
বিএনপি স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে ১৯ দিনের কর্মসূচি পালন করছে। এরই অংশ হিসেবে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের দিন প্রথমবারের মতো আলোচনা সভার আয়োজন করতে যাচ্ছে দলটি। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতুহল। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইতিবাচক ও নেতিবাচক মন্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে।
বিএনপির এই সিদ্ধান্তকে এরই মধ্যে স্বাগত জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ঐতিহাসিক ৭ মার্চকে যারা দীর্ঘ দিন নিষিদ্ধ করে রেখেছিলো তারাই এখন দিনটি পালন করবে। বিএনপির এই প্রচেষ্টা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে ইতিবাচক আবহ তৈরি করবে।
ওবায়দুল কাদেরের এই বক্তব্যের পর বিএনপি জানিয়েছে, তারা আওয়ামী লীগের দৃষ্টিকোণ থেকে দিবসটি পালন করছে না। এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, না, আমরা আওয়ামী লীগের দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু করতে বা বলতে যাচ্ছি না। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে মাসব্যাপী কর্মসূচি আমাদের। একটি আলোচনা সভা ৭ মার্চে রাখা হয়েছে। সেখানে আমার আমাদের মতো করেই কথা বলবো।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্বাধীনতা উদ্যাপন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ও দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম বলেন, আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালন করছি। এরই ধারাবাহিকতায় ৭ মার্চ আলোচনা সভা হবে। আমরা এই দিনটির তাৎপর্য এবং গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করবো।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাদের প্রতিক্রিয়া তার চোখে পড়েছে। কিন্তু এভাবে দেখার সুযোগ নেই। আমি জানিনা বিএনপি নতুন কিছু বলবে কি-না। যা তারা ৭৭ সালের জন্মের পর থেকে বলেনি। তবে দলটি স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে আলোচনা করতেই পারে। হয়তো ৭ মার্চে হলেও সেটি শুধু সাতই মার্চে না থেকে সবকিছু নিয়েই আলোচনা হতে পারে। আর বিএনপি এখন হঠাৎ করে ৭ মার্চ নতুনভাবে পালন শুরু করলে তার কর্মীদের এর কারণও নিশ্চয় জানাবে।
সম্প্রতি এক মতবিনিময় সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, একাত্তরের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ অবশ্যই ঐতিহাসিক। আমরা কেবল ৭ মার্চই নয়, ২ মার্চ ও ৩ মার্চ পালন করছি। একাত্তরে মার্চের ২ তারিখ প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেছিলেন আ স ম আবদুর রব। এটা স্বাধীনতার ইতিহাসের অংশ। ৩ তারিখ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেছেন শাজাহান সিরাজ। এটাকে অস্বীকার করা যায় না। একইভাবে ৭ মার্চ যে ভাষণ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দিয়েছিলেন সেটাও তাৎপর্যপূর্ণ। অবশ্যই তার মর্যাদা তাকে দিতে হবে। একইসঙ্গে ২৬ মার্চ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের যে ঘোষণা জাতিকে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করেছিল এবং সমগ্র জাতি যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, এটাও ইতিহাস। সুতরাং এগুলো কোনোটাই অস্বীকার করা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, কাউকেই খাটো করার কোনো রকম ইচ্ছা আমাদের নেই এবং আমরা বিশ্বাস করি সেটা উচিতও না। বিশেষ করে স্বাধীনতার ব্যাপারে প্রকৃত সত্য সবাইকে উদ্ঘাটন করতে হবে।
প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঢাকায় তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। মুক্তিযুদ্ধের সময় ও তার পরও ভাষণটি অনেক মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে গত বছর ইউনেসকো এটিকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অমূল্য দলিল হিসেবেও স্বীকৃতি দিয়েছে। প্রতি বছর আওয়ামী লীগ ও সমমনা দলগুলো দিবসটি পালন কর আসছে। এবারই প্রথম এ দিবসে আলোচনা সভার কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি।
ভোরের পাতা-এনই