শনিবার ১৭ এপ্রিল ২০২১ ৩ বৈশাখ ১৪২৮

শিরোনাম: অভিনেত্রী কবরীর মৃত্যুতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর শোক    কবরীর মৃত্যু দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি: রাষ্ট্রপতি    দেশের চলচ্চিত্রে কবরী এক উজ্জ্বল নক্ষত্র: প্রধানমন্ত্রী    ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ    সারাহ বেগম কবরী আর নেই    আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ ঠেকাতেই হবে    স্বেচ্ছাসেবক লীগের উদ্যোগে মানবতার ভ্যান চালু   
রোহিঙ্গাদের নিয়ে বিবিসির রিপোর্ট সঠিক নয়: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ৮:৩১ পিএম আপডেট: ২৫.০২.২০২১ ৯:১৮ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

রোহিঙ্গাদের নিয়ে বিবিসির রিপোর্ট সঠিক নয়: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

রোহিঙ্গাদের নিয়ে বিবিসির রিপোর্ট সঠিক নয়: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

‘রোহিঙ্গা সংকট: সমুদ্রে ভাসমানদের উদ্ধারে জাতিসংঘের আহ্বান’ শীর্ষক সম্প্রতি বিবিসির প্রকাশিত একটি সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। 

বিবিসির প্রতিবেদনে ভুল করে বলা হয়েছে— ‘একদল রোহিঙ্গা বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় ভাসমান অবস্থায় রয়েছে এবং তাদেরকে উদ্ধারের জন্য জাতিসংঘ আহ্বান জানিয়েছে।’

বৃহস্পতিবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই তথ্য সঠিক নয়, ভুল। ভাসমান রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে অনেক দূরে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘জাতিসংঘের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পরিষ্কার করে বলা ছিল যে, জাহাজে রোহিঙ্গারা আছে সেটি আন্দামান সমুদ্রে। ওই সমুদ্র বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ-পূর্বে, মিয়ানমারের দক্ষিণে,থাইল্যান্ডের পশ্চিমে এবং ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের পূর্বে অবস্থিত।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ‘জাহাজটি বর্তমানে যে অবস্থানে রয়েছে,সেটি বাংলাদেশ থেকে এক হাজার ৭০০ কিলোমিটার,মিয়ানমার থেকে ৪৯২ কিলোমিটার, থাইল্যান্ড থেকে ৩৬৩ কিলোমিটার, ইন্দোনেশিয়া থেকে ২৮১ কিলোমিটার ও ভারতের থেকে ১৪৭ কিলোমিটার দূরে। এটি পরিষ্কার যে, জাহাজটির অবস্থান বাংলাদেশ থেকে অনেক দূরে এবং অন্যান্য দেশগুলো জাহাজটির অনেক কাছে।’

বিজ্ঞপ্তিতে আরও  বলা হয়, ‘যে দেশের সমুদ্রসীমায় এ ধরনের জাহাজ ভাসমানভাবে অবস্থান করবে, সেটি উদ্ধার করার দায়িত্ব ওই দেশের। ওই দেশগুলোর উচিত তাদের যে আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা আছে, সেটি যেন তারা পূরণ করে। বাংলাদেশ তার আন্তর্জাতিক দায়দ্ধতার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। এখানে উল্লেখ্য যে,এর আগে অন্য দেশের সুমদ্রসীমায় যখন রোহিঙ্গারা অসহায় অবস্থায় ভাসছিল, তখন বাংলাদেশ সরকার অন্য দেশের সুমদ্রসীমানা থেকে তাদেরকে উদ্ধার করেছিল।’

বিবিসির রিপোর্টে যা ছিল:

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের বিবৃতির বরাতে বিবিস তাদের রিপোর্টে জানিয়েছে যে, বেশ কিছু রোহিঙ্গা শরণার্থী ভর্তি একটি নৌযান আন্দামান সাগরে আটকা পড়েছে। এসব রোহিঙ্গাকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব উদ্ধার করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিবৃতিতে বলা হয়, শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা পর্যন্ত নৌযানটিতে কতজন শরণার্থী রয়েছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তারা বলছেন, নৌকাটির সবাই বাংলাদেশের কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে প্রায় ১০ দিন আগে যাত্রা শুরু করে।

ইউএনএইচসিআর বলছে, নৌযানটিতে আটকে পড়া শরণার্থীদের শারীরিক অবস্থা খুবই শোচনীয় এবং তারা মারাত্মক পানিশূন্যতায় ভুগছে। এরইমধ্যে বেশ কয়েক জন প্রাণ হারিয়েছে বলে জানাচ্ছে সংস্থাটি। আর গত ২৪ ঘণ্টায় আরো কয়েক জন প্রাণ হারাতে পারে বলেও আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে।

নৌযানটিতে থাকা রোহিঙ্গা শরণার্থীরা জানিয়েছে, কয়েক দিন আগেই খাবার এবং পানি শেষ হয়ে গেছে। সপ্তাহ খানেক আগে নৌযানটির ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে সেটি সাগরে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে।

তবে নৌযানটির অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি সংস্থাটি।

এ বিষয়ে ইউএনএইচসিআর এর কর্মকর্তা ক্যাথরিন স্টাবারফিল্ডের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সর্বশেষ সোমবার ভোরের দিকে ওই নৌযানটির সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। নৌযানে থাকা শরণার্থীদের জরুরী ভিত্তিতে সহায়তা দরকার।

তবে আন্দামান সাগরে নৌযানটির অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে সুনির্দিষ্ট কোন দেশের সাথে যোগাযোগ করা না হলেও ওই এলাকার পরিচালিত সব নৌ-কর্তৃপক্ষকে এবিষয়ে জানানো হয়েছে। সেই সাথে তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা জলসীমায় নৌযানটিকে খুঁজতে ও পাওয়া গেলে তাদের উদ্ধার করতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজার কোস্ট গার্ডের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছে যে, এ ধরণের কোন ঘটনার কথা তারা এখনো জানেন না।

১০ দিন আগে টেকনাফ থেকে কোন নৌযান সাগরে যাত্রা করার তথ্য জানা রয়েছে কিনা সে বিষয়ে জানতে চাইলে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও জানিয়েছেন যে, এ ধরণের কোন তথ্য তাদের কাছে নেই।

বিবৃতিতে বলা হয়, শরণার্থী এবং অভিবাসীদের ঝুঁকিপূর্ণ এই সাগর যাত্রা অব্যাহত থাকার বিষয়টি অনুসন্ধান করে তাদের উদ্ধার এবং ফিরিয়ে আনতে দ্রুত ও আঞ্চলিক সম্মিলিত প্রয়াস জরুরী হয়ে পড়েছে।

ভোরের পাতা/ই

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


আরও সংবাদ   বিষয়:  রোহিঙ্গা   বিবিসি   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়  







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  

সারাদেশ

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]