শনিবার ১৭ এপ্রিল ২০২১ ৩ বৈশাখ ১৪২৮

শিরোনাম: কবরীর মৃত্যু দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি: রাষ্ট্রপতি    দেশের চলচ্চিত্রে কবরী এক উজ্জ্বল নক্ষত্র: প্রধানমন্ত্রী    ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ    সারাহ বেগম কবরী আর নেই    আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ ঠেকাতেই হবে    স্বেচ্ছাসেবক লীগের উদ্যোগে মানবতার ভ্যান চালু    মামুনুল-বাবুনগরীসহ হেফাজতের শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার দাবি   
কিউলেক্স মারতে নতুন কীটনাশক আসছে
কিউলেক্স মশার উপদ্রব নিরসনে ডিএসসিসির উদ্যোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১২:০০ এএম আপডেট: ২৭.০২.২০২১ ১:৩৯ এএম | প্রিন্ট সংস্করণ

কিউলেক্স মারতে নতুন কীটনাশক আসছে

কিউলেক্স মারতে নতুন কীটনাশক আসছে

রাজধানীর সড়ক, নর্দমা, জলাশয়, স্থাপনাসহ ঘিঞ্জি এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবে বেড়ে চলেছে মশার প্রকোপ। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) গত বৃহস্পতিবার ৬ হাজার ২২৩টি সড়ক, নর্দমা, জলাশয়, স্থাপনা পরিদর্শন করে ১৬টিতে মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। এদিকে দক্ষিণের অবস্থাও ভয়াবহ। ডেঙ্গুর প্রকোপের সময় যে কীটনাশকে মশা নিয়ন্ত্রণে এসেছিল ওই কীটনাশকে কিউলেক্স মশা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না।

তাই গত বৃহস্পতিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) দ্বিতীয় পরিষদের ষষ্ঠ বোর্ড সভায় কীটনাশক পরিবর্তনের কথা বলেছেন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।

তিনি বলেছেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন কীটনাশক চলে আসবে। সেটা ব্যবহার করা হবে কিউলেক্স মশার জন্য।

তাপস বলেছেন, কিউলেক্স মশার উপদ্রব বাড়ার যে অভিযোগ আসছে, নতুন কীটনাশকের মাধ্যমে সেটা নিরসন করা সম্ভব। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়ে যথাযথ পরিষ্কার তথা নিষ্কাশন ব্যবস্থা গ্রহণ না করার ফলে এখন তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। ফলে কীটনাশকে এই মশক সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এ জন্যে ওয়ার্ডে-ওয়ার্ডে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালিয়ে-সড়ক, নর্দমা, জলাশয়, স্থাপনা, ঘিঞ্জি এলাকাগুলো পরিষ্কার করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীত মৌসুমে কিউলেক্স মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। ঢাকা শহরে ছোট ছোট বদ্ধ জলাশয়, ড্রেন এবং অগণিত ঘিঞ্জি এলাকা বিদ্যমান; যা কিউলেক্স মশার বিরাট চারণভূমি। তার ওপর পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে তা হয়ে উঠে কিউলেক্স কিংবা ডেঙ্গুর মতো ক্ষতিকর মশাদের স্বর্গরাজ্য। এজন্য সে সকল জায়গা থেকে মশা বৃদ্ধি পেয়ে বিস্তার লাভ করে এবং প্রজনন ছড়ায়। এই প্রজননের হার ঠেকাতে না পারলে একটা সময় তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তখন তা আর কীটনাশকেও কাজ করে না। রাজধানীর অবস্থাটা ঠিক এমনই হয়েছে। মেয়র তাপস ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে কীটনাশক ছিটানোর পরেও মশা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে যে কীটনাশক ব্যবহার করে সুফল পেয়েছিলেন। সে কীটনাশকে কিউলেক্স মশা মরছে না। যার মানে দাঁড়ায় এই কীটনাশক মশার শরীরের কাছে স্বাভাবিক হয়ে গেছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ও মশা গবেষক ড. কবিরুল বাশার গণমাধ্যমকে জানান, কয়েক মাস আগেই তারা এমন পরিস্থিতির কথা ধারণা করেছিলেন। সে সময় ঠিকমতো কীটনাশক ছিটানো হয়নি ফলে মশার পরিস্থিতি এমন একটা অনিয়ন্ত্রিত জায়গায় পৌঁছে গেছে।

ড. কবিরুল বাশার জানান, মশার উপদ্রব যে অবস্থায় দাঁড়িয়েছে তাতে আসলে আর কিছুই করার নেই। এখন যদি প্রকৃতি নিয়ন্ত্রণে নেয়; ঝড়-বৃষ্টি হয় তাহলে হয়ত নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করেন তিনি। আর যদি ক্রাশ প্রোগ্রাম নেওয়া হয় প্রতিটি ওয়ার্ডে সেটা একটা ভালো ফল হবে বলে আশা করেন এই মশা গবেষক। বিশেষ করে ডোবা-নালা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হলে বা ড্রেনগুলো পরিষ্কার করে পানির স্রোত স্বাভাবিক করে দেওয়া হলে এবং লার্ভিসাইড ও অ্যাডাল্টিসাইড একযোগে প্রত্যেক ওয়ার্ডে ছিটানো হলে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করেন তিনি। কিন্তু মশার ঘনত্ব অনেক বেড়ে যাওয়ায় পুরোটা নিয়ন্ত্রণে আসবে না বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে গত বৃহস্পতিবারের সভায় মেয়র তাপস বলেছিলেন, ‘আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন কীটনাশক চলে আসবে। সেটা আমরা কিউলেক্স মশার জন্য ব্যবহার করব। কিউলেক্স মশার উপদ্রব বাড়ার যে অভিযোগ আসছে, সেটারও নিরসন করা হবে।’ মশার কীটনাশক পরিবর্তনে অবস্থার কতটা পরিবর্তন আসবে এমন প্রশ্নের জবাবে ড. কবিরুল বাশার বলেন, ‘কীটনাশক পরিবর্তন করলে মশক পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে, ব্যাপারটা এমন না। কীটনাশক দিয়ে পুরো জায়গা দিয়ে ক্রাশ করতে হবে। মানে যত জায়গায় মশা জন্মায় সবখানে কীটনাশক দিতে হবে। মশা জন্মানো, ডিম পাড়া কিংবা মশার আবাসস্থলে যদি লার্ভিসাইড ও অ্যাডাল্টিসাইড ছিটানো হয় একযোগে তাহলে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। সেটা আমাদের এখন যে কীটনাশক আছে সেটা দিয়েও সম্ভব।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের এই শিক্ষক বলেন, এ মুহূর্তে রাজধানীতে এডিস মশার ঘনত্ব কিছুটা কম আছে। সে ক্ষেত্রে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বাসাবাড়ি কিংবা রাস্তাঘাটে পড়ে থাকা পাত্রে বা পানি জমতে পারে এমন পাত্রগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার অভিযান এপ্রিলের আগেই শুরু করা প্রয়োজন। বৃষ্টির পূর্বে এ ধরনের অভিযান শুরু করতে পারলে চলতি বছর ডেঙ্গু থেকে নগরবাসী অনেকটাই মুক্ত থাকতে পারবে বলে মনে করেন তিনি।
তবে মেয়র তাপসও এ বিষয় নিয়ে কাজ করবেন বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

মেয়র তাপস বলেন, ডিএসসিসি’র কোথাও জলাবদ্ধতা হতে দেব না। কাউন্সিলরদেরও এই প্রত্যয় নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মেয়র আরও বলেন, মহামারির মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রত্যয় নিয়ে কাজ করায় সফলতা এসেছে। আমরা প্রত্যয় নিয়ে কাজ করলে ইনশাআল্লাহ জলাবদ্ধতা নিরসনও করতে পারব।

মেয়র শেখ তাপস বলেন, আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে কেন্দ্র করে জলাবদ্ধতা নিরসনে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে নিরলসভাবে কাজ করছেন তিনি এবং তার সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাগণ। বৃষ্টি হলে যে ওয়ার্ডের যেখানে পানি জমবে তা সঙ্গে সঙ্গে ডিএসসিসিকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


আরও সংবাদ   বিষয়:  কিউলেক্স মশা   ডিএসসিসি   কীটনাশক  







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  

সারাদেশ

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]