখনো কোনো দিন আওয়ামী লীগের বন্ধু হতে পারে না। এর আগে ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডব দেখেছি। দেশকে মুক্তিযুদ্ধের মূলনীতির আলোকে সোনার বাংলা গড়ার সকল প্রচেষ্টা মলিন করে দিতে এই হেফাজত ইসলামই যথেষ্ট। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনকে কেন্দ্র করে হেফাজতে ইসলামও ২৬ মার্চে স্বাধীনতা দিবসে ভারত বিরোধিতার নানা স্লোগান নিয়ে মাঠে নামে। চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা হাটহাজারী থানা, ভূমি অফিস আক্রমণ করে, খাগড়াছড়ি সড়কের মাঝখানের দেয়াল তুলে অবরোধ করে। সেখানে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটে। ঢাকাতেও হেফাজত, বিভিন্ন বাম ছাত্র সংগঠন এবং আরও কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী বায়তুল মোকাররম, শাপলা চত্বরসহ বেশ কটি জায়গায় সংঘাতে লিপ্ত হয়। ইসলাম শান্তির ধর্ম। এটি অতীব সত্য কথা। সব ধর্মই মানুষকে শান্তির বাণী প্রচার করতে বলে। ইসলামও তাই করে আসছে। কিন্তু যে মানুষ দৈনন্দিন নানা ধরনের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সঙ্গে জড়িত থাকে, বিভিন্ন ধরনের সংগঠন কিংবা সংস্থার মধ্যে কাজ করে তারা কতখানি তাদের ধর্মের পবিত্র বাণী ধারণ ও চর্চা করার ক্ষেত্রে মনোযোগী থাকেন। কিন্তু তারা এই ইসলামের নাম দিয়ে উগ্রবাদিতা ছড়াচ্ছে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


আরও সংবাদ   বিষয়:  ভোরের পাতা সংলাপ   বিএনপি   জামায়াতে ইসলামী   হেফাজত ইসলাম  







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  

সারাদেশ

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]