শনিবার ১৭ এপ্রিল ২০২১ ৪ বৈশাখ ১৪২৮

শিরোনাম: অভিনেত্রী কবরীর মৃত্যুতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর শোক    কবরীর মৃত্যু দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি: রাষ্ট্রপতি    দেশের চলচ্চিত্রে কবরী এক উজ্জ্বল নক্ষত্র: প্রধানমন্ত্রী    ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ    সারাহ বেগম কবরী আর নেই    আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ ঠেকাতেই হবে    স্বেচ্ছাসেবক লীগের উদ্যোগে মানবতার ভ্যান চালু   
উপেক্ষিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
গণপূর্তের গাফিলতিতে মলিন রমনাপার্ক, নেই ঐতিহ্য আর সংস্কৃতির ফলক
মোশারফ হোসাইন
প্রকাশ: রোববার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ৯:০৬ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত রমনা পার্ক, বাংলা নববর্ষ ও বৈশাখের প্রথম দিনের বর্ষবরণে যেখানে সুর ওঠে এসো হে বৈশাখ এসো এসো, রমানার বটমূলে কথা হবে প্রাণ খুলে গানের মতো শ্রোতাপ্রিয় গান, ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি যেখানে বিদ্যমান সেই রমনা পার্কের অবকাঠামো উন্নয়ন ও সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য ২০১৮ সালে ৪৮ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী গত বছরের ডিসেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কাজের ধীরগতির কারণে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পটি শেষ হয়নি। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের গাফিলতির কারণে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটিও। 

সরেজমিনে রমনা পার্ক ঘুরে দেখা গেছে, অবকাঠামো উন্নয়ন ও সৌন্দর্য বর্ধন প্রকল্পে পার্কের চারপাশের বেশ কিছু টয়লেট নির্মাণ ও মানোন্নয়নের কাজ করা হচ্ছে। এছাড়া লেকেরে পার ঘেঁষে সিরামিক ইটের রাস্তা তৈরি ও কাঠের বেঞ্চ নির্মাণ করা হবে এই প্রকল্পের আওতায়। এর পাশাপাশি লেক খনন, শিশু কর্নার আধুনিকায়ন, উদ্যানের চারপাশে এবং ভেতরে প্রায় দুই হাজার লাইট স্থাপন, পার্কের ভেতরের সড়কগুলো সিরামিক ইট দিয়ে সংস্কার, মৎস্য ভবনের গেইট দিয়ে ঢুকে শেরাটনের পেছনের গেইট পর্যন্ত সড়কটি পিচ দিয়ে সংস্কার করা হবে। প্রকল্পের আওতায় পার্কের ভেতরে দর্শনার্থীদের বসার জন্য বেঞ্চগুলো নতুন করে করা, শেরাটন হোটেলের পেছনে উদ্যানের নার্সারিটি নতুন করে সাজসজ্জা, ময়লা ফেলার জন্য উদ্যানের ভেতরের রাস্তার পাশে ডাস্টবিনগুলো নতুন করে স্থাপন করা ও রমনার এক পাশে করা হবে শরীরচর্চা কেন্দ্র। 

তবে, রমনার সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করায় হারিয়ে গেছে পার্কের আগের সৌন্দর্য মতামত দর্শনার্থীদের, ছুটির দিনে বাড়ে দর্শনার্থীদের ভিড়। কথা হয় পার্কে ঘুরতে আসা এক নব দম্পত্যির সাথে, তারা বলেন রমনার বিশালতা অনেক; এখানে ঘুরতে এসে যে প্রশান্তি অনুভব করতে পেরেছি ঢাকায় আর কোথাও পাওয়া যাবে কিনা জানিনা। ছুটির দিনে রমনায় প্রাশান্তি অনুভব করতে কেউ পরিবার নিয়ে আসেন, কেউ কাজের ক্লান্তিকে দূর করতে আসেন পার্কের ঝাউনিতে বসে সময় কাটাতে। পার্কে সব বয়সী মানুষের ভিড় আর শিশুদের উচ্ছ্বাসে প্রাণবন্তর হয় রমনা পার্ক। তবে দর্শনার্থীদের আছে অভিযোগও। পার্কে নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, কোন অঘটন ঘটলে বা অশৃঙ্খলতা তৈরি হলে এর দায়ভার কার? অভিযোগ ঘুরতে আসা এক দশর্নার্থীর। কাইফ আহমেদ ধ্রুব প্রকৃতির শান্ত পরিবেশের টানে প্রায়ই আসেন রমনায় ঘুরতে ৮ম শ্রেণী পড়–য়া শিক্ষার্থীর অভিযোগ তিনি প্রেমিক প্রেমিকাদের পার্কে দেখে বিব্রতবোধ করেন, তিনি বলেন তার মতো অভিভাবক ও শিশুরাও বিব্রতবোধ করতে পারেন; তাই কর্তৃপক্ষের বিশেষ দৃষ্টি কামনা করেছেন তিনি। ধ্রুব বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ আমার প্রিয় জায়গাটিকে আরও দৃষ্টিনন্দন করার কাজ করছেন, আশাকরি সৌন্দর্য বর্ধণের কাজ দ্রুত শেষ হবে। 

