রোববার ৭ মার্চ ২০২১ ২২ ফাল্গুন ১৪২৭

শিরোনাম: লিওনেল মেসি ফেব্রুয়ারির সেরা খেলোয়াড়     বিএনপিকে ৭ মার্চ পালন করায় ধন্যবাদ তথ্যমন্ত্রীর    বিজিবির সঙ্গে সংঘর্ষে সীমান্তে নিহত ১    ১৭ মার্চ দেশে বিদেশিদের টিকা নিবন্ধন শুরু     দেশব্যাপী গণসংযোগ করার ঘোষণা ড. কামালের    সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব নির্বাচনে সভাপতি মমতাজ আহমেদ বাপী, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সুজন    দিল্লির শৃঙ্খলে আবদ্ধ বাংলাদেশ : গয়েশ্বর   
কাদের মির্জার এত পাগলামির নেপথ্যে অভিলাষ কি?
উৎপল দাস
প্রকাশ: সোমবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ৭:৫৬ পিএম আপডেট: ২২.০২.২০২১ ৮:০৬ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

কাদের মির্জার এত পাগলামির নেপথ্যে অভিলাষ কি?

কাদের মির্জার এত পাগলামির নেপথ্যে অভিলাষ কি?

সাম্প্রতিক সময়ে শুধু নোয়াখালীতে নয়, সারাদেশেই আলোচিত-সমালোচিত এক নাম কাদের মির্জা। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের আপন ছোটভাই হওয়ার পরও দলের বিরুদ্ধে নানা কথা বলে '‌‍‌পাগল' উপাধিও পেয়েছেন। তাকে উন্মাদ বলে আখ্যায়িত করেছেন দলের প্রভাবশালী নেতা সভাপতিমন্ডলীর সদস্য লে. কর্ণেল (অব.) ফারুক খান। এছাড়া স্বতন্ত্র এমপি, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট আত্নীয় নিক্সন চৌধুরীও কড়া ভাষায় কাদের মির্জার সমালোচনা করেছেন ।

আওয়ামী লীগের একটি উপজেলার একজন নেতা হলেও তার বক্তব্য নিয়ে কেন এত আলোচনা চলছে- রাজনীতিক এবং বিশ্লেষকদের অনেকে সেই প্রশ্নের জবাব খুঁজছেন। ভোরের পাতার এ প্রতিবেদক নোয়াখালী ও ফেণী অঞ্চলের আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন গত দুই সপ্তাহ ধরে। ওই অঞ্চলের নেতারা কাদের মির্জার এমন আচরণের পিছনে রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষকেই দায়ী করেছেন। নিজেকে আঞ্চলিক নেতা থেকে জাতীয় পর্যায়ের নেতা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য দলের বিরুদ্ধে কথা বলে আলোচনায় আসার চেষ্টা করছেন বলেও মনে করেন কেউ কেউ। এমনকি, নোয়াখালী আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটি এখনো পূর্ণাঙ্গ না হওয়ার সুযোগে জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী এমপিকে টার্গেট করেই মাঠে নেমেছেন মির্জা কাদের। ফলে অন্তঃকোন্দলে কোনোভাবে জেলা কমিটি বিলুপ্ত হলেই নিজে জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ পদে আসার চেষ্টাও করছেন। যদিও তিনি মুখে মুখে বারবার বলছেন, তার মৃত্যু হলেও তিনি সত্যি কথা বলবেন। প্রকৃতপক্ষে কাদের মির্জার ঘনিষ্ঠ একজন ভোরের পাতাকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘মির্জা ভাই যেকোনো মূল্যে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অথবা সাধারণ সম্পাদক হতে চান। এছাড়া তিনি ওবায়দুল কাদের অসুস্থ হওয়ায় ভবিষ্যতে জাতীয় নির্বাচনে নোয়াখালী ৫ আসনে নিজের অবস্থান পোক্ত করতে চান বলেই এমনটা করছেন। এটাই তার এসব কথা বলার মূল নেপথ্য কারণ বলেও নিশ্চিত করেছেন কাদের মির্জার খুবই ঘনিষ্ঠ ওই লোক, যিনি সার্বক্ষণিক তার সঙ্গেই থাকেন।

এদিকে, নোয়াখালীতে বিবাদমান ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংর্ঘষের জের ধরে একজন সাংবাদিক নিহতও রয়েছেন। এরপর প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারিও করে। তবুও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেষ হচ্ছে না কাদের মির্জা ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরীর মধ্যে বিবাদ। একজন আরেকজনকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করতেও ছাড়ছেন না। সর্বশেষ জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মির্জা কাদেরকে অব্যাহতি দেয়া এবং স্থগিত করা নিয়েও নানা ঘটনার জন্ম দিয়েছেন তিনি। 

নোয়াখালীর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, কাদের মির্জা এবং একরাম চৌধুরীর এই বিবাদ দ্রুত সমাধান করার দায়িত্ব আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকেই নিতে হবে শেষ পর্যন্ত। কেননা একজন তার আপন ছোট ভাই, আরেকজন তারই কর্মী থেকে এমপি হয়েছেন। যদিও একরাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। এমনকি তার বোপোরোয়া ছেলে শাবাব চৌধুরীকে জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে নেতা বানানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও এখনো পর্যন্ত সফল হতে পারেননি। এমনকি আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে রাজাকার পরিবারের সদস্য বলে দাবি করে পরবর্তীতে অদৃশ্য চাপে ক্ষমা চেয়েছিলেন এই একরাম চৌধুরী। যদিও নোয়াখালীতে গেলে ওবায়দুল কাদের প্রায় সময়ই একরাম চৌধুরীর বাসাতেই রাত্রিযাপনও করেন। 

এসব বিষয়ে কাদের মির্জাকে ভোরের পাতার এ প্রতিবেদক  সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করে বলেন, আমি এখন কথা বলতে পারবো না। মিটিংয়ে আছি। 

এমপি একরামুল করিম চৌধুরীকে ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কাদের মির্জার এত পাগলামির নেপথ্যে অভিলাষ কি?

কাদের মির্জার এত পাগলামির নেপথ্যে অভিলাষ কি?


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


আরও সংবাদ   বিষয়:  কাদের মির্জা   পাগলামি   অভিলাষ   







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  

সারাদেশ

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]