বুধবার ৩ মার্চ ২০২১ ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭

শিরোনাম: খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়াতে ফের আবেদন    সাতছড়িতে বিজিবির অভিযানে রকেট লঞ্চারের ১৮ গোলা উদ্ধার    যে কারণে বিএনপির অনুষ্ঠানেই উপেক্ষিত খালেদা জিয়া!    জামিন পেলেন কার্টুনিস্ট কিশোর    'নূন্যতম লজ্জাবোধ থাকলে ইসি মাহবুবের সমালোচনা করতেন না সিইসি'    বিএনপি-জামায়াত সম্পর্কে নতুন মোড়!    ইসির মামলায় ডা. সাবরিনার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ৫ এপ্রিল   
তিন কারণে তারেকের ওপর চরম ক্ষিপ্ত খালেদা জিয়া!
সিনিয়র প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ৬:৪৩ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

২০১৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি বেগম খালেদা জিয়া দণ্ডিত হন। আদালতের রায়ের পরপরই তাকে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। ২৫ মাস তিনি কারান্তরীণ ছিলেন খালেদা জিয়া। কারাগারে যাওয়ার আগেই তিনি গুলশানে তার বাসভবনে তার পুত্র তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলেন। আবেগঘন ওই আলাপচারিতায় তিনি বিএনপির দায়িত্বভার বড় পুত্র তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করেছিলেন। অতঃপর তারেক রহমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হয়ে যান।

তবে, বেগম জিয়া গ্রেপ্তার হওয়ার পর বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেস রিলিজের মাধ্যমে জানানো হয়েছিল যে তারেক রহমানই বিএনপির মূল নেতা এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তার নির্দেশনা অনুযায়ীই দল চলবে। এমনকি দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমানের নেতৃত্বের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছিলেন। 

কিন্তু বিগত এক বছর ধরে বেগম জিয়া তার ফিরোজার বাসায় আছেন, সেহেতু তারেক রহমান এখন আর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থাকছেন না বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন বেগম জিয়া। কিন্তু, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের ত্যাগী নেতাদের মনোনয়ন না দিয়ে টাকার বিনিময়ে ব্যবসায়ীদের ধানের শীষ দেয়ার কারণে চরমভাবে ক্ষিপ্ত হয়েছেন খালেদা জিয়া। বিএনপির দুইজন স্থায়ী কমিটির সদস্য ভোরের পাতাকে এই ক্ষিপ্ততার কথা নিশ্চিত করে আরো দুইটি কারণ বলেন, ছাত্রদল এবং যুবদলে অযোগ্যদের পদায়ন করার কারণও রয়েছে। সর্বশেষ যে কারণে খালেদা জিয়া তারেক রহমানের ওপর বিশেষভাবে ক্ষিপ্ত হয়েছেন তা হচ্ছে, নিজের স্বার্থ উদ্ধারে বিএনপির মধ্যে নিজের বলয় সৃষ্টি করার অপচেষ্টা। 

বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা বলেছেন যে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান স্বাভাবিকভাবে থাকতে পারেন না। কারণ ‘ম্যাডাম’ মুক্ত হয়েছে এক বছর হয়েছে। এই এক বছর তিনি প্রায় অবৈধভাবে চেয়ারম্যানের পদে আছেন।

তবে এ বিষয়ে বিএনপির অপর একটি পক্ষ বলছে ভিন্ন কথা। তারা বলছেন, বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পেলেও তিনি সেটা পেয়েছেন শর্তসাপেক্ষে। এখন পর্যন্ত তিনি স্বাভাবিক নাগরিক নন। তাছাড়া তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। কাজেই তিনি দলের চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন কিনা বা এ ব্যাপারে তার কোনো আগ্রহ আছে কিনা, তা নিয়ে এখন পর্যন্ত কিছু জানা যায়নি। ফলে এখন বিএনপির নেতৃত্বের চাবি কার হাতে তা নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। যদিও বিএনপির একাধিক নেতাই মনে করেন যে, তারেককে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বানানো ছিল একটি অপরিনামদর্শী সিদ্ধান্ত। কারণ দলের চেয়ারপারসন যদি গ্রেপ্তারও হন, তবেও তিনি চেয়ারপারসনের পদ থেকে সরে যান না। কারণ বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দন্ডিত হলেও চেয়ারপারসন দলের পদে বহাল থাকতে পারেন। সেই বিবেচনা থেকেই বেগম জিয়া দলের চেয়ারপারসন ছিলেন এবং তারই চেয়ারপারসন থাকা উচিৎ। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলে কোনো পদ বিএনপির গঠনতন্ত্রে নেই। কিন্তু বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে কিছুই জানায়নি। কিন্তু বিএনপির একজন নেতা বলেছেন, বেগম জিয়া চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন কি করবেন না নাকি তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দিয়ে দল চালাবেন সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে একমাত্র চেয়ারম্যানকেই। দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের চূড়ান্ত ক্ষমতা চেয়ারম্যানের।

ভোরের পাতা/এএম 

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


আরও সংবাদ   বিষয়:  তারেক রহমান   খালেদা জিয়া   ক্ষিপ্ত  







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  

সারাদেশ

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]