জানা যায়, স্বাধীনতার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম রমনা পার্কের অবকাঠামো উন্নয়নের কার্যক্রম শুরু করেন। ১৯৭৫ সালের পরের সরকারগুলো উদ্যানটির অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য তেমন কোনো দৃশ্যমান কার্যক্রম হাতে নেয়নি। এরশাদ এর আমলে শুধু লেকের খনন কাজ করা হয়। এবারই প্রথম উদ্যানের পুরাতন স্থাপনা ভেঙে সার্বিক অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ করা হচ্ছে।                                                                        

১৬১০ সালে মোঘল আমলে প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেই সময়ে রমনার পরিসীমা ছিল বিশাল এলাকা জুড়ে। মোঘলরাই রমনার নামকরণ করেন। পুরানো হাইকোর্ট ভবন থেকে পূর্বের সড়ক ভবন পর্যন্ত মোঘলরা বাগান তৈরী করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে কোম্পানী আমলে এ এলাকা জঙ্গলে পরিণত হয়। পরবর্তিতে ১৮২৫ সাল থেকে ব্রিটিশ কালেক্টর ডাউইজের সময় ঢাকা নগর উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় যার অন্যতম ছিল রমনা এলাকার উন্নয়ন।  তখন পার্কের আয়তন ছিল প্রায় ৮৯ একর। সেময় সময় ঢাকার নবাবরা এখানে একটি চিড়িয়াখানাও গড়ে তোলেন। ১৯ শতকে ব্রিটিশ শাসক এবং ঢাকার নবাবদের সহাযোগিতায় এটির উন্নয়ন সাধন করা হয়। ঢাকা শহরের নিসর্গ পরিকল্পনার কাজ শুরু হয়েছিল ১৯০৮ সালে লন্ডনের কিউই গার্ডেনের অন্যতম কর্মী আর. এল প্রাউডলকের তত্ত্ববধায়নে। শহরের সেই নিসর্গ পরিকল্পনার ফল ছিল রমনা পার্কের উন্নয়ন। ২০ বছর লেগেছিল সে কাজ শেষ হতে আর সেটা ১৯২৮ সালে  শেষ হয়। ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের পরও রমনা ঢাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবেই থেকে যায়। বর্তমানে রমনা পার্কে প্রতি বছর পহেলা বৈশাখে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান হয়। পার্কে নেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি ফলক এবং বাংলা নববর্ষ ও রমনার ইতিহাস ঐতিহ্য সংস্কৃতির স্মৃতিস্তম্ভ।

পুরোদমে চলছে রমনা পার্কের অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুধু নেই ইতিহাস ঐতিহ্য সংস্কৃতিকে তুলে ধরার কোন উদ্যোগ। এ ব্যপারে গণপূর্ত অধিদপ্তরের বেশ কয়েকজন প্রকৌশলীর সাথে মুঠোফোনে কথার বলার চেষ্টা করা হয় বেশ কয়েকবার, তাদের ফোনে ক্ষুদে বার্তা দিয়েও কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


আরও সংবাদ   বিষয়:  রমনাপার্ক   মলিন রমনাপার্ক     







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  

সারাদেশ

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]