মঙ্গলবার ২ মার্চ ২০২১ ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭

শিরোনাম: বিশ্বে করোনায় মৃত্যু সাড়ে ২৫ লাখ ছাড়ল    করোনার টিকা নিলেন মির্জা ফখরুল    শেখ হাসিনায় উদ্ভাসিত সুবর্ণ জয়ন্তীর বাংলাদেশ    মিয়ানমারে ১০ সাংবাদিক আটক    নোয়াখালীতে ইউপি চেয়ারম্যানের অফিসে ককটেল নিক্ষেপ    কাদের মির্জা তালা ঝুলিয়ে দলীয় কার্যালয় ছাড়লেন    যে সীমান্ত দিয়ে পালিয়েছিল পি কে হালদার   
বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ
#বাংলাদেশের মানুষের মনের সাথে মিশে গেছে ‘বঙ্গবন্ধু’ নামটি: মেজর জেনারেল (অব.) এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার। #বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে রাষ্ট্রীয় দর্শন তৈরি করেছিলেন বঙ্গবন্ধু: মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশিদ। #তরুণ প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধুকে আত্মিকভাবে ধারণ করতে হবে: আব্দুল্লাহ আল নোমান শামীম।
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১০:৩৯ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ

বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ

বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের জন্য যে স্বপ্ন দেখেছিলেন এটা কিন্তু সেই ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় দেখেছিলেন। বাঙালিদের মুক্তির জন্য যে চেতনা তার মধ্যে তৈরি করেছিলেন সেটা তিনি সে সময় প্রতিটি বাঙালিদের বুকের মধ্যে ঢুকিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন। ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অভিযুক্ত অন্যান্যদের সাথে আগরতলা মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়ে মুক্তি লাভ করেন। পরের দিন ২৩ তারিখ কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ তাঁর সম্মানে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক জনসভার আয়োজন করে। প্রায় ১০ লাখ মানুষের সেই সম্মেলনে আমাদের জাতির পিতা ও বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে "বঙ্গবন্ধু" উপাধি প্রদান করা হয়।

দৈনিক ভোরের পাতার নিয়মিত আয়োজন ভোরের পাতা সংলাপের ২৫৯তম পর্বে মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) আলোচক হিসাবে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন পিএসসি, নিরাপত্তা বিশ্লেষক, গবেষক ও লেখক মেজর জেনারেল (অব.) এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার, নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সামরিক গবেষক মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশিদ, অস্ট্রেলিয়ার সাধারণ সম্পাদক, মাসিক মুক্তমঞ্চের নির্বাহী সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান শামীম। দৈনিক ভোরের পাতা সম্পাদক ও প্রকাশক ড. কাজী এরতেজা হাসানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাবেক তথ্য সচিব নাসির উদ্দিন আহমেদ।

