শনিবার ১৭ এপ্রিল ২০২১ ৪ বৈশাখ ১৪২৮

শিরোনাম: অভিনেত্রী কবরীর মৃত্যুতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর শোক    কবরীর মৃত্যু দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি: রাষ্ট্রপতি    দেশের চলচ্চিত্রে কবরী এক উজ্জ্বল নক্ষত্র: প্রধানমন্ত্রী    ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ    সারাহ বেগম কবরী আর নেই    আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ ঠেকাতেই হবে    স্বেচ্ছাসেবক লীগের উদ্যোগে মানবতার ভ্যান চালু   
কৃষি বিপ্লবের নেপথ্যের কারিগর গ্রামীণ নারী সমাজ
মোঃ খোরশেদ আলম
প্রকাশ: বুধবার, ৩ মার্চ, ২০২১, ১:১১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

কৃষি বিপ্লবের নেপথ্যের কারিগর গ্রামীণ নারী সমাজ

কৃষি বিপ্লবের নেপথ্যের কারিগর গ্রামীণ নারী সমাজ

চলতি মার্চ মাসের আগামী সপ্তাহের সোমবার ৮ তারিখে সারা বিশ্বব্যাপী উদযাপন করা হবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২১ (আইডব্লিউডি ২০২১)

আইডব্লিউডি ২০২১ প্রচারের থিম: একটি চ্যালেঞ্জ বিশ্ব, একটি সতর্কতা বিশ্ব। স্বতন্ত্রভাবে, আমরা সকলেই আমাদের নিজস্ব চিন্তাভাবনা এবং ক্রিয়াকলাপের জন্য দায়বদ্ধ- সারাদিন, প্রতিদিন।

লিঙ্গ পক্ষপাত এবং অসাম্যকে আমরা চ্যালেঞ্জ জানাতে এবং  গ্রহণ করতে বেছে নিতে পারি। আমরা সবাই নারীদের অর্জনগুলি সন্ধান এবং উদযাপন করতে বেছে নিতে পারি। সম্মিলিতভাবে, আমরা সবাই একটি অন্তর্ভুক্ত বিশ্ব তৈরি করতে সহায়তা করতে পারি।চ্যালেঞ্জ থেকে পরিবর্তন আসে, সুতরাং আসুন আমরা সবাই চ্যালেঞ্জ বেছে নেই।মোটাদাগে আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২১ (আইডব্লিউডি ২০২১) এর স্লোগান হচ্ছে "চ্যালেঞ্জ বেছে নেই"

বাংলাদেশের নারী সমাজ তাৎপর্যপূর্ণভাবে দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাতে অবদান রেখে যাচ্ছেন।এই দেশের  কৃষি বিপ্লবের নেপথ্যের কারিগর গ্রামীণ নারী সমাজ। বর্তমানে দেশের কৃষি খাতে  পর্দার আড়ালে ও তৈরি পোশাক শিল্প খাতের শ্রমিকদের শতকরা ৬১ ভাগ নারীর অংশ গ্রহণ পর্দার সামনে থেকে বাংলাদেশের নারী সমাজ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন ও টেকসই উন্নয়নে ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন। তাঁরা পরিবর্তনের সাহসী এজেন্ট হিসাবে নিজেদেরকে আত্মপ্রকাশ করেছে।

আমি গ্রামীণ নারীর অনেক সাফল্যের গল্প দেখেছি, এই ধরনের সফল নারীর সংখ্যা দিন কে দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।তাদের এই পরিবর্তন পরিবারেরও অনেক পরিবর্তন করে চলেছে। অধ্যবসায়, সৃজনশীলতা এবং দৃঢ় সংকল্পের সাথে নারীরা সাফল্য অর্জন করছে এবং ফলস্বরূপ, বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় নতুন করে সম্মানজনক অবস্থান অর্জন করছে, গ্রামীণ নারী সমাজ।

গ্রামীণ নারী সমাজ স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতির উন্নয়নের মেরুদণ্ড।নারীরা বিশ্বের কৃষি শ্রমিকের শতকরা ৪৩ ভাগ, আবার কোন কোন দেশে শতকরা ৭০ ভাগেরও বেশি কৃষি শ্রমিক নারী।যদিও কৃষিতে তাঁদের বড় অবদান রয়েছে, তবে বাংলাদেশের ৭৭ শতাংশ গ্রামীণ নারীর ক্ষমতায়ন থেকে দূরে। সর্বত্র নারী ও মেয়েদের প্রতি সকল প্রকার বৈষম্যের অবসান হওয়া জরুরি। যখন নারীদের ক্ষমতায়ন করা হয় এবং জমি, নেতৃত্ব এবং সুযোগ সুবিধা গুলিতে পছন্দ এবং প্রবেশাধিকার থাকে, তাঁদের অধিকার দাবি করতে পারে, ফলে অর্থনীতি বৃদ্ধি পায়, খাদ্য সুরক্ষা বর্ধিত হয় এবং বর্তমান এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য সম্ভাবনা উন্নত হয়।

বর্তমান সময়ে বিশ্বায়ন, প্রযুক্তিগত ও ডিজিটাল বিপ্লব কারণে আমাদের জন্য নতুন নতুন সুযোগ নিয়ে এসেছে।

অন্যদিকে শ্রমের ধরনের পরিবর্তন, অস্থিতিশীল  আয় ও বাজার ব্যবস্থা, নতুন আর্থিক ও বাণিজ্য নীতি ও পরিবেশগত প্রভাবগুলির মধ্যে প্রচলিত সমস্যা রয়েছে, যা নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রেক্ষাপটে সমাধান করতে হবে।

ইহা অস্বীকার করার উপায় নেই যে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের কামারখোলা গ্রামের জেসমিন আক্তারের নেতৃত্বে কৃষি জমিতে যে এক ঝাঁক পরিশ্রমী নারী শ্রমিক ইউনিট তৈরি হয়েছে, তাঁদের প্রয়োজনীয়তা ও অবদান উক্ত গ্রামের কৃষি উন্নয়নে অপরিসীম।

বৃহত্তর কুমিল্লার প্রায় প্রতিটি গ্রামে এই ধরনের গ্রামীন নারী কৃষি শ্রমিক ইউনিট দেখতে পাওয়া যায়, বাণিজ্যিক ভাবে নারী কৃষি শ্রমিক ইউনিট কৃষি জমিতে কাজ করবে আজ থেকে ১০ বছর আগে তা চিন্তা করা সম্ভব ছিলো না, ধর্মীয় ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে। গ্রামীণ নারী শ্রমিক প্রবাসী হিসেবে রেমিট্যান্স যোদ্ধার ভূমিকায় লক্ষ্য করা যায় আগের চেয়ে বেশি।

গ্রামীণ নারীর  জীবিকা টেকসই উন্নয়নের ভিত্তিতে পরিচালিত করতে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন ও হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ  বাঙ্গালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সিএসআরএল জরিপ বলছে, গত এক দশকে কৃষিক্ষেত্রে নারী শ্রমিকের সংখ্যা ৩.৭ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ৮ মিলিয়ন হয়েছে- প্রায় শতকরা ১১৬ ভাগ বেড়েছে।

বর্তমানে মোট ১০.২ মিলিয়ন নারী শ্রমিক রয়েছে এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রত্যক্ষভাবে অবদান রাখছেন। 

তাদের মধ্যে, শতকরা ৭৭ ভাগ গ্রামীণ অঞ্চলে থাকে। তাঁরা কৃষিক্ষেত্রের বিকাশ, কৃষিকাজ, পশুপালন, হাঁস-মুরগী ​​ও ফিশারি ইত্যাদি কাজের  সাথে জড়িত। ফলে তাঁরা দেশের  খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিও রয়েছে কৃষির সাথে জড়িয়ে। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, বন্যা, খরা ও ঘূর্ণিঝড় সহ আরও অনেক শক্তিশালী প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যার ফলাফল গ্রামীণ নারীদের উপর আরও বেশি প্রভাব ফেলে এবং তাদের জীবনকে কঠিন করে তোলে।বর্তমান সময়ের কিছু তরুণ সমাজ বিষয়ক সৃজনশীল চিন্তাভাবনা বিশ্লেষকদের সাথে যোগাযোগ করে একটি প্রশ্নের উত্তর খুবই সুস্পষ্ট যেমন "বাংলাদেশ এতো সমস্যা থাকা সত্ত্বেও কেন নারী শ্রমিক আগের চেয়ে বেশি লক্ষ্য করা যায় কর্মক্ষেত্রে?"

জবাবে একজন জানান "পূর্বের তুলনায় নারী ও পুরুষের ধ্যানধারণা/মানসিকতার পরিবর্তন, নারীদের আধুনিকতা ও সাহসিকতা, নারীদের কর্মের পরিবেশ আগের তুলনায় উন্নত, সমাজ কর্তৃক নারীশ্রমকে সহজভাবে দেখা ইত্যাদি। তবে সমস্যা আগের মতো নেই, আগের চেয়ে সমস্যা এখন কম, সমস্যা থাকলেও প্রতিকারের ব্যবস্থা অনেক বেশি।"

একই প্রশ্নের জবাবে আরও একজন জানান যে "বাংলাদেশে পূর্বের তুলনায় নারী ক্ষমতায়ন বেড়েছে এবং নারী শ্রম নির্ভর শিল্পের বিকাশও বড় একটি কারণ বলেই নারী শ্রমিক আগের চেয়ে বেশি কর্মক্ষেত্রে  অংশ গ্রহণ করছে।"

পরিশেষে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে এমন নারীদের প্রতি সর্বাত্মক শ্রদ্ধার সাথে আমি বলব যে, এখন নারী শ্রমিকদের যথাযথ স্বীকৃতি প্রদান এবং তাদেরকে যুক্তিসঙ্গত বেতনের ব্যবস্থা করা সময়ের দাবি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নারী উদ্যোগীদের তাদের উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করা উচিত।

লেখক: মোঃ খোরশেদ আলম, গবেষক ও সাবেক ছাত্র, অর্থনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

ভোরের পাতা/ই

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  

সারাদেশ

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]