শুক্রবার ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭

শিরোনাম: আবার বাড়ছে গ্যাসের দাম!    'খেতাব কেড়ে নিয়ে জিয়াউর রহমানকে কেউ খাটো করতে পারবে না'    জনসনের করোনা ভ্যাকসিন এক ডোজই যথেষ্ট    রোহিঙ্গাদের নিয়ে বিবিসির রিপোর্ট সঠিক নয়: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়    দেশে করোনা টিকা নিয়েছেন সাড়ে ২৮ লাখ মানুষ    ২৬ মার্চ থেকে ঢাকা-জলপাইগুড়ি ট্রেন চলাচল শুরু    শাহবাগে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, আটক ১০   
ছাত্র না হয়েও থানা ছাত্রলীগের সভাপতি বিন্দুর চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ মিরপুরবাসী!
শাহ্‌ মোহাম্মদ
প্রকাশ: রোববার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২১, ৬:৪৫ পিএম আপডেট: ১৭.০১.২০২১ ৮:০৭ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

ছাত্র না হয়েও থানা ছাত্রলীগের সভাপতি বিন্দুর চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ মিরপুরবাসী!

ছাত্র না হয়েও থানা ছাত্রলীগের সভাপতি বিন্দুর চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ মিরপুরবাসী!

বিন্দু জাকির ছাত্র না হয়েও এখন ছাত্রলীগের শাহআলী থানার সভাপতি। তার চাঁদাবাজি, টেন্ডরবাজি সহ নানা অপরাধে অতিষ্ঠ মিরপুরের অধিবাসীরা। বিন্দুর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে সে ঢাকা-১৪ আসনের সাংসদের নাম ভাঙ্গিয়ে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, ফুটপাত দখল, আবাসিক হোটেল, গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে চাঁদাবাজি ও দখল বাণিজ্যসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়ার।

তার পুরো নাম জাকির হোসেন বিন্দু। তবে সবার কাছে তিনি বিন্দু জাকির নামে পরিচিত। বাবা ছিলেন শাহআলী মাজারের সিকিউরিটি গার্ড। জাকিরের কর্ম শুরু হয় টেম্পুর হেলপার হিসাবে। এরপর জাকির মিরপুর কাঁচা বাজারের একজন কাঁচা মরিচ বিক্রেতা হিসাবে ব্যবসায়িক খাতায় নাম লেখায়। বিন্দু মরিচ বিক্রি করার কারণে তার নাম হয় বিন্দু জাকির। এই আয়েই চলতো তাদের কষ্টের সংসার। মিরপুরে ভাড়া করা বাসায় জাকিরের বেড়ে ওঠা। দুষ্টু চৌকস স্বভাবের হওয়ায় মিরপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে যাতায়াত শুরু করেন। এরপরই রাজনৈতিক নেতাদের দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হন। এর পর থেকে তার আর পিছনে তাকাতে হয়নি। 

বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের শর্ত গোপন রেখে দুই সন্তানের জনক শাহআলী থানা ছাত্রলীগের সভাপতি হন বিন্দু জাকির। এর পর থেকে খুলে যায় তার ভাগ্যের চাকা, হাতে পায় আলাদীনের চেরাগ! আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তার। শুরু হয় শাহআলী থানার রামরাজত্ব কায়েম গড়ে তোলার বিন্দু জাকির সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রনে মিরপুর-১ নম্বরের কলেজ মার্কেট, কাঁচা বাজার, মেইন সড়ক, ফলপট্রি, মুক্তিযাদ্ধা মার্কেটের চারপাশের ফুটপাত দখল করে অবৈধ ভাবে দোকানপাট বসিয়ে প্রতিদিন চাঁদাবাজি করে আদায় করছেন কয়েক লাখ টাকা। 

বিন্দু জাকিরের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে জানা যায়, জাকির হোসেন বিন্দু ছাত্রলীগ সভাপতি হওয়ার পরও চড়তেন মোটরসাইকেলে, কিন্তু এক বছরের ব্যবধানে এখন চড়েন ইজেল ব্রান্ডের নিউ মডেলের কালো রঙের ঢাকা মেট্রো-ঘ-১৮-৮৩৫ নম্বরের একটা দামী গাড়ীতে। শুধু তাই নয়, মিরপুর টু গুলিস্থান রোডে তানজিল কোম্পানীর ব্যানারে রয়েছে তার ৪ টি বাস। 

শাহআলী থানা ছাত্রলীগের সভাপতি হওয়ার পর থেকে ঢাকা-১৪ আসনের সাংসদের নাম ভাঙ্গিয়ে রাজনীতিকে আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করে হয়ে উঠেছেন শাহআলী থানার অপরাধ সম্রাজ্যের মুকুট বিহীন সম্রাট। দখল বানিজ্য ছাড়াও জমি ক্রয়-বিক্রয়, ফ্লাট বাড়ী ক্রয়-বিক্রয়, ঘর-বাড়ী রাস্তা-ঘাট নির্মাণসহ সর্বক্ষেত্রে বিন্দু জাকিরকে চাঁদা দিতে হয়। শুধু তাই নয়, মাদক ব্যবসাও রয়েছে তার নিয়ন্ত্রণে। এলাকাবাসী তার ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পান না। আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে অবৈধ উপার্জনে গড়েছেন অঢেল সম্পদের পাহাড়।

নেতাকর্মীরা ক্ষোভের সাথে আক্ষেপ করে বলেন, বিন্দু জাকির যেভাবে আমাদের সাংসদের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজিসহ সন্ত্রাসী কার্যক্রম করে, এমন পরস্থিতিতে আমাদের মাটি ও গণমানুষের নেতা সাংসদের তথা আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি মাটির সাথে মিশে যাচ্ছে। যার ফলে আগামী নির্বাচনে এলাকায় ভোট কমবে ছাড়া বাড়বে না। 

আরো জানা যায়, বিন্দু জাকিরের রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কয়েক কোটি টাকা দামের নামে-বেনামে কয়েকটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও বাড়ী রয়েছে। সরকারি জায়গা দখল করে ভাড়া দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সব মিলিয়ে এখন কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন বিন্দু জাকির।  

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংঠনের নেতাকর্মীরা আরে বলেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ গঠনতন্ত্রের নিয়মবহির্ভূত অবৈধ ভাবে থাকা সভাপতি পদ থেকে বহিস্কার করে বিন্দু জাকির কে আইনের আওতায় এনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে গড়া বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সুনাম অক্ষুন্ন রাখার জন্য প্রয়ােজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা প্রয়োজন। 

সম্প্রতি বিন্দু জাকিরের সন্ত্রাস বাহিনী কর্তৃক মারধর ও চাঁদাবাজির শিকার হয়েছেন গোপালগঞ্জ জেলার সানাউল্লাহ সানী নামের মিরপুরের এক ব্যবসায়ী। এলাকাবাসী জানায়, সানাউল্লাহ ও কামালের নামের দুই ব্যবসায়ী মধ্যে দেনা-পাওনা নিয়ে সৃষ্ট দ্বন্দ্ব নিয়ে গত ২৯ ডিসেম্বর আনুমানিক সন্ধ্যা ৬.০০ সময় শাহআলী থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো: সেন্টু মিয়া এবং মো: বিপুল পাটোয়ারীকে নিয়ে উভয় পক্ষ দারুসসালাম থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোঃ ইসলাম সাহেবের অফিসে সুষ্ঠ সমাধানের জন্য আসেন। কামালের পক্ষে শাহআলী থানা ছাত্রলীগ সভাপতি বিন্দু জাকির ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে সানাউল্লাহর উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে মারধর করে চাঁদা দাবী করেন এবং গোপালগঞ্জ জেলা নিয়ে কটুক্তি করেন। এমন কি চাঁদার টাকা না দিলে খুন করার হুমকি প্রদান করেন। এ বিষয়ে সানাউল্লাহ দারুসসালাম থানায় বিন্দু জাকিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে একটা সাধারণ ডায়েরি করেন (জিডি নং ১৫৮৪, তাং-৩০-১২-২০২০ ইং)। এছাড়াও তিনি শাহআলী থানা ছাত্রলীগ সভাপতি কর্তৃক মারধর ও চাঁদাবাজির অভিযােগ এনে সভাপতি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি বরাবর আবেদন করেন। 

এই প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে বিন্দু জাকিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। তিনি আরও বলেন, তার রাজনৈতিক জীবনে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির মত কোন ঘটনার সাথে কখনই জড়িত ছিলেন না।  

« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  

সারাদেশ

এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. কাজী এরতেজা হাসান
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত দৈনিক ভোরেরপাতা
বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন:৮৮-০২-৮১৮৯১৪১, ৮১৮৯১৪২, বিজ্ঞাপন বিভাগ: ৮১৮৯১৪৪, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮১৮৯১৪৩, ইমেইল: [email protected] [email protected]