মেজর জেনারেল (অব.) এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার বলেন, আজ ২৩ ফেব্রুয়ারি ‘বঙ্গবন্ধু’ দিবস। ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অভিযুক্ত অন্যান্যদের সাথে আগরতলা মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়ে মুক্তি লাভ করেন। পরের দিন ২৩ তারিখ কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ তাঁর সম্মানে ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক জনসভার আয়োজন করে। প্রায় ১০ লাখ মানুষের সেই সম্মেলনে আমাদের জাতির পিতা ও বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে "বঙ্গবন্ধু" উপাধি প্রদান করা হয়। ওই সভায় রাখা বক্তৃতায় বঙ্গবন্ধু ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এগার দফা দাবির পক্ষে তার পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন। যে নেতা তার জীবনের যৌবন কাটিয়েছেন পাকিস্তানের কারাগারে, ফাঁসির মঞ্চে দাঁড়িয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছেন সেই নেতাকে কৃতজ্ঞ বাঙালি জাতির পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞচিত্তে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হলো। লাখ লাখ লোক তুমুল করতালির মধ্য দিয়ে এই প্রস্তাব গ্রহণ করে প্রিয় নেতাকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করে লাখ লাখ কণ্ঠে ধ্বনি তুলেছিল, ‘জয় বঙ্গবন্ধু।’ সেদিন থেকে তার পূর্ণ নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হয়। বঙ্গবন্ধু নামটি বাংলাদেশের সাথে সমর্থক হয়ে গেছে, সমর্থক হয়ে গেছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সাথে, বাংলাদেশের মানুষের সাথে, মানুষের মনের সাথে মিশে গেছে ‘বঙ্গবন্ধু’ নামটি। আমি বলতে চাই "বঙ্গবন্ধু" উপাধিটি শ্রেষ্ঠ উপাধি কিন্তু জাতির পিতা ও শেখ মুজিবুর রহমান নামটি বাঙালি জাতির জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে বাঙালি জাতির ভিতরে। এই নামটি যখন আমরা উচ্চারণ করি তখন সেটা বাংলাদেশ বুঝায়, বাংলাদেশের ইতিহাস বুঝায়, বাঙালি জাতির মুক্তির ইতিহাস বুঝায়। সুতরাং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর পালনের প্রাক্কালে ও জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর পালনের উপলক্ষে আজকে আমরা যখন এখানে কথা বলছি তখন আমাদের এই রাষ্ট্রের প্রাণ ভোমরা, রাষ্ট্রের যারা শিকড় অর্থাৎ তরুণ প্রজন্ম যদি বাংলাদেশের আসল ইতিহাস সম্বন্ধে ধারণা লাভ করে তাহলে এই রাষ্ট্র সমৃদ্ধির পথে থাকে। আর যদি সেই শিকড়কে আমরা যত্ন না করি তাহলে শিকড়ে আমরা যদি পানি না ঢালি তাহলে এই গাছ কিন্তু একসময় মরে যাবে। সুতরাং এই শিকড়কে সমৃদ্ধ করতে হলে আমদের তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা রাখতে হবে।  

মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশিদ বলেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের জন্য যে স্বপ্ন দেখেছিলেন এটা কিন্তু সেই ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় দেখেছিলেন। তিনি বাঙালিদের মুক্তির জন্য যে চেতনা তার মধ্যে তৈরি করেছিলেন সেটা তিনি সে সময় প্রতিটি বাঙালিদের বুকের মধ্যে ঢুকিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন। যার ফলে একটি নতুন জাতীয়তাবাদ তৈরি হয়েছিল। যার করণে পাকিস্তানের দ্বিজাতি তত্ত্বকে সরিয়ে ফেলে। এর কারণে বর্তমানেও অনেকেই বঙ্গবন্ধুকে মানতে চান না, এই দেশের স্বাধীনতা মানতে চান না কারণ তারা সেই পাকিস্তানের দ্বিজাতি তত্ত্বে বিশ্বাসী ছিল যাদের একটা অংশ এখনো বিদ্যমান আছে বর্তমান বাংলাদেশে। পাকিস্তান উগ্র সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হয়ে পূর্ব বাংলাকে একটি আধা ঔপনিবেশিক ভূখণ্ড হিসেবে পেতে চেয়েছিল। সে কারণেই উর্দু ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা হয়েছিল। এর পক্ষে এবং বিপক্ষে নানা বিভ্রান্তি এই অঞ্চলের রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সম্প্রদায়গতভাবে বিদ্যমান ছিল। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলার বৃহত্তর মানুষ শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৬৯ সালে এসে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়। কিন্তু এর মধ্যে বাঙালি জাতীয়তাবাদের অসাম্প্রদায়িক উপাদান শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপন করার যথেষ্ট সময় পায়নি। সে কারণেই উর্দুর প্রতি সাম্প্রদায়িক দুর্বলতা, সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দলগুলো এবং সমাজের একটি অংশের মধ্যে ক্রিয়াশীল ছিল। এরা পাকিস্তানকে কোনোভাবেই সমালোচনা করতে চায়নি। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে প্রাপ্ত ভোটের প্রায় ২৫ শতাংশ তাদেরই ছিল। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধেও একটি অংশ সরাসরি বিরোধিতা করেছিল। এর কারণ হচ্ছে সাম্প্রদায়িক মানসিকতা- যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা-উত্তরকালে এতবড় মুক্তিযুদ্ধের বিজয় লাভের পরও মুছে যায়নি। বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির জন্য যে মৌলিক সূত্র অর্থাৎ জাতীয়তাবাদের সূত্রে একত্রে করতে পেরেছিল বলেই এই বাঙালি জাতি বাঙালি জাতীয়তাবাদে মূল মন্ত্র নিয়ে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। যার জন্য সেদিন দেশ স্বাধীনতা লাভ করে এবং আজ দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে উঠে মধ্যম আয়ের দেশের সারিতে যাওয়ার প্রাক্কালে আছে। এইযে একটি রাষ্ট্রীয়ও দর্শন এটি বঙ্গবন্ধু তৈরি করে গিয়েছিলেন। এই যে বঙ্গবন্ধু নামটি এটা কিন্তু দিয়েছিল বাংলাদেশের জনগণ। আমরা দেখেছি যে, ১৯৬৯ এর এই দিনে বাংলার দুঃখী মানুষের বন্ধু, বিশ্বের নিপীড়িত মানুষের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেতাকে জাতির পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞচিত্তে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। সেই জনসমুদ্রে লাখ লাখ লোক এসেছে প্রিয় নেতা শেখ মুজিবকে একনজর দেখতে।

