রোববার ১৮ এপ্রিল ২০২১ ৫ বৈশাখ ১৪২৮

শিরোনাম: বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ৩০ লাখ ২৩ হাজার ছাড়ল    চিত্রনায়ক ওয়াসিম আর নেই    মুজিবনগর সরকার দেশ ও জাতির সৃষ্টির সরকার    আ.লীগ সরকার ইলিয়াস আলীকে গুম করেনি : মির্জা আব্বাস    কাদের মির্জাকে প্রতিহতের ঘোষণা আ.লীগের    হেফাজতের ঢাকা মহানগর সভাপতি হাবীব গ্রেফতার    নিষিদ্ধ হতে পারেন ধোনি!   
শেখ হাসিনা করোনা জয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন
#শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ভ্যাকসিন কার্যক্রমে এগিয়েছে বাংলাদেশ: হুমায়ুন কবির। #যতদিন শেখ হাসিনা আছেন ততদিন আমাদের চিন্তার কোনো কারণ নেই: অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া। #করোনা মোকাবেলায় সাফল্যের যাদুকর শেখ হাসিনা: উইলিয়াম প্রলয় সমদ্দার।
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১০:২১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

শেখ হাসিনা করোনা জয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন

শেখ হাসিনা করোনা জয়ে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন

আজকে ভ্যাকসিন সাফল্যে বাংলাদেশ; এটা একমাত্র সম্ভব হয়েছে আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। ৭ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী আনুষ্ঠানিকভাবে করোনাভাইরাসের গণটিকা কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বাংলাদেশের ইতিহাসে রচিত হলো নতুন মাইলফলক। করোনা মহামারিতে বিশ্ব যখন বিপর্যস্ত তখন প্রতিটি ক্ষেত্রে রেকর্ড গড়ছে বাংলাদেশ।

দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপের ২৬২তম পর্বে শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) আলোচক হিসাবে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন ফিনল্যান্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হুমায়ুন কবির, প্রাক্তন অধ্যক্ষ, হলি-ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক, খ্রিষ্টান এসোসিয়েশন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক উইলিয়াম প্রলয় সমদ্দার। দৈনিক ভোরের পাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ভোরের পাতার সিনিয়র রিপোর্টার উৎপল দাস।

হুমায়ুন কবির বলেন, আজকে ভ্যাকসিন সাফল্যে বাংলাদেশ; এটা একমাত্র সম্ভব হয়েছে আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। আমি ফিনল্যান্ডে থাকি এতো বছর ধরে, এখানে মাত্র ৫০ লক্ষ লোকের বসবাস, এতো উন্নত কান্ট্রি ফিনল্যান্ড, তারপরেও আজ আমরা এখানে কবে যে ভ্যাকসিন পাবো এটার কোন নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু বাংলাদেশের অবস্থা দেখেন, সেখানে আমাদের প্রিয় নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এতো বিপদসংকুল অবস্থার মধ্যেও এতো কঠিন অবস্থার মধ্যেও এতো সুন্দর করে সবাইকে ভ্যাকসিন দিয়ে যাচ্ছেন এবং অন্যদের নেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করছেন এবং ফ্রিতে দিচ্ছেন। সারা বিশ্ব যখন টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য হিমশিম খাচ্ছে, তখন করোনা প্রতিরোধের লড়াইয়ে সফলতার দিক থেকে প্রথম থেকেই সম্মুখ সারিতে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১-এ দেশব্যাপী আনুষ্ঠানিকভাবে করোনাভাইরাসের গণটিকা কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বাংলাদেশের ইতিহাসে রচিত হলো নতুন মাইলফলক। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিন বাংলাদেশে বিশ্বের ৫৪তম দেশ হিসেবে প্রয়োগ করছে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশে ভ্যাকসিন গ্রহণকৃতদের তেমন কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি এবং টিকাজনিত মৃত্যুর খবরও পাওয়া যায়নি এবং সকলে ভালো আছেন। সরকার সঠিক পদক্ষেপে একটি সফল ও ব্যতিক্রমী টিকা উৎসবে মুখরিত পুরো দেশ। সরকারের এই কার্যক্রমে বিএনপি-জামায়াত দলও কিছু ষড়যন্ত্র করেছিল তারা বলেছিল যে, হাজার হাজার লোক করোনায় মারা যাবে, অনেকেই না খেয়ে মারা যাবে, আওয়ামী লীগ সরকার সবাইকে ঠিক মতো করোনার ভ্যাকসিন দিতে পারবে না, আর দিলেও আসল ভ্যাকসিন দিবে না! এসব উদ্ভট যুক্তি দিয়ে তারা এই সরকারের সমালোচনায় ব্যস্ত ছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার এসব কথায় কান না দিয়ে তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দেশে খুব দ্রুত টিকা আসে। প্রথম দিকে জনমনে একটু সংশয় থাকলেও বর্তমানে টিকাকেন্দ্রে ভিড় প্রমাণ করে এখন আর সংশয় নেই। এখন বইছে স্বস্তির বাতাস।

অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, আমাদের দেশে করোনার যে সফলতা এসেছে এটা একমাত্র সম্ভব হয়েছে আমাদের জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একনিষ্ঠ ভূমিকার কারণে। বাংলাদেশে এখন শুধু ভ্যাকসিন ইস্যু নয়, যখন দেশে করোনার প্রথম দেখা দেয় তখন থেকেই তিনি করোনা মোকাবেলায় সকল কার্যক্রম হাতে নেন। টিকার মূল্য নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা, টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে অপপ্রচার- এসব পরিস্থিতি সামলে নির্ধারিত সময়ে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা ছিল সরকারের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। এসব পেরিয়ে টিকা প্রদান করার সক্ষমতা অর্জন নিঃসন্দেহে বিরাট অর্জন। বিনামূল্যে আজ সবাই এই টিকা পাচ্ছেন এবং ইতিমধ্যে বেসরকারি হাসপাতালে বাণিজ্যিকভাবে টিকা বিক্রির প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ভ্যাকসিনেশনের জন্য অসামান্য সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে গ্লোবাল অ্যালায়েন্স খ্যাত আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনেশন অ্যান্ড ইমুনাইজেশন (গ্যাভি) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘ভ্যাকসিন হিরো’ পুরস্কারে ভূষিত করেছেন। করোনা মহামারিতে বিশ্ব যখন বিপর্যস্ত তখন প্রতিটি ক্ষেত্রে রেকর্ড গড়ছে বাংলাদেশ। এমন ভয়াবহ সময়ের মধ্যেও প্রবাসী বাঙালির শ্রম ঘামে দারুণ গতিতে বেড়েছে রেমিট্যান্স। বর্তমান সরকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গড়ার লক্ষ্যে কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করে কৃষির উন্নয়ন ও কৃষকের কল্যাণকে সর্বোচ্চ বিবেচনায় নিয়ে নানামুখি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই করোনাকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সকল সেক্টরের কাজের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি আওয়ামী লীগকেও সমানতালে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। যখন দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয় তখন থেকেই দলের নেতাকর্মীকে সর্বস্তরের মানুষের পাশে দাঁড়াতে বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কৃষিখাতে সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে খোরপোষের কৃষি আজ বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তরিত হয়েছে। খাদ্যশস্য উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের স্থান দশম।

উইলিয়াম প্রলয় সমদ্দার বলেন, লিডারশীপ কথাটার একটি অর্থ ক্ষমতায় থাকা, কিন্তু আমরা যারা আওয়ামী লীগ করি এই ক্ষমতা থাকা কথাটায় বিশ্বাস করি না, আমরা বিশ্বাস করি সেবায়। আমরা বিশ্বাস করি রাষ্ট্রের জনগণের সেবায় সর্বদা নিজকে নিয়োজিত রাখা। একটা দল আছে যারা বলে আমরা ক্ষমতায় ছিলাম এবং আবার ক্ষমতায় যাবো কিন্তু আমরা আওয়ামী লীগ বলি, আমরা জনগণের সেবায় ছিলাম এবং সেবায় আছি এবং সেবায় আবার থাকবো। এই যে সেবা দেওয়ার একটা মনোভাব এটার বাস্তব চিত্রটা কিন্তু এই টিকা দেওয়ার কার্যক্রমের একটা আসল চিত্র প্রকাশ করে। জননেত্রী শেখ হাসিনা একজন প্রধানমন্ত্রী হওয়াই তার প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে এদেশের মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া। এই সুরক্ষার মধ্যে যে গুলো পড়ে সেগুলো হচ্ছে খাদ্য বস্ত্র ও বাসস্থান। আমরা গত ১২ বছর ধরে যে জনগণের সেবায় নিয়োজিত আছি এই সময়ে কিন্তু আমরা এই মৌলিক তিনটি সেবার চাহিদা কিন্তু পূরণ করেছি। আজ এই করোনা পরিস্থিতির মধ্যে জনগণকে যে করোনা থেকে সুরক্ষা সেবা দেওয়া দরকার তার জন্য দেশজুড়ে টিকাদান কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের একজন নার্সকে টিকা দেওয়ার মধ্য দিয়ে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। টিকাদান ব্যবস্থাপনার ‘সুরক্ষা’ প্ল্যাটফর্মের মোবাইল অ্যাপ ও ওয়েব অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে নিবন্ধন কার্যক্রম চালু করা হয়। যারা টিকা নিতে চান তাদের সবাইকেই এই অ্যাপসের মাধ্যমে অনলাইনে নিবন্ধন করতে হবে। জনগণের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ ভ্যাকসিন কেনার বাংলাদেশ সরকারের সামর্থ্য নিয়ে একটি দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে শুরু থেকেই আশঙ্কা ছিল। এমনকি তারা অনেকটা দ্বিধাগ্রস্ত ছিল এই ভেবে যে সরকার বিনামূল্যে জনগণকে ভ্যাকসিন সরবরাহ করবে কিনা? তবে শেখ হাসিনার পরিপক্ব নেতৃত্বে বাংলাদেশ সরকার বিভিন্নভাবে ভ্যাকসিন কূটনীতির ক্ষেত্রে তাদের যোগ্যতা প্রমাণ করেছে ইতিমধ্যে। প্রথম দফায় বিশ্বের হাতে গোনা যে কটি দেশ করোনার টিকা পেয়েছে, বাংলাদেশ সেই সামান্য সংখ্যক দেশের একটি। নিশ্চয়ই এটি বর্তমান সরকারের একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য। প্রথম দিকে টিকা নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ের জনমনে যে কিছুটা অনাস্থা হয়েছিল, তার মূল কারণ টিকা নিয়ে প্রচারের চেয়ে অপপ্রচার বেশি হয়েছে। অনেকে এটিকে রাজনৈতিক ইস্যুও করতে চেয়েছেন। কিন্তু জননেত্রী শেখ হাসিনার একান্ত চেষ্টায় এই সকল ষড়যন্ত্র উৎখাত করে ভ্যাকসিন কূটনীতিতে সাফল্যের জন্য সরকার এখন প্রশংসার দাবিদার।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


আরও সংবাদ   বিষয়:  ভোরের পাতা সংলাপ   শেখ হাসিনা   করোনা   বিশ্ব রেকর্ড  







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  

সারাদেশ

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]