শনিবার ১৭ এপ্রিল ২০২১ ৪ বৈশাখ ১৪২৮

শিরোনাম: অভিনেত্রী কবরীর মৃত্যুতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর শোক    কবরীর মৃত্যু দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি: রাষ্ট্রপতি    দেশের চলচ্চিত্রে কবরী এক উজ্জ্বল নক্ষত্র: প্রধানমন্ত্রী    ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস আজ    সারাহ বেগম কবরী আর নেই    আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ ঠেকাতেই হবে    স্বেচ্ছাসেবক লীগের উদ্যোগে মানবতার ভ্যান চালু   
পিএইচডি গবেষণার ৫৪ শতাংশই চুরি করেছেন লীনা তাপসী খান!
উৎপল দাস
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১০:৫৪ পিএম আপডেট: ১৬.০২.২০২১ ১১:০৪ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

পিএইচডি গবেষণার ৫৪ শতাংশই চুরি করেছেন লীনা তাপসী খান!

পিএইচডি গবেষণার ৫৪ শতাংশই চুরি করেছেন লীনা তাপসী খান!

দেশ সেরা বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে কয়েকজন শিক্ষক গণমাধ্যম থেকে শুরু করে স্ব স্ব অবস্থানে আলোচিত এবং আলোকিত মনে করা হয়; অথবা তারা নিজেদের আলোকিত মানুষ হিসেবেই সমাজের চোখে উপস্থাপিত হতে পছন্দ করেন, তাদের বিরুদ্ধেও রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। এমনকি শিক্ষক রাজনীতিতে একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত রেষারেষির কারণে চরম নোংরামিতে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মহসীনা আক্তার খানম ওরফে লীনা তাপসী খান নিজের পিএইচডি গবেষণার মোট ৫৩ দশমিক ৯৫ শতাংশই চুরি করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিজেকে নজরুল গীতির একজন শুদ্ধতার প্রতীক হিসাবে উপস্থাপন করা এই লীনা তাপসী খানের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই গবেষণা চুরির দায়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। ভোরের পাতার অনুসন্ধানে এমন চিত্রই উঠে এসেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজনীতি এবং গবেষণা চুরির কালো অধ্যায় নিয়ে আজ থাকছে ভোরের পাতার ধারাবাহিক প্রতিবেদনের তৃতীয় পর্ব। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নজরুল ইন্সটিটিউট থেকে ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে লীনা তাপসী খানের ‘নজরুল-সঙ্গীত রাগের ব্যবহার’ শীর্ষক একটি পিএইচডি (ডক্টর অব ফিলোশফি) থিসিস গ্রন্থ আকারে বের হয়।  এই গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক হিসাবে কাজ করেছেন জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। তবে বইটিতে মোট ২৭৮ পৃষ্ঠার মধ্যে ১৫০ পৃষ্ঠাই অন্য বই থেকে গবেষক লীনা তাপসী খান ব্যবহার করেছেন। যা রীতিমতো প্লেজারিজমের ক্ষেত্রে নতুন ইতিহাস। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্বনামধন্য শিক্ষক হিসাবে নিজের মৌলিক গবেষণায় প্রায় ৫৪ শতাংশ চুরির দায়কে কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না লীনা তাপসী খান-এমনটাই মনে করেন সংগীত বিভাগেরই আরেকজন শিক্ষক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই শিক্ষক আরো বলেন, লীনা তাপসী খান ক্ষমতার দাপটে অন্ধ হয়ে গেছেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও খুব রূঢ় ব্যবহার করেন। তিনি নিজের ডিপার্টমেন্টে বসে সহকর্মীদের সামনেই বলেছেন, তার ক্ষমতার দৌঁড় অনেক ওপরের। তার বিরুদ্ধে কেউ কিছু করতে পারবে না। ইতিমধ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে লীনা তাপসী খানের গবেষণা চুরির ব্যাপারে লিখিত আকারে জানানো হয়েছে। বিষয়টি আগামী সিন্ডিকেট বৈঠকে উঠবে বলেও জানিয়েছেন ওই শিক্ষক। 