আব্দুল্লাহ আল নোমান শামীম বলেন, বঙ্গবন্ধুকে কে মানছে আর কে মানছে না এটা আমাদের তরুণ প্রজন্মের কাছে কোনো বিষয় না। বঙ্গবন্ধু আমাদের জাতির পিতা এবং তিনিই আমাদের দেশের স্থপতি। এটাই আমাদের তরুণ প্রজন্মের কাছে আসল বিষয়। ইতিহাসে তার জায়গা স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়ে গিয়েছে। কে মানলো আর কে না মানলো সেটা নিয়ে আমরা এখন আর ভাবিনা। এটা আর এখন বক্তব্যের বিষয় নয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আজ আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক। এই বাংলাদেশের স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন। তিনি ছিলেন বিশ্ববরেণ্য মহান নেতা। তার কোনো তুলনা হয় না। তিনি জন্মেছিলেন বলেই আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। তিনি যদি না জন্মাতেন আমরা আজও পাকিস্তানের দাসত্বের নিগড়ে আবদ্ধ থাকতাম। যে আমাদের জাতির পিতাকে মানবে না বা তার আদর্শকে বুকে ধারণ করতে পারবে না তার উচিত বাংলাদেশ থেকে বেড়িয়ে যাওয়া। আমাদের মধ্যে অনেকেই বঙ্গবন্ধুকে সামনাসামনি দেখেছেন, অনেকে তাঁকে ছুঁয়ে দেখেছেন তারা এখনো জীবিত আছে। আমরা তরুণ প্রজন্মের লোকেরা তাঁকে ছুঁয়ে দেখতে না পারলেও, সামনাসামনি দেখতে না পারলেও তার ভিডিও ফুটেজ আমরা দেখেছি তার বক্তব্য শুনেছি। আমার কাছে মনে হয় বঙ্গবন্ধুকে আত্মিকভাবে ধারণ করা আর তাঁকে স্পর্শ করা একই কথা। বঙ্গবন্ধু যে আদর্শিক চিন্তা চেতনা ছিল এই বাংলাদেশকে নিয়ে তার ১০% ও আমরা ধারণ করতে পারছি কিনা আমার সন্দেহ আছে। আমি বলতে চাই আমরা তরুণ প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুকে কিভাবে দেখতে চাই। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশে কিন্তু তাদের ইতিহাসের জাতীয় ব্যক্তিদের নিয়ে চমৎকার কিছু কমার্শিয়াল সিনেমা তৈরি করেছে। এর ফলে সেখানকার তরুণদের মধ্যে একটা ভাইব্রেশন তৈরি হয় যখনি তারা সে সব সিনেমা গুলো দেখে। কিন্তু আমাদের দেশে এটার উদাহরণ একবারে নেই বললেই চলে। আমাদের দেশেও এইরকম কিছু সিনেমা তৈরি করা দরকার যাতে তরুণ প্রজন্মরা আমাদের জাতির পিতার আসল আদর্শিক চেতনা সম্বন্ধে ধারণা লাভ করতে পারে।

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


আরও সংবাদ   বিষয়:  ভোরের পাতা সংলাপ   বঙ্গবন্ধু   বাংলাদেশ  







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  

সারাদেশ

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]