শনিবার ১৭ এপ্রিল ২০২১ ৩ বৈশাখ ১৪২৮

শিরোনাম: কবরীর মৃত্যু দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি: রাষ্ট্রপতি    দেশের চলচ্চিত্রে কবরী এক উজ্জ্বল নক্ষত্র: প্রধানমন্ত্রী    ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ    সারাহ বেগম কবরী আর নেই    আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ ঠেকাতেই হবে    স্বেচ্ছাসেবক লীগের উদ্যোগে মানবতার ভ্যান চালু    মামুনুল-বাবুনগরীসহ হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার দাবি   
মশায় নাকাল মহানগর
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ৩ মার্চ, ২০২১, ১:৪৪ এএম | অনলাইন সংস্করণ

ঢাকা মহানগরীর বাসিন্দারা ফের মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। শীত শেষে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে গেছে মশার তাণ্ডব।কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না বংশ বিস্তার। শত কোটি টাকা বরাদ্দেও মিলছে না সুফল।গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী তথ্য বলছে, গত বছরের এই সময়ের তুলনায় বর্তমানে ঢাকায় মশার পরিমাণ বেড়েছে চার গুণ।  কেবল ঢাকাতেই নয়, দেশের অন্য মহানগরগুলোও ছেঁয়ে গেছে মশায়।

মশার ঘনত্ব নিয়ে ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে কাজ করছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার। রাজধানীতে মশার উপদ্রব যে গত বছরের এই সময়ের চেয়ে অনেক বেশি, তার জরিপেও তা উঠে এসেছে।

মশাকে সঙ্গী করেই নগরীতে সন্ধা নামে। পথ ঘাট বাসা বাড়ি সবখানেই বাড়ে মশার অবাধ আনাগোনা। এর নির্বিচার কামড় টাকার জোর, বয়স-পেশা কোনো কিছুরই ধার ধারে না। সারা দেশেই এখন মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ মানুষ। গ্রামে-গঞ্জে, শহরে-বন্দরে সবার মুখেই এখন যন্ত্রণার নাম মশা। রাত নেই দিন নেই ২৪ ঘণ্টাই মশার উৎপাত। মশার যন্ত্রণায় অনেকেরই কাটছে নির্ঘুম রাত।

রাজধানীসহ সারা দেশে এই মহূর্তে যে মশা অতিষ্ঠ করে তুলেছে, তা কিউলেক্স প্রজাতির। এই মশা কামড়ালে ডেঙ্গুর মত রোগ হওয়ার ভয় নেই। কিন্তু ঝাঁকে ঝাঁকে আসা এ মশার কামড় সহ্য করাই মুশকিল। সাধারণত নোংরা, পচা পানিতে বংশবিস্তার করে কিউলেক্স। 
এই মশার সংখ্যা এতোটাই বেড়েছে যে সিটি করপোরেশনের কোটি টাকার প্রকল্পও খাবি খাচ্ছে সামাল দিতে। বছরে বছরে মশা মারতে বাড়ছে বাজেট, দফায় দফায় পাল্টানো হচ্ছে ওষুধ। টেন্ডারও হচ্ছে ওষুধ আমদানিতে। কিন্তু বাস্তবে মরছে না মশা। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন মাঝেমধ্যেই গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে মশা মারতে মহড়া দেয়। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। মশা মারতে নেই প্রযুক্তিনির্ভর কোনো কার্যক্রম।

নগরবাসীর অভিযোগ, নাগরিক সেবা নিয়ে সিটি করপোরেশনের নজর নেই। মেয়র ও নগর ভবনের কর্মকর্তারা আন্তরিক হলে মশক পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছত না। ছয় মাস সঠিকভাবে মশার ওষুধ ছিটালে হয়তো নিয়ন্ত্রণে আনা যেত। কিন্তু কাজ না করে তারা অপেক্ষা করছেন প্রকৃতির। কখন ঝড়-বৃষ্টি হবে আর মশার লার্ভা প্রবহমান পানিতে ধুয়ে যাবে।

মশা নিধনে জরুরি এখন দুই সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ। প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকা অপচয় না করে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। প্রয়োজনে টাস্কফোর্স গঠন করে চালাতে হবে নিয়মিত অভিযান। একই সঙ্গে ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান সবাইকে হতে হবে সচেতন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মশা মারার ওষুধ ছিটানো ছাড়া আরও কিছু সুনির্দিষ্ট কার্যক্রমের উপর জোর দিতে। নর্দমা ও ডোবা পরিষ্কার এবং মশা নিয়ন্ত্রণের পুরো দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই তাদের নর্দমা ও ডোবার পানি চলমান করে দিতে হবে। একই সঙ্গে সেখানে লার্ভিসাইড, অ্যাডাল্টিসাইট কিংবা গাপ্পি মাছ ছাড়তে হবে। আর নগর কর্মকর্তারা বলছেন, মশা নিয়ন্ত্রণে শিগগিরই সাঁড়াশি অভিযানে নামবেন তারা।

মশা নিয়ন্ত্রণে সিটি কর্পোরেশন কি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল জোবায়দুর রহমান বলেন, শীতের শেষে তাপমাত্রা বাড়ায় প্রকৃতিতে যে মশার ডিম থাকে সেগুলো একযোগে ফুটে যায়। ফলে ফেব্রুয়ারি ও মার্চে মশার ঘনত্ব বেড়ে যায়। আমাদের একটি বিশেষ টিম ৮ মার্চ থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত প্রতিটি এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালাবে। এছাড়া আমাদের নিয়মিত সব কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

মশক নিধনে ২০২০-২১ অর্থবছরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বাজেট রাখা হয়েছে ৭৭ কোটি টাকা। অন্যদিকে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের জন্য ২০২০-২১ অর্থবছরে ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। সব মিলিয়ে দুই সিটি করপোরেশন মশা নিধনে চলতি অর্থবছর ১১২ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে । বরাদ্দ হিসেবে টাকাটা মোটা অংকের। কিন্তু প্রশ্ন ওঠেছে, এই মোটা অংকের কতটুকু মশা  নিধনে ব্যায় করা হয়? কার্যত এ বছর দুই সিটি কর্পোরেশনের কোথাও মশা দমনের তেমন কোনো কার্যক্রমই চোখে পড়েনি নগরবাসীর।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


আরও সংবাদ   বিষয়:   মশার উপদ্রব. মশা   মশার কামড়   মশার তাণ্ডব  







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  

সারাদেশ

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]