উল্লেখ্য, পিএইচ.ডি. থিসিসটির ২৭৮ পষ্ঠার মধ্য ১৫০ পষ্ঠা অন্যর বই থক সরাসরি স্ক্যান করানো এবং অবশিষ্ট পৃষ্ঠাগুলার অধিকাংশই ভুল তথ্যে পরিপূর্ণ। ভোরের পাতার হাতে সংরক্ষিত রয়েছে।  ‘নজরুল-সঙ্গীত রাগের ব্যবহার’ শীর্ষক গবেষণাটি মোট ১৫ টি অধ্যায়ের প্রথম অধ্যায়ে নজরুল-সঙ্গীতর শ্রেণী বিন্যাস সম্পর্কে আলাচনা করা হয়েছে। এই শ্রেণীবিন্যাসের ক্ষেত্রে গবষক লীনা তাপসী নজরুল-সঙ্গীতকে শ্রেণীবদ্ধ করেছেন বিষয়ভিত্তিক ও আঙ্গিকগত এই দুটি মূল সূত্রের ভিত্তিতে। যেখানে তিনি কাজী নজরুলের গানকে নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করতে গিয়ে পরবর্তী অধ্যায়গুলোতে মিশ্র নীতি অনুসরণ করেন। যেমন দ্বিতীয়, ততীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম অধ্যায় যথাক্রমে তিনি নজরুলর ধ্রুপদ, খেয়াল, ঠুমরি ও গজল অঙ্গর গানে রাগের ব্যবহার নিয়ে আলাচনা করেছেন। অন্যদিক অষ্টম ও নবম অধ্যায় নজরুলর দেশাত্মবোধক ও ইসলামি গানে রাগের ব্যবহার সম্পর্ক আলাচনা করছন। যা মৌলিক গবেষণার ক্ষেত্রে কখনোই গ্রহণযোগ্য হয়নি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। 

লীনা তাপসী খান দ্বিতীয় অধ্যায়ে ‘জয় নারায়ণ অনন্ত রূপধারী’ গানটির উল্লেখ করে রাগটি নজরুল-সৃষ্ট বলে  উল্লেখ করেছেন (পষ্ঠা ১১)। প্রকৃতপক্ষে কাজী নজরুল ইসলামের এই গানটি বিষ্ণুপুর ঘরানার বিশষ প্রচলিত একটি রাগের নাম ‘নিশাশাখ’ বা ‘নিশাশাগ’। এ রাগের ওপর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও গান রচনা করছন নজরুল রচিত নিশাশাখ রাগের গানটি ‘জয় নারায়ণ অনন্ত রূপধারী বিশাল’ হলেও রাগটি নজরুল-সষ্ট নয়। 

এছাড়া গবেষক লীনা তাপসী খান, ততীয় অধ্যায়ে ‘নজরুলর মূল গান ও ভাঙা গান’ শিরানাম একটি তালিকা দিয়েছেন। এ তালিকার ২ ক্রমিক নজরুলর ভাঙা গান হিসব উল্লেখ করেছেন ‘এ কি তদ্রা বিজড়িত আঁখি’ গানটি। প্রকতপক্ষ গানটি নজরুল রচিত নয়, রচয়িতা হলন তুলসী লাহিড়ী (ব্রহ্মমাহন ঠাকুর সম্পাদিত ‘নজরুল-গীতি-’, হরফ প্রকাশনী, কলকাতা ২০০৪, ভূমিকা পষ্ঠা ৩০-৩১)। চতুর্থ অধ্যায় নজরুলর ঠুমরি অঙ্গের তালিকায় গড় মল্লার রাগের ‘ফিরে নাহি এলো প্রিয়’ শীর্ষক গানটির উল্লখ করছন (পষ্ঠা ৪৫)। প্রকতপক্ষ গানটি নজরুল রচিত খেয়ালের একটি অপূর্ব সৃষ্টি। 

এমনি করে প্রায় প্রতিটি অধ্যায়েই ভুল তথ্য ও অন্যের লেখার সমন্বয় ঘটিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শিক্ষক লীনা তাপসী খান। নিজের মৌলিক গবেষণায় ৫৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ চুরির দায়ের বিষয়ে লীনা তাপসী খানকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এমনকি তাকে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তিনি তার প্রতি উত্তর দেননি।
পিএইচডি গবেষণার ৫৪ শতাংশই চুরি করেছেন লীনা তাপসী খান!

পিএইচডি গবেষণার ৫৪ শতাংশই চুরি করেছেন লীনা তাপসী খান!


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  

সারাদেশ

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]