মঙ্গলবার ২ মার্চ ২০২১ ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭

শিরোনাম: বিশ্বে করোনায় মৃত্যু সাড়ে ২৫ লাখ ছাড়ল    করোনার টিকা নিলেন মির্জা ফখরুল    শেখ হাসিনায় উদ্ভাসিত সুবর্ণ জয়ন্তীর বাংলাদেশ    মিয়ানমারে ১০ সাংবাদিক আটক    নোয়াখালীতে ইউপি চেয়ারম্যানের অফিসে ককটেল নিক্ষেপ    কাদের মির্জা তালা ঝুলিয়ে দলীয় কার্যালয় ছাড়লেন    যে সীমান্ত দিয়ে পালিয়েছিল পি কে হালদার   
বিট কয়েনে অর্থপাচার, সক্রিয় একাধিক সিন্ডিকেট
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ৩:৫৯ এএম আপডেট: ২৪.০২.২০২১ ৪:০৮ এএম | অনলাইন সংস্করণ

দেশে অবৈধ বিট কয়েন বা ভার্চ্যুয়াল মুদ্রার বাজার বড় হচ্ছে। বিশ্বে অনলাইনে লেনদেনের এই মাধ্যমটিকে কিছু দেশ বৈধতা দিলেও আমাদের দেশে এটা অবৈধ ও নিষিদ্ধ। তবুও  বিট কয়েন কেনাবেচাকে ঘিরে দেশে সক্রিয় রয়েছে একাধিক সিন্ডিকেট। অবৈধ বিট কয়েনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে বিদেশে।

বিট কয়েন একটি অনলাইন নির্ভর ক্রিপ্টোকারেনসি বা ডিজিটাল মুদ্রা যার কোন বাস্তব অস্তিত্ব নেই। এই মুদ্রার কোন নিয়ন্ত্রণকারী দেশ বা ব্যাংক নেই। সাধারণত মুদ্রা ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণের উদ্দেশ্য থেকে এই মুদ্রার ধারণা চালু হয়। ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত মুদ্রা দিয়ে কোন পণ্য বা সেবার লেনদেন করতে গেলে সেই লেনদেন যেমন কোন দেশ, ব্যাংক বা সংস্থা কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়, এই মুদ্রার সেরকম কোন নিয়ন্ত্রণকারী নেই। এই মুদ্রা দিয়ে বিশ্বে সবধরনের অবৈধ লেনদেন নিশ্চিন্তে সম্পন্ন করা যায়।

গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা জানিয়েছেন, অর্থপাচারের নতুন মাধ্যম হচ্ছে বিট কয়েন। যেকোনো ধরনের কালো টাকা এক দেশ থেকে অন্যদেশে স্থানান্তরের বা অবৈধ মাদক ব্যবসা, অস্ত্র, অবৈধ যন্ত্রপাতি কেনা-বেচার ক্ষেত্রে ব্যবহার হচ্ছে। বিগত কয়েক বছরে দেশ থেকে পাচার হয়ে গেছে বিপুল অঙ্কের টাকা। 

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিট কয়েনের সঙ্গে জড়িত কয়েকটি সিন্ডিকেট সন্ধান পেয়েছে। এসব সিন্ডিকেটের ১০ জন সদস্যকে সম্প্রতি গ্রেফতার করা হয়েছে। এরা সবাই বয়সে তরুণ, শিক্ষিত এবং তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তারা জানায়, দেশের অন্তত শতাধিক ব্যবসায়ী এই বিট কয়েনের সঙ্গে জড়িত।বিট কয়েনের মাধ্যমে দেশ থেকে পাচার হয়ে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

রাজধানীর  সাতরাস্তা থেকে গত শনিবার বিট কয়েন কেনাবেচা করার সময় মাহমুদুর রহমান জুয়েল (২৭) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশের তেজগাঁও ডিভিশন।   তার ব্যবহৃত মোবাইলের দু’টি ডিভাইসে তিনটি অ্যাকাউন্ট পাওয়া যায়। ব্লক চেইন, বাইনান্স ও কয়েন বেইজ এই তিনটি অ্যাপের মাধ্যমে বিট কয়েন কেনাবেচা করতো। বিট কয়েন কেনাবেচার জন্য জুয়েল মালয়েশিয়া, দুবাই ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশে একাধিকবার যাতায়াত করেছে। ২০১৬ সালের শেষের দিকে মালয়েশিয়া থাকাকালীন তার এক আত্মীয়ের মাধ্যমে প্রথম এই আইডিয়া পায়। তারপর থেকে পুরোপুরি এই অবৈধ বিট কয়েন কেনাবেচায় জড়িত হয়। প্রাথমিকভাবে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানতে পেরেছেন, জুয়েল বিপুল পরিমাণ টাকা বিদেশে পাচার করেছে। তার অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে একবারে সর্বোচ্চ ২১ হাজার ডলার লেনদেন করেছে। 

গোয়েন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদে জুয়েল জানায়, বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ী ও যাদের কাছে কালো টাকা আছে তারাই তার কাছ থেকে বিট কয়েন সংগ্রহ করেন। পরে বিভিন্ন কেনাকাটার কাজে ও অর্থ পাচারের জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। গ্রেপ্তার জুয়েল বিট কয়েন কেনার অর্থ সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে এমএলএম পদ্ধতিতে টাকা নিয়েছিলেন। পরে লাভের টাকা থেকে তাদেরকে পরিশোধ করার কথা ছিল।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা সংস্থার তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেন, বিটকয়েন বাংলাদেশে স্বীকৃত নয়, এক কথায় নিষিদ্ধ। বাংলাদেশ ব্যাংক দেশে এই মুদ্রার ব্যবহার বৈধ করেনি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করে এই মুদ্রার লেনদেনে মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ সম্পর্কিত আইনের লঙ্ঘন হতে পারে।

তিনি বলেন, আমরা গ্রেফতার করা অবৈধ বিট কয়েন লেনদেনের সঙ্গে জড়িতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে কয়েকটি সিন্ডিকেটের সন্ধান পেয়েছি। এসব সিন্ডিকেটের কয়েকটি নিয়ন্ত্রিত হয় দেশের বাইরে থেকে। অবৈধ লেনদেন ও মানিলন্ডারিং জন্য তারা বিট কয়েন করে থাকে। বিট কয়েন সিন্ডিকেটের সদস্যদের গ্রেফতারে আমরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি।

এদিকে, বিট কয়েন লেনেদেনের বিষয়ে  জনসাধারণকে  সতর্ক করে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে,  বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে দেশে বিটকয়েনের লেনদেন হচ্ছে, যা কোনও নিয়ন্ত্রক সংস্থা কর্তৃক অনুমোদিত নয়। এসব ভার্চুয়াল মুদ্রার ব্যবহার বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৪৭, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর দ্বারা সমর্থিত হয় না। ফলে মানুষের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।, নামবিহীন বা ছদ্মনামে অনলাইনে ভার্চুয়াল মুদ্রায় লেনদেনের দ্বারা মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ সম্পর্কিত আইনের লঙ্ঘন হতে পারে। এছাড়া, অনলাইন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভার্চুয়াল মুদ্রায় লেনদেনকারী গ্রাহকরা ভার্চুয়াল মুদ্রার সম্ভাব্য আর্থিক ও আইনগত ঝুঁকিসহ বিভিন্ন ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারেন। সম্ভাব্য আর্থিক ও আইনগত ঝুঁকি এড়াতে বিটকয়েনের মতো ভার্চুয়াল মুদ্রায় লেনদেন বা এসব লেনদেনের প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ জানায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ভোরের পাতা /এনই

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


আরও সংবাদ   বিষয়:   বিট কয়েনে অর্থপাচার   বিট কয়েন  







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  

সারাদেশ

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]