রোববার ১৮ এপ্রিল ২০২১ ৫ বৈশাখ ১৪২৮

শিরোনাম: চিত্রনায়ক ওয়াসিম আর নেই    মুজিবনগর সরকার দেশ ও জাতির সৃষ্টির সরকার    আ.লীগ সরকার ইলিয়াস আলীকে গুম করেনি : মির্জা আব্বাস    কাদের মির্জাকে প্রতিহতের ঘোষণা আ.লীগের    হেফাজতের ঢাকা মহানগর সভাপতি হাবীব গ্রেফতার    নিষিদ্ধ হতে পারেন ধোনি!    সৌদির ফ্লাইট রোববার থেকে শুরু   
অগ্নিঝরা মার্চ সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে
#বঙ্গবন্ধু সবসময় ত্যাগের আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন: মেজর জেনারেল (অব.) এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার। #শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ মর্যাদাশীল জাতিতে রূপান্তরিত হয়েছে: সৈয়দ আহমেদ সেলিম। #আমাদের তরুণ প্রজন্মই বাংলাদেশের আগামী ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে: সাদ্দাম হোসেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২ মার্চ, ২০২১, ১০:১৩ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

অগ্নিঝরা মার্চ সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে

অগ্নিঝরা মার্চ সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে

আজকে মার্চ মাসের একটি ঐতিহাসিক দিন। আজ ২ মার্চ, জাতীয় পতাকা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে বটতলায় বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত প্রথম জাতীয় পতাকা প্রথমবারের মতো উত্তোলন করা হয়। সে পতাকা আর কখনোই নামেনি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ মর্যাদাশীল জাতিতে রূপান্তরিত হয়েছে। এইখান থেকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মহান গুরুদায়িত্ব বর্তায় আগামী প্রজন্মের উপর। তরুণ প্রজন্মকে সেই আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে এগিয়ে যেতে হবে তাহলেই আমরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের যে কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য ছিল সেটা সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করতে পারব।

দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপের ২৬৬তম পর্বে মঙ্গলবার (০২ মার্চ) আলোচক হিসাবে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন পিএসসি, নিরাপত্তা বিশ্লেষক, গবেষক ও লেখক মেজর জেনারেল (অব.) এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার, জার্মান আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক লীগের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ আহমেদ সেলিম,  বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর সাধারণ সম্পাদক, ডাকসু'র সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন। দৈনিক ভোরের পাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাবেক তথ্য সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ।

মেজর জেনারেল (অব.) এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার বলেন, মার্চ মাস আমাদের স্বাধীনতার মাস, এবং এই স্বাধীনতার স্থপতি আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ২০২১ সাল আমাদের কাছে বহুদিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ। আর এই সালের মার্চ মাসটা আমাদের কাছে আরও গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণভাবে দেখা দিয়েছে আমাদের সামনে। ১৯৭১ সালের পহেলা মার্চ পাকিস্তানিদের বিশ্বাসঘাতক চেহারা আবারও উন্মোচিত হয় বাংলার মানুষের সামনে। এর প্রতিবাদে ছাত্রনেতারাও তার জবাব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক জনসভা আহ্বান করা হয় ২ মার্চ। ২ মার্চ সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ছাত্রজনতার সমাবেশে ছাত্রলীগের পক্ষ স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করা হয়। তারপর থেকেই আমরা যেটা বলি "উত্তাল মার্চ", "অগ্নিঝরা মার্চ" এর যাত্রা শুরু হয়েছিল। ১৯৭১ সালের ১ মার্চ পাকিস্তানের সামরিক জান্তা ইয়াহিয়া খান হঠাৎ করেই সংসদ অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেন। এরপর থেকেই সারা বাংলার মানুষ গর্জে উঠেছিল এবং ২ তারিখ থেকেই তখন পূর্ব পাকিস্তান পাকিস্তানের অংশ ছিল, সামরিক বাহিনী ছিল, সামরিক বাহিনী ঢাকায় উপস্থিত ছিল কিন্তু কার্যত ২ তারিখ থেকেই সারা বাংলাদেশ তখন অঘোষিত শাসক বলেন, রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেন, নীতি নির্ধারক বলেন; বঙ্গবন্ধু তখন এইসব রুপে আবির্ভূত হয়েছিলেন। এবং তার আদেশেই কিন্তু তখনকার পূর্ব পাকিস্তানের অফিস-আদালত থেকে শুরু করে সবকিছু পরিচালিত হচ্ছিলো। পাকিস্তানি জান্তাদের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে যে দ্রোহের আগুনে বাঙালি জাতি সেদিন জেগে উঠেছিল তার কেন্দ্র ভূমির নেতৃত্বে ছিলেন তিনি। তাঁর নির্দেশ ছিল আদেশের মতো, আপামর জনগোষ্ঠী তা নির্দ্বিধায় মেনে নিয়েছিল; বিশ্ববাসীর সামনে তাঁর প্রতি বাঙালির স্বতঃস্ফূর্ত আস্থা ছিল বিস্ময়কর। কারণ তারা স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক হতে তখন দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ। আর ঘটনার বিচিত্র আবর্তে ষড়যন্ত্রকারীদের কাছে বঙ্গবন্ধু ছিলেন আপসহীন নেতা। কারণ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও রাজনীতির দর্শন ছিল মানবপ্রেম। ২ তারিখ থেকে ৬ তারিখ পর্যন্ত প্রতিদিন অর্ধদিবস হরতাল পালন করা হতো তারপর ৭ তারিখে তিনি ঐতিহাসিক ভাষণ দিলেন। ৭ই মার্চের সেই ঐতিহাসিক ভাষণে উচ্চারিত- ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ ছিল তাঁর অসামান্য নেতৃত্বের উত্থান-পর্বের শেষ শীর্ষবিন্দু। এই ভাষণেই তিনি সমস্ত বাঙালি জাতিকে ঐক্যবদ্ধভাবে সশস্ত্র লড়াইয়ে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু সবসময় ত্যাগের আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন, সুতরাং আমাদের তরুণ প্রজন্মকে সেই আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে এগিয়ে যেতে হবে তাহলেই আমরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের যে কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য ছিল সেটা সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন করতে পারবো।

সৈয়দ আহমেদ সেলিম বলেন, কৃষ্ণচূড়া এবং পলাশের আগুন লাল ফাগুনের এবং চৈত্রের ভরা রৌদ্রে মার্চ মাস বাঙালির হৃদয়ে এমনেই অনেক আগুন ছিটিয়ে দিয়েছে বিগত দিনে, মূলত ১৯৪৮ সনে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে তৎকালীন পাকিস্তান গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এক জনসভায় দেয়া ভাষণে ঘোষণা করেন, ''উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা, অন্য কোনো ভাষা নয়।'' এরপরে ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে গিয়েও তিনি একই ধরনের বক্তব্য রাখেন। তিনি যে অবজ্ঞা  প্রদর্শন করেছিল তার সশস্ত্র হামলা হয়েছিল ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারিতে। আজ ২ মার্চ জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস। পাকিস্তান উপনিবেশিক রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত প্রথম জাতীয় পতাকা প্রথমবারের মতো উত্তোলন করা হয়। সেখানে জনসমুদ্রের মধ্যে লাল, সবুজ, সোনালি-তিন রঙের পতাকাটি সেই যে বাংলার আকাশে উড়লো, তা আর কখনোই নামাতে পারেনি পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও সরকার। এদিনের ঢাকা ছিল হরতাল, মিছিল আর কারফিউর নগরী। বঙ্গবন্ধু ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা থেকে শুরু করে ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্টের পূর্বদিন পর্যন্ত দেশের গণমানুষের উন্নয়নের কথা বলেছেন। স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের পক্ষে ছিল তাঁর রাষ্ট্রনীতি। তিনি সবসময় শোষিতের মুক্তি কামনা করেছেন। আজীবন সংগ্রামে যেমন তিনি অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি; তেমনি স্বাধীন দেশের সমাজকে সকল অপশক্তির কবল থেকে মুক্ত করার জন্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছিল তাঁর বলিষ্ঠ ভূমিকা। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের ২১- ফা এবং ১৯৬৬ সালে আওয়ামী লীগের ৬ দফা কর্মসূচিতেও শোষণের বিরুদ্ধে অবস্থান ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় পথ পাড়ি দিয়ে স্বাধীনতা অর্জনের পঞ্চাশ বছর পরে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পদার্পণ করার তালিকায় সকল শর্ত পূর্ণ করে জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশ এই স্বীকৃতি পেল যখন আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী পালন করছি এবং পালন করছি বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। এই অতিমারির সময়েও দেশবাসীর মনটা ভালো হয়ে গেল এই আকাঙ্ক্ষিত অর্জনে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে মর্যাদাশীল জাতিতে রূপান্তরিত হয়েছে। এইখান থেকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মহান গুরুদায়িত্ব বর্তায় আগামী প্রজন্মের উপর। 

সাদ্দাম হোসেন বলেন, আজকে মার্চ মাসের একটি ঐতিহাসিক দিন। আজ ২ মার্চ, জাতীয় পতাকা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে বটতলায় বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত প্রথম জাতীয় পতাকা প্রথমবারের মতো উত্তোলন করা হয়। সে পতাকা আর কখনোই নামেনি। আজকে ভোরের পাতা সংলাপে নিমন্ত্রিত অতিথিদের কাছ থেকে অনেক কিছুই জানতে পেরেছি। মুক্তিযুদ্ধের যে অঙ্গীকার তাদের তরুণ প্রাণকে শানিত করেছিল সেইগুলোর কথা তারা আজ আমাদেরকে বলেছেন। আমাদের তরুণ প্রজন্মই বাংলাদেশের আগামী ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত শহীদদের রক্তের প্রতি আমাদের যে দায়বদ্ধতা রয়েছে সেগুলো তারা আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। আজকের এই স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে দাড়িয়ে সেই সুবর্ণ অতীতকে স্মরণ করে আমরা যেন ভবিষ্যতের হীরক রেখা নির্মাণ করতে পারি সেই প্রতিজ্ঞা যেন আমাদের সব সময় থাকে। ২৬ ফেব্রুয়ারি (২০২১) বাংলাদেশের ইতিহাসে জাতিসংঘ কর্তৃক গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জিত হয়েছে। ওই দিন স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েছে বাংলাদেশ। এই সাফল্যের জন্য আজ আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আজ আমরা আনন্দ মিছিল করেছি এবং গোটা বাংলাদেশে এই কর্মসূচী পালিত হয়েছে।  মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ, জলবায়ু ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা—এই তিনটি সূচক দিয়ে আমাদের যে অর্জনটি হয়েছে এটিকে আমাদের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা যথার্থভাবেই এই অর্জনকে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে উৎসর্গ করেছেন। ২০৩১ সালে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জন করবে এবং ২০৪১ সালে অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ উন্নত দেশ হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ জিডিপি হিসেবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তৃতীয় স্থান অধিকারের মর্যাদা পেয়েছে। উচ্চহারের জিডিপি অর্জনে বাংলাদেশ এশিয়ায় এবং বিশ্বের অনেক দেশকেই ইতোমধ্যে ছাড়িয়ে গেছে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


আরও সংবাদ   বিষয়:  ভোরের পাতা সংলাপ     







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  

সারাদেশ

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]