শনিবার ১৭ এপ্রিল ২০২১ ৪ বৈশাখ ১৪২৮

শিরোনাম: অভিনেত্রী কবরীর মৃত্যুতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর শোক    কবরীর মৃত্যু দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি: রাষ্ট্রপতি    দেশের চলচ্চিত্রে কবরী এক উজ্জ্বল নক্ষত্র: প্রধানমন্ত্রী    ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ    সারাহ বেগম কবরী আর নেই    আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ ঠেকাতেই হবে    স্বেচ্ছাসেবক লীগের উদ্যোগে মানবতার ভ্যান চালু   
বঙ্গবন্ধু সবসময় ত্যাগের আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন: মেজর জেনারেল (অব.) এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২ মার্চ, ২০২১, ১০:১৩ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

বঙ্গবন্ধু সবসময় ত্যাগের আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন: মেজর জেনারেল (অব.) এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার

বঙ্গবন্ধু সবসময় ত্যাগের আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন: মেজর জেনারেল (অব.) এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার

আজকে মার্চ মাসের একটি ঐতিহাসিক দিন। আজ ২ মার্চ, জাতীয় পতাকা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে বটতলায় বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত প্রথম জাতীয় পতাকা প্রথমবারের মতো উত্তোলন করা হয়। সে পতাকা আর কখনোই নামেনি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ মর্যাদাশীল জাতিতে রূপান্তরিত হয়েছে। এইখান থেকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মহান গুরুদায়িত্ব বর্তায় আগামী প্রজন্মের উপর। তরুণ প্রজন্মকে সেই আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে এগিয়ে যেতে হবে তাহলেই আমরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের যে কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য ছিল সেটা সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করতে পারব।

দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপের ২৬৬তম পর্বে মঙ্গলবার (০২ মার্চ) আলোচক হিসাবে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন পিএসসি, নিরাপত্তা বিশ্লেষক, গবেষক ও লেখক মেজর জেনারেল (অব.) এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার, জার্মান আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক লীগের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ আহমেদ সেলিম,  বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর সাধারণ সম্পাদক, ডাকসু'র সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। দৈনিক ভোরের পাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাবেক তথ্য সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ।

মেজর জেনারেল (অব.) এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার বলেন, মার্চ মাস আমাদের স্বাধীনতার মাস, এবং এই স্বাধীনতার স্থপতি আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ২০২১ সাল আমাদের কাছে বহুদিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। আর এই সালের মার্চ মাসটা আমাদের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণভাবে দেখা দিয়েছে আমাদের সামনে। ১৯৭১ সালের পহেলা মার্চ পাকিস্তানিদের বিশ্বাসঘাতক চেহারা আবারও উন্মোচিত হয় বাংলার মানুষের সামনে। এর প্রতিবাদে ছাত্রনেতারাও তার জবাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক জনসভা আহ্বান করা হয় ২ মার্চ। ২ মার্চ সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রজনতার সমাবেশে ছাত্রলীগের পক্ষ স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করা হয়। তারপর থেকেই আমরা যেটা বলি "উত্তাল মার্চ", "অগ্নিঝরা মার্চ" এর যাত্রা শুরু হয়েছিল। ১৯৭১ সালের ১ মার্চ পাকিস্তানের সামরিক জান্তা ইয়াহিয়া খান হঠাৎ করেই সংসদ অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেন। এরপর থেকেই সারা বাংলার মানুষ গর্জে উঠেছিল এবং ২ তারিখ থেকেই তখন পূর্ব পাকিস্তান পাকিস্তানের অংশ ছিল, সামরিক বাহিনী ছিল, সামরিক বাহিনী ঢাকায় উপস্থিত ছিল কিন্তু কার্যত ২ তারিখ থেকেই সারা বাংলাদেশ তখন অঘোষিত শাসক বলেন, রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেন, নীতি নির্ধারক বলেন; বঙ্গবন্ধু তখন এইসব রুপে আবির্ভূত হয়েছিলেন। এবং তার আদেশেই কিন্তু তখনকার পূর্ব পাকিস্তানের অফিস-আদালত থেকে শুরু করে সবকিছু পরিচালিত হচ্ছিলো। পাকিস্তানি জান্তাদের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে যে দ্রোহের আগুনে বাঙালি জাতি সেদিন জেগে উঠেছিল তার কেন্দ্র ভূমির নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। তাঁর নির্দেশ ছিল আদেশের মতো, আপামর জনগোষ্ঠী তা নির্দ্বিধায় মেনে নিয়েছিল; বিশ্ববাসীর সামনে তাঁর প্রতি বাঙালির স্বতঃস্ফূর্ত আস্থা ছিল বিস্ময়কর। কারণ তারা স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক হতে তখন দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ। আর ঘটনার বিচিত্র আবর্তে ষড়যন্ত্রকারীদের কাছে বঙ্গবন্ধু ছিলেন আপসহীন নেতা। কারণ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও রাজনীতির দর্শন ছিল মানবপ্রেম। ২ তারিখ থেকে ৬ তারিখ পর্যন্ত প্রতিদিন অর্ধদিবস হরতাল পালন করা হতো তারপর ৭ তারিখে তিনি ঐতিহাসিক ভাষণ দিলেন। ৭ই মার্চের সেই ঐতিহাসিক ভাষণে উচ্চারিত- ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ ছিল তাঁর অসামান্য নেতৃত্বের উত্থান-পর্বের শেষ শীর্ষবিন্দু। এই ভাষণেই তিনি সমস্ত বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধভাবে সশস্ত্র লড়াইয়ে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু সবসময় ত্যাগের আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন, সুতরাং আমাদের তরুণ প্রজন্মকে সেই আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে এগিয়ে যেতে হবে তাহলেই আমরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের যে কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য ছিল সেটা সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করতে পারবো।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


আরও সংবাদ   বিষয়:  ভোরের পাতা সংলাপ   মেজর জেনারেল (অব.) এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার  







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  

সারাদেশ